ছেলের উৎসাহে মাস্টারশেফ কিশোয়ার, অতঃপর বাজিমাত অস্ট্রেলিয়ায়



নাছরিন আক্তার উর্মি, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রান্নাবিষয়ক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন কিশোয়ার চৌধুরী। গত এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ শোতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। কিশোয়ার যখন চমক দেখিয়ে গ্রান্ড ফিনালে পৌঁছে যান, তখন বাধে বিপত্তি!

বাংলাদেশি গণমাধ্যম কিশোয়ারকে ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী’ বলে পরিচয় করিয়ে দিলেও ভিন্নপথে হাঁটে ভারতীয় গণমাধ্যম। দেশটির গণমাধ্যমে কিশোয়ার চৌধুরীকে ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

দু’দেশের মিডিয়া যাই দাবি করুক—কিশোয়ারের পরিচিতি বাঙালি রান্নায়। একের পর এক বাঙালি রান্না দিয়ে শো-এর বিচারকদের মন জিতে নিয়েছেন তিনি। গ্রান্ড ফিনালে দ্বিতীয় রানার আপ হলেও তিনি মন জয় করেছেন বাঙালিদের। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে এখন কিশোয়ারকে নিয়ে বাঙালিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা।

কিশোয়ারের বাবা ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ছিলেন। আর মা পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের। প্রায় ৫০ বছর আগে তারা অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। তবে পারিবারিক আবহে বাঙালিয়ানা ভোলেননি তারা। মেয়ে কিশোয়ারকে গড়ে তুলেছেন বাঙালি মননে। ফলে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় বাঙালি খাবারে বাজিমাত করলেন কিশোয়ার।

একের পর এক বাংলাদেশি খাবার মাস্টারশেফের মঞ্চে তুলেছেন কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বাছাই পর্বে মাছ আর কাঁচা আমের রেসিপির পর একের পর এক বাংলাদেশি খাবার মাস্টারশেফের মঞ্চে তুলেছেন কিশোয়ার। এরপর রান্না করেছেন টমেটো এবং পুদিনা পাতা দিয়ে পাস্তা, টমেটো দিয়ে মাছের ঝোল, শিমের ভর্তা আর জিরা ভাত, গলদা চিংড়ি ভাজা, বিটরুট সবজি, শসা দিয়ে মাছ ভাজা, ফুচকা, চটপটি, সমুসা, দম-আলু আর তেঁতুল চাটনি, রেঁধেছেন খিচুড়ি, বেগুন ভর্তা আর নিরামিষ ভোজ, খাসির রেজালা আর ঘিয়ে ভাজা পরোটা, নেহারি এবং পান্তা-‘ইলিশ’ আর আলুভর্তার মতো বাঙালি খাবার। প্রতিবারই খাবারগুলো বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার সেটি উল্লেখ্য করেছেন কিশোয়ার।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার তুলে ধরেছেন কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

৩৮ বছর বয়সী কিশোয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্নের বাসিন্দা। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়াতেই। পেশায় কিশোয়ার একজন ‘বিজনেস ডেভেলপার।’ কিশোয়ার দুই সন্তানের জননী। শিশুকন্যা সেরাফিনার বয়স চার বছর। আর ছেলে মিকাইলের বয়স ১২। কিশোয়ারের স্বামীর এহতেশাম নেওয়াজ।

গ্রান্ড ফিনাল যেমন ছিল

রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার জমকালো গ্রান্ড ফিনাল দুই দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তিন ফাইনালিস্ট জাস্টিন, পিট ও কিশোয়ার। প্রথমদিন ফাইনাল ডিশে কিশোয়ার রান্না করেন ‘স্মোকড ওয়াটার রাইস’, ‘আলু ভর্তা’ ও ‘সার্ডিন’। অর্থাৎ বাঙালির কাছে চিরচেনা পান্তা-ভাত, আলু ভর্তা আর সার্ডিন মাছ ভাজি।

বাঙালির কাছে চিরচেনা পান্তা-ভাত, আলু ভর্তা। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনাল ডিশ রান্না নিয়ে কিশোয়ার বিচারকদের জানান—প্রতিযোগিতায় এমন রান্না সত্যিই চ্যালেঞ্জের। সাধারণ রেস্টুরেন্টে এমন রান্না হয় না। কিন্তু বাঙালির কাছে এটা পরিচিত রান্না। আর ফাইনাল ডিশ হিসেবে এটা রেঁধে নিজের তৃপ্তির কথাও জানান কিশোয়ার।

তার এ রান্না দেখে ও খেয়ে বিচারকেরা রীতিমতো অভিভূত হয়ে পড়েন। ওই রাউন্ডি তিন বিচারক তাকে ১০/১০ দেন। তবে চূড়ান্ত পর্বের শুরুটা কিন্তু বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল কিশোয়ারের জন্য। তিনি হাঁসের একটি পদ রান্না করা শুরু করেছিলেন। বিচারকেরা যখন তার রান্না দেখতে এলেন। সবকিছু দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন— ‘এখানে কিশোয়ার কোথায়?’ অর্থাৎ কিশোয়ারের বিশেষত্ব পাচ্ছিলেন না তারা।

চূড়ান্ত পর্বের শুরুটা বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল কিশোয়ারের। ছবি: সংগৃহীত

এরপরেই তিনি তার মেন্যু চেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেন। আর ফাইনাল ডিশ হিসেবে পরিবেশন করেন বাঙালির চির পরিচিত আলু ভর্তা, পান্তা ভাত আর সার্ডিন মাছ। যেই মাছের স্বাদ অনেকটা ইলিশ মাছের কাছাকাছি। চূড়ান্ত পর্বে ফাইনাল ডিশ রেঁধে ৫১ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। প্রথম স্থানে ছিলেন পিট ৫৩ নম্বর নিয়ে।

ছেলের উৎসাহে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় কিশোয়ার

২০২০ সালে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, তখন কিশোয়ারের মনে হয় সন্তানদের বাঙালি সংস্কৃতি কীভাবে ধারণ করাবেন। তখন চিন্তা করেন নিজের সংস্কৃতি নিয়ে বই লিখবেন তিনি। পরবর্তীতে ছেলের ইচ্ছায় তিনি মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরে আবেদন করেন।

কিশোর জানিয়েছেন, তার ছেলের বয়স এখন ১২ বছর। এমন সময়ে বাচ্চাদের নিজ সংস্কৃতি, পূর্ব-পুরুষদের সম্পর্কে জানতে এবং তা ধারণ করাতে। তিনি ভাবতেন সন্তানদের জানাতে কী রেখে যাওয়া যায়?

পরিবারের সঙ্গে কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তার মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন করার কোনো ইচ্ছেই ছিল না। কিন্তু তার সন্তান মিকাইল তাকে বলেন, ‘মা তুমি এটা (মাস্টারশেফ শোতে আবেদন) করো, তুমি অবশ্যই পারবে।’

‘তখন আমি ভেবেছিলাম আমার ছেলে মিকাইল বোধহয় জুনিয়র মাস্টারশেফে যেতে আগ্রহী। কারণ ও ভালো রান্না জানে। তাকে আবেদন করতে বললাম। তখন মাথায় আসলো- আমি আগে আবেদন করে তাদের জন্য একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারি। সেই ভাবনা থেকেই আবেদন করি’ বলেন কিশোয়ার।

বাংলাদেশি না ভারতীয়—কী বলছেন কিশোয়ার?

কিশোয়ার বাংলাদেশি নাকি ভারতীয়—তা নিয়ে দুই দেশের মিডিয়া যখন দুই রকম তথ্য প্রকাশ করছেন। ঠিক তখন গণমাধ্যমে নিজের মনন নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন কিশোয়ার।

নিজেকে বাঙালি পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বিক্রমপুরের, খাঁটি বাঙালি। মা বর্ধমানের। ফলে আমি বাংলাদেশি, তবে ইন্ডিয়ানও। তবে সবচেয়ে ভালো লাগে যদি বলি—আমি বাঙালি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ—দুটো মিলেই আমার আইডেনটিটি (পরিচয়)। এটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

কিশোয়ার জানান, অস্ট্রেলিয়া, লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে প্রচুর বাংলাদেশি ফুডের রেস্টুরেন্ট আছে। কিন্তু সেখানে বাঙালি খাবার খুব একটা দেখা যায় না। বেশিরভাগই হয় ভারতীয়। আমার ইচ্ছা ছিল—বাঙালি ফুড আইডেনটিটি তুলে ধরা। আর সেটাই আমি পূরণের চেষ্টা করেছি মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায়।’

গ্রান্ড ফিনালের দুই প্রতিযোগীর সাথে কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া কতটা জনপ্রিয়?

বিশ্বের রান্নাবিষয়ক টেলিভিশন রিয়েলিটি শো-গুলোর মধ্যে মাস্টারশেফ অন্যতম। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ তাদের নিজস্ব মাস্টারশেফ আয়োজন করে থাকে। বিশ্বে মাস্টারশেফ অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’জনপ্রিয়তার দিক থেকে রয়েছে তালিকার শীর্ষে। এটি প্রতিযোগিতামূলক রান্নার গেম শো।

কোমর ব্যথা? ১০ টি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সতর্কতা মেনে চলুন!



ডাঃ মোঃ মুরাদ হোসেন মেহেদী
কোমর ব্যথা একটি কমন সমস্যা

কোমর ব্যথা একটি কমন সমস্যা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোমর ব্যথা একটি কমন সমস্যা। অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, অনেক চেষ্টা ও চিকিৎসা করা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি এক্ষেত্রে থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি জরুরি সতর্কতা। এখানে কোমর ব্যথায় কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করা হল।

কোমর ব্যথা হতে বাঁচতে কি করা চাই? কোমর ব্যথায় প্রতিকার কি?

১) ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন। নিতান্তই দরকার হলে ভারী জিনিসটি শরীরের কাছাকাছি রাখুন, চেষ্টা করুন কোমরে চাপ না লাগাতে।

২) ত্রিশ মিনিটের বেশি একটানা কোথায়ও বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। একটানা দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছেন যে কোমর ব্যথা করে? তাই একটানা কোথাও দাঁড়িয়ে থাকার দরকার যদি হয় তবে শরীরের ভর এক পা হতে আরেক পায়ে নিন কিছুক্ষণ পর পর। প্রয়োজনে একটু বসে বিশ্রাম নিন।

৩) হাঁটু না ভেঙ্গে সামনের দিকে বেশি ঝুঁকবেন না। দীর্ঘ সময় হাঁটতে হলে মহিলারা হাই হিল পরিহার করুন।

৪) মাটি হতে বা নিচ থেকে কিছু তোলার দরকার হলে না ঝুঁকে, হাঁটু ভাজ করুন অতঃপর তুলুন।

৫) কোথাও বসলে সোজা হয়ে বসুন, ঝুঁকে বসা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনার স্মার্টনেস বৃদ্ধি পাবে আর বাড়বে কনফিডেন্স। পাশাপাশি এতে পেতে পারেন কোমর ব্যথা হতে মুক্তি। কোমরের পেছনে সাপোর্ট যুক্ত চেয়ার বসার জন্য উপযুক্ত। বসার সময় এমনভাবে বসুন, যেন হাঁটু ও ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে।

৬) বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকেন? এভাবে শোবেন না। আর ফোম বা নরম স্প্রিং এর গদি যুক্ত বিছানা শরীরের তথা কোমরের জন্য ভাল নয়। পাতলা তোশক ও সমান হলে ভাল হয়।

৭) নিয়মিত শারীরিক অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রম করুন। শারীরিক শ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম করুন। হাঁটার যতটুকু সুযোগ আছে কাজে লাগান। যাতে ওজন না বেড়ে যায় যা কোমর ব্যথা সমস্যাটি বাড়বে বৈ কমাবে না!

শরীরের ওজন বৃদ্ধি কোমরের ব্যথা বাড়ায়।

৮) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পুষ্টিকর খাবার ও পানি পরিমাণ মত খান। কেননা ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কোমরে চাপ পড়বে এবং কোমর ব্যথা সমস্যাটি বাড়বে।

৯) নানাবিধ কাজ করার সময় আমাদের ঝুঁকে কাজ করতে হয় যেমন রান্না, কাটা-কাটি, কাপড়চোপড় ধোয়া, মশলা বাটা, ঝাঁড়ু দেয়া বা চাপকল চাপার সময়। এই অভ্যাসগুলো যে কোমর ব্যথা হওয়ার কারণ তা জানেন? যদি না জানেন তবে জেনে রাখুন এসব অভ্যাসও কোমর ব্যথা হওয়ার কারণ! তাই এসব ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড স্বাভাবিক ও কোমড় সোজা রাখুন।

১০) যারা দীর্ঘদিন কোমড় ব্যথায় ভুগছেন তারা কি বিছানা থেকে ওঠা নিয়ে ভেবেছেন? বিছানা হতে উঠার সময় সতর্ক হন। কারন বিছানা থেকে উঠে বসার সময় কোমরে হঠাৎ টান লাগতে পারে।

কোমর ব্যথা বেশ অস্বস্তিকর ও দীর্ঘস্থায়ী। জীবনে সুস্থ থাকতে সতর্কতার কোন বিকল্প নেই। তাই সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত জীবন পরিচালনা করে সুস্থতা উপভোগ করুন।

 

;

ক্যানসার হলে প্রথমেই কী সমস্যা হয়, জেনে নিন!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

মাঝে মাঝেই নানারকম ব্যথায় শরীর কাবু হয়ে পড়ে। তখন দৈনন্দিন কাজ সবকিছুতেই সমস্যা হতে থাকে। কিছু ব্যথা ওষুধ খেলে কমে যায়। আবার কিছু ব্যথা ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলেই ফিরে আসে। এমন কিছু ব্যথা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ শরীরে ব্যথা দিয়েই। এই ব্যথাকে আমরা প্রায়ই এড়িয়ে চলি। এতে বিপদ বাড়ে। রোগ গুরুতর আকার নিলে রোগীকে আর সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। এমন অবস্থায় এই ব্যথাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখা জরুরি।

ভারতের মাসিনা হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রসাদ কাস্বেকর  এমন কয়েকটি লক্ষণ সম্পর্কে জানিয়েছেন।

চলুন দেখে নেই সেগুলো-

১. ব্রেন টিউমার: মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, হাত পা অসাড় হয়ে যাওয়া‌ ইত্যাদি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।

২. গলা মস্তিষ্ক ক্যানসার: মুখের ভিতরে আলসার, গলার কাছে দলাভাব, গলা বসে যাওয়া, গলা দিয়ে ঘড়ঘড় আওয়াজ বেরোনো, নাক বা মুখ থেকে রক্ত বেরোনো ইত্যাদি গলা ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের লক্ষণ।

৩. ফুসফুস ক্যানসার: বুকে কফ জমে থাকা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, বুকে অস্বস্তি হওয়া, কফ দিয়ে রক্ত বেরোনো ইত্যাদি ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ।

. স্তন ক্যানসার: স্তন ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষ স্তনে কোনওরকম দলা অনুভব করা, বৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক তরল ক্ষরণ, ত্বকের ধরন পাল্টে যাওয়া, বগলের কাছে দলাভাব অনুভব করা।

. পাকস্থলী ক্যানসার: খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া, অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তবোধ করা, খাওয়াদাওয়ার পর পেট ফুলে যাওয়া।

. লিভার বা পিত্তথলি ক্যানসার: পেটের অংশে ব্যথা, খিদে কমে যাওয়া, অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যাওয়া, লিভার বা অগ্ন্যাশয়ের আকার বেড়ে যাওয়া।

. কোলন ক্যানসার: মলত্যাগে অসুবিধা, মলত্যাগের সময় রক্ত বের হওয়া, তলপেটে ভার অনুভব করা।

. প্রস্টেট ক্যানসার: প্রস্রাবে সমস্যা বা প্রস্রাব না হওয়া প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ। অন্যদিকে প্রস্রাব দিয়ে কোনও ব্যথা ছাড়াই রক্ত বেরোনো মূত্রথলির ক্যানসারের লক্ষণ।

. রক্ত ক্যানসার: ক্লান্তি বেড়ে যাওয়া, ওজন হঠাৎ করে কমতে থাকা, মাঝে মাঝে জ্বর আসা, হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া, প্লেটলেট কমে যাওয়া এই ক্যানসারের লক্ষণ।

;

ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ছড়াতে পারে মারাত্মক ফ্লু, সতর্ক বার্তা চিকিৎসকদের!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ছড়াতে পারে মারাত্মক ফ্লু, সতর্ক বার্তা চিকিৎসকদের!

ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ছড়াতে পারে মারাত্মক ফ্লু, সতর্ক বার্তা চিকিৎসকদের!

  • Font increase
  • Font Decrease

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে সতর্কতার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মঞ্চ কাতার থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রামক ‘ক্যামেল ফ্লু’। দ্রুত এ বিষয়ে সাবধান না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে বলে জানায় সংস্থাটি।

আগামী দিনে ‘ক্যামেল ফ্লু’ মারাত্মক আকার নিতে পারে বলে অনেক দিন ধরেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাস, মাঙ্কিপক্সের পরে এ ক্যামেল ফ্লু বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্যামেল ফ্লু কী?

সাধারণত পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে Middle East respiratory syndrome (MERS) নামেও ডাকা হয়। মূলত উট থেকে ছড়ায় এই রোগ।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কাদের বিপদের আশঙ্কা বেশি?

সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বর্তমানে কাতারে রয়েছেন বিশ্বকাপ দেখতে। ফুটবলের দলের সদস্য, অনুরাগীরা তো বটেই, এই ভিড়ের কারণে স্থানীয়রা এবং পরবর্তীকালে প্রতিটি দেশের মানুষের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়তে পারে এই রোগ। এর ফলে আবার একটি অতিমারি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

কতটা প্রস্তুত আছে কাতার?

এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুত রয়েছে আয়োজক দেশ কাতার। এমনই বলা হয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষা এবং হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত রাখার কাজ চলছে। এর বাইরে রুটিন টিকাকরণের কাজও চালু আছে বলেও জানানো হয়েছে।

সতর্কতা

এই রোগের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা উট থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। উটকে স্পর্শ করতে বারণ করছেন।কোনও সমস্যা দেখা দিলে (বিশেষ করে জ্বর) দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছে।

;

বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন ‘মাউথওয়াশ’



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মুখের দুর্গন্ধের কারণে প্রিয়জনের সামনে প্রাণ খুলে হাসতে পারেন না। আবার দুর্গন্ধ দূর করতে বাজার থেকে কিনে মাউথওয়াশ ব্যবহার করাও সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া কেবল অর্থনৈতিক কারণেই নয়, বহু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে এখন ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক উপাদান কাজে লাগাতে বেশি পছন্দ করেন। যারা বাজারজাত মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে চান না, তারা বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন প্রাকৃতিক মাউথওয়াশ।

কী ভাবে বানাবেন?

উপকরণ: লবঙ্গ: ৪-৫টি, গোলমরিচ: ৪-৫টি, পানি: ২ কাপ

প্রণালী: একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে গোলমরিচ ও লবঙ্গ দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ভাল করে এক বার ফুটলে পাত্র নামিয়ে নিন। মিনিট পাঁচেক নাড়িয়ে ঠান্ডা করে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেলো মাউথওয়াশ। মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করাই হোক, বা দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভাল রাখা— মুখ গহ্বর ভাল রাখতে এই প্রাকৃতিক মাউথওয়াশের জুড়ি মেলা ভার।

কী ভাবে ব্যবহার করবেন?

দাঁত মাজার পর দ্রবণটি মুখে নিয়ে ভাল করে কুলকুচি করে ফেলে দিতে হবে। এভাবে দিনে দু’বার মুখ পরিষ্কার করতে হবে। বাড়িতে তৈরি মুখ পরিষ্কার করার এই দ্রবণে কোনও কৃত্রিম রাসায়নিক যেমন থাকে না, তেমনই থাকে না অ্যালকোহল। ফলে যাদের মুখ স্পর্শকাতর, তাদের ক্ষেত্রেও এই মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকরী। কৃত্রিম মাউথওয়াশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ অনেক সময়ে মুখের লালা গ্রন্থির ক্ষরণ কমে যায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় জেরোস্টোমিয়া বলে। বাড়িতে তৈরি এই মাউথওয়াশে এই ধরনের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

;