ছেলের উৎসাহে মাস্টারশেফ কিশোয়ার, অতঃপর বাজিমাত অস্ট্রেলিয়ায়



নাছরিন আক্তার উর্মি, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রান্নাবিষয়ক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন কিশোয়ার চৌধুরী। গত এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ শোতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। কিশোয়ার যখন চমক দেখিয়ে গ্রান্ড ফিনালে পৌঁছে যান, তখন বাধে বিপত্তি!

বাংলাদেশি গণমাধ্যম কিশোয়ারকে ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী’ বলে পরিচয় করিয়ে দিলেও ভিন্নপথে হাঁটে ভারতীয় গণমাধ্যম। দেশটির গণমাধ্যমে কিশোয়ার চৌধুরীকে ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

দু’দেশের মিডিয়া যাই দাবি করুক—কিশোয়ারের পরিচিতি বাঙালি রান্নায়। একের পর এক বাঙালি রান্না দিয়ে শো-এর বিচারকদের মন জিতে নিয়েছেন তিনি। গ্রান্ড ফিনালে দ্বিতীয় রানার আপ হলেও তিনি মন জয় করেছেন বাঙালিদের। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে এখন কিশোয়ারকে নিয়ে বাঙালিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা।

কিশোয়ারের বাবা ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ছিলেন। আর মা পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের। প্রায় ৫০ বছর আগে তারা অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। তবে পারিবারিক আবহে বাঙালিয়ানা ভোলেননি তারা। মেয়ে কিশোয়ারকে গড়ে তুলেছেন বাঙালি মননে। ফলে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় বাঙালি খাবারে বাজিমাত করলেন কিশোয়ার।

একের পর এক বাংলাদেশি খাবার মাস্টারশেফের মঞ্চে তুলেছেন কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বাছাই পর্বে মাছ আর কাঁচা আমের রেসিপির পর একের পর এক বাংলাদেশি খাবার মাস্টারশেফের মঞ্চে তুলেছেন কিশোয়ার। এরপর রান্না করেছেন টমেটো এবং পুদিনা পাতা দিয়ে পাস্তা, টমেটো দিয়ে মাছের ঝোল, শিমের ভর্তা আর জিরা ভাত, গলদা চিংড়ি ভাজা, বিটরুট সবজি, শসা দিয়ে মাছ ভাজা, ফুচকা, চটপটি, সমুসা, দম-আলু আর তেঁতুল চাটনি, রেঁধেছেন খিচুড়ি, বেগুন ভর্তা আর নিরামিষ ভোজ, খাসির রেজালা আর ঘিয়ে ভাজা পরোটা, নেহারি এবং পান্তা-‘ইলিশ’ আর আলুভর্তার মতো বাঙালি খাবার। প্রতিবারই খাবারগুলো বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার সেটি উল্লেখ্য করেছেন কিশোয়ার।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার তুলে ধরেছেন কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

৩৮ বছর বয়সী কিশোয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্নের বাসিন্দা। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়াতেই। পেশায় কিশোয়ার একজন ‘বিজনেস ডেভেলপার।’ কিশোয়ার দুই সন্তানের জননী। শিশুকন্যা সেরাফিনার বয়স চার বছর। আর ছেলে মিকাইলের বয়স ১২। কিশোয়ারের স্বামীর এহতেশাম নেওয়াজ।

গ্রান্ড ফিনাল যেমন ছিল

রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার জমকালো গ্রান্ড ফিনাল দুই দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তিন ফাইনালিস্ট জাস্টিন, পিট ও কিশোয়ার। প্রথমদিন ফাইনাল ডিশে কিশোয়ার রান্না করেন ‘স্মোকড ওয়াটার রাইস’, ‘আলু ভর্তা’ ও ‘সার্ডিন’। অর্থাৎ বাঙালির কাছে চিরচেনা পান্তা-ভাত, আলু ভর্তা আর সার্ডিন মাছ ভাজি।

বাঙালির কাছে চিরচেনা পান্তা-ভাত, আলু ভর্তা। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনাল ডিশ রান্না নিয়ে কিশোয়ার বিচারকদের জানান—প্রতিযোগিতায় এমন রান্না সত্যিই চ্যালেঞ্জের। সাধারণ রেস্টুরেন্টে এমন রান্না হয় না। কিন্তু বাঙালির কাছে এটা পরিচিত রান্না। আর ফাইনাল ডিশ হিসেবে এটা রেঁধে নিজের তৃপ্তির কথাও জানান কিশোয়ার।

তার এ রান্না দেখে ও খেয়ে বিচারকেরা রীতিমতো অভিভূত হয়ে পড়েন। ওই রাউন্ডি তিন বিচারক তাকে ১০/১০ দেন। তবে চূড়ান্ত পর্বের শুরুটা কিন্তু বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল কিশোয়ারের জন্য। তিনি হাঁসের একটি পদ রান্না করা শুরু করেছিলেন। বিচারকেরা যখন তার রান্না দেখতে এলেন। সবকিছু দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন— ‘এখানে কিশোয়ার কোথায়?’ অর্থাৎ কিশোয়ারের বিশেষত্ব পাচ্ছিলেন না তারা।

চূড়ান্ত পর্বের শুরুটা বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল কিশোয়ারের। ছবি: সংগৃহীত

এরপরেই তিনি তার মেন্যু চেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেন। আর ফাইনাল ডিশ হিসেবে পরিবেশন করেন বাঙালির চির পরিচিত আলু ভর্তা, পান্তা ভাত আর সার্ডিন মাছ। যেই মাছের স্বাদ অনেকটা ইলিশ মাছের কাছাকাছি। চূড়ান্ত পর্বে ফাইনাল ডিশ রেঁধে ৫১ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। প্রথম স্থানে ছিলেন পিট ৫৩ নম্বর নিয়ে।

ছেলের উৎসাহে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় কিশোয়ার

২০২০ সালে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, তখন কিশোয়ারের মনে হয় সন্তানদের বাঙালি সংস্কৃতি কীভাবে ধারণ করাবেন। তখন চিন্তা করেন নিজের সংস্কৃতি নিয়ে বই লিখবেন তিনি। পরবর্তীতে ছেলের ইচ্ছায় তিনি মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরে আবেদন করেন।

কিশোর জানিয়েছেন, তার ছেলের বয়স এখন ১২ বছর। এমন সময়ে বাচ্চাদের নিজ সংস্কৃতি, পূর্ব-পুরুষদের সম্পর্কে জানতে এবং তা ধারণ করাতে। তিনি ভাবতেন সন্তানদের জানাতে কী রেখে যাওয়া যায়?

পরিবারের সঙ্গে কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তার মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন করার কোনো ইচ্ছেই ছিল না। কিন্তু তার সন্তান মিকাইল তাকে বলেন, ‘মা তুমি এটা (মাস্টারশেফ শোতে আবেদন) করো, তুমি অবশ্যই পারবে।’

‘তখন আমি ভেবেছিলাম আমার ছেলে মিকাইল বোধহয় জুনিয়র মাস্টারশেফে যেতে আগ্রহী। কারণ ও ভালো রান্না জানে। তাকে আবেদন করতে বললাম। তখন মাথায় আসলো- আমি আগে আবেদন করে তাদের জন্য একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারি। সেই ভাবনা থেকেই আবেদন করি’ বলেন কিশোয়ার।

বাংলাদেশি না ভারতীয়—কী বলছেন কিশোয়ার?

কিশোয়ার বাংলাদেশি নাকি ভারতীয়—তা নিয়ে দুই দেশের মিডিয়া যখন দুই রকম তথ্য প্রকাশ করছেন। ঠিক তখন গণমাধ্যমে নিজের মনন নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন কিশোয়ার।

নিজেকে বাঙালি পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বিক্রমপুরের, খাঁটি বাঙালি। মা বর্ধমানের। ফলে আমি বাংলাদেশি, তবে ইন্ডিয়ানও। তবে সবচেয়ে ভালো লাগে যদি বলি—আমি বাঙালি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ—দুটো মিলেই আমার আইডেনটিটি (পরিচয়)। এটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

কিশোয়ার জানান, অস্ট্রেলিয়া, লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে প্রচুর বাংলাদেশি ফুডের রেস্টুরেন্ট আছে। কিন্তু সেখানে বাঙালি খাবার খুব একটা দেখা যায় না। বেশিরভাগই হয় ভারতীয়। আমার ইচ্ছা ছিল—বাঙালি ফুড আইডেনটিটি তুলে ধরা। আর সেটাই আমি পূরণের চেষ্টা করেছি মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায়।’

গ্রান্ড ফিনালের দুই প্রতিযোগীর সাথে কিশোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া কতটা জনপ্রিয়?

বিশ্বের রান্নাবিষয়ক টেলিভিশন রিয়েলিটি শো-গুলোর মধ্যে মাস্টারশেফ অন্যতম। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ তাদের নিজস্ব মাস্টারশেফ আয়োজন করে থাকে। বিশ্বে মাস্টারশেফ অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’জনপ্রিয়তার দিক থেকে রয়েছে তালিকার শীর্ষে। এটি প্রতিযোগিতামূলক রান্নার গেম শো।

রোজিনা, মাহির হাত থেকে পুরস্কার পেলেন সাকিব মুহতাসিম



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রোজিনা, মাহির হাত থেকে পুরস্কার পেলেন সাকিব মুহতাসিন

রোজিনা, মাহির হাত থেকে পুরস্কার পেলেন সাকিব মুহতাসিন

  • Font increase
  • Font Decrease

২০১২ সাল থেকে শােবিজে ফ্যাশন ফটোগ্রাফি শুরু করেন। এরপর অল্প সময়ে আলোচনায় আসেন সাকিব মুহতাসিম।তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি চিত্রনায়িকা রোজিনা, মাহির হাত থেকে পুরস্কার পেলেন তরুণ এই আলোকচিত্রী।

সম্প্রতি রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে হয়ে গেল ফ্যাশনবিষয়ক ‘আইকনিক অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ অনুষ্ঠান । আর এই অনুষ্ঠানে ফ্যাশন ফটোগ্রাফার হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন তরুণ আলোকচিত্রী সাকিব মুহতাসিম ।

পুরস্কার পাওয়ায় সাকিব মুহতাসিম বলেন, ক্যামেরার পেছনের মানুষ হিসেবে পুরস্কার পাওয়াটা সত্যিই আনন্দের বিষয়। আর পুরস্কার পেয়ে সামনে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পেলাম । আইকনিক ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

;

স্কিন কেয়ার কসমোটোলজিস্ট লাইসেন্স পেলেন মারিয়া মৃত্তিক



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্কিন কেয়ার কসমোটোলজিস্ট লাইসেন্স পেলেন মারিয়া মৃত্তিক

স্কিন কেয়ার কসমোটোলজিস্ট লাইসেন্স পেলেন মারিয়া মৃত্তিক

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যস্ত বিউটিশিয়ান ও উদ্যোক্তা ইসরাত জাহান মারিয়া। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মেকআপ নিয়ে কাজ করছেন। এ অঙ্গনে তিনি মারিয়া মৃত্তিক নামে পরিচিত।

কয়েকদিন আগেই তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘কেনেডি হফম্যান মাস্টার ক্লাস’ থেকে জিতে এসেছেন সেরা বিউটিশিয়ানের পুরস্কার পান । এছাড়া বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত -এর হাত থেকেও নারী লিডারশিপ উদ্যোক্তা বিষয়ক পুরস্কার পান।

এবার বাংলাদেশের প্রথম নারী মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে স্কিন কেয়ার কসমোটোলজিস্ট লাইসেন্স পেলেন মারিয়া মৃত্তিক । তিনি আমেরিকা থেকে গতকাল বলেন, এটা আমার জন্য সত্যি গর্বের । আর একটা বিষয় ভাবতে ভালো লাগছে যে, আমিই প্রথম নারী মেকআপ আর্টিস্ট যে আমেরিকার পাঁচটা স্টেটে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থীকে ওয়ার্কশপ করালাম । দুবাই, লন্ডন এবং কানাডায় আমার পরবর্তী ওয়ার্কশপ । বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী মেয়ে আছে যারা মেকআপ নিয়ে অনেক আগ্রহী । তাদের সাথে কাজ করতে পেরে আমার খুব ভালোলেগেছে। বিশ্বের মোট ১১৪টি দেশে এপ্রুভ করে স্কিন কেয়ার কসমোটোলজির এই সার্টিফিকেট । এটা আমার কাছে যারা ক্লাস বা ওয়ার্কশপ করে তারা আর্ন্তজাতিকভাবে সার্টিফাইড হবেন ।

মারিয়া মৃত্তিক মেকআপ নিয়ে আমেরিকার বোস্টন, নিউইয়র্কে, মিশিগান, ওকলাহোমা এবং ডালাসে মাস্টারক্লাস মেকআপ ওয়ার্কশপ করান এবং অনেক বড় আকারে ব্রাইডাল শো হয় সেখানে ।

মারিয়া মৃত্তিক গত ছয় বছরে অসংখ্য মেকআপ ওয়ার্কশপ করিয়েছেন। পুরো বাংলাদেশে তার প্রায় ১৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী নিজেদের মতো কাজ করছেন বলে জানান তিনি। মারিয়া তার সেলুন ‘গ্লো বাই মারিয়া মৃত্তিক’-এ মেকআপ, স্কিন কেয়ার ও হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। এ সময়ে ব্রাইডাল মেকআপে তার বেশি সময় কাটছে। তিনি নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ব্রাইডাল ফ্যাশন হাউস ‘জেকে ফরেন ব্র্যান্ড’।

;

ঈদ-উল-আজহায় ‘সারা’র আয়োজন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ঈদ-উল-আজহায় ‘সারা’র আয়োজন

ঈদ-উল-আজহায় ‘সারা’র আয়োজন

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব এই ঈদ উল আজহার আনন্দকে আরও মাতিয়ে তুলতে চাই নতুন পোশাক। ‘সারা’ লাইফস্টাইল আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে পোশাকের আকর্ষণীয় সব কালেকশন। বরাবরের মতোই সকল বয়সীদের জন্য থাকছে ‘সারা’র এবারের ঈদ কালেকশন। 

সারা'র এবারের ঈদ আয়োজনের সকল পোশাকের অলংকরণে বেছে নেওয়া হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারির কাজ। জিওমেট্রিক, ট্র্যাডিশনাল, ফ্লোরাল এমন অনেক কিছুই থাকছে এসব পোশাকের মোটিফ হিসেবে। এ লাইন, সিমেট্রিক, এসিমেট্রিক নিয়ে বিভিন্ন  কাজ থাকছে পোশাকগুলির প্যাটার্নে। এছাড়াও কালারের ক্ষেত্রে ভাইব্রেন্ট রাখা হয়েছে এবারের ঈদ কালেকশন।


প্রকৃতি ও ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি সারা’র পোশাকের কাটিং ও প্যাটার্নে রয়েছে বৈচিত্র্য।  পাশাপাশি থাকছে ফেব্রিক্স এবং ট্রেন্ডের ভিন্নতাও। এসকল পোশাকে ব্যাবহার করা হয়েছে, কটন, ভিসকস, শার্টিন, নেট, ডেনিম ও টুইল ফেব্রিক্স, জ্যাকার্ড কটন, ডবি কটন, জর্জেট, সিল্ক ইত্যাদি। মেয়েদের জন্য ‘সারা লাইফস্টাইল’ এনেছে সিঙ্গেল পিস কামিজ, লন থ্রি পিস, আনইস্টিচ লন, আকর্ষণীয় পার্টি থ্রি পিস, এথনিক কূর্তি, ফ্যাশন টপস, কাফতান, সূতীর শাড়ি, ডিজিটাল প্রিন্টের শাড়ি এবং ডেনিম এর কালেকশন।। সারা’র এবারের আয়োজনে ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবী, কাবলি সেট, সিঙ্গেল পিস কাবলি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি শার্ট, পোলো শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া, ডেনিম প্যান্ট, চিনো প্যান্ট, কার্গো প্যান্ট, পায়জামা ইত্যাদি। 


বরাবরের মতোই সারা’র ঈদ আয়োজনে গুণগত মান ও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আকার, ডিজাইন ও প্যাটার্নের ভিন্নতার দিক বিবেচনা করে এসব পোশাকের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রেতারা এসব পোশাক পেয়ে যাবেন ৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে। পাশাপাশি এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবী থাকছে এবারের সারা’র ঈদের কালেকশনের মূল আকর্ষণ।  

এছাড়াও সারা'র ঈদ আয়োজনে ছেলে শিশুদের শার্ট বা ফতুয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে শর্ট স্লিভ এবং ফুল স্লিভ। লং প্যান্টের পাশাপাশি রয়েছে কোয়ার্টার প্যান্ট। সাদা পাঞ্জাবীর পাশাপাশি ভাইব্রেন্ট কালারেরও পাঞ্জাবী থাকছে। মেয়ে শিশুদের জন্য থাকছে ফ্রক, পার্টি ফ্রক, থ্রি পিস, জাম্প সুট, ফ্যাশন টপ্স, নীমা সেট, টপ বটম সেট। এছাড়াও ছেলে শিশুদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবী, কাতুয়া, লং ও শর্ট স্লীভ শার্ট, পলো টি-শার্ট, ফ্যাশনেবল শার্ট-প্যান্ট সেট, বয়েজ কার্গো ইত্যাদি। ছাড়াও থাকছে বাবা-ছেলের পাঞ্জাবী ও কাবলির মিনিমি। এছাড়াও সারা’র এবার ঈদের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে ফুল ফ্যামিলি একই ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ। 


স্নোটেক্স গ্রুপ এর লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘সারা’ কাজ শুরু করেছে ২০১৮ সালের মে মাস থেকে। ঢাকার মিরপুর-৬ এ অবস্থিত ‘সারা’র প্রথম আউটলেট নিয়ে কাজ শুরুর পর বসুন্ধরা সিটির লেভেল ১, ব্লক এ এর ৪০ এবং ৫৪ নং শপটি ছিল সারা’র ২য় আউটলেট। ৩য় আউটলেটটি হল বাড়ি- ১৯ বি/৪সি ও বি/৪ ডি, ব্লক-এফ, রিং রোড, মোহাম্মদপুর এই ঠিকানায়। উত্তরায় সারার পোশাক পাওয়া যাবে হাউজ নং-২২ , সোনারগাঁ জনপদ, সেক্টর-৯, উত্তরা, ঢাকা- এই ঠিকানায়। বারিধারা জে ব্লকে আছে সারার আরেকটি আউটলেট। সম্প্রতি বনশ্রী ই ব্লকের ১নং রোডের ৪৮ নং বাড়িতে চালু হয়েছে যাচ্ছে সারা'র ৬ষ্ঠ আউটলেট। ঢাকার বাইরে সারা’র প্রথম আউটলেট এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে রংপুরে জাহাজ কোম্পানির মোড়েই। এছাড়াও রাজধানী ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় এলাকা ওয়ারীতে (বাড়ি ৩৬/১ নং, র‍্যাংকিন স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা-  ১২০৩) সারা’র নতুন আউটলেটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

‘সারা’ এর নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.saralifestyle.com.bd), ফেসবুক পেজ ( https://www.facebook.com/saralifestyle.bd) এবং ইন্সটাগ্রাম (https://www.instagram.com/saralifestyle.bd/ ) থেকে ক্রেতারা ঢাকার ভেতরে অর্ডার করে বিনামূল্যে হোম ডেলিভারি পেতে পারেন। এছাড়াও ঢাকার বাইরে সারা দেশে কুরিয়ারের মাধ্যমেও আপনার অর্ডারকৃত পণ্য ডেলিভারি পাবেন।

;

কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল মেডিকেল হাসপাতালে রোগীর আর্তি!



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, সংগৃহীত

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ পরিস্থিতি জানিয়ে মর্মস্পর্শী আর্তি জানিয়েছেন একজন ভোক্তভোগী রোগী। কিশোরগঞ্জ শহরের ফিশারি রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী খালেদ শামস তুষার নিজের চরম কষ্টকর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জানিয়ে বলেন, "আমাদের সকলের প্রাণের নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনেক স্বপ্ন নিয়ে গড়া এই হাসপাতালের এহেন অবস্থা দেখে কিশোরগঞ্জের একজন নাগরিক হিসাবে আমি লজ্জাবোধ করছি। আমি এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে করজোড়ে আবেদন করছিযেন সৈয়দ আশরাফ সাহেবের আত্মার প্রতি সন্মান জানিয়ে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়।"

বার্তা২৪.কম'কে খালেদ শামস তুষার জানান, "গত রবিবার (১৯ জুন) বুকে ব্যথা নিয়ে আমি আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সহায়তায় অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সিসিসি'তে ভর্তি হই। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা অবর্ণীয়। সিসিইউ ইউনিটে না আছে বেড,  না আছে এসি সাপ্লাই, না আছে সিসিইউ'র জন্য উপযুক্ত নার্স। এমন কি সিসিইউ'র জন্য কোনও ইমারজেন্সি ডাক্তার পর্যন্ত নেই। আছে শুধু ২ টা স্ট্যানড পাখা। আর যে বেডগুলো আছে, তা মোটেও সিসিও'র উপযুক্ত নয়।"

তিনি বলেন, "সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা হলো, একজন কার্ডিয়াক মুমূর্ষু রোগীকে বাথরুমে যাবার জন্য প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে যেতে হয়। আর এটাকে বাথরুম বলব না অন্য কিছু বলব আমার জানা নাই। এই হলো কার্ডিয়েক সিসিইউ ইউনিটের অবস্থা। অন্যান্য ইউনিটের কি অবস্থা আমার জানা নাই।"

খালেদ শামস তুষার বলেন, "বর্তমানে কিশোরগঞ্জের বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বার যারা পরিচালনা করছেন, তারা চায় না সরকারি হাসপাতলে রোগী যাক। তাই তারা কিছু অসাধু ডাক্তার সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় এই সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই অবস্থা করে রেখেছে।"

উল্লেখ্য, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত চিকিৎসা বিষয়ক উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু মহল বিশেষের নানা অসহযোগিতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর অবশেষে মুজিববর্ষের প্রথম দিনে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয় বহুল প্রত্যাশিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

সরকারি সূত্রানুসারে, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য বাজেট হিসাবে আনুমানিক ৫.৪৫ বিলিয়ন টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মধ্যে ছয়তলা হাসপাতাল ভবন, একাডেমিক ভবনের জন্য পাঁচতলা কলেজ, নার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস, ইন্টার্নি ডাক্তারদের হোস্টেল, ডাক্তারদের ছাত্রাবাস, স্টাফ নার্সদের ছাত্রাবাস, মসজিদ, মিলনায়তন, অধ্যক্ষ ও পরিচালকদের আবাসিক ভবন, জিমনেসিয়াম ইত্যাদি স্থাপনা তৈরিসহ সরঞ্জাম সংগ্রহ, একটি মাইক্রো-বাস, দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং আসবাবপত্র কেনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

;