শীতকালীন সবজির চমকপ্রদ কিছু উপকারিতা



সৈয়দা আফসারা তাসনিম, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
শীতকালীন সবজি

শীতকালীন সবজি

  • Font increase
  • Font Decrease

ছয় ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। শীতকাল মানেই এক অন্য অনুভূতি। বছরের প্রায় সবসময় কম বেশি শাক-সবজি ও ফলমূল হয়ে থাকে। তবে ষড়ঋতুর আবর্তে বাংলাদেশে শীতকালই শাক-সবজি ও ফলমূলের জন্য উপযুক্ত সময়। বাহারি শাক-সবজিতে সমৃদ্ধ শীতকাল মাছে-ভাতে বাঙালি পরিচয়টিকে যেন আরও পাকাপাকি করে তোলে একটি পরিপূর্ণ আহারের মাধ্যমে। শীতকালে এসব মৌসুমি শাক-সবজি বা ফল গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই শরীরের চাহিদা মোতাবেক পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে ভিটামিন ও মিনারেলসের চাহিদা পূরণ সম্ভব। খাদ্যের উপাদানের মধ্যে ভিটামিন ও মিনারেলসের অন্যতম উৎস হল শাক-সবজি ও ফলমূল। মূলত ভিটামিন ও মিনারেলস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে এবং আমাদের শরীরকে খাদ্যের শর্করা, আমিষ ও চর্বির ব্যবহারে সাহায্য করে। অর্থাৎ আমাদের শরীর রক্ষায় শাক-সবজি ও ফলমূলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

জানাবো ৫টি শীতকালীন সবজির পুষ্টিগুণ ও তাদের উপকারিতা সম্পর্কে-


শিশুদের অপুষ্টি দূর করে মটরশুটি
মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি; প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যায় ১২৫ কিলোক্যালরি। উদ্ভিজ আমিষের বড় ভাণ্ডার হল শিম। শিমে আমিষ ছাড়াও স্নেহ ও ফাইবারজাতীয় খাবার অংশ থাকে। শিমের আঁশ খাবার পরিপাকে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকাংশে দূর করে। রক্তে কোলেস্টরোলের মাত্রা কমায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে পাকস্থলী ও প্লিহার শক্তি বাড়ায়। লিউকোরিয়াসহ মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে, শিশুদের অপুষ্টি দূর করে এবং পুষ্টি প্রদান করে থাকে।


শীতকালীন বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে ফুলকপি
ফুলকপিতে আছে ভিটামিন এ, বি, ও সি। এছাড়াও আছে আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার। গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু এবং যারা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের জন্য ফুলকপি বেশ উপকারী একটা সবজি। ফুলকপি পাকস্থলির ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন বিভিন্ন রোগ যেমন জ্বর, কাশি, সর্দি প্রতিরোধ করে। ফুলকপিতে বিদ্যমান ‘সালফোরাফোন’ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই সবজিতে খুব ভালো পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ পেটের নানা সমস্যা দূর করে। এই খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর।


দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে গাজর
গাজর অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি।তরকারি বা সালাদ হিসেবে এই সবজি খাওয়া যায়।গাজরের পুষ্টির উপাদান গুলি হলো — ক্যালোরি ৩০ গ্রাম, ডায়েটরি ফাইবার ২ গ্রাম, চিনি ৫ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৭ গ্রাম, সোডিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২৫০মিলিগ্রাম। এছাড়াও ক্যালসিয়াম দৈনিক চাহিদার ২শতাংশ, আয়রন ২শতাংশ, ভিটামিন এ ১১০ শতাংশ, ভিটামিন সি ১০ শতাংশ ঘাটতি পূরণ করে। গাজরে আছে বিটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। গাজরে উপস্থিত ক্যারোটিনয়েড ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। গাজরের সাথে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের মরা কোষ দূর হয় ও ত্বক উজ্জ্বল হয়।


ক্যান্সার প্রতিরোধ ও হৃদরোগে কার্যকর টমেটো
টমেটো প্রচুর উপকারী একটি সবজি।এর প্রচুরঔষধই গুনও রয়েছে।এর পুষ্টি তালিকা এমন- প্রতি ১০০ গ্রাম টমেটোতে আছে ০.৯ গ্রাম আমিষ, ৩.৬ গ্রাম শর্করা, ০.৮ মি. গ্রাম আঁশ, ০.২ মি. গ্রাম চর্বি, ২০ কিলোক্যালরি শক্তি, ৪৮ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২০ মি. গ্রাম ফসফরাস, ০.৬৪ মি. গ্রাম লৌহ, ৩৫১ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ২৭ মি. গ্রাম ভিটামিন ‘সি’। টমেটোর লাইকোপেন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও হৃদরোগে কার্যকর। নিয়মিত টমেটো খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্র সুস্থ ও সবল থাকে। টমেটো মূত্রথলির অম্লতাকে নিরপেক্ষ রাখতে সাহায্য করে। ফলে মূত্রাশয়ের সংক্রমণ ও পাথর তৈরি হয় না।


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ব্রোকলি
ব্রোকলি বা সবুজ ফুলকপি একটি কপি জাতীয় সবজি। শীতকালীন সবজির হিসেবে ব্রোকলি বর্তমানে আমাদের দেশে চাষ করা হচ্ছে। ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। ব্রোকলি অত্যন্ত উপাদেয়, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি সবজি। এটি চোখের রোগ, রাতকানা, অস্থি বিকৃতি প্রভৃতির উপসর্গ দূর করে ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

ওমিক্রনের প্রার্দুভাবে গর্ভবতীদের জ্বর নিয়ে বাড়তি সতর্কতা ও পরামর্শ



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
এ সময়ে অন্য সবার চেয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে সন্তানসম্ভবা নারীদের।

এ সময়ে অন্য সবার চেয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে সন্তানসম্ভবা নারীদের।

  • Font increase
  • Font Decrease

শীতকাল মানেই ঘরে ঘরে শুরু হয় সর্দি-জ্বর, হাঁচি-কাশি। যা সাধারণ চিকিৎসায় মেলে মুক্তি। তবে প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে করোনাভাইরাস! সামান্য জ্বর বা কাঁশিতে ঘরে ঘরে এখন আতঙ্ক! এ সময়ে অন্য সবার চেয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে সন্তানসম্ভবা নারীদের।

বেশি বেশি পানি পান করা

জ্বর হলেই সন্তানসম্ভবা নারীদের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি খুব বেড়ে যায়। তাই প্রচুর পানি ও পানীয় জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। ওআরএস যুক্ত পানি ছাড়াও বারবার অল্প অল্প করে সাধারণ পানি পান করার সঙ্গে সঙ্গে কোমল জুস খাওয়া উপকারী।

জ্বর হলেই সন্তানসম্ভবা নারীদের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি খুব বেড়ে যায়।

ওষুধ খাওয়ায় সতর্কতা

সন্তানসম্ভবা নারীদের জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনও ওষুধ খাওয়া চলবে না। প্রয়োজন বুঝে গর্ভবতীদের ব্লাড থিনার দেওয়া হয়। গর্ভবতীকে প্যারাসিটামল দেয়ার পরেও জ্বর না কমলে তৃতীয় দিনে রক্ত পরীক্ষা করা আবশ্যক। জ্বর হলে করোনার ভয়ে নিজে থেকে ওষুধ খেতে যাবেন না। বরং টেলিফোনে দ্রুত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে যদি জ্বরের সঙ্গে বমি হয়, কোনও ঝুঁকি না নিয়ে গর্ভবতীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত।

স্যালাইন দেওয়া

এমনিতেই জ্বরের জন্য শরীরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তার সঙ্গে বমি সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। এক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন হয়ে গিয়ে মা ও গর্ভস্থ শিশু; দু’জনেরই জীবন বিপন্ন হতে পারে। ডিহাইড্রেশন আটকানোর একমাত্র উপায় স্যালাইন দেওয়া। তাই বাড়িতে রেখে চিকিৎসার ঝুঁকি নেওয়া অনুচিত।

;

অনলাইন ক্লাসের স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও অভিভাবকদের করণীয়



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
অনলাইন ক্লাসে সুবিধা যেমন আছে, তেমনি অসুবিধাও রয়েছে।

অনলাইন ক্লাসে সুবিধা যেমন আছে, তেমনি অসুবিধাও রয়েছে।

  • Font increase
  • Font Decrease

দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ওমিক্রন দ্রুত গতিতে সংক্রমিত হচ্ছে। ফলে আবারও হুমকির মুখে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। আজ থেকে দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে অনলাইনে ক্লাস চালু থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অনলাইন ক্লাসে সুবিধা যেমন আছে, তেমনি অসুবিধাও রয়েছে। অসুবিধাগুলো দুই ধরনের। শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যগত। শিক্ষাগত সমস্যার মধ্যে অন্যতম- স্কুল ছুট বা ঝরে পড়ার সংখ্যা বৃদ্ধি, মোবাইল-ইন্টারনেট না থাকায় বড় একটি অংশ বঞ্চিত এবং স্কুল খোলা না থাকায় সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে অসচেতন হয়ে পড়া।

তবে শিক্ষাগত দিকের চেয়ে অনলাইন ক্লাসের স্বাস্থ্যগত দিকের সমস্যায় বেশি। চলুন জেনে নিই বিশেষজ্ঞদের মতে অনলাইন ক্লাসের স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো-

অবসাদগ্রস্ত বা মানসিক ক্লান্তি

যে বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিক বিকাশ হয়, সেই সময়ে ঘরে বসে থাকায় অবসাদগ্রস্ত হতে পারে স্কুলপড়ুয়ারা। চিকিৎসকরা বরাবরই সাবধান করছেন- স্মার্টফোনের আলোয় চোখের ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে মানসিক ক্লান্তি আনে। অনলাইন ক্লাসে মোবাইল ব্যবহার করতেই হয়। ফলে চোখের সঙ্গে অন্য সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে বাচ্চাদের।

barta24
স্মার্টফোনের আলোয় চোখের ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে মানসিক ক্লান্তি আনে।

অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহারে ক্ষতি

অনলাইন ক্লাসের জন্য দীর্ঘসময় বিভিন্ন ধরনের হেডফোন ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে নানা ধরনের শ্রবণ সংক্রান্ত সমস্যার শিকার হচ্ছে তারা। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় জানান, প্রতিদিনই কানের সমস্যা নিয়ে আসছে ছোট শিক্ষার্থীরা। জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি বুঝেছেন, অনলাইন ক্লাস চলাকালীন হেডফোন ব্যবহারে ছোটদের কানে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন

চিকিৎসকরা বলছেন, একটানা মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকায় ছেলে-মেয়েদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিচ্ছে। একটুতেই তারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি চরম বিরক্তি দেখাচ্ছে। জেদি হয়ে ওঠাসহ ব্যবহারিক নানা পরিবর্তনও ঘটছে।

এ সময়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে শিশু-কিশোদের যত্ন নিতে হবে।

অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ ও মুটিয়ে যাওয়া

স্কুলে বা বাইরে কোথাও না যাওয়ায় খাদ্য অভ্যাসেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। ঘন ঘন ফ্রিজ খুলে নানা ধরনের খাবার খাচ্ছে। অথচ গেল ৬ মাস হাঁটা-চলা, খেলাধুলা বা শারীরিক কোনো পরিশ্রমের বালাই নেই! ফলে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা মুটিয়ে যাচ্ছে। বয়সে তরুণদের এই বয়সে মেদ বাড়ছে!

সংকটের মধ্যেই যা করণীয়

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অভিভাবক ও শিক্ষক সকলেই বলছেন- পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অনলাইন ক্লাসটা চালিয়ে নিতে হবে। না হলে পড়াশোনা পিছিয়ে যাবে। কিন্তু এ সময়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে শিশু-কিশোদের যত্ন নিতে হবে।

সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-

অনলাইন ক্লাসগুলো একটানা না করিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে আরও আনন্দদায়ক করে তুললে সমস্যা কমবে।

অনলাইন ক্লাসে যদি দেখার স্ক্রিন বা ফ্রেম বড় করা যায়, তাহলে সেটাই করুন।

জনসমাগম এড়িয়ে সন্তানদের নির্দিষ্ট সময় বাড়ির বাইরে নিতে হবে। তবে সেসময় অভিভাবকদের নজর থাকা জরুরি।

হেডফোনের পরিবর্তে লাউড স্পিকার ব্যবহার করা।

পড়ার সঙ্গেই ছোটদের ক্লাসিক সিনেমা দেখিয়ে মন ভালো রাখা।

ফোন-কম্পিউটার স্ক্রিনের বাইরে ঘরেই কিছু খেলাধুলা করতে দিতে হবে। যেমন- ক্যারম, লুডু। সেগুলোতে অভিভাবকদের সঙ্গ খুব জরুরি।

;

ওয়ার্ক ফ্রম হোম, ঝিমুনি কাটিয়ে ওঠার উপায়



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী। ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। স্কুল কলেজের পাশাপাশি অফিসগুলোতেও এখন চালু করেছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্ধেক জনবল নিয়ে চলবে অফিসের কার্যক্রম। ফলে অফিসের কাজকর্ম ঘড়ে থেকেই করতে হবে অনেককে।

কিন্তু এই শীতে ঘড়ে বসে কাজের মাঝেই একটা আচ্ছন্ন-ভাব চলে আসা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না হলেও বিরক্তিকর বটে। কাজের মাঝে ঘুম ঘুম ভাব এর কারণে কাজ শেষ করতে প্রয়োজনের বেশি সময় লেগে যায়। ফলে সহ্য করতে হতে পারে বসের রাগ।

কিভাবে মিলবে এই ঝিমুনি ভাব থেকে মুক্তি? অনুসরন করুন সিম্পল কিছু টিপস, তাতেই আচ্ছন্ন ভাব কাটিয়ে আপনি হয়ে উঠবেন চাঙ্গা ও চনমনে।

একটানা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকবেন না
সকাল থেকে এক ভাবে ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ করলে একটা ক্লান্তি ভাব চলে আসাটাই স্বাভাবিক। ফলাফল ঘুম ঘুম ভাব। হারাতে থাকে কাজ করার উদ্যেমও। তাই টানা কাজ না করে মাঝে মাঝে বিরতি নিন, পায়চারি করুন। বাসার মানুষের সঙ্গে অল্পস্বল্প গল্প করুন। আবার কাজে বসুন।

আলো বাতাস এমন জায়গায় কাজে বসুন
অফিসের কাজের পরিবেশ আর ঘড়ে বসে কাজের পরিবেশে রাতদিন তফাত থাকে। শীতকালে অন্ধকারে এমনিতেই বেশি ঘুম ঘুম ভাব আসে। তাই চেষ্টা করুন আলো আসে এমন জায়গায় বসে কাজ করার। এতে আপনি কাজে আনন্দ পাবেন উৎসাহও আসবে আচ্ছন্নতাও কেটে যাবে।

দুপুরের ক্লান্তিভাব দুর করতে গভীর শ্বাস নিন
শীতকালে দুপুরবেলা যেন আরও বেশি করে ঘুম পায়। অথচ অফিস চলছে ঘুমালে চলবে না। এই সময় চোখ বন্ধ করুন বড় করে শ্বাস নিন এতে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছে ঘুম ঘুম ভাব কাটিয়ে মন ও শরীর তরতাজা হয়ে উঠবে।

চা-কফি
কাজ ফেলে বারবার ওঠার চেয়ে ফ্লাস্ক ভর্তি করে চা নিয়ে বসুন। বা একফাকে একমগ কফি বানিয়ে নিন। ঘুম পেলেই খেয়ে নিন। ভাল লাগবে।

চোখে পানির ঝাপটা
ছোটবেলা থেকে ঘুম কাটানোর একটা মোক্ষম উপায় চোখে মুখে পানির ঝাপটা দেওয়া। এটা আসলেও কার্যকর। এক নিমেষে দূর করে আচ্ছনতা। আর ঘুম তাড়ানো ছাড়াও এক ভাবে কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখেও তার প্রভাব পড়ে পানির ঝাপটায় চোখে মিলবে আরামও।

;

চকলেট খেলেই সারবে গলা ব্যথা!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শীতকালে ঠান্ডা-কাশি লেগেই থাকে। সাথে তো গলা ব্যথা আছেই। আর এরকম গলা ব্যথা দূর করতে বেশিরভাগ মানুষ কাশির ওষুধ খাচ্ছেন অথবা তীব্র মিষ্টি স্বাদের কাশির সিরাপ পান করেন।

কিন্তু এখন থেকে এসব জিনিস ওষুধের বাক্সে রেখে দিতে পারেন। কারণ গলা ব্যথার আরো কার্যকর প্রতিকার আছে ঘরেই। সেটা হলো চকলেট! হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন। চকলেট খেলেই সারবে গলা ব্যথা।

হাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওভাসকুলার এবং শ্বাসযন্ত্রের গবেষণা প্রধান অধ্যাপক অ্যালিন মরিস চকলেটের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। স্বাধীন চিন্তাশীল চিকিৎসক মরিস কাশি নিয়ে অনেক বছর গবেষণা করেছেন, তিনি বলেন, চকলেটে কাশি উপশম হয়-এ কথার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

ইউরোপীয় এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কোকোয়াযুক্ত কাশির নতুন ওষুধ, সাধারণ মানের সিরাপের চেয়ে বেশি কার্যকর। যেসব রোগী চকলেট ভিত্তিক ওষুধ খেয়েছেন তারা দুই দিনের মধ্যেই উন্নতি লক্ষ করেছেন।

মরিসের মতে, চকলেটযুক্ত ওষুধ, সাধারণ কাশির সিরাপের তুলনায় বেশি আঠালো। তাই এটি গলার ভেতরে এক ধরনের আবরণ তৈরি করে অভ্যন্তরীণ নার্ভ ফাইবারকে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে ঘন ঘন কাশি হওয়া কমে যায়। চকলেটে অভ্যন্তরীণ নার্ভ ফাইবারের ওপর কিছুটা নিবারক প্রভাব রয়েছে। এজন্য কাশির চিকিৎসায় মধুর চেয়ে কোকোয়া বেশি কার্যকর।

মরিস বলেন, এক টুকরো চকলেট ধীরে ধীরে চেটে খেলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে, কিন্তু আমি মনে করি, এভাবে অন্য উপাদানের সঙ্গে চকলেটের মিশ্রন ভালো কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে গরম কোকোয়া পান করা অতটা ফলপ্রসূ নয়, কারণ কোকোয়া পর্যাপ্ত সময় গলার ভেতরের অংশের সংস্পর্শে না থাকায় কাজ করে না।

;