এক উপাদানেই উপকারী ফেস মাস্ক

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
কলার ফেস মাস্ক নানাভাবে ত্বকের উপকার করে

কলার ফেস মাস্ক নানাভাবে ত্বকের উপকার করে

  • Font increase
  • Font Decrease

ত্বকের যত্নের জন্য ফেসিয়াল বা ফেস স্পা বেশ প্রচলিত ও জনপ্রিয়। তবে এর জন্য সময় ও অর্থ দুই-ই ব্যয় করতে হয় প্রয়োজনের চাইতে বেশি। অথচ একেবারেই ঘরোয়া কিছু পরিচিত উপাদান ব্যবহারেই ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। এমনকি শুধুমাত্র একটি উপাদান ব্যবহার করেই পারফেক্ট হোমমেড ফেস মাস্ক তৈরি করে নেওয়া যাবে। এমন কয়েকটি জিনিসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হল।

কলার ফেস মাস্ক

নানাবিধ উপকারিতা সমৃদ্ধ এই ফলটি ত্বকের জন্য খুব ভালো ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন-এ ত্বকের দাগ ও লালচেভাব কমিয়ে আনে। বিশেষত এতে থাকা ভিটামিন-বি ত্বকের শুষ্কভাব কমাতে কাজ করে বলে শীতকালীন সময়ে ত্বককে আর্দ্রতাপূর্ণ রাখতে ও ত্বকের বলীরেখা প্রতিরোধ করতে কলার ফেস মাস্ক ব্যবহার করা হবে সবচেয়ে সঠিক।

কলার ফেস মাস্ক ব্যবহারের জন্য একটি মাঝারি আকৃতির কলা চটকে পেস্ট তৈরি করে এই পেস্টটি মুখ ও গলায় ম্যাসাজ করে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। মুখে টানভাব এসে শুকিয়ে গেলে পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

গুঁড়া দুধের ফেস মাস্ক

তরল দুধের সাথে অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করা হলেও গুঁড়া দুধ কখনোই ব্যবহার করা হয় না। ঘরে বসে ফেসিয়াল স্পায়ের মতো চমৎকার উপকারিতা পেতে চাইলে এই এক উপাদানেই পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত ত্বক। ১/৪ কাপ গুঁড়া দুধের সাথে গরম পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট পুরো মুখে ম্যাসাজ করে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে আসলে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এতেই ত্বক ফ্রেশ ও উজ্জ্বল হয়ে যাবে।

দইয়ের ফেস মাস্ক

ফেস মাস্ক

 ঘরে যদি দই থাকে তবে ত্বকের জন্য দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। ত্বকের দৃশ্যমান লোমকূপকে ছোট করতে এবং ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করায় টকদইয়ের জুড়ি নেই। এর জন্য টকদই মুখের ত্বকে সমানভাবে ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পর ধুয়ে নিতে হবে। তবে যারা বাড়তি যত্ন চান তারা টকদইয়ের সাথে আধা চা চামচ লেবুর রস অথবা কমলালেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, স্পর্শকাতর ত্বক হলে লেবু বা কমলালেবুর রস ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

ডিমের ফেসিয়াল মাস্ক

ফেস মাস্ক

 ত্বকের জন্য বাড়তি যত্ন ও ত্বকে সমস্যাকে দ্রুত সময়ের মাঝে কমিয়ে আনতে চাইলে ব্যবহার করতে হবে ডিমের ফেসিয়াল মাস্ক। শুষ্ক ত্বকের জন্য ডিমের কুসুম ফেটিয়ে ব্যবহার করতে হবে ময়েশ্চারাইজের জন্য। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করতে হবে। সাথে অল্প মধুও যোগ করে নেওয়া যেতে পারে। ডিমের যে অংশই হোক না কেন, ত্বকে ব্যবহারের ৩০ মিনিট পর শুকিয়ে এলে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

ওটস-মধুর ফেস মাস্ক

এই ফেস মাস্কটি সকল ঘরানার ত্বকের সাথেই মানিয়ে যাবে এবং ত্বককে পুষ্টি সরবরাহ করবে বলে এতে বেশ কয়েকটি উপাদান একসাথে ব্যবহার করতে হবে। ফেস মাস্ক তৈরির জন্য ২ টেবিল চামচ টকদই, ২ টেবিল চামচ মধু একটি ডিমের সাদা অংশ এবং গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা আধা কাপ ওটসের গুঁড়া প্রয়োজন হবে। সকল উপাদান একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে, গলা ও ঘাড়ে ব্যবহার করতে হবে। আধা ঘন্টা পর শুকিয়ে আসলে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :