হাবিব উল্লাহ ডন রেকর্ড ৪র্থ বারের মতো বারভিডা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত



সৈয়দ রানা মুস্তফী
বারভিডার নতুন প্রেসিডেন্ট হাবিব উল্লাহ ডন ও সৈয়দ রানা মুস্তফী

বারভিডার নতুন প্রেসিডেন্ট হাবিব উল্লাহ ডন ও সৈয়দ রানা মুস্তফী

  • Font increase
  • Font Decrease

ও বন্ধু আমার… ব্যবসা-বাণিজ্যের অঙ্গণ খুব সহজ নয়। প্রত্যেকেই ইন্ডিভিজুয়ালিস্ট এই সেক্টরে। বিজনেস সেক্টরে নেতা হওয়া তাই খুব কঠিন। আরো কঠিন বা প্রায় অসম্ভব ব্যবসা-বাণিজ্য সেক্টরের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠা। অর্থাৎ অ্যাসোসিয়েশন, চেম্বার ও অ্যাপেক্স বডি, এই তিন পর্যায়ে অতীতে কখনোই কেউ দেদীপ্যমান সূর্যের মত আবির্ভুত হতে পেরেছেন তেমন দৃষ্টান্ত নেই। সেই প্রায় অসম্ভব কাজটিই করে বিজনেস সেক্টরকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রিয় বন্ধু হাবিব উল্লাহ ডন! ৪র্থ বারের মত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বারভিডা’র! এর আগে আর কেউ কখনো চারবার বারভিডা’র প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। অনন্য এই অর্জনে প্রিয়বন্ধু ডনকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা।

দেশের বিজনেস সেক্টরের অ্যাপেক্স সংগঠন এফবিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাবিব উল্লাহ ডন শিল্প বাণিজ্যের উন্নয়নে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সিআইএস-বিসিসিআই চেম্বারের কয়েকবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডন সেখানেও রেকর্ড করেছেন। সিআইএস-বিসিসিআই চেম্বারের সদস্যবৃন্দ বারবার আস্থা রাখছেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাবিব উল্লাহ ডনের নেতৃত্বে।


দেশের বিজনেস সেক্টরের উন্নয়ন, বিকাশ ও এর সমস্যা সমাধানে হাবিব উল্লাহ ডনের অবদান ও ইন্টিগ্রিটি অতুলনীয়। ধর্মভীরু, সুদমুক্ত, দানশীল অথচ প্রচারবিমুখ ডন পরিবার অন্ত প্রাণ। তরুণ প্রজন্মের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ডন করোনার ভয়াল সময়ে হাজারো পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন। খাদ্য, ওষুধ ও শীতবস্ত্র দান করেছেন অসংখ্যজনকে। অবসরে ব্যতিক্রমী রান্না করে ও শরীর চর্চায় সময় দিয়ে ডন হয়ে উঠেছেন অনন্যসাধারণ এক আইকন!

আমি ডন ও ওঁর পরিবারের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল ও কল্যাণের জন্যে আল্লাহ’র শাহী দরবারে মুনাজাত করি।

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

আসা যাওয়ার পথের ধারে...



সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স। প্রতি শুক্রবার আমরা বেরিয়ে পড়তাম। কথাসাহিত্যিক, বিশ্ব সাহিত্যের নিষ্ঠ অনুবাদক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও আমার একান্ত আপনজন নুরুল করিম নাসিম ভাই, অতি প্রিয় অনুজপ্রতিম সিফাত আহমেদ চৌধুরী, আমি ও আমার ব্যক্তিগত গাড়িচালক সুজাতুর রহমান বকুল। এই ছিল মূল টিম, তবে অতি আগ্রহ বিবেচনায় কোনো কোনো শুক্রবার একজন বন্ধুকে সাথে নিতাম। কবি ফেরদৌস সালামও বোধহয় দু’একবার ভীড়েছিলেন আমাদের সে পাগলামিতে। একেক শুক্রবার নতুন এক জেলা, নতুন গন্তব্য। সকালে রওনা, পথে জুম’আ সময় হলে সেখানেই নামাজে অংশগ্রহণ, দুপুরের আহার, দর্শনানন্দ শেষ করে ঘরে ফিরতে গভীর রাত হয়ে যেত। সিফাত তখন সবে বিয়ে করেছে, ওর নবপরিণীতা স্ত্রী অভিমানে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে যখন সিফাতের দেরির জন্যে অনুযোগ করতো, সিফাত তখন খাঁটি সিলেটিঃ আইরাম আন্নি, আইরাম! অথচ আমরা হয়তো তখনো ঢাকা থেকে বেশ দূরে! নাসিম ভাবীর ঝাড়ি খেয়েও নাসিম ভাই তাঁর সুন্দর ব্যবহারের আড়ালে ঢেকে রাখতে চাইতেন সংসার সমুদ্রের ঝড়।

নুরুল করিম নাসিম ভাই তাঁর অনন্ত যাত্রা শুরু করেছেন দেড় বছরের বেশি সময় আগে (৫ই নভেম্বর ২০২০)। নাসিম ভাইকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন এই মুনাজাত করি। ‘সৈয়দ সাহেব, বেরুবেন নাকি আবার?’ নাসিম ভাইয়ের কাছ থেকে আর কখনো এমন কল আসার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে, হায়রে জীবন।

সিফাত এখন মহাব্যস্ত ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে। ওর সন্তানরা এখন বেশ মাথাধরা হয়ে উঠেছে!

জীবন-সময় খুব দ্রুত ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যায়, সে সবসময় চির নতুন থাকে, আমরা মানুষেরাই শুধু পুরনো, ন্যুব্জ ও অক্ষম হয়ে যাই। একসময় মৃত্যু এসে ঢেকে দেয় জীবনের সব আনন্দ আয়োজন...

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

;

এম. মোরশেদ আলম- এক জীবন্ত কিংবদন্তী



সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষটিকে ঘনিষ্ঠভাবে ও আপন করে চিনি গত ৩৪ বছর ধরে। একসঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলের হেলথ ক্লাবে ওয়ার্কআউট করেছি প্রায় ৩০ বছর! কাজ, পরিবার, জিম ও কিছু একান্ত সময়, এই নিয়ে আপন বৈশিষ্ট্যে দীপ্যমান মানুষটির নাম এম. মোরশেদ আলম।

এম. মোরশেদ আলম

বেঙ্গল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অগ্রজপ্রতীম মোরশেদ ভাই খাঁটি উদ্যোক্তাদের শীর্ষস্থানীয় একজন। তাঁর কঠোর পরিশ্রম, মেধা, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা আজ বেঙ্গল গ্রুপকে অগ্রগণ্য বিজনেস কনগ্লোমারেট হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।


গত ৩৪ বছরে মোরশেদ ভাইয়ের কোনো উদ্যোগকে ঋণ খেলাপি হতে দেখিনি। কখনো মানুষের হক মেরে ধনী হতে চাননি এই ব্যক্তিত্ব। ব্যাংক, বীমা, শিল্প কলকারখানায় মোরশেদ ভাই যেমন সফল হয়েছেন, গণমাধ্যমেও (আরটিভি) তিনি তাই।

স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনা গৃহ প্রতিষ্ঠা করেছেন ব্যাপক উদারতায়। রাজনীতিক মোরশেদ ভাইয়ের অভিষেক হয়েছে সংসদ সদস্য হিসেবে, সেখানেও রেখে চলেছেন ইতিবাচক ভূমিকা।


শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রিয়জন মোরশেদ আলম ভাইয়ের সঙ্গে আমার কখনো সামান্যতম স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নেই। আছে কেবল ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধন। আপনি সুস্থ্য সুন্দর ও কর্মময় থাকুন মোরশেদ ভাই, আপনার জন্যে এই আমার একান্ত মুনাজাত…।

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

;

সাউথইস্ট ব্যাংক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির: হি ইজ অ্যান ইন্সটিটিউশন হিমসেলফ



সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর আগে তারুণ্যে ভরপুর যুবক আলমগীর যখন এফসিএ হন তখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট খুব বিরল ছিল। রিটেনারশিপ কঠিন বলে এই পেশায় আসতে চাইত না শিক্ষার্থীরা। শুধু ব্যতিক্রমীরাই পা রাখতো এই অঙ্গনে।

জীবনের শুরু থেকেই ব্যতিক্রম ছিলেন আলমগীর কবির। তাই সহজ বিষয় বা সাবজেক্টকে বেছে না নিয়ে হয়েছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। সেই থেকে আজ পর্যন্ত, জীবনের পরিণত বয়সে এসেও দেশের শীর্ষ সফল সাউথইস্ট ব্যাংক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির এফসিএ ব্যতিক্রমীই আছেন। সততা, ধৈর্য্য, একাগ্রতা, নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোর শ্রম-সাধনা  তাঁকে পরিণত করেছে এক অনুকরণীয় আইকনিক ব্যক্তিত্বে। একজন আলমগীর কবির ব্যক্তি থেকে পরিণত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানে।

সাউথইস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক সিকিউরিটিজ, সাউথইস্ট ব্যাংক ফাউন্ডেশন, এনসিসি ব্যাংক ও বে লিজিংসহ অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শুধু অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাই নন আলমগীর কবির এফসিএ, এসব প্রতিষ্ঠানে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এগুলোকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলেছেন তিনি।

সাউথইস্ট ব্যাংক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির

চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১৬ বছর ধরে পরম মমতায় সাউথইস্ট ব্যাংক-কে তাঁর শ্রম ঘাম মেধা দিয়ে আজ নিয়ে এসেছেন সর্বোচ্চ সফল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগণ্য হিসেবে।

সৌদী আরবের অর্থ ব্যবস্থার নীতি প্রণয়ন ও সেসবের বাস্তবায়নে ১৩ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন আলমগীর কবির, সে দায়িত্বে তাঁর কৃতিত্ব দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিএসইসি’র কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কালকে বিশ্লেষকরা আজও সফলতম হিসেবে গণ্য করেন।

দেশের সুবৃহৎ উদ্যোক্তাদের অনেকই আলমগীর কবিরের সহায়তা, প্রণোদনা ও পরিচর্যায় ধ্বংসের প্রান্ত থেকে নতুন করে চূড়ান্ত সাফল্যের মুখ দেখেছেন! নতুন ও নিরীক্ষাধর্মী উদ্যোক্তারাও জনাব কবিরের অর্থায়ন ও উৎসাহে খুঁজে পেয়েছেন লাভজনক হয়ে ওঠার গন্তব্য। একারণেই সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলমগীর কবির যখন কোনো অনুষ্ঠান বা সামাজিকতায় উপস্থিত হন তখন অসংখ্য মানুষ তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনেকেই তাঁকে কদমবুসি করেন, অনেকেই তাঁর সামনে এসে কৃতজ্ঞতায় অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন, অনেকে প্রকাশ্যে বলেনঃ উনি আমাদের জীবনে প্রকৃত ফাদার ফিগার!


ব্যতিক্রমী আলমগীর কবির এফসিএ, আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় লুলু ভাইয়ের সৃজনশীল সৃষ্টিধর্মীতায় জাতীয় নারী ফুটবলারবৃন্দ ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচিং স্টাফরা পেয়েছেন/পাচ্ছেন সম্মানজনক আর্থিক প্যাকেজ।

সাউথইস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যে উপার্জনমুখী আবাসনের জন্যে ৭১ কাঠা জমিতে একাধিক বাণিজ্যিক-কাম আবাসিক ভবন নির্মাণের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এগুচ্ছেন জনাব আলমগীর কবির।

তাঁর মানবিক ও মানুষের কল্যাণধর্মী অগণিত উদ্যোগের বর্ণনা করতে গেলে বিশাল রচনা লিখতে হবে। আমরা এই মহান কর্মবীরের সুস্থ্যতা, আরো সাফল্য, ও সুখী জীবনের জন্যে আল্লাহ’র দরবারে প্রার্থনা করি…

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

;

কোন অভিমানে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ছিল ছেলেটি?



আনিসুর বুলবুল
শক্ত করে ধরে রাখা দুই হাতের মুঠির মধ্যে আসলে কী আছে?

শক্ত করে ধরে রাখা দুই হাতের মুঠির মধ্যে আসলে কী আছে?

  • Font increase
  • Font Decrease

সন্ধ্যা ৭টা। বাইরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। হালকা শীত। আড়াই বছরের ছেলে আয়ানকে নিয়ে টিভি দেখছি। একটু পর জরোসরো হয়ে কাছে এসে আয়ান জানতে চায়, বাবা এটা কীসের শব্দ? টিভির শব্দ মিউট করে বুঝতে পারি কান্নার শব্দ। ড্রয়িং রুমের ব্যালকোনিতে গিয়ে দেখি আশপাশের ফ্ল্যাটের মানুষজনও বুঝতে চেষ্টা করছেন কোন বাসা থেকে আসছে শব্দটি। ক্রমেই বাড়ছে কান্নার আওয়াজ! বুক ফাটিয়ে কান্না।

চা হাতে বউ এসে বলে, এ কান্না সাধারণ কান্না নয়, এটি নিশ্চয় স্বজন হারানোর কান্না। দ্রুত নিচে গিয়ে খোঁজ নাও। বউয়ের কথা শুনে বুকটা ধুক করে ওঠে। কার স্বজন চলে গেলো এই বৃষ্টি দিনে! আমার আর চা খাওয়া হয় না। দ্রুত ট্রাউজার পরে রওয়ানা হই। লিফটের ভরসা না করে সিঁড়ি দিয়েই নামতে থাকি।

পাঁচ তলা থেকে চার তলা নামতেই, ক্রমেই কান্না আর দরজা ধাক্কার শব্দ বেড়েই যাচ্ছে। তিন তলা আর দোতলা যেতেই হৈহুল্লোড় আর নিচতলা যেতেই দেখতে পাই মানুষে বোঝাই করিডোর। সবার চোখে মুখে আতঙ্ক! কি হয়েছে? জানতে চাওয়া মাত্রই কেয়ারটেকার বলেন, ঝুলে রইছে ছেলেটি! মানে? প্রশ্ন করতেই তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন করিডোরের পাশেই একটি জানালার কাছে।

জানালা দিয়ে তাকাতেই আমার বুকের কোথাও চিন চিন করে ওঠে। গ্রিলিরের ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে একটি ছেলে। গলায় গামছা; হাত দুটির মুঠো শক্ত করে রাখা। ওই পাশে দরজা খোলার আপ্রাণ চেষ্টা আর গগণ-বিদারি কান্নার শব্দে আমার সম্মিত ফিরে আসে। আমি কেয়ারটেকারকে দ্রুত গ্রিল কাটার মেশিন আনতে বলি।

এই সময়ে কি করা যায়? এদিক সেদিক পায়চারি করে ভাসানটেক থানায় ফোন দিই। কিন্তু ফোনের নম্বরটি বন্ধ পাই। দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ এ ফোন দিই। তাদেরকে লোকেশন ভাসানটেক থানার কথা বলা হলেও তারা আমাকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় এড করিয়ে দেন। ঘটনা বলার পর তারা পুলিশ পাঠাচ্ছে বলে জানান।

বাগানবাড়ির এই বাসায় প্রায় দুই বছর ধরে থাকি। এর আগে কি আমি ছেলেটিকে দেখেছি? চেনার চেষ্টা করি। কিন্তু মনে করতে পারি না। করিডোরে পায়চারি করতে থাকা এক ছেলে আমাকে জানান, ছেলেটির নাম মেহেদি। তার ফুপাতো ভাই। ইংলিশ সাবজেক্ট নিয়ে এবার ইউনিভার্সটিতে ভর্তি হয়েছে। এখানে মায়ের সঙ্গে থাকে, তার বাবা দুই বছর আগে মারা গেছেন। বিকেলে কি নিয়ে যেন মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে মেহেদির।

এরই মধ্যে ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন এসআই আমাকে ফোন দেন। আমি তাকে লোকেশনের কথা জানালে তিনি আমাকে ওয়েটিংয়ে রেখেই ওয়্যারলেসে ভাসানটেক থানায় ইনফরম করেন।

এই সিচুয়েশনে আসলে কি করা দরকার? বাগানবাড়ির ইউনাইটেড হোমসে প্রায় ৪০টি ফ্ল্যাট। অনেকেই নিচের করিডোরে চলে এসেছেন; সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আরো পরিচিত অনেকেই। আমি পায়চারি করছি। হালকা শীতের মধ্যেও ঘেমে একাকার হচ্ছি।

মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, উশকো খুশকো চুল, কালো রঙের ফুল স্লিপ টিশার্ট আর ক্যামোফ্লেজ কার্গো প্যান্ট পরা ছেলেটির সেই ঝুলে থাকার দৃশ্যটি মাথা থেকে সরাতে পারছি না। ছেলেটি কি এখনও বেঁচে আছে? তাহলে দরজা খুলতে না পারা কিংবা জানালার গ্রিল কাটতে না পারার জন্য তো আমরা দায়ী? আমি দৌড়াতে থাকি গ্রিল কাটার মেশিনের খোঁজে।

ফ্ল্যাট মালিকদের পরিচিত অনেকেই বলেন, ঘটনা ঘটেছে অনেক আগে। ছেলেটি এতোক্ষণ আর বেঁচে নেই। পুলিশ আসার পরই দরজা খোলা উচিত। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রই। বুকের ভেতর কোথায় যে চিন চিন করছে বুঝতে পারি না। পাঁচতলার সাজ্জাদ ভাই এসে জানতে চান? কি হয়েছে? তাকে কিচ্ছুই বলতে পারি না। পা কাঁপতে থাকে।

এই সময়ে আসলে কি করার আছে? ভাবতে ভাবতেই পুলিশের গাড়ি চলে আসে। মেহেদির সেই ক্যামোফ্লেজের কার্গো প্যান্ট, ফুল হাতায় সাদা স্ট্রেপের টিশার্ট আর খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির ফাঁকে শক্ত করে ধরে রাখা দুই হাতের মুঠির মধ্যে আসলে কী আছে? রাজ্যের যত রাগ? যত অভিমান? যত ক্ষোভ? যত হতাশা? আমি হিসাব মিলাতে পারি না!

;