ভাষার মাসে ডিপিএস এসটিএসের বর্ণাঢ্য আয়োজন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডিপিএস এসটিএস স্কুল, ঢাকা (দিল্লি পাবলিক)-র ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ নানাধরণের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। ভাষা সংগ্রাম ও একুশের তাৎপর্যকে আগামী প্রজন্মের মাঝে জাগিয়ে রাখার প্রচেষ্টা থেকে এ দিনে ডিপিএস এসটিএস স্কুলের পক্ষ থেকে ছাত্রদের জন্য বিভিন্ন ধরণের অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হয়। গোটা আয়োজনটির মূল লক্ষ্য ছিল ভাষাশহীদদের মহান আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা এবং বাঙালির ঐতিহাসিক শোকের আবহকে উপলব্ধি করা।

ডিপিএস এসটিএস স্কুলের প্রিন্সিপাল মাধু ওয়াল, ভাইস প্রিন্সিপাল ড. শিবানন্দ সিএস-সহ স্কুলের সিনিয়র লিডারশিপ টিমের সকল সদস্য একসাথে ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে খালি পায়ে হেঁটে স্কুলের অভ্যন্তরীণ শহীদ মিনারে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবেশের গভীরতাকে ধারণ করার লক্ষ্যে বাজানো হয় নানা দেশাত্মবোধক গান। গোটা দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা নানারকম সাংস্কৃতিক চর্চা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ব্যান্ড ‘ইগনাইট’-এর পরিবেশনা ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্কুলটির ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

এ প্রসঙ্গে ডিপিএস এসটিএস স্কুলের প্রিন্সিপাল মাধু ওয়াল বলেন, “আমরা প্রায়শই আমাদের নিজ মাতৃভাষার গুরুত্বের প্রতি উদাসীন বা অসংবেদনশীল হয়ে পড়ি। এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ডিপিএস এসটিএস স্কুলের মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের মাঝে মায়ের ভাষার মূল শেকড়কে অনুসন্ধানের অনুপ্রেরণা যোগানো। দিবসটিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোতে ছেলেমেয়েদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আমাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে যে, আমাদের সামনে এখনো যথেষ্ট সুযোগ আছে মাতৃভাষা প্রসঙ্গে আগামীর প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার। হয়তো এমন ধারাবাহিক আয়োজনের মধ্য দিয়েই আমরা ভবিষ্যতের মেধাবী ভাষাবিদদের খুঁজে বের করতে পারবো”।

ভাষার মাসের আগমণের শুরু থেকেই ডিপিএস এসটিএস ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ‘৫২র ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রসঙ্গে আলোচনা উৎসাহিত করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে স্কুলের শিক্ষার্থীরা সকলে সাদা-কালো পোষাক পরে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে।

দুই ঘণ্টা পর ধানমন্ডির রেস্টুরেন্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফরেস্ট লাউঞ্জ নামে একটি রেস্টুরেন্টে অগ্নিকণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ধানমন্ডি ১০/এ এলাকার ফরেস্ট লাউঞ্জ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর আসে। পরে মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি এ ফায়ার কর্মকর্তা। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

;

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো দুইজনসহ তিনজন আরোহী নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের চারপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কুমিল্লার মুরাদনগর টনকি ইউনিয়নের বাইরা গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির (২০), জিনোদপুর ইউনিয়নের জিনোদপুর গ্রামের হাফেজ মিয়ার ছেলে রাব্বি (২১) ও একই গ্রামের মালাই গ্রামের কাদির মেম্বারের ছেলে পিয়াস (২৩)। ঘটনাস্থলে ছাব্বির ও কুমিল্লায় নেওয়ার পথে রাব্বি ও পিয়াস মারা যান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার টংকি ইউনিয়নের বাইরা গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির (২০) মোটরসাইকেলে নবীনগরে আসার পথে চারপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিপরীত থেকে আসা রাব্বির মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইটি মোটরসাইকেলে থাকা ৩ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম তিনজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

;

নজিরবিহীন তাণ্ডবে রংপুরে লন্ডভন্ড সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
রংপুরে লন্ডভন্ড সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, ছবি: বার্তা২৪.কম

রংপুরে লন্ডভন্ড সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলনে হঠাৎ করেই দুষ্কৃতিকারীদের অনুপ্রবেশে সহিংস হয়ে ওঠে। এতে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও উন্নয়ন অবকাঠামোয় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলার মতো রংপুরেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে স্বস্তি ফিরছে জনমনে। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢুকে পড়া নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতচিহ্ন এখনো সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ভাসছে।

এদিকে কয়েকদিন ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার পর এখন তা ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে। অনলাইন গণমাধ্যমের নিয়মিত পাঠকদের জন্য শুক্রবার (১৯ জুলাই) থেকে বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরে ঘটে যাওয়া চিত্র তুলে ধরা হলো।

রংপুর নগরীতে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই ছিল না কোনো উত্তাপ। ওইদিন সরকারি ছুটি থাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সুনশান ছিল পুরো নগর। আগের দিনের (বৃহস্পতিবার) তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের। এরই মধ্যে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শান্ত রংপুর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর জিলা স্কুল মোড়, সিটি পার্ক মার্কেট চত্বর, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন গ্রান্ড হোটেল মোড়, শাপলা চত্বর, পুরাতন ট্রাক স্ট্যান্ড, কলেজ রোড চারতলার মোড়, লালবাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়, মডার্ণ মোড়, দর্শনা মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা ও ধাপ চেকপোস্ট এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয়।

এসব মিছিলে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী, সমর্থকরা ছাড়ওা দুর্বৃত্তরা অংশ নেয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গ্রান্ড হোটেল মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সেই মিছিল থেকে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সাইনবোর্ডে ইটপাকটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এ সময় সমবায় মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ঢাকা ব্যাংকের বুথে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হবার আগেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় নগরীর আকাশ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও আসবাবপত্রে আগুন দেয় হামলাকারীরা। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তাণ্ডবে বাদ পড়েনি সদর হাসপাতাল সংলগ্ন পরিবার পরিকল্পনার কার্যালয়। মা ও শিশুদের জন্য নির্মিত এই সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়াসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন আগুন দেন তারা।

এদিকে শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মিছিলে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর থেকে জিলা স্কুল মোড় পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয় রাজপথ। এসময় দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও লাঠিসোঁটা দিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় বিক্ষোভকারীরা। তাদের সরকারবিরোধী স্লোগান আর থেমে থেমে ছোড়া ইট পাটকেলের ঢিল ও ভাঙচুরের তাণ্ডবে ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয় পুরো নগরজুড়ে। এই সহিংস পরিস্থিতিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অর্ধশতাধিকেরও বেশি আহত হন। মিলন, সাজ্জাদ ও মিরাজ নামে তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে আরো দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে স্থাপিত মুজিব শতবর্ষের দিনক্ষণ গণনার স্থাপনায় আগুন, লালবাগ থেকে পার্ক মোড়ে সড়কের রোড দু’পাশের গাছপালা ভেঙে, সিটি কর্পোরেশনের ফটকে হামলা, মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ভাংচুর, বিভিন্ন চত্বরের বেস্টনি ভাঙচুর, সড়ক নিরাপত্তায় ব্যবহৃত মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি, সাইনবোর্ড ও রোড ডিভাইডারের ক্ষতিসাধন করেন হামলাকারীরা। এরআগের দিন তারা নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি, মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়, আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর এবং জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

অনেকেই বলছেন, এটি শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদেরকে সমর্থন দিয়ে মাঠে থাকা নয়। অনেক রাজনৈতিক দল ও দুর্বৃত্তরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জানমালের যেমন ক্ষতিগ্রস্থ তেমনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

শুক্রবার সকালে নগরীর পায়রা চত্বরে আগের দিন (১৮ জুলাই) পোড়ানো বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পাশের সেন্ট্রাল রোডে নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ের সামনেও ছিল তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন। সেখানেও আগুনে পোড়ানো কংকাল মোটরসাইকেল পড়ে ছিল। আর পুলিশ ফাঁড়ি ও গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে ছিল ধোঁয়ার গন্ধ। সেখানে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এছাড়া নগরীর মডার্ণ মোড়ে তাজহাট থানার সামনে আগুনে পোড়া তিনটি ট্রাক, থানার ভিতরেও ছিল দগদগে ক্ষতচিন্থ। এর পাশে রংপুর মডেল কলেজ সংলগ্ন সড়কে আরো তিনটি আগুনে পোড়া গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) পার্ক মোড় থেকে মর্ডাণ মোড় হয়ে মডেল কলেজ সংলগ্ন সড়কের আশপাশসহ প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন দলের নেতকর্মী, সমর্থক, সাধারণ মানুষরা অবস্থান নেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হটিয়ে তাজহাট থানা ঘেরাও করে। পরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থানার ভিতরে বাইরে আগুন দেন বিক্ষুদ্ধরা। এদিন মানিক মিয়া নামে এক অটোচালকের মৃত্যু হয়।

এদিকে সারা দেশে কারফিউ জারির পর শনিবার (২০ জুলাই) রংপুর নগরীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা টহলের পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখে। এতে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, ধ্বংসযজ্ঞ তাজহাট থানা, গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন্সসহ সমস্ত কিছু দেখেছি। যারা হামলা চালিয়েছে এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। নৈরাজ্যের চরম অবস্থা, কোনো ভাবেই এরা (হামলাকারীরা) দেশপ্রেমিক মানুষ নয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে অনেক ফুটেজ রয়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা সব ফুটেজ, ছবি, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অবশ্যই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় রাজধানীর মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন। 

এর আগে, গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে হামলা হয়। ভাঙচুর করা হয় সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা, এলইডি মনিটর, টিকিট কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন জায়গায়। লুট করা হয় মূল্যবান অনেক জিনিস। পরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নির্ণয়ে কমিটি করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন চালু হতে কমপক্ষে এক বছর লাগতে পারে বলে জানায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

;