বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পাটের দাম, দিশেহারা কৃষক



মো. আব্দুল হাকিম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি মৌসুমে পাটের চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গত দুই মৌসুমে পাটের ভালো দাম পেলেও, এবার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা। পাট বিক্রি করে খরচের টাকায় উঠছে না। চাষিদের দাবি- গত বছরের তুলনায় এবছর একই সময়ে প্রতিমণে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা কম দামে পাট কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। চাষিদের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় পাট বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাটের দাম কমিয়ে রেখেছেন এমনটা দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন- পাট চাষে গত বছরের তুলনায় এবার খরচ বেড়েছে। মজুরির ব্যয়, সার, কীটনাশক ও বীজসহ চাষাবাদের খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা পাটের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় পাট উৎপাদন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ মণ। এক মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায়। এতে প্রতি বিঘা পাট চাষে লোকসান হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। বাজারে পাটের দাম পড়তির দিকে। গত বছর এ সময় পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ ছিল। এক বছরের ব্যবধানে পাটের দাম প্রতি মণে প্রায় এক হাজার টাকা কমেছে। এতে লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। গতকাল রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুরহাটে পাট বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ ১৯শ থেকে ২২৫০ টাকা দরে। একই মানের পাট গত বছর বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩২শ টাকা দরে। সেই হিসাবে পাট চাষিরা এবছর পাট বিক্রি করে প্রতি মণ ১ হাজার টাকা কম পাচ্ছেন।

উপজেলার দুর্গাপুরহাটে পাট বিক্রি করতে আসেন আশরাফুল হক। তিনি জানান, আমার এক বিঘা জমিতে পাটের বীজ, সার, কীটনাশক, মজুরির ব্যয়, লিজ খরচ ও পুকুর ভাড়া দিয়ে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। পাট উৎপাদন হয়েছে ৬ মণ। ১৮০০ টাকা দরে ৬ মণ পাট বিক্রি করে ১২ হাজার টাকা হয়েছে। আমার ৪ হাজার টাকা লোকসান। গত বছরের তুলনায় পাটের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। আমার মতো সকল পাট চাষির লোকসান হচ্ছে। পাটের দাম বৃদ্ধি না করলে যে ফসলে লোকসান হচ্ছে, সেই ফসল উৎপাদন বন্ধ করে দিবে কৃষক। পাট চাষ করে আমাদের পোষাচ্ছে না। এবার পাটের চাহিদাও কম। ব্যবসায়ীরা পাটের প্রতি তেমন আগ্রহী না। পাট চাষিদের প্রতি সরকার নজর দিক, দাম বৃদ্ধি করে দিক। তাছাড়া লোকসানের ঝুঁকি নিয়ে আগামীতে অনেকেই পাট চাষ করা বন্ধ করে দিবে।

পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন ১ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, পাট চাষে যে পরিশ্রম করি সেই টাকা পাই না। গত বছরের চেয়ে এবছর পাটের দাম মণে ১ হাজার টাকা কম। পানির সংকটের কারণে এবছর পাট জাগ ক্ষেত সংকুচিত হওয়ায় কৃষকের অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ভেদে এক বিঘা জমির পাট কেটে পানিতে জাগ দিতে একেক কৃষকের খরচ হয়েছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, পাট শুকানো, পাট বাধাই করা, গাড়িতে করে হাটে নিয়ে আসা পর্যন্ত কৃষকের খরচ হয়। অনেক ব্যবসায়ী গত বছরের পাট বিক্রি করতে পারেনি। এজন্য এ বছর ঝুঁকি নিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। পাট চাষি ও ব্যবসায়ীরা উভয়েই বিপাকে পড়েছে।

কৃষকদের লোকসান হচ্ছে, খরচের টাকাও তুলতে পারছে না তারা। এই দামে পাট বিক্রি করে কৃষকের লোকসান হচ্ছে। এবছর পাটচাষে কৃষকের বেশি খরচ হয়েছে। কীটনাশকের দাম বেশি। বৃষ্টিপাত হয়নি। এসব কারণে পাটের ফলন কম হয়েছে। তারপরে পাটের দাম কম। কৃষক পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানি পাচ্ছে না। ফলে খাদ-গর্তে সেচ দিয়ে পানি জমিয়ে পাট জাগ দিচ্ছে। এর আগে পাটকাটা, পরিবহন খরচ, পানিতে জাগ দেওয়া, শ্রমিক দিয়ে সেই পাট তুলে পারিষ্কার করা- পরে রোদে শুকিয়ে হাট-বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ভালো, তবে দাম কম। ২ হাজার থেকে ২১শ টাকা মণ দরে পাট কেনা বেচা হচ্ছে। খাটনি হিসেবে টাকা নাই কৃষকের। এই দামে পাট বিক্রি করে টাকা উঠবে না। এই পাটের বাজার ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা মণে বিক্রি করতে পারলে কৃষকের কিছু টাকা হতো।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে পাট কাটা শুরু হয়েছে। এ বছর রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ৪৪২ হেক্টর বেশি জমিতে এই পাটের চাষ হয়েছে। চাষিদের মধ্যে অনেকের জমিতে এখনও পাট রয়েছে। অনেকেই পাট কেটে জাগ দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বিক্রিও করছেন হাট-বাজারে। তবে বেশির ভাগ উপজেলায় বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছড়ানো এবং শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রতিদিনই রাজশাহী জেলার কোনো না কোনো উপজেলায় পাটের হাট বসে। কৃষকরা তাদের পাট নিয়ে বিক্রি করতে আসেন হাটে। জেলার পুঠিয়া তাহেরপুরে পাটের হাট বসে সপ্তাহের শুক্রবারে। সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার পুঠিয়ার বানেশ্বরহাটে পাট কেনাবেচা হয়। আর রোববার ও বুধবার দুর্গাপুর উপজেলায় পাটের হাট বসে। বৃহস্পতিবার পবা উপজেলার নওহাটা ও পুঠিয়ার ঝলমলিয়ায় হাট বসে। যদিও এই দিনগুলো সাপ্তাহিক হাট বার।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় প্রতিমণে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা পাটের দাম কম। তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, যে সকল দেশ বাংলাদেশের কাঁচা পাট কেনে, তারা বিশ্বমন্দার কারণে পাট কিনছে না। ফলে আমাদের দেশের পাট রফতানি করতে পারছি না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যাচাই বাচাই করে পাট কিনছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, এবছর পাটচাষিরা বিপাকে পড়েছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে পাটের ফলন ভালো হয়নি। তার উপরে পাট উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এখন আবার কৃষক পাটের দাম পাচ্ছে না। লক্ষ্য করা যায়, যে কোন ফসল উঠার সময় সিন্ডিকেটের দখলে পড়ে যায়। সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রাখা হয়। বিষয়টি সরকারকে দেখা দরকার। কোনোভাবেই কৃষকদের হতাশ করা যাবে না। সরকারকে প্রতিবছর পাটের একটা ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে।

   

কক্সবাজারে রেলের টিকিট নিয়ে প্রতারণা, ৯ যাত্রী পথে



আবদু রশিদ মানিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার রেলস্টেশনে রেলের ভুয়া টিকিট নিয়ে প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন ৯ যাত্রী। কালোবাজারি থেকে রেলের এক আনসারের মাধ্যমে টিকিট নিয়ে এমন প্রতারণার স্বীকার হন তারা। 

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। 

যাত্রীরা জানান, গাজীপুর টঙ্গী থেকে দু'দিন আগে কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছিলেন ৯ জন যাত্রী। সেখানে ঢাকা থেকে ট্রেনে আসার সময় পরিচয় হয় আনসার সদস্য বায়েজিদের সাথে। তার কাছ থেকে ফিরতি পথের টিকিট পাওয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে কালোবাজারি থেকে টিকিট দেন আনসার সদস্য বায়েজিদ। টিকিট নিয়ে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার রেলস্টেশনে এসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন রাত ১টা পর্যন্ত। কিন্তু ট্রেন আর আসেনি। ট্রেনের টিকিট নিয়ে এমন প্রতারণার স্বীকার হয়ে এখন পথে পথে পর্যটকরা।


বার্তা২৪.কম-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আনসার বায়েজিদ মুঠোফোনে জানান, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) থেকে টিকিট নিয়ে তাদের দিয়েছেন। ট্রেনটি রাত ১২.৩০ এ নয় দিন ১২.৩০ এর বলে জানান তিনি। 

তবে ৯ জনের মধ্যে এক যাত্রী মোহাম্মদ লালচান বাদশা জানান, টিকিটের দাম ৬৯৫ টাকা হলেও প্রতিটি ১২৫০ টাকায় ক্রয় করেছেন। আনসার বায়েজিদ আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন।

আরেক যাত্রী রিয়াদ হাসান রাসেল বলেন, আমাদের যাওয়ার জন্য টাকা নেই। টাকা ম্যানেজ করতে পারলেও বাসও নেই এত রাতে। ছোট্ট শিশু এবং আমরা সবাই এখন পথে পথে হয়ে গেলাম। এত রাতে কোথায় যাব।

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিয়ে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এরকম প্রতারণার কোন সুযোগ নেই। টিকিট কালোবাজারি করার সুযোগ নেই। যদি কেউ অসাধু উপায়ে এরকম করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

যেখানে ১০ দিন আগে টিকিট ছাড়লে ২ মিনিটে টিকি হাওয়া হয়ে যায় সেখানে কীভাবে ৯ টি টিকিট পেল সেটা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। টিকিট কালোবাজারির সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পর্যটক এবং স্থানীয়দের।



;

আলু বোঝায় ট্রলিতে ট্রাকের ধাক্কা, চালক নিহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়িতে আলু বোঝাই ট্রলিতে পাথর বোঝাই একটি ট্রাকের ধাক্কায় ট্রলি উল্টে চালক নিহত হয়েছেন।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সাপ্টিবাড়ি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রলি চালকের নাম ফরিদুল ইসলাম (৩০)। তিনি হাতিবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, রাত ১১ টার দিকে আলু বোঝাই ট্রলি নিয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক হয়ে লালমনিরহাটের একটি কোল্ড স্টোরেজে যাচ্ছিল ফরিদুল। ট্রলিটি সাপ্টিবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে আসা একটি পাথর বোঝায় ট্রাক আলু বোঝাই ট্রলিকে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রলিটি উল্টে গুরুতর আহত হয়ে চালক ফরিদুল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর ট্রলি চালকের সহযোগী দূরে ছিটকে পড়ে আহত হন।

সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাপ্টিবাড়ি বাজার এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। ট্রলিকে ধাক্কা দেওয়া ট্রাকটি কৌশলে পালিয়ে গেছে।

;

ভালো নেই গাবতলীর কয়লা শ্রমিকরা



রাকিব হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রস্তাবিত মাস রাপিড ট্রানজিট (মেট্রোরেল) বা এমআরটি লাইন-৫-এর জন্য গাবতলী বাস টার্মিনালের উত্তরাংশে ভূগর্ভস্থ স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে । বলিয়ারপুর-আমিনবাজার থেকে গাবতলী হয়ে মিরপুর-১০ পর্যন্ত যাবে এমআরটি লাইন-৫। সেখান থেকে বনানী-গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাবে। এর মধ্যে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও নতুনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত লাইনটি যাবে উড়ালপথে (এলিভেটেড)। মাঝে আমিনবাজার থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত যাবে আন্ডারগ্রাউন্ডে। সব মিলে লাইনটির দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এর কাজ। তাই আংশিক সরিয়ে ফেলা হয়েছে গাবতলী গরুর হাট, ইট বালু ও কয়লার গদি। 


বৈদ্য নাথ দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে গাবতলীতে কাজ করছেন কয়লা শ্রমিক হিসেবে। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ছিল তার সুখী পরিবার। অভাবের কারণে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাতে না পারার আক্ষেপ বৈদ্য নাথের। বর্তমানে ছেলে রিকশা চালিয়ে বাবার সাথে পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছে। মা মরা দুই মেয়ের বিয়ে দিয়ে অনেকটা নির্ভার বৈদ্য নাথ। গ্রামের বাড়িতে গেলে মেয়েদের নিয়ে একসঙ্গে সময় কাটানোর গল্প করলেন তিনি। পরিবারের এই সুখের মধ্যে এখন বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে বৈদ্য নাথের।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গাবতলী আমিন বাজারে বার্তা২৪.কম এর সাথে কথা হয় বৈদ্য নাথের। তিনি জানান, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এই গাবতলীতে কাজ করছেন তিনি। বছরের ছয় মাস কৃষি কাজ করলেও বাকি ছয় মাস (কার্তিক-জৈষ্ঠ) তার কাটে গাবতলীর এই কয়লা ঘাটে। একটা সময় সারাদিন পরিশ্রম করে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা আয় হতো তার। কিন্তু বর্তমানে দিনে ৬০০-৭০০ টাকা উপার্জন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে নৈদ্য নাথ জানায়। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ক্রেনের মাধ্যমে এখন ইট বালু ও কয়লা জাহাজ থেকে উত্তোলন করে ঘাটে রাখা হয়। তাই দিন দিন শ্রমিকের চাহিদা কমে যাচ্ছে এই ঘাটে। এছাড়া গাবতলী থেকে বালুর গদি, কয়লার গদি সরিয়ে নেয়ার কারণেও বিপাকে পরেছেন তারা। 


তিনি জানান, একটা সময় এখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এখন তা কমে এসে ১৫০ জনের আশেপাশে ঠেকেছে। গত ৫ বছর আগেও যেখানে শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর ছিল এই গাবতলী ঘাট। সেখানে এখন কাজের অভাবে অনেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বদলে ফেলছেন পেশা। 


কয়লা শ্রমিকদের ভালো মন্দ নিয়ে ভাবার মতো কোন শ্রমিক সংগঠন এখানে না থাকায় বিপদে আপদে কোন সাহায্য সহযোগিতাও পান না তারা। কয়লার গদি সরিয়ে ফেলার খবরে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে খাই। যেভাবে দিন দিন আমার কাজ কমে যাচ্ছে তাতে করে আগামীতে কীভাবে চলবো তাই ভাবছি। এক বেলা কাজ না করতে পারলে আমরা তো খাইতে পারি না।

এখানে কাজ করে এমন আরও একজন শ্রমিক আব্দুল হান্নান বার্তা২৪-কে বলেন, দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে এখানে কয়লার গাড়ি চালান তিনি। আগে এখানে নিয়মিত কাজ করলেও ভবিষ্যতে তার কাজ নিয়মিত হওয়া নিয়ে সংঙ্কায় আছেন তিনি। মাসে অন্তত বিশ দিন কাজ থাকলেও এখন আর আগের মতো নেই। আগে প্রতিদিন গাড়ির জমা বাদ দিয়ে ১ থেকে ২ হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা নেমে এসেছে অর্ধেকে।

পরিবারের তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে আগামীদিনগুলো কীভাবে কাটাবেন এখন সেই পরিকল্পনাই করছেন তিনি।

;

পরিচয় মিলেছে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত মা-মেয়ের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট, বার্তা ২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ নগরীতে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত নারী ও শিশুর পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন তানিয়া আক্তার (২২), তার দুই বছর বয়সী মেয়ে রাইসা আক্তার। নিহত তানিয়া আক্তার নগরীর বাদেকল্পা এলাকার রাজমিস্ত্রী মো. মুস্তাকিনের স্ত্রী ।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপক পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের স্বজনরা থানায় এসেছেন। 

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুপুরে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী একটি লোকাল ট্রেন সানকিপাড়া এলাকায় আসতেই তানিয়া আক্তার ও তার মেয়ে শিশু রাইসা আক্তার (২) ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, নিহতের স্বজনরা কেউ আসেনি। নিহতরা মা মেয়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো বোরকা পড়া এক নারী রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ট্রেন কাছাকাছি আসতেই ওই নারী রেললাইনে শুয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তাদের পরিচয় মিলে। 

নিহতের স্বামী মোস্তাকিন বলেন, তানিয়া দীর্ঘদিন যাবত মানসিক সমস্যা ভুগছিলেন। এর আগে ও বেশ কয়েকবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। আজ সকালে আমি কাজে বের হই। কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম আমার স্ত্রী ও মেয়ে মারা গেছে। এসময় স্ত্রী ও মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

;