তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার দাবি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

তামাক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি পণ্য। তামাকের ভয়াল ছোবল প্রতিদিন কেড়ে নেয় ৪৪২ জন মানুষের প্রাণ। মৃত্যুর এই মিছিল ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সকাল ১১ টায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারী মৈত্রী’র আয়োজনে 'প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ' শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি। তিনি বলেন, তামাক নারীস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তামাক নিয়ন্ত্রণের নানান দিকগুলোর পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিয়ে ভাবা একান্ত জরুরী। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ধূমপান নারী ও শিশুদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে । বাংলাদেশে ধূমপান না করেও বছরে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ বিভিন্ন ভাবে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। স্বাভাবিকভাবে নারী ও শিশুরাই সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে গর্ভধারণ ক্ষমতা লোপ পাওয়া, কম ওজনের বা মৃত শিশু জন্মদান, অকাল সন্তান প্রসব, জরায়ু ক্যানসারসহ ঋতুস্রাবের নানান জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় নারীদের। এছাড়াও, কম স্মৃতিসম্পন্ন সন্তান প্রসব করার সম্ভাবনাও তামাক সেবনের ফলে হতে পারে। এই বিষয় সম্পর্কে আমাদের অনেকটাই অজানা।

এছাড়া সিগারেটের ধোঁয়া শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ । কারন ধূমপানের ধোঁয়া সহজেই শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে শিশু স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুর নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, হাঁপানিসহ নানান ধরনের রোগ সৃষ্টি করে থাকে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সচেতনতা, পাশাপাশি নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নারীর কণ্ঠস্বরকে বলিষ্ঠ করার জন্য আমাদের সবাইকে একত্র হতে হবে। নারী ও শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধূমপান এবং তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনটি শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি।

টোব্যাকো এটলাস ২০১৮-এর তথ্যমতে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মানে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ প্রাণ হারান এই ভয়ঙ্কর তামাকের আগ্রাসনে। তামাকের এই সর্বগ্রাসী আগ্রাসনকে তাই আমরা তামাক মহামারী হিসেবেই গণ্য করছি বলে জানান তামাকবিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম ।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধিত খসড়াতে ধূমপানের নির্ধারিত এলাকা বিলুপ্ত, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ, খুচরা বিড়ি-সিগারেট বিক্রি বন্ধ, ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বন্ধ ও সিগারেটের প্যাকেটে সতর্কবার্তার পরিসর ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আইনটিকে আরও শক্তিশালী করবে। ফলে তামাকের কারণে একদিকে যেমন মৃত্যুহার কমবে অপরদিকে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে। 

শবনম জাহান শিলা জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরী। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা হলে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার কমবে। একইসঙ্গে তামাক ব্যবহারের ফলে দৈনিক প্রাণহানির মিছিল কমানো সম্ভব হবে। তামাকের কারণে যেসব রোগ হচ্ছে সেই রোগের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। শধু তাই নয়, তামাকের কারণে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। তামাকজনিত কারণে উৎপাদনশীলতা হারানো এবং চিকিৎসা বাবদ বছরে যে ৩০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় হয়। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যত দ্রুত পাস হবে, তত বেশি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমবে।

মো. আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, তামাকের প্রতি আসক্তি যুবসমাজকে ফেলে দিচ্ছে এক অন্ধকারজগতে। অল্প বয়সেই শিশু-কিশোররা ধূমপানে আসক্ত হয়ে পরছে। ভয়ঙ্কর শারীরিক অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পরছে তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন দেশে ‘গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো জরিপ’ শিরোনামে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে পরিচালিত এ জরিপ প্রতিবেদনে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশে ধূমপান আসক্ত কিশোর-কিশোরীর হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রায় ১২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত। বর্তমানের যুগে মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলো সচেতনভাবেই কিশোরদের টার্গেট করে থাকে।

কোম্পানিগুলো মনে করে, অল্প বয়স থেকেই যদি এই প্রজন্মকে সিগারেট ব্যবহার শুরু করিয়ে দেয়া যায়, তাহলে তারা অন্তত ৬০ বছর পর্যন্ত সিগারেট সেবনের অভ্যাসে জড়িয়ে পড়বে। ধূমপান নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোর এই কূটকৌশল বন্ধ করতে না পারলে বড় ধরনের সামাজিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। তাই তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জন্য দাবি জানানোর পাশাপাশি যুবসমাজের সুস্থ্য সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সকলকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে পাশে থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

তামাকের কারণে আর একটি প্রাণও যাতে না ঝড়ে সে জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার পক্ষে দাবি জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের যুবসমাজ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি আমাদের অসচেতনতায় আমাদের পরিবার, আমাদের সন্তানেরা যাতে হুমিকির মুখে না পরে সেজন্য আমাদের নিজ থেকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। তামাক বিরোধী সকল কার্যক্রমে নারী মৈত্রীর পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

এ সময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নাছিমা বেগম, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ, শবনম জাহান শিলা, এ্মপি (সংরক্ষিত নারী আসন) এবং শিরিন নাঈম পুনম, সাবেক নারী সংসদ সদস্য।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. আব্দুস সালাম মিয়াহ, প্রোগ্রামস ম্যানেজার, ক্যাম্পেইন ফর ট্যোবাক ফ্রি কিডস বাংলাদেশ।

ড. মাহবুবুল হক মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত ভাষাবিদ, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. মাহবুবুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন।

প্রবন্ধে অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। গবেষণায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেন।

;

সন্ধান মিলেছে তিন সমন্বয়কের



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের খোঁজ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। অবশেষে বুধবার (২৪ জুলাই) তিনজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছেন।

আসিফ মাহমুদ বুধবার বিকেলে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘গত ১৯ জুলাই রাত ১১টায় আমাকে হাতিরঝিলের মহানগর আবাসিক এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিতে চাপ দেওয়া হয়। না মানায় ইনজেকশন দিয়ে সেন্সলেস (অচেতন) করে রাখা হয়। এই চার-পাঁচ দিনে যতবার জ্ঞান ফিরেছে, ততবার ইনজেকশন দিয়ে সেন্সলেস করে রাখা হয়। আজ বুধবার বেলা ১১টায় আবার একই জায়গায় চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দিয়ে যায়। এখন আমি পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসারত আছি। এই কয় দিনে যা ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা করছি। কিছুটা সুস্থ হলেই সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলে আন্দোলনের বিষয়ে বিস্তারিত বলব।’

অন্য ফেসবুক পোস্টে বাকের মজুমদার লিখেছেন, ‘আমাকে ১৯ জুলাই সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং আন্দোলন বন্ধে স্টেটমেন্ট (বিবৃতি) দিতে বলায় আমি অস্বীকৃতি জানালে একটা অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখে। যে এলাকা থেকে তুলে নেয়, তার পাশের এলাকায় আমাকে চোখ বেঁধে ফেলে যায়। আমি এখন আমার পরিবারের সাথে নিরাপদে আছি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আপনাদের সামনে সবিস্তারে সব বলব।’

অন্যদিকে এক ফেসবুক পোস্টে আত্মগোপনে থাকার কথা জানিয়েছেন রিফাত রশীদ। তিনি লিখেছেন, ‘আমি বেঁচে আছি, মরি নাই। আমি গুম হতে হতে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলাম। সমন্বয়কদের সিদ্ধান্ত মেনেই আমি নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়েছিলাম। তারপর এই সাপ-লুডুর জীবন। আজ এর বাড়ি তো কাল ওর বাড়ি। এর মধ্যে যতবার ফোন কানেক্ট করার চেষ্টা করেছি, ততবারই ফোন ট্র্যাকিংয়ের শিকার হয়েছি। জানি না, কতক্ষণ নিরাপদে থাকব।’

আসিফ ও বাকেরের খোঁজ পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। একই সঙ্গে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানান রিফাত রশীদের বাবা দেলোয়ার হোসেন।

;

জানা গেছে কবে শুরু হচ্ছে স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান এইচএসসি ও সমমানের চার দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো আগামী ১১ আগস্টের পর অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্থগিত হওয়া সব পরীক্ষা ১১ আগস্টের পর অনুষ্ঠিত হবে।’

আর কোনও পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কোনও সিদ্ধান্ত নিলে জানানো হবে।’

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সূচি অনুযায়ী আগামী ২৮ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারা দেশে একযোগে শুরু হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ আগস্ট এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

;

ধ্বংসযজ্ঞ দেখে কূটনীতিকরা স্তম্ভিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার বিভিন্ন স্থানের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে কূটনীতিকরা স্তম্ভিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, কূটনীতিকরা বলেছেন ‘এটি তোমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’।

বুধবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিদেশি মিশনপ্রধান ও কূটনীতিকদেরকে নিয়ে সম্প্রতি দুষ্কৃতকারীদের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবলীলায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়ে যাওয়া ঢাকাস্থ চারটি স্থাপনা পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজ আমরা বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মেট্রোরেল, সেতু ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতো জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিল তাদের কয়েক জায়গায় নিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ডাটা সেন্টার। কিন্তু রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ও বৃষ্টির কারণে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সময় লেগেছে। সেজন্য তাদের মিরপুরের মেট্রোরেলের ধ্বংসযজ্ঞ দেখিয়েছি। সেখানে যেভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি ফুটওভার ব্রিজও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেতু ভবনে যেভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, সেখানে ১২ তলা পর্যন্ত আগুন দিয়েছে। সাততলা পর্যন্ত তারা উঠে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিটিভি হচ্ছে টেলিভিশনের আতুরঘর। আজ যারা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চালায় তাদের অনেকের হাতেখড়ি হয়েছে বিটিভিতে। এই অঞ্চলের প্রথম টিভি চ্যানেল বিটিভি। ১৯৬৪ সালে এটি স্থাপিত হয়। তখন এটি বাংলা ভাষার প্রথম চ্যানেল, ভারতে তখনও টেলিভিশন চ্যানেল হয়নি। সেখানে যেভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং কী পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ, সারি সারি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেতু ভবনেও একই অবস্থা। মেট্রোরেলের পাশের গাড়িগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রের ওপর হামলা। এগুলো জনগণের সম্পত্তি, এগুলো কোনো সম্পত্তি নয়। তাদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তাণ্ডবকেও হার মানিয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিন্তু আমাদের টেলিভিশন চ্যানেল জ্বালিয়ে দেয়নি, কিন্তু তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে তারা একই কায়দায় মানুষের সম্পত্তি পুড়িয়েছে, রাষ্ট্রের সম্পত্তি পুড়িয়েছে। ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে।

ড. হাছান বলেন, লস অ্যাঞ্জেলসে আমাদের মিশনের সামনে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানিরা যোগ দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। একইভাবে আমাদের বিভিন্ন মিশনের সামনে যে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে বিএনপি-জামায়াত চক্র পাকিস্তান কমিউনিটির সহায়তা নিয়েছে। সেই সহায়তা নিয়ে এসব জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এবং গুজব ছড়াচ্ছে। আজ কূটনীতিকরা যাওয়ার পর অনেকেই বলেছেন ‘দিস ইজ শেম’। অনেকেই আমার কাছে তাদের অনুভূতি শেয়ার করেছেন, সবাই বলেছে ‘উই আর উইথ ইউ, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’। তোমাদের এটি ‘ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’।

মন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সবার কাছে নোট পাঠিয়েছিলাম যে এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এটি নিয়ে যেন বিদেশি দূতাবাসগুলো বা কূটনীতিকরা গণমাধ্যমে কোনো বিবৃতি না পাঠায়। তাদের রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে এবং তারা সেটি মেনে চলেছে। আজ সেজন্য গণমাধ্যমকে সেখানে ডাকিনি। তারাও গণমাধ্যমে কথা বলতে চাননি। তারা এটি মেনে চলেছেন। অতীতে এ ধরনের কিছু ঘটলেই আমাদের কূটনীতিকদের উদ্বুদ্ধ করা হতো কথা বলার জন্য। এবার আপনারা (গণমাধ্যম) করেননি সেজন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ জানাই।

;