ভোটার নিবন্ধনে চট্টগ্রামের স্থানীয়দের ‘রোহিঙ্গা’ ক্যাটাগরিতে ফেলা যাবে না



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের কারণে নতুন ভোটার হতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের। ভোগান্তি লাঘবে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন- ইসি।

এখন থেকে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের ভোটার নিবন্ধনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বৈধ কাগজ থাকলে তাদের ‘রোহিঙ্গা ক্যাটাগরি’তে না ফেলে নিবন্ধন সহজ করার তাগিদ দিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলায় ২০১৮ সালে রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে সাধারণ মানুষ যথাযথ কাগজপত্র দিয়েও বিশেষ কমিটির ছাড়পত্র ছাড়া ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারতেন না। ফলে, অনেক নাগরিক তাদের জরুরি কাজে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়ে ভোগান্তিতে পড়তে শুরু করেন।

সম্প্রতি, ইসির মাসিক সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা যারা নতুন ভোটার হতে চান, তাদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নতুন সচিব শফিউল আজিম।

এর আগে রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশন। এসব উপজেলায় নিবন্ধন কার্যক্রম যাচাই-বাচাই করার জন্য একটি ১৫ সদস্যর কমিটি গঠন করা হয়। ফলে, চট্টগ্রামের অনেক বাসিন্দা চাইলেই ভোটার তালিকায় তাদের নাম সংযুক্ত করতে ভোগান্তিতে পড়তেন। ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনে এসংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে ইসি।

সমন্বয় সভা সূত্রে জানা যায়, ইসি সচিব শফিউল আজিম কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

এই সময় তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে ইসির বিশেষ এলাকার যে সব নাগরিকের একাডেমিক সনদ বা বৈধ কাগজপত্র আছে, তাদের সন্দেহভাজন রোহিঙ্গাদের মতো একই ক্যাটাগরিতে না ফেলে তাদের ভোটার নিবন্ধন সহজ করার নির্দেশনা দেন।

শফিউল আজিম বলেন, এই অঞ্চলের বিশেষ এলাকায় ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে যে কমিটি রয়েছে, তা পুনর্গঠন ও তাদের কার্যপরিধি হালনাগাদ করা প্রয়োজন। এজন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে হালনাগাদের সুপারিশসহ দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।

সেই সঙ্গে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংশোধনে হয়রানির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেটবিহীন ৬ দিন যেমন ছিল ফেনী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪, ইন্টারনেটবিহীন যেমন ছিল ফেনী শহরের অবস্থা

ছবি: বার্তা২৪, ইন্টারনেটবিহীন যেমন ছিল ফেনী শহরের অবস্থা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বন্ধ ছিল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। এখনো বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম। বিগত ৬ দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, কারফিউ ও নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটিসহ নানা ঘটনায় সরব ছিল ফেনীর জনপদ।

এদিকে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় সারাদেশের মতো ফেনীতেও প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন কর্ম ব্যস্ততায়। বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লার বাস। কারফিউকালীন ফাঁকা হয়ে যায় ফেনী শহর।
প্রয়োজন ছাড়া বের হননি সাধারণ মানুষ। স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। এর মধ্যে থেমে থেমে চলছিল আন্দোলন। পুলিশের সঙ্গে হয় সংঘর্ষ। আন্দোলন, সংঘর্ষ, নাশকতার মামলায় গ্রেফতার অভিযানসহ ঘটে নানা ঘটনা।

কেমন ছিল গত ১৯ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ফেনীর চিত্র। তা থাকছে এ প্রতিবেদনে-

শুক্রবার (১৯ জুলাই)- দুপুর ২টার দিকে শহরের বড় মসজিদ এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তারা সড়ক থেকে সরে যান। এদিন বিকেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে বড় মসজিদ এলাকায় গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

শনিবার (২০ জুলাই)- এদিন বিকেলের দিকে শহরের তাকিয়া রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ করে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এর আগে সকালে আইনশৃঙ্খলার বিশেষ সভার আয়োজন করেন জেলা প্রশাসক। সভা শেষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মহড়া দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার।

রোববার (২১ জুলাই)- এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক জানায় ফেনী জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিকেল ৫টার দিকে শহরের তাকিয়া রোডে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনের নেতৃত্বে একটি মিছিল করা হয়। এ সময় সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এদিন রাতে শহর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইলিয়াসকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুলাই)- সরকার ঘোষিত কারফিউতে ফাঁকা ছিল গোটা শহর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ফেনী থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাগামী সড়কগুলোতে কিছু ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কারফিউ এবং সাধারণ ছুটি থাকায় ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হননি সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যার আগে কিছু মুদি দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান খুললেও সন্ধ্যার পর ফার্মেসি ও প্রয়োজনীয় দোকান ব্যতীত সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়।

যেমন ছিল বিগত ৬ দিন ফেনী শহর, ছবি- বার্তা২৪.কম


এদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি থাকলেও আন্দোলনকারীদের মাঠে দেখা যায়নি। সন্ধ্যার দিকে শহরের ট্রাংক রোড এলাকা থেকে সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই)- কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সারা দেশের মতো ফেনীতেও বন্ধ ছিল ইন্টারনেট সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন পর্যায়ের সেবাপ্রার্থীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় শহরের এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিংসহ সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে না পারায় শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে মানুষজনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

বুধবার (২৪ জুলাই)- এদিন জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তে জেলায় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কয়েকদিনের স্থবিরতার পর দোকানপাট খোলেন ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য দিনের তুলনায় বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে মানুষজনের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

এদিন দুপুরে শহরের বড় বাজার ও পৌর হকার্স মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় বাজারে পণ্য সামগ্রীর জোগান বাড়ে। বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা উপস্থিতিও বাড়ে এদিন। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারদরও অন্য দিনের তুলনায় কম রাখা হয়। তবে কারফিউ শিথিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে সড়কে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কমতে দেখা গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। বিগত ৩ দিনে নাশকতার দুই মামলায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই)- এদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অব্দি কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলছে দিনের কার্যক্রম। সকালে অফিসগামী মানুষদের ভিড় লক্ষ করা যায় শহরে। শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম চালু হওয়াতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে জনজীবনে। তবে স্কুলগামী ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবকিছু বন্ধ থাকাতে হতাশার মধ্যে আছেন তারা।

পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

;

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে ক্ষতের দাগ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ফলকের বর্তমান চিত্র/ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল

ফলকের বর্তমান চিত্র/ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল। স্বাধীনতার সঙ্গে বেতারের জড়িয়ে থাকা সেই স্মৃতি ধরে রাখতে বহদ্দারহাট মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল ‘বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ’ শীর্ষক ভার্স্কয। গত ৭ মার্চ সেটি উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

উদ্বোধনের পর থেকে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল কাচ ঘেরা পিরামিড আকৃতির ফলকটি। কিন্তু চার মাসের মাথায় সেই স্মৃতিফলকটি যেন এখন নিজেই স্মৃতি! গত ১৮ জুলাই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতরা সেই ফলকটি ভেঙে চুরমার করে দেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ফলকটিকে তছনছ দেখে থমকে দাঁড়ান সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সাহাব উদ্দিন। ফলকটির কি অপরাধ ছিল-নিজের কাছে নিজেই সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে এই চালক বলতে শুরু করেন, ছাত্রদের আন্দোলন আর কারফিউর কারণে পাঁচদিন ঘরে বসা ছিলাম। বুধবার দুপুর থেকে গাড়ি নিয়ে বের হলেও বহদ্দারহাটের দিকে আসা হয়নি। আগে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়মিত চোখ যেত ফলকটির দিকে। কিন্তু আজ সেই ফলকটির এমন অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ শীর্ষক ভার্স্কয

ফলকটির চারপাশের কোনো কাচই আর অক্ষত নেই। তবে কাচের ফ্রেমের ভেতর বসানো মাইক্রোফোন আকৃতির প্রতীকটিতে তেমন একটা দাগ লাগেনি। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের সময় যে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়েছে তারিই প্রতীক হিসেবে কাচের ভেতর এটি বসানো হয়েছিল। আর পিরামিড আকৃতির ফলকটি নির্মাণের কারণ ছিল-মুক্তিযুদ্ধকালীন ৭ কোটি বাঙালির ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক। কিন্তু আন্দোলনকারীরা কিনা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ফলকটিই ভেঙে দিলেন।

মূল শহরের পূর্ব প্রান্তে পড়েছে বহদ্দারহাট। ফলে আন্দোলন কিংবা সংঘাত এই এলাকায় খুব কমই হতো। কিন্তু সেই এলাকাটি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ১৮ ও ১৯ জুলাই টানা দুদিন উত্তপ্ত ছিল। এখানে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন তিনজন।

সংঘর্ষের পর থেকে বহদ্দারহাটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও পুলিশের উপস্থিতি ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।

১৮ জুলাইয়ের সংঘর্ষে শুধু ফলক নয়, বহদ্দারহাট মোড়ে থাকা পুলিশ বক্সটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। চার কক্ষের এই ফাঁড়িতে চান্দগাঁও থানার একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে একটি টিম ও একজন সার্জেন্টের নেতৃত্বে ট্রাফিক পুলিশের একটি দল নিয়মিত অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেন। এখন ফাঁড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ায় তারা সেখানে আর বসতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, গেটে তালা ঝুলছে। ফাঁড়ির সদর দরজাটিও বন্ধ। এক তলা ভবনজুড়ে পোড়ার ক্ষত, কালো দাগ। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় এই ফাঁড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ফাঁড়ির সামনে রাখা তিনটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেওয়া হয় সেদিন। আগুনে ফাঁড়ির ভেতরের সব জিনিস ও ফাইলপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ফাঁড়ির বাইরে পুলিশ সদস্যরা থাকলেও তারা এই বিষয়ে কথা বলতে চাননি। এর আগে ২০১২ সালেও এই ফাঁড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের ২৩ নভেম্বর নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়, আগুন দেয়। ওই ঘটনার পর পুলিশ ফাঁড়িটি এক তলা ভবনে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। এবার আগুনে আরেকবার ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেই পুলিশ বক্সটি।

পুড়ে যাওয়া পুলিশ বক্স


সংঘর্ষের কারণে ও কারফিউ জারি থাকায় বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংঘর্ষের সময় বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ায় প্রায় দুদিন অন্ধকারেই বেচাবিক্রি করতে হয়েছে বিক্রেতাদের। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আগের মতো ক্রেতা নেই সেখানে। গত তিনদিন ধরে দিনের বেলায় বেশিরভাগ দোকান খুললেও কারফিউর কারণে সন্ধ্যার পর প্রায় দোকানই বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের প্রবেশমুখে ফলের দোকানিরা বসেন। বেশ কয়েকদিন দোকান বন্ধ থাকায় তাদের অনেক ফলই পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফল দোকানি আবদুর রশিদ বলেন, ১৮ জুলাই সংঘর্ষ শুরু হলে কোনোমতে জান নিয়ে পালাই। ভেবেছিলাম দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু পরদিন আবারও ঝামেলা হয়। এরপর তো কারফিউ শুরু হলো। সেজন্য আর দোকানমুখী হতে পারিনি। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এসে দেখি-বেশিরভাগ আমই পচে গেছে। বহু টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে গেলাম।

একই কথা বললেন আরেক ফল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেলও। তার দোকানেরও প্রায় সব ফল নষ্ট হয়ে গেছে। সোহেল বলেন, পচা ফলগুলো ফেলে দিয়ে বুধবার নতুন ফল দোকানে তুললাম। এখন আল্লাহ আল্লাহ করছি-পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে। কেন না দোকান না খুললে তো আমাদের পেটে ভাত পড়বে না।

আশপাশের মানুষেরাও সাঁয় দেন সোহেলের কথায়। বলেন, ‘পেট তো আর আন্দোলন বুঝবে না, বুঝবে না কারফিউ। যত কিছুই হোক-তার তো তিন বেলা খাবার লাগবেই…’

;

আলোচিত সুজন হত্যা মামলার আসামি ইলিয়াছ গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, হবিগঞ্জ
সুজন হত্যা মামলার আসামি ইলিয়াছ গ্রেফতার

সুজন হত্যা মামলার আসামি ইলিয়াছ গ্রেফতার

  • Font increase
  • Font Decrease

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সুজন হত্যা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটনকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোবারক হুসেন ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে বুধবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটন শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের দাউদনগর চরনুরআহম্মদ গ্রামের মো. সালেহ মিয়া ওরফে কনা মিয়ার ছেলে।

ওসি জানান, ইলিয়াছ দুইটি হত্যা মামলাসহ অন্যান্য দুইটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

উল্লেখ্য, ইলিয়াছ ২০০৮ সালের ১৩ এপ্রিল দক্ষিণ লেঞ্জাপাড়া গ্রামের মরম আলীর ছেলে আলী আহমদ সুজনকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যায়। ২০১১ সালের ১৬ জুলাই সে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। পরে চুনারুঘাট থেকে বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বাজারে যাওয়ার জন্য আব্দুল জলিলের অটোরিকশা ১ হাজার টাকায় ভাড়া নেয়। সন্ধ্যায় বাহুবল বাজারে পৌঁছে জলিল আর যাবে না বলে তার ভাড়া দাবি করে। এ সময় ছোটন ৪শ টাকা দিয়ে বাকি টাকা পুটিজুরী বাজারে গিয়ে দেবে বলে চালক জলিলকে জানায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে জলিলকে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এছাড়া ইলিয়াছ জেলা কারাগারে হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা জি কে গউছকে ছুরিকাঘাত করেন। এসব ঘটনায় মামলা হলে তাকে একমাত্র আসামি করা হয়।

;

ময়মনসিংহে ১৪ মামলায় আসামি সাড়ে ৩ হাজার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় ময়মনসিংহে ১৪ মামলা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার জনকে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ১২২ জন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের তাণ্ডবে জেলাজুড়ে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফাল্গুনী নন্দী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশতার ঘটনায় ময়মনসিংহ সদর, গৌরীপুর এবং ফুলপুরসহ বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা করা হয়েছে। ১৮-২৩ জুলাই পর্যন্ত এসব মামলা দায়ের করা হয়।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূঞা বলেন, নাশকতার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেলায় ১৪টি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনকে। তবে বেশির ভাগ আসামিই অজ্ঞাত পরিচয়। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের ও সমর্থন ছিলো। কারণ এটা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি। তবে আন্দোলনে নাশকতারীরা প্রবেশ করে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করছে।

জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগ, নাশকতা এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় ময়মনসিংহে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;