শিশু গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে আ.লীগ নেতা আটক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নাটোর
ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ। সাখাওয়াত হোসেন উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটায় তাকে আটক করা হয়।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির পরিবার জানায়, পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে গত এপ্রিল মাসে আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াতের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেয় শিশুটি। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাখাওয়াত শিশুটিকে নিজ ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য শিশুটির পরিবারকে মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেন সাখাওয়াত হোসেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়। দুপুরে পুলিশ তাকে আটক করে।

বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিন আলী বলেন, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তার বিচার হওয়া দরকার। আমি এ ঘৃণ্যতম ঘটনার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। আওয়ামী লীগে কোনো ধর্ষক দরকার নাই।’

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার দাস বলেন, ‘সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

অস্তিত্ব সংকটে নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দির



সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দির

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দির

  • Font increase
  • Font Decrease

যে জোড় বাংলা মন্দিরকে ঘিরে এক সময়ে গড়ে উঠেছিল আটটি মন্দির, সেই মন্দির আজ জৌলুস হারাতে বসেছে। অবৈধ দখলদার আর সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে পৌনে চারশত বছর আগে স্থাপিত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দির। ইতিহাসের পাতায় জোড় বাংলা মন্দিরটি এখন শুধুই স্মৃতি। কোন রকম ভগ্ন স্তুপে দাঁড়িয়ে আগামী প্রজন্মকে জানান দিচ্ছে তার সোনালী দিনের স্মৃতি। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যেটুকু স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে তাও জরাজীর্ণ ও লতাপাতায় ভরা।

জানা যায়, ১৬৫৫ সালে উড়িষ্যার গৌরীয় রীতিতে রাজা সীতারাম রায় এই জোড় বাংলা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরে শ্রী কৃঞ্চ রাম চক্রবর্তী রাজা সীতারাম রায়ের অনুরোধে নলিয়া গ্রামে এসে দেব মন্দির এবং বিগ্রহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নলিয়ায় জোড় বাংলা মন্দিরের পাশে অবস্থিত দুটি মন্দির। একটি মন্দিরের চূড়া থাকলেও অপরটির চূড়া অবশিষ্ট নেই। এই জোড় বাংলা মন্দিরকে ঘিরেই এখানে এক সময় নির্মিত হয় ৮টি মন্দির।
এই মন্দির কিভাবে স্থাপিত হলো তা নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত রয়েছে।

তবে জনশ্রুতি রয়েছে, ১৬৫৫ সালে রাজা সীতারাম রায় তৎকালীন সময়ে রাজবাড়ির বেলগাছিতে সোনা দিয়ে নির্মিত একটি মূর্তি দিয়ে পূজা করতে চেয়েছিলেন। রাজার ইচ্ছাপূরণে সে সময়ে সোনা দিয়ে মূর্তি তৈরির কাজটি নলিয়া গ্রামের জনৈক এক কর্মকারকে দিয়ে করানোর নির্দেশ দেন। কর্মকার মূর্তি তৈরির জন্য রাজার কাছে সোনা চাইলে রাজা বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখেন। কর্মকার স্বর্ণ চুরি করতে পারে ভেবে রাজা তার নিজ বাড়িতে কর্মকারকে ডেকে সেখানে মূর্তি তৈরি করতে বলেন। রাজার এমন মনোভাবে কষ্ট পান কর্মকার। তিনি রাজার বাড়িতে বসেই সোনার মূর্তির পাশাপাশি অনুরূপ আরেকটি মূর্তি তৈরি করেন পিতলের।


কিন্তু সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী একই মন্দিরে দুই পূজা না করার বিধান থাকায় কর্মকার পূজা শুরুর আগে রাজার অনুমতিক্রমে সোনা ও পিতলের তৈরি দুটি মূর্তির কথা স্বীকার করেন। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে তখন রাজা পিতলের তৈরি মূর্তিটি নিয়ে কর্মকারের বাড়ি নলিয়াতে স্থাপন করে সেখানে পূজা করার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে রাজা সেখানে একটি মন্দিরও নির্মাণ করে দেন। তখন থেকেই এর নাম হয় নলিয়া জোড় বাংলা মন্দির। এরপর সেখানে রাজা আরো ৮টি মন্দির স্থাপন করে দেন।

কালের আর্বতনে আজ ঐতিহ্যবাহী এই নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দিরটি অবহেলা আর অযত্নে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরটি লতাপাতায় ভরে রয়েছে। মন্দিরের গায়ের থেকে ইট খুলে পড়ছে। মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। মন্দিরটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার হয়নি। সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে শতশত বছরে ইতিহাসের সাক্ষী এই জোড় বাংলা মন্দিরটি। মন্দিরটির ৩১ শতাংশ জমি রয়েছে। সেই জমির বেশির ভাগই এখন বেদখলে বলে দাবি মন্দির কর্তৃপক্ষের। মন্দিরটির অবস্থা খুবই শোচনীয়। মন্দিরের ভেতরে বাস করছে চামচিকাসহ বিভিন্ন প্রাণী।

মন্দিরটির দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে মন্দির দেখতে আসা দর্শনার্থী ফরিদপুরের বোয়ালমারির বাসিন্দা প্রভাষক বিপুল কুমার মন্ডল বলেন, সনাতন ধর্মাম্বলীদের কাছে এটি পবিত্র স্থান। এটি শতশত বছরের ইতিহাসের একটি অংশ। মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া মানে আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস জানার থেকে দূরে রাখা। তিনি এটিকে দ্রুত সংস্কার করে জোড় বাংলা মন্দিরটিকে রক্ষা করার জোড় দাবি জানান সংশ্লিষ্টদের প্রতি।


মন্দিরের সেবায়েত বিদ্যুৎ কুমার মুখার্জী জানান, ইতিহাসের সাক্ষী এই মন্দিরটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থী ছুটে আসেন। এখানে আসার পর মন্দিরটির এই করুণদশা দেখে তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যান। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঐতিহ্যবাহী নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দিরটি দ্রুত সংস্কার না করলে অচিরেই মন্দিরটি তার অস্তিত্ব হারাবে।

জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম ফরিদ হোসেন বাবু বার্তা২৪.কমকে জানান, বালিয়াকান্দিতে হাতেগোনা কয়েকটি ইতিহাস-ঐতিহ্যবহনকারী স্থাপনা রয়েছে। তার মধ্যে নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দিরটি অন্যতম। মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তার পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার প্রত্নতত্ত্ব দফতরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এসে পরিদর্শন করেই শুধু চলে যান। কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন না।

মন্দিরটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বার্তা২৪.কমকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে চার সদস্যের একটি দল মন্দিরটি পরিদর্শন করেছেন। মন্দিরটি এখনো সংরক্ষিত হয়নি। সংরক্ষণের কাজ চলমান। সংরক্ষণ হওয়ার পরই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দিরটির সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

;

দেশের সম্পদ ধ্বংসকারীদের বিচার দেশবাসীকে করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সম্পদ যারা নষ্ট করেছে তাদের বিচার দেশের মানুষেরই করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর কষ্ট লাঘবে সরকার যে উন্নয়ন করেছে সেগুলো ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকেই রুখে দাঁড়াতে হবে। এ তাণ্ডব যারা করেছে তাদের বিচার এদেশের মানুষকেই করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, যে স্থাপনাগুলো মানুষের জীবনকে সহজ করে সেগুলো ধ্বংস করা আসলে কোন ধরনের মানসিকতা। ঢাকা শহর যানজটে নাকাল থাকলেও মেট্রোরেল স্বস্তি দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই পরিবহন এভাবে ধ্বংস করেছে তা মানতে পারছি না। 

;

দুই ঘণ্টা পর ধানমন্ডির রেস্টুরেন্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফরেস্ট লাউঞ্জ নামে একটি রেস্টুরেন্টে অগ্নিকণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ধানমন্ডি ১০/এ এলাকার ফরেস্ট লাউঞ্জ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর আসে। পরে মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি এ ফায়ার কর্মকর্তা। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

;

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো দুইজনসহ তিনজন আরোহী নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের চারপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কুমিল্লার মুরাদনগর টনকি ইউনিয়নের বাইরা গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির (২০), জিনোদপুর ইউনিয়নের জিনোদপুর গ্রামের হাফেজ মিয়ার ছেলে রাব্বি (২১) ও একই গ্রামের মালাই গ্রামের কাদির মেম্বারের ছেলে পিয়াস (২৩)। ঘটনাস্থলে ছাব্বির ও কুমিল্লায় নেওয়ার পথে রাব্বি ও পিয়াস মারা যান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার টংকি ইউনিয়নের বাইরা গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির (২০) মোটরসাইকেলে নবীনগরে আসার পথে চারপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিপরীত থেকে আসা রাব্বির মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইটি মোটরসাইকেলে থাকা ৩ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম তিনজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

;