দীর্ঘ হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত মন্ত্রী-এমপির তালিকা



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরইমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। সাবেক মন্ত্রী, বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ও এমপিরাও আছেন এই তালিকায়।

যত দিন যাচ্ছে ততই করোনা আক্রান্ত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবশেষ শুক্রবার (১৯ জুন) এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বর্তমানে বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

বর্তমানের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম করোনায় আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া মারা গেছেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ। করোনায় মৃত্যুবরণকারী সংসদ সদস্যদের তালিকা আরো রয়েছেন, আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন।

অন্যদিকে আক্রান্তের তালিকায় মন্ত্রী এমপিদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও তার সহধর্মীনি। এছাড়া আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সাবেক হুইপ নওগাঁ-২ আসনের শহিদুজ্জামান সরকার, রেল মন্ত্রণালয় বিষয়ক কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন ও তার স্ত্রী। জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলাল, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান সপরিবারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল এবং গণফোরাম দলীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। এর মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও মোকাব্বির চলতি অধিবেশনে সংসদে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদস্য কাজী কেরামত আলীর স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।

এছাড়া করোনা পজিটিভ না তবে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবারের সদস্যদের করোনা পজিটিভ আসায় আরো কয়েকজন সেলফ আইসোলেশনে রয়েছেন। তারা হলেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম।

দুই ঘণ্টা পর ধানমন্ডির রেস্টুরেন্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফরেস্ট লাউঞ্জ নামে একটি রেস্টুরেন্টে অগ্নিকণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ধানমন্ডি ১০/এ এলাকার ফরেস্ট লাউঞ্জ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর আসে। পরে মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি এ ফায়ার কর্মকর্তা। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

;

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো দুইজনসহ তিনজন আরোহী নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের চারপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কুমিল্লার মুরাদনগর টনকি ইউনিয়নের বাইরা গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির (২০), জিনোদপুর ইউনিয়নের জিনোদপুর গ্রামের হাফেজ মিয়ার ছেলে রাব্বি (২১) ও একই গ্রামের মালাই গ্রামের কাদির মেম্বারের ছেলে পিয়াস (২৩)। ঘটনাস্থলে ছাব্বির ও কুমিল্লায় নেওয়ার পথে রাব্বি ও পিয়াস মারা যান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার টংকি ইউনিয়নের বাইরা গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির (২০) মোটরসাইকেলে নবীনগরে আসার পথে চারপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিপরীত থেকে আসা রাব্বির মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইটি মোটরসাইকেলে থাকা ৩ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম তিনজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

;

নজিরবিহীন তাণ্ডবে রংপুরে লন্ডভন্ড সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
রংপুরে লন্ডভন্ড সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, ছবি: বার্তা২৪.কম

রংপুরে লন্ডভন্ড সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলনে হঠাৎ করেই দুষ্কৃতিকারীদের অনুপ্রবেশে সহিংস হয়ে ওঠে। এতে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও উন্নয়ন অবকাঠামোয় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলার মতো রংপুরেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে স্বস্তি ফিরছে জনমনে। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢুকে পড়া নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতচিহ্ন এখনো সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ভাসছে।

এদিকে কয়েকদিন ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার পর এখন তা ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে। অনলাইন গণমাধ্যমের নিয়মিত পাঠকদের জন্য শুক্রবার (১৯ জুলাই) থেকে বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরে ঘটে যাওয়া চিত্র তুলে ধরা হলো।

রংপুর নগরীতে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই ছিল না কোনো উত্তাপ। ওইদিন সরকারি ছুটি থাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সুনশান ছিল পুরো নগর। আগের দিনের (বৃহস্পতিবার) তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের। এরই মধ্যে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শান্ত রংপুর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর জিলা স্কুল মোড়, সিটি পার্ক মার্কেট চত্বর, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন গ্রান্ড হোটেল মোড়, শাপলা চত্বর, পুরাতন ট্রাক স্ট্যান্ড, কলেজ রোড চারতলার মোড়, লালবাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়, মডার্ণ মোড়, দর্শনা মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা ও ধাপ চেকপোস্ট এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয়।

এসব মিছিলে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী, সমর্থকরা ছাড়ওা দুর্বৃত্তরা অংশ নেয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গ্রান্ড হোটেল মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সেই মিছিল থেকে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সাইনবোর্ডে ইটপাকটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এ সময় সমবায় মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ঢাকা ব্যাংকের বুথে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হবার আগেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় নগরীর আকাশ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও আসবাবপত্রে আগুন দেয় হামলাকারীরা। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তাণ্ডবে বাদ পড়েনি সদর হাসপাতাল সংলগ্ন পরিবার পরিকল্পনার কার্যালয়। মা ও শিশুদের জন্য নির্মিত এই সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়াসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন আগুন দেন তারা।

এদিকে শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মিছিলে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর থেকে জিলা স্কুল মোড় পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয় রাজপথ। এসময় দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও লাঠিসোঁটা দিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় বিক্ষোভকারীরা। তাদের সরকারবিরোধী স্লোগান আর থেমে থেমে ছোড়া ইট পাটকেলের ঢিল ও ভাঙচুরের তাণ্ডবে ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয় পুরো নগরজুড়ে। এই সহিংস পরিস্থিতিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অর্ধশতাধিকেরও বেশি আহত হন। মিলন, সাজ্জাদ ও মিরাজ নামে তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে আরো দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে স্থাপিত মুজিব শতবর্ষের দিনক্ষণ গণনার স্থাপনায় আগুন, লালবাগ থেকে পার্ক মোড়ে সড়কের রোড দু’পাশের গাছপালা ভেঙে, সিটি কর্পোরেশনের ফটকে হামলা, মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ভাংচুর, বিভিন্ন চত্বরের বেস্টনি ভাঙচুর, সড়ক নিরাপত্তায় ব্যবহৃত মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি, সাইনবোর্ড ও রোড ডিভাইডারের ক্ষতিসাধন করেন হামলাকারীরা। এরআগের দিন তারা নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি, মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়, আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর এবং জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

অনেকেই বলছেন, এটি শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদেরকে সমর্থন দিয়ে মাঠে থাকা নয়। অনেক রাজনৈতিক দল ও দুর্বৃত্তরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জানমালের যেমন ক্ষতিগ্রস্থ তেমনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

শুক্রবার সকালে নগরীর পায়রা চত্বরে আগের দিন (১৮ জুলাই) পোড়ানো বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পাশের সেন্ট্রাল রোডে নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ের সামনেও ছিল তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন। সেখানেও আগুনে পোড়ানো কংকাল মোটরসাইকেল পড়ে ছিল। আর পুলিশ ফাঁড়ি ও গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে ছিল ধোঁয়ার গন্ধ। সেখানে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এছাড়া নগরীর মডার্ণ মোড়ে তাজহাট থানার সামনে আগুনে পোড়া তিনটি ট্রাক, থানার ভিতরেও ছিল দগদগে ক্ষতচিন্থ। এর পাশে রংপুর মডেল কলেজ সংলগ্ন সড়কে আরো তিনটি আগুনে পোড়া গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) পার্ক মোড় থেকে মর্ডাণ মোড় হয়ে মডেল কলেজ সংলগ্ন সড়কের আশপাশসহ প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন দলের নেতকর্মী, সমর্থক, সাধারণ মানুষরা অবস্থান নেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হটিয়ে তাজহাট থানা ঘেরাও করে। পরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থানার ভিতরে বাইরে আগুন দেন বিক্ষুদ্ধরা। এদিন মানিক মিয়া নামে এক অটোচালকের মৃত্যু হয়।

এদিকে সারা দেশে কারফিউ জারির পর শনিবার (২০ জুলাই) রংপুর নগরীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা টহলের পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখে। এতে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, ধ্বংসযজ্ঞ তাজহাট থানা, গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন্সসহ সমস্ত কিছু দেখেছি। যারা হামলা চালিয়েছে এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। নৈরাজ্যের চরম অবস্থা, কোনো ভাবেই এরা (হামলাকারীরা) দেশপ্রেমিক মানুষ নয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে অনেক ফুটেজ রয়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা সব ফুটেজ, ছবি, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অবশ্যই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় রাজধানীর মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন। 

এর আগে, গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে হামলা হয়। ভাঙচুর করা হয় সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা, এলইডি মনিটর, টিকিট কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন জায়গায়। লুট করা হয় মূল্যবান অনেক জিনিস। পরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নির্ণয়ে কমিটি করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন চালু হতে কমপক্ষে এক বছর লাগতে পারে বলে জানায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

;