উপ-নির্বাচন: আ.লীগের নৌকা পাবেন তিনজন প্রত্যাশায় ৯৪ জন



মো আরমান আলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। নৌকা প্রতীক পেতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছে স্থানীয় কর্মী থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। এমনকি এই দৌড়ে শামিল হয়েছেন ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ জীবনে রাজনীতি করেননি এমন লোকও। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সবাই নৌকায় উঠতে চান। সংসদের শূন্য ৩ আসনে উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন তিনজন। কিন্তু দলটি থেকে মনোনয়ন চাইছেন ৯৪ জন প্রার্থী।

করোনাভাইরাস এবং রমজানকে সামনে রেখে অনেক আগে থেকে এই দৌড় ঝাপ শুরু হলেও এখন চলছে প্রার্থী তা নিশ্চিত করার লড়াই। ঈদের আগে মানবিক সহায়তার মধ্যে নিজেদের প্রচার প্রচারণা সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা ঠেকেছে অনেকটা লবিং তদবিরে। যেভাবেই হোক নৌকার টিকিট তাদের চাই-ই।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত ৪ জুন থেকে আমরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ এবং সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করি এবং আজ বৃহস্পতিবার ১০ জুন আমাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ হয়। এর মধ্যে ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ এবং সিলেট-৩ আসনে গত এক সপ্তাহে ৯৪ জন  মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন  ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩৪ জন, কুমিল্লা-৫ আসনে ৩৫ জন এবং সিলেট-৩ আসনে ২৫ জন।

সায়েম খান আরও জানান, মঙ্গলবার চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবং বিএনপি নেতা ইখলাস উদ্দিন মোল্লা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আমাদের অফিসে আসেন কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের কোন কর্মী বা সদস্য পদের কোন কাগজ দেখাতে না পারায় তাদের পক্ষে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে এই তিন আসনের উপনির্বাচনে আমাদের ৯৪টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, উপ-নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের গত ৪জুন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  বলেন, “এবার মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। খুব একটা অসুবিধা নেই, এই কথা মনে করে অনেকই আবার প্রার্থী হচ্ছেন। পান আর না পান প্রার্থী হতে চান। কারণ বিএনপি নেই শুনেছে। সেই জন্য প্রার্থিতার দৌড়ও বেড়ে গেছে। নেত্রীর সাথে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণ একটি গাইডলাইন তিনি দিয়েছেন। সেটা হলো ‘আমি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কাউকে মনোনয়ন দিবো। যারা জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং দুঃসময়ে ছিলেন। এমন একটি ধারণা তিনি আমাকে দিয়েছেন।

তবে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি, বা কার হাতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের নৌকার বৈঠা? এমন প্রশ্ন কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের মুখে মুখে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দলের জন্য যারা সব সময় কাজ করেছেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় মানুষের পাশে ছিলেন, গণভিত্তি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন; এমন প্রার্থী খুঁজে মনোনয়ন দেয়া হবে।

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বার্তা২৪.কমকে বলেন, রাজনীতি যারা করেন তাদের মধ্যে  অনেকের মনে একটা স্বপ্ন থাকে জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করবেন। এই জন্য তাদের ভিতরে নির্বাচন করার একটা আগ্রহ থাকে, এটা স্বাভাবিক বিষয়। আর বর্তমানে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তির তেমন কোন অবস্থান নেই। ফলে অনেকের ভিতরে এই ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, মনোনয়ন পেলে তারা হয়তো সংসদ সদস্য হতে পারবেন।‘বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর মনোনয়ন প্রত্যাশার কারণ একটাই। মাঠে আমাদের শক্ত প্রতিপক্ষ না থাকায় তাদের মধ্যে ধারণা হয়েছে মনোনয়ন পেলেই হয়তো জয়লাভ করবে। আমাদের সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতাও হয়তো আছে। এ কারণেই হয়তো এ পর্যায়ে চলে এসেছে।’

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ’আওয়ামী লীগ বড় দল। যোগ্য লোকের সংখ্যা অনেক বেশি আছে। মনোনয়ন তো চাইবেই। যোগ্য, ত্যাগী, জনপ্রিয় ও দলের প্রতি কমিটমেন্ট আছে তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি যোগ্যকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।’

‘বরাবরের মত প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। বোর্ড সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা যাকে দেবেন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি নিশ্চয় যোগ্য লোককেই মনোনয়ন দেবেন।

ঢাকা-১৪ সহ তিন আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ১২ জুন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।আর এখান থেকেই বেরিয়ে আসবে কে কে নৌকার টিকেট নিয়ে উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে যেতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদের তিনটি আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল ১৪ জুলাই। তারিখ পরিবর্তন করায় এখন এই আসনে ভোট হবে ২৮ জুলাই।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, শূন্য হওয়া তিন আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমার শেষ তারিখ ১৫ জুন। ১৭ জুন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৩ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১৪ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হক গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর একটি অভিজাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ২০০৮ সালের নবম সংসদ এবং ২০১৪ সালের দশম সংসদেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। মৃত্যুকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন আসলামুল হক।

সিলেট-৩ সংসদীয় আসন গঠিত দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে।  এখানে টানা তিনবার নির্বাচিত হন প্রয়াত মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এই আসনটি মূলত জাতীয় পার্টির দুর্গ। যার কারণে এখানে মহাজোটের শরিক জাতীয় প্রার্টিরও প্রার্থী সক্রিয় রয়েছে। গত ১১ মার্চ মাহমুদ সামাদ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নবম ও দশম সংসদেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কুমিল্লা-৫ আসনটি বুড়িচং ও ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা দুটি নিয়ে গঠিত। এই আসনে দলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত আবদুল মতিন খসরু।

তিনি গত ১৪ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করায় একাদশ জাতীয় সংসদের কুমিল্লা-৫ আসনটি ওই তারিখে শূন্য হয়েছে।

জাপা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, আহত ৫



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টি

  • Font increase
  • Font Decrease
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের (কাকরাইল) পাশে একটি রেস্টুরেন্টের সামনে মোটরবাইক রাখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাতীয় পার্টির ৫জন কর্মী আহত হয়েছে পার্টির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম বার্তা২৪কমকে নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (৩ জুলাই) রাত ৭টার দিকে ওই ঘটনার বিষয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে জাপার পক্ষ থেকে।

মাহমুদ আলম আরও জানিয়েছেন, পাশের ভবনের রয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট, তার সামনে বাইক রাখাকে নিয়ে কথাকাটি হয়।এরপর তারা বিনা উস্কানিতে আমাদের কর্মীদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে আমাদের ৫ জন আহত হয়, যারা ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে আমাদের লোকজন সংগঠিত হলে রেস্টুরেন্ট মালিকের লোকজন পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় জাপার যুগ্ম যুববিষয়ক সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ২ জনের নাম উল্লেখসহ ১২ জনকে আসামী করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাতটার দিকে জাতীয় পার্টির কাকরাইল অফিসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে কর্মীসভা চলছিল। দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপিসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মীসভায় যোগ দিতে জাপার এক নেতা কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ের পাশে মজার হাড়ি রেস্তোরার সামনে মটর বাইক পার্কিং করলে হোটেলের দারোয়ান বাধা দেয়। এ নিয়ে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে দ্বীন ইসলামসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী গাড়ি সরিয়ে বিষয়টি সেখানেই মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। 

এসময় দোকানের মালিকের ভাই মানুসহ দোকান কর্মচারীরা এসে জাপা নেতাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মারমুখি হয়ে উঠেন। বিষয়টি নিয়ে দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে জাপা নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে মারামারি লেগে যায়। দোকানের কর্মচারীরা হোটেল থেকে লাকড়ি, গাছের টুকরো এনে জাপা নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। জাপা নেতাকর্মীরাও চেয়ার ছুড়ে মারে। প্রায় আধঘন্টা সংঘর্ষ চলাকালে দোকান কর্মচারীদের হামলায় আহত হন জাপার লালবাগ থানার সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ ৫ জন। এসময় দোকান কর্মচারীরা দলের মহাসচিবের গাড়ি ভাঙ্গচুর করে। 

পরে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশের সামনে ঘটনার বিচার চেয়ে জাপা নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।
;

গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত মানুষের মুক্তি আসবে না: ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এদেশের মানুষের মুক্তি আসবে না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা বিএনপি’র নেতা ও কলমা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তুহিন খন্দকার, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজিব খান এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ ১৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'জনগণের ঘাড়ে জোর করে চেপে বসা বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের মনুষ্যত্বহীন যে সংস্কৃতি জোরদার করেছে তাতে এটি নিশ্চিত করে বলা যায়-আওয়ামী লীগ দেশের প্রভু হয়ে থাকতে চায়। সরকার দেশকে বিএনপিশূণ্য করতে বেপরোয়া অমানবিকতায় মেতে উঠেছে।'

তিনি বলেন, জনকল্যাণ নয় বরং দাম্ভিকতা ও মিথ্যার বেসাতি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দায়েরের মাধ্যমে দেশটাকে এখন নরকে পরিণত করেছে সরকার। এধরণের অপকর্মের উদ্দেশ্যই হচ্ছে-সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসন, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কেউ যেন প্রতিবাদী হতে সাহস না পায়।

এই অবৈধ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এদেশের মানুষের মুক্তি আসবে না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হবে না বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

আমি অবিলম্বে উল্লিখিত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তিনি।

;

বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম এক ধরনের ত্রাণ বিলাস: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম এক ধরনের ত্রাণ বিলাস বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৩ জুলাই) দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফেনীর সোনাগাজিতে বিএনপি নেতারা ত্রাণ বিতরণের নামে নাটক করেছে। তারা ফেনী থেকে ফেরত এসে সংবাদ সম্মেলন করেছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সাহস থাকলে নিশ্চয়ই তারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতো। তারা সাহায্য প্রদানের চেয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিক মনোযোগী।

যতদিন পর্যন্ত বিএনপি অপরাজনীতি ছেড়ে জনকল্যাণে মনোনিবেশ না করবে ততদিন পর্যন্ত তাদের সকল অপকৌশল জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দলের রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু তাদের কাল্পনিক অভিযোগ দিন দিন বাড়বে— এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি নেতারা বানভাসি মানুষের সাথে লোক দেখানো ফটোসেশন করছে। তাদের এক চিমটি সাহায্য মানুষের ভোগান্তির সাথে নির্মম পরিহাস ছাড়া কিছু নয়। সাহায্যের নামে বিএনপির লোক দেখানো ত্রাণ থেকে মানুষ পরিত্রাণ চায়।

তিনি বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনমানুষের পাশে রয়েছে। অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আর যারা রাজনীতিকে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার মনে করে, যাদের জন্মই হয়েছিল স্বৈরতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য তারা জনগণের দুর্দশা নিয়েও অপরাজনীতি করে।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা হাস্যকর অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ নাকি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনৈতিক দল! অথচ দেশের মানুষ ভাল করেই জানে, কোন দল সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক, কাদের রাজনৈতিক দর্শনে সন্ত্রাসনির্ভরতা রয়েছে। এদেশের রাজনীতিতে সন্ত্রাসের জন্মদাতা, লালনকর্তা বিএনপি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের নির্মম-নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা সংঘটিত হয়েছিল। এদেশে আগুন সন্ত্রাস আর জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার ভয়াবহ অপসংস্কৃতিও তারা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা জনবিচ্ছিন্ন, যাদের পায়ের তলায় মাটি নেই, যারা অপরাজনীতির কারণে জনপ্রত্যাখ্যাত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার। এই সন্ত্রাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জনকল্যাণের রাজনীতি করে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে গণভিত্তির মধ্য দিয়ে কিংবা জনগণের সংগঠিত প্রয়াস হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়নি- এক নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের বন্দুকের নলের মুখে জনগণকে জিম্মি করে বিএনপির সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপি একটি সন্ত্রাসনির্ভর ও ষড়যন্ত্রমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগন্ত্রে কাছে চিহ্নিত। শুধু দেশেই নয়, কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শুধু সন্ত্রাসনির্ভরতাই নয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিবিরোধী অপশক্তি হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বিএনপি। তাদের বোঝা উচিত, কথামালার বৃষ্টিতে এদেশের জনগণের মন ভেজে না। জনগণ মুখোশের অন্তরালে থাকা তাদের প্রকৃত চেহারা চেনে ও জানে।

;

আ.লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আ.লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন

আ.লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

শনিবার (২ জুলাই) চেন্নাই এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সোয়া পাঁচটায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মুকুল বোস বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে মুকুল বোসের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র এক কন্যা রেখে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও  আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল বোসের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সবশেষ কাউন্সিলের পর ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি মুকুল বোসকে দলটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য করা হয়।

;