মানুষ রতন: হ্যাটস অফ টু হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

 সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশীদের জন্যে ভারতের ভিসা পাওয়া এই সেদিনও ছিল সোনার হরিণ। অথচ ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ৪র্থ প্রধান সোর্স কান্ট্রি বাংলাদেশ। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা ও বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সীগুলোর অসাধু ভিসা সিন্ডিকেট ভারত গমনেচ্ছুক বাংলাদেশীদের রীতিমত জিম্মি করে রেখেছিলো। এই কাগজ-সেই কাগজ, এফিডেভিট, নোটারী পাবলিক, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নোঅবজেকশন, ইউটিলিটি বিল, বার্থ সার্টিফিকেট, ম্যারেজ ডকুমেন্ট, ট্রেড লাইসেন্স, বিজনেস কার্ড, লেটারহেড প্যাড, ভ্যাকেশন লেটার; আরো কত কি!

এসব দিলেও ভিসার নিশ্চয়তা ছিলনা। তারপর শুরু হতো ই-টোকেন বাণিজ্য। বছরে হাজার কোটি টাকার ই-টোকেন বাণিজ্য হতো এই ভারতীয় ভিসা নিয়ে! দুর্নীতির এই সিলসিলা চলছিল বছরের পর বছর ধরে। নতুন হাইকমিশনার আসতেন, প্রতিশ্রুতি দিতেন ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার, ব্যস; ঐ পর্যন্তই। কিছুই সহজ হতোনা, উল্টো ভোগান্তি বাড়ছিল দিনে দিন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/24/1535115333143.jpg

এমন সময় বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে এলেন হর্ষবর্ধন ভি শ্রিংলা, হাসিখুশি কিন্তু স্বল্পভাষী তিনি। কথা না বলে কাজে দেখাতে থাকলেন ভিসা সহজ করা কাহাকে বলে! একে একে ভিসা পেতে নানা শর্ত উঠে যেতে থাকলো, ই-টোকেন মূল্য ৭ হাজার ৫ হাজার ৩ হাজার থেকে কমে নেমে এলো ৫শ’ টাকায়! ঢাকার একাধিক পয়েন্টসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠিত হলো ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বা IVAC. তাঁর শক্ত হাতে দুর্নীতি চক্র দমন হলো অনেকাংশেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/24/1535115272090.jpg

এতেও মন ভরলনা তাঁর, ভরার কথাও না, সম্রাট হর্ষবর্ধনের নামে নাম তাঁর, ফলে বিশাল কিছু না হলে কিভাবে সন্তুষ্ট হবে তাঁর হৃদয়? সেই বিশালের আকাংক্ষা থেকেই গত ১৪ জুলাই যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং কমপ্লেক্স-এ ১৮ হাজার ৫শ’ স্কয়ার ফিটের বিশাল ফ্লোরে উদ্বোধন করা হলো IVAC-এর স্টেট অব দ্য আর্ট স্থাপনা! এই সমন্বিত IVAC-এ ৪৮টি কাউন্টারে কোনো ই-টোকেন ছাড়াই সব ধরণের ভিসা আবেদন জমা দেয়া যাচ্ছে। ৭শ’ আবেদনকারী বসে অপেক্ষা করতে পারছেন এখানে। সিরিয়াল ভেন্ডিং ম্যাশিন থেকে একটি কুপন পাচ্ছেন সময় সংকেতসহ। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত আবেদন জমা নেয়া হচ্ছে। এর পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভিসা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৭ হাজার ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে এই সমন্বিত কেন্দ্র থেকে। এছাড়াও থাকছে অসংখ্য সুবিধা। এই IVACটি চালু হওয়ার কারণে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ঢাকার আর সব IVAC বন্ধ হয়ে যাবে। ঢাকার কূটনৈতিক মহলে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা'র এই বৈপ্লবিক উদ্যোগে সাড়া পড়ে গেছে!

আরেকবার প্রমানিত হলো-মানুষই পারে, তবে যে সে মানুষ নয়, পারার জন্যে হতে হয় মানুষ-রতন। বন্ধু হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা যে তেমনই একজন মানুষ-রতন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে তাঁর টেনিউরে, পৌঁছেছে ভিন্ন উচ্চতায়। সেসব নিয়ে হয়তো লিখবো অন্য কোনো সময়ে। আজ এপর্যন্তই।

হ্যাটস অফ টু হর্ষবর্ধন শ্রিংলা...

লেখক: সম্পাদক, অর্থকথা

আপনার মতামত লিখুন :