কারও সম্পর্কে অবমাননাকর কথা বলা ইসলামে নিষেধ

কারও সম্পর্কে অবমাননাকর কথা বলা ইসলামে নিষেধ, ছবি: সংগৃহীত

কোরআনে কারিমের সূরা আল আহজাবের ৬৯ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! (নবী) মূসাকে যারা কষ্ট দিয়েছে, তোমরা তাদের মতো হয়ো না। তারা তার সম্পর্কে যা বলত, আল্লাহ তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে ছিলেন মর্যাদাবান।’

উল্লেখিত আয়াতের তাফসিরে ইসলামি স্কলাররা বলেন, সূরার ৫৭ নম্বর আয়াতে মুনাফিকদের পক্ষ থেকে আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছিলো। মদিনায় বসবাসকারী ইহুদিদের কাছ থেকে মুসলমানরা শুনেছিলেন, হজরত মূসা আলাইহিস সালামের জামানার লোকজন তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে তাকে কষ্ট দিয়েছিল। এসব অপবাদ তৈরির পেছনে কৃপণ ধনাঢ্য কারুন ও ফেরাউনের মতো খোদাদ্রোহী অত্যাচারী শাসকদের প্রধান ভূমিকা ছিলো।

সেই বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করে এই আয়াতে আল্লাহতায়ালা ঈমানদার ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে বলছেন, তোমরা হজরত মূসা সম্পর্কে ইহুদিদের কাছ থেকে যা শুনেছ- তা অপরের কাছে বলাবলি করে গুজব রটিও না। কারণ, আল্লাহ নিজে তার রাসূলের নির্দোষ ও পবিত্র থাকার সাক্ষ্য দিচ্ছেন। যিনি আল্লাহর কাছে সম্মানিত তার সম্পর্কে অবমাননাকর কথা বলো না। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়।

কোরআনে কারিমের ব্যাখ্যাকাররা এই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে বলেন-

ক. গুজব রটনা ও অপবাদ আরোপ করে ধর্মীয় নেতাদের চরিত্র হনন করা ইসলামের শত্রুদের একটি কূটকৌশল। এ ব্যাপারে মুসলমানদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই গুজবে কান দেওয়া যাবে না। অনুমান করে কোনো কথা বলা যাবে না। কোনো কিছু তা যাচাই-বাছাই না করে প্রচার করা যাবে না।

খ. আল্লাহতায়ালার পাশাপাশি তার সব নবী-রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাদের নিষ্পাপ থাকার সাক্ষ্য দেওয়াও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

উল্লেখিত শিক্ষা দু’টো সরাসরি ঈমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুতরাং এগুলোকে কেউ অবিশ্বাস করলে তার ঈমান থাকবে না।

এর পরের আয়াতগুলোতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য বলায় অবিচল থেকো।’

‘(এর ফলে) তিনি তোমাদের আমল- আখলাক ও আচার-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের (মানুষের) পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। এবং যে কেউ আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, নিঃসন্দেহে সে মহা সাফল্য অর্জন করেছে।’ –সূরা আল আহজাব: ৭০-৭১
বর্ণিত আয়াতে মিথ্যা ও কষ্টদায়ক কথাবার্তা বলা থেকে মুমিনদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার পর এ আয়াতে বলা হচ্ছে, কথা বলার সময় সাবধান হতে হবে এবং যে বক্তব্যের সত্যতা তোমার কাছে প্রমাণিত হয়নি তা বলবে না। বাস্তবতার সঙ্গে হুবহু মিল রেখে কথা বলবে। কেউ যেন তোমার বক্তব্যকে ভুল প্রমাণ করতে না পারে। সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো অবিচল ও অটল প্রত্যয়ে কথা বলবে যাতে পরিবার বা সমাজের কোনো ক্ষতি না হয়।

বর্তমান সমাজের মানুষ যদি কোরআনে কারিমের এ নির্দেশ পালন করে কথা বলে এবং অন্যের বিষয়ে সংশয়, সন্দেহ ও ভুল ধারণাবশত বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকে- তাহলে সমাজের বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং নতুন করে কোনো সংকট তৈরি হবে না।

এ নীতি শুধু সামাজিক বন্ধন ও শৃঙ্খলাকে শক্তিশালী করবে না, এর দ্বারা সে পরকালে উপকৃতও হবেন। বলা হয়েছে, যারা উল্টাপাল্টা কথা বলা বন্ধ করে দেবে আল্লাহতায়ালা তাদের গোনাহ ক্ষমা করার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ড সংশোধন করে দেবেন।

বর্ণিত দুই আয়াতের শিক্ষা হলো-

ক. ঈমানের পূর্বশর্ত তাকওয়া এবং তাকওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে- সত্য বলায় অবিচল থাকা।

খ. বক্তব্য সুন্দর হওয়া যথেষ্ট নয় বরং তা হতে হবে বাস্তবসম্মত ও দ্ব্যর্থবোধক দোষ থেকে মুক্ত।

গ. কেউ যদি তার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকওয়া অবলম্বন করে তাহলে আল্লাহ তার পাপ ক্ষমা করে তার চলার পথ সুন্দর করে দেন।

ইসলাম এর আরও খবর

//election count down //sticky sidebar