Alexa

দুর্নীতিপরায়ণ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া ইসলামসম্মত নয়

দুর্নীতিপরায়ণ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া ইসলামসম্মত নয়

দুর্নীতিপরায়ণ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া ইসলামসম্মত নয়, ছবি: সংগৃহীত

ভোট দেওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। ভোটাধিকার প্রয়োগ ব্যক্তির নিজস্ব মতামত কিংবা জনমত প্রতিফলনের একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম ও পদ্ধতিবিশেষ। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে ভোটের প্রয়োজন হয়। রাজনীতিতে ভোট এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একজন প্রার্থী গণতান্ত্রিক পন্থায় কোনো না কোনো পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

ভোটদাতা প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে কাউকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো- তিনি এই মর্মে সুপারিশ করছেন, ওই প্রার্থীকে প্রতিনিধি মনোনয়ন করা হোক। সুতরাং ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ভোট দেওয়া কোনো পদের জন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশ করার নামান্তর।

সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হলে তিনি যেসব ভালো কাজ করবেন, ভোটদাতা তার উত্তম প্রতিদান লাভ করবেন। পক্ষান্তরে ওই প্রার্থী যদি অযোগ্য হয়ে থাকেন এবং ভোটারের ভোটের কারণে জয়ী হন, অতঃপর কোনো অন্যায় কাজ করেন; তা হলে ভোটারও পরোক্ষভাবে গোনাহে শরিক থাকবেন।

যেমন কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে।’ -সূরা নিসা: ৮৫

ভোট ব্যক্তির কাছে গচ্ছিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। সৎ, যোগ্য ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিকে ভোট দিলে এ আমানতের সদ্ব্যবহার করা হয়, আর অযোগ্য ও ধর্মবিমুখ ব্যক্তিকে ভোট দিলে আমানতের খেয়ানত করা হয়। অধিকন্তু ভোটের আমানতের খেয়ানত ব্যক্তিগত খেয়ানতের চেয়ে গুরুতর, কেননা এর ফলে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শরিয়তের দৃষ্টিতে আমানত যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব এবং এর অন্যথা কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যেমন ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারকে প্রত্যর্পণ করতে।’ -সূরা নিসা: ৫৮

যারা ভোট প্রয়োগ করেন তাদের ভোটার বলা হয়। সে হিসাবে বলা চলে, জনপ্রতিনিধিদের নিয়োগকর্তা ভোটাররা। ভোট দেওয়া শুধু আবেগ বা দলীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি ধর্মীয় বিষয়। সুতরাং চিন্তা-ভাবনা করে, জেনে-শুনে অসৎ, অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া ইসলামসম্মত নয়। চিন্তাভাবনা করে ভোট দিতে হবে। দলীয় আবেগ, আত্মীয় বা প্রতিবেশী হওয়া ভোট পাওয়ার যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। মূলত ভোট পাওয়ার যোগ্য ওই ব্যক্তিই হবেন, যিনি ইসলামকে ভালোবাসবেন। যার দ্বারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠিত হবে না, সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে না, সংখ্যালঘুদের ক্ষতিসাধন হবে না।

তাই জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দিতে হবে। যারা ভোটারদের মিথ্যা কথা বলে লোভ-লালসা দিয়ে প্রলুব্ধ করে, নির্বাচনী বৈতারণী পার হতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়, অন্যায় ও অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত হয়, ভোট ক্রয়-বিক্রয় করে, জাল ভোট প্রদান করে; তাদের বর্জন করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ভোটের বিষয়টি শুধু পার্থিব নয়, পরকালেও এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক কাজের সফলতা, ব্যর্থতা, সুফল ও কুফল ব্যক্তির নিয়তের ওপর নির্ভর করে।’ -সহিহ বুখারি

সুতরাং অসংখ্য ভোটপ্রার্থীর মধ্যে আমাদের তাকেই জয়ী করা উচিত, যিনি কথা ও কাজে এক, যিনি দেশকে এবং দেশের লোককে ভালোবাসেন, যিনি ইসলামকে ভালোবাসেন, সর্বোপরি যিনি তার নির্বাচনী এলাকার উন্নতির জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন।