Alexa

চোখ সামলাও পাপ কম হবে

চোখ সামলাও পাপ কম হবে

চোখ সামলাও পাপ কম হবে, ছবি: বার্তা২৪.কম

You have a nice tour. আপনার যাত্রা শুভ হোক, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি, নামাজ কায়েম করুন, গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান, চলতি পথে বিমানের ছোঁয়া, আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠান।

চলার পথে বিভিন্ন যানবাহনের গায়ে আমরা এসব স্লোগান ও কথামালা দেখতে পাই। এবার নতুন একটি স্লোগান চোখে পড়ে, ঝিনাইদহ-মহেশপুর-শ্যামকুড় রুটের রাহুল পরিবহনের গায়ে- ‘চোখ সামলাও পাপ কম হবে’- আমার মনে হলো, কথাটি অনেকাংশেই বাস্তবধর্মী এবং সত্য।

চোখ মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ। মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয় পাঁচটির অন্যতম একটি। এটি আল্লাহতায়ালার অপার করুণা ও মূল্যবান দান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর। -সূরা নাহল: ৭৮

চোখকে বলা হয় মনের আয়না। যে কোনো কাজ করার আগে চোখ প্রথমে তা দেখে এবং পরে মনকে প্রলুব্ধ করে। ভালো জিনিস দেখলে চোখ মনকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। আবার খারাপ বস্তু দর্শনে মনকে খারাপ কাজের প্রতি ধাবিত করতে থাকে। তাই চোখের হেফাজত করা মানেই মনের হেফাজত করা।

যাবতীয় অশ্লীল, হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে চোখের দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখা এবং ভালো কাজের প্রতি চোখ খুলে রাখা ও দেখাই হচ্ছে চোখের কাজ।

এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, (হে নবী) মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। -সূরা আন নুর: ৩০

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দৃষ্টিপাত শয়তানের একটি বিষাক্ত তীর। যে ব্যক্তি মনের চাহিদা সত্ত্বেও (হারাম বস্তু থেকে) দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়, আমি এর পরিবর্তে তাকে সুদৃঢ় ঈমান দান করব, যার মিষ্টতা সে অন্তরে অনুভব করবে। - তাবারানি

চোখের সঠিক সঞ্চালনের ফজিলত সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার মা-বাবার দিকে একবার দয়ার দৃষ্টিতে তাকাবে, আল্লাহ তাকে একটা কবুল হজের সওয়াব দান করবেন। -বায়হাকি

চোখে দেখা বস্তুটি প্রথমে অন্তরর খটকা সৃষ্টি করে। পরে তা কল্পনায় রূপ নেয়। কল্পনা জৈবিক তাড়নাকে উসকে দেয়। আর জৈবিক তাড়না ইচ্ছার জন্ম দেয়। এ ইচ্ছা থেকে কোনো কাজের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানো হয়।

তাই আসুন, ইবাদতের মজা ও তৃপ্তি অনুভব করতে আল্লাহতায়ালার ভয়ে আমারা অশ্লীল ও খারাপ জিনিস থেকে আমাদের চোখকে সামলে রাখি।

আপনার মতামত লিখুন :