Alexa

শুধু মারা গেলে নয়, সবসময় পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা

শুধু মারা গেলে নয়, সবসময় পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা

পিতা-মাতার জন্য রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা বলে দোয়া করা, ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে পিতা-মাতার জন্য ‘রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা’ দোয়াটি শিখিয়েছেন। যদিও অনেকে মনে করেন, রহমতের এ দোয়াটি মৃত পিতা-মাতার জন্য। আসলে বিষয় তেমন নয়। যেহেতু দোয়াটি আল্লাহতায়ালার শেখানো দোয়া এবং এর অর্থ হচ্ছে, ‘আল্লাহ! আপনি তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন’ এই রহমত মৃত্যুর পরে যেমন প্রয়োজন তেমনি মৃত্যুর আগেও প্রয়োজন। অতএব পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায়ও এই দোয়াটি পড়া যাবে। অনেক আলেম তো পিতা-মাতার জন্য এই দোয়াটিই উত্তম বলেছেন।

বস্তুত ইসলাম পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতর সঙ্গে সদাচরণ করো। তাদের একজন বা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে পৌঁছলে, তাদেরকে উফ শব্দটি বলো না, তাদের ধমক দিও না; তাদের সম্মান দিয়ে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো হে প্রভু! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’ -সূরা বনি ইসরাইল: ২৩-২৪

সন্তানের অসহায়ত্বের সময় যেভাবে মা-বাবা তাদের স্নেহভরে লালন-পালন করেছিলেন। তেমনি মা-বাবার বৃদ্ধাবস্থায় সন্তানরা তাদের সব চাহিদা পূরণ করবে। এটা ইসলামের বিধান। অবশ্য বাংলাদেশের আইনেও মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান রয়েছে। ‘পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩’ নামে এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস করা হয়েছে জাতীয় সংসদে।

ইসলামের বিধান হলো, সর্বাবস্থায় পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক লোক এসে প্রশ্ন করলেন, আমার কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো আচরণ পাওয়ার অধিকার কার? নবী করিম (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। লোকটি আবার প্রশ্ন করলে তিনি একই উত্তর দেন। তিন-তিনবার এমন উত্তর দেওয়ার পর লোকটি আবার একই প্রশ্ন করে। নবী করিম (সা.) বলেন, তোমার পিতার। -সহিহ বোখারি: ২২২৭

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তো মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশ দিয়েছি। মা সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভেধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।’ -সূরা লুকমান: ১৪

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যহার করতে।’ –সূরা আনকাবুত: ৮

হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মাতা-পিতার রাজি-খুশির মধ্যেই আল্লাহর রাজি-খুশি। মাতা-পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ -সুনানে তিরমিজি: ২/১২

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। তা হলো- ক. মজলুমের দোয়া, খ. মুসাফিরের দোয়া এবং গ. সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া।’ -সুনানে তিরমিজি

সহজাতভাবেই বৃদ্ধ মা-বাবার সবচেয়ে বড চাওয়া সন্তান ও নাতি-নাতনির সঙ্গে থাকা। সন্তান নাতি-নাতনির সঙ্গে সুখ-দুখ ও আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করতে চান তারা। কিন্তু সব পিতা-মাতার ভাগ্যে এটা জুটে না। অনেকে তো বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য হলো, ইসলামের বিধান মেনে পিতা-মাতার সম্মান করা। তাদের সুচিকিৎসা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।

আপনার মতামত লিখুন :