Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দোয়া শেষে মুখে হাত মোছা কি জরুরি?

দোয়া শেষে মুখে হাত মোছা কি জরুরি?
নামাজ শেষে মোনাজাতে মশগুল মুসল্লিদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের দেশে দোয়া-মোনাজাত শেষে মুখমণ্ডলে হাত মোছার একটা ব্যাপক প্রচলন আছে। অনেকে আবার মোনাজাত শেষে হাত ছেড়ে দেন। কিন্তু বেশিরভাড় মানুষকে দেখা যায়, মুখে হাত মুছতে। এটার পক্ষে-বিপক্ষে কথা ও যুক্তিও আছে। তবে দোয়া শেষে হাত চেহারায় মোছা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই চেহারায় এভাবে হাত মোছা হাদিস সম্মত। তবে হাত না মুছলেও কোনো সমস্যা নেই।

হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করার সময় যখন তার উভয় হাত উঠাতেন, তিনি তা দিয়ে তার মুখমণ্ডল মর্দন না করা পর্যন্ত নামাতেন না। -সুনানে তিরমিজি: ২/১৭৬

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের ঘরের দেয়ালগুলো পর্দায় আবৃত করো না। যে ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে তার ভাইয়ের চিঠিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো, সে যেন জাহান্নামের আগুনের দিকে তাকালো। তোমরা হাতের পৃষ্ঠের দ্বারা নয় বরং হাতের তালুর দ্বারা আল্লাহর কাছে চাইবে। অতঃপর দোয়া শেষে তোমাদের হাতের তালু দিয়ে নিজের চেহারা মুছবে। -সুনানে আবু দাউদ: ১/২০৯

আরেকটি বিষয় হলো, দোয়া বা মোনাজাতে কোনো ধরনের উদাসীনতা প্রকাশ করা যাবে না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকেই দোয়ার জন্য তোলার পর উদাসীন। বিশেষ করে জুমার দিন বিষয়টি বেশি চোখে পড়ে। মসজিদ থেকে বের হচ্ছে আর হাঁটতে হাঁটতে হাত তুলে দোয়া করছে। অর্থাৎ নিছক হাত তুলেছে। এমনও দেখা যায় যে, হাত তুলে আরেকজনের সঙ্গে গল্প করছে, হাতের আঙ্গুল ফোটাচ্ছে ইত্যাদি। এ সবই উদাসীনতার সঙ্গে দোয়া করার শামিল, যা কখনোই উচিত নয়।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, উদাসীনতার সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ সে দোয়া কবুল করেন না। ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দোয়া কবুল করা হবে এই বিশ্বাস নিয়ে তোমরা দোয়া করো এবং জেনে রাখো আল্লাহতায়ালা উদাসীন হৃদয়ের দোয়া কবুল করেন না। -সুনানে জামে তিরমিজি: ৪৭৯

সব সময় দোয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে এটা তো জরুরি না। দোয়ায় যদি শরিক হওয়ার সময় না থাকে তাহলে শরিক হবো না। কিন্তু আল্লাহতায়ালার সামনে হাত তুলে মনোযোগ অন্যদিকে থাকা কখোনোই সমীচীন নয়। এটা পরিত্যাগ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো
কাবা প্রাঙ্গণে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। জাতীয় হজ ও ওমরা নীতিমালা অনুযায়ী মৃত্যু বা মারাত্মক অসুস্থতাজনিত কারণে নিবন্ধিত কেউ হজে যেতে না পারলে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে হজে পাঠানোর জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমতি দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে এজেন্সিকে ওই হজযাত্রীর অসুস্থতার পক্ষে চিকিৎসকের সনদপত্র অথবা মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সনদপত্র জমা দিতে হবে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

তবে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানিয়েছেন, নীতিমালায় যাই থাকুক, রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেওয়া হয়। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। যেমন নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছরও ১০ শতাংশ হারে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তার পরও কিছু এজেন্সি দাবি করছেন আরও ৫ শতাংশ সুবিধার।

চলতি হজ মৌসুমে ইতোমধ্যে এজেন্সিগুলোকে প্রতি ১০ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে তা নির্ধারিত সময়ের জন্য হওয়ার কারণে কিছু এজেন্সি তখন এই সুবিধা নিতে পারেনি। এখন এজেন্সিগুলো আরেক দফায় এই সুযোগ চায়। প্রতিস্থাপনের সুবধিা না পাওয়ার কারণে অনেক এজেন্সি এখনও সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করে তাসরিয়ার অনুমোদন নিতে পারছে না। এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ও গত কয়েক দিন কয়েক দফায় এজেন্সিগুলোকে তলব করে তাদের সর্বশেষ অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ প্রায় ৪০টি এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় ডেকেছিল।

এ বিষয়ে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, আমরা শুরুতেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজযাত্রীকে রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় দুই দফায় আমাদের হজযাত্রীদের ১০ শতাংশ করে রিপ্লেমেন্টের সুযোগ দিয়েছে। এখন যারা হজযাত্রীদের পাঠানোর ব্যাপারে তথ্য দিতে পারছে না তাদেরকে ডেকে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, রিপ্লেমেন্টের জন্য নতুন করে অনুরোধ করার কিছু নেই। আমরা আগেই অনুরোধ করে রেখেছি সেটি বিবেচনায় রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এজেন্সি মালিক রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার বিষয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আসলে আগের বছর ১৫ শতাংশের বেশি রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়েছে তিন দফায়। এবারও দুই দফায় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সময় নির্ধারিত থাকা কারণে পরে যাদের রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য আবার সুযোগ দেওয়া দরকার। এ ছাড়া দেখা গেছে, অনেকে শতকরা হারে সে সংখ্যায় রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা পেয়েছে তার প্রকৃত রিপ্লেসযোগ্য হজযাত্রীর সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। ফলে সে আরেক দফায় সুবিধার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

তাদের দাবি, যারা হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন করেছেন তাদেরই তো রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হবে। এতে কোটা খালি থাকা বা সরকারের লাভ-লোকসানের কিছু নেই। বরং কোনো এজেন্সি তার হজযাত্রী পাঠাতে না পারলে তার বাড়ি ভাড়ার টাকা এমনকি বিমানের টিকিটের টাকাসহ ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আর ওই সব হজযাত্রীর কোটাও খালি যাবে। ফলে সব কিছু বিবেচনা করে সর্বশেষ রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়া উচিত।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য এবার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার কারণে হজ ফ্লাইট নিয়ে কোনো ঝামেলা এখন পর্যন্ত হয়নি। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হজযাত্রীদের নামে বিমানের টিকিট নিশ্চিত করাসহ হজ অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে ভিসা নিশ্চিত করার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই দফায় দফায় এজেন্সিগুলোকে ডেকে তাদের সর্বশেষ তথ্য জানছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এখনও কিছু এজেন্সির সৌদি আরবের বাড়ি ভাড়া ও তাসরিয়ার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তথ্য না থাকায় প্রকৃত অবস্থা জেনে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে।

উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি মিলে এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী যাওয়ার কথা। ৫৯৮টি বেসরকারি এজেন্সি এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৫৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স হজযাত্রীদের পরিবহন করছে। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হজপালনের জন্য সৌদিতে যাওয়া বাংলাদেশি মধ্যে চার পুরুষ ও একজন নারী ইন্তেকাল করেছেন।

এবার নৌ পথে হজপালন করবেন ২২ হাজার হজযাত্রী

এবার নৌ পথে হজপালন করবেন ২২ হাজার হজযাত্রী
২০১৮ সালে নৌ পথে আসা হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

৪ জুলাই থেকে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীরা হজপালনের জন্য আকাশপথে সৌদি আরব যাচ্ছেন। বুধবার থেকে (১৭ জুলাই) সৌদি আরবের জেদ্দা (ইসলামিক পোর্টে) নৌ বন্দর দিয়ে নৌ পথে আসা হজযাত্রীরা দেশটিতে প্রবেশ করবেন। প্রথম জাহাজে ৪৮০ জন যাত্রী রয়েছে। জাহাজটি সুদান থেকে আসবে। খবর সৌদি গেজেটের।

এসব হজাযাত্রী সুদানের সুকিন নৌ বন্দর থেকে আসছেন। এক সময় সুকিন বন্দরটি পূর্ব আফ্রিকার প্রধান নৌ বন্দর হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

জেদ্দা সমুদ্র বন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে হজযাত্রীদের জন্য অনেক প্রাচীনতম বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও বিমানের স্বল্প সময়ের ভ্রমণের ফলে নৌ পথে হাজিদের যাতায়াত ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে। এই নৌ বন্দরে প্রতি ঘণ্টায় ৮ শ’ জনের বেশি মানুষ ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। এ জন্য অতিরিক্ত ২৬৬ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মদিনার প্রিন্স মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পর হজযাত্রীদের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম প্রবেশ পথ হলো- জেদ্দার ইসলামিক নৌ বন্দর।

জেদ্দা নৌ বন্দরের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল জালিলি সৌদি গেজেটকে জানিয়েছেন, এ বছর নৌ পথে সুদান থেকে ৩০টি জাহাজের মাধ্যমে ২২ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব আসবেন। গত বছর এসেছিলেন ১৫ হাজার হজযাত্রী নৌ পথে।

ইতোমধ্যে নৌ বন্দরে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মী নিয়োগ করেছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌ বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্নসহ লাগেজ স্ক্যানের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সময়ের পরিক্রমায় এখন বিমানে অল্প সময়ে হাজার মাইল পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এক সময় ছিল যখন মানুষকে ১ বছর বা ৬ মাস আগ থেকেই হজের সফর শুরু করতে হত। বাংলাদেশ থেকেও পানি পথে মানুষ হজে যেতেন। সম্প্রতি ভারত সরকার নৌ পথে হজ সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে নৌ পথে ব্যবহারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চারতি হচ্ছে। সাগরপথে চট্টগ্রাম-জেদ্দা গমন করতে পারলে খুব কম খরচে আল্লাহর মেহমানরা হজ করতে পারবেন। যেহেতু চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিকমানের নৌ বন্দর রয়েছে, সরকার ইচ্ছা করলে নৌ পথে হজযাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র