Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন পাপী হিসেবে উঠবে’

‘নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন পাপী হিসেবে উঠবে’
নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা পাপী হিসেবে কিয়ামত দিবসে উঠবে, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, সৎ ও সত্যবাদী হিসেবে ব্যবসা করেছে তারা ব্যতীত, ছবি: সংগৃহীত
মাওলানা আবদুল জাব্বার
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থই সব অনর্থের মূল। ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে কারবার। একটু অসৎ হলে নগদ টাকা হাতে এসে যায় এ অর্থের লোভ ত্যাগ করা অনেক কষ্টকর। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা পাপী হিসেবে কিয়ামত দিবসে উঠবে, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, সৎ ও সত্যবাদী হিসেবে ব্যবসা করেছে তারা ব্যতীত।’ –সুনানে তিরমিজি

রমজান মাস আসে পরকালীন লাভের পাল্লা ভারী করতে। কিন্তু পরকাল বিমুখ, লোভী কিছু লোক রমজান মাসকে উপলক্ষ করে দুনিয়ার লাভের পাল্লা ভারী করার চেষ্টায় তৎপর হয়। পণ্য মজুদদারী, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি করা, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি, মধ্যসত্ত্ব ভোগী তৎপরতা ইত্যাদি এ সময় বৃদ্ধি পায়।

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ক্রয়-বিক্রয় তথা ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে রয়েছে ইসলামি বিধান। যেমন কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ইনসাফ মোতাবেক যথাযথভাবে ওজন করো এবং ওজনে কম দিও না।’ -সূরা রহমান: ৯

কোরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে জাতি! তোমরা পরিমাপ ও ওজন পরিপূর্ণভাবে ন্যায়সংগতভাবে কর, মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করো না, পৃথিবীতে ফাসাদ ছড়িয়ে দিও না।’ –সূরা হুদ: ৮৫

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অসংখ্য হাদিসে ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা বর্ণিত রয়েছে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একবার নবী (সা.) বিক্রির জন্য রাখা এক স্তুপ (খেজুর) খাদ্যের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যেগুলো সুন্দরভাবে সাজানো ছিল। নবী করিম (সা.)-এর (স্তুপের) ভেতর হাত প্রবেশ করিয়ে দেখলেন ভেতরে ভেজা। নবী করিম (সা.) বিক্রেতাকে বললেন এরুপ কেন হলো? বিক্রেতা বলল বৃষ্টি হয়েছিল তাই। তিনি বললেন, ভেজাগুলো ওপরে রাখলেনা কেন? যেন মানুষ তা দেখতে পারে। যে ধোঁকা দেয় সে আমার উন্মত নয়। -সহিহ মুসলিম

নবী করিম (সা.) বলেন, তিন শ্রেণির লোকদের সঙ্গে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র (ক্ষমা) করবেন না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, হজরত আবু যর (রা.) বললেন, সে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রেণি কারা? নবী করিম (সা.) বললেন, টাখনুর নিছে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ, উপকার করে খোটা দানকারী, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রয়কারী। -সহিহ মুসলিম

নবী করিম (সা.) বলেছেন, সত্যবাদী ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিবসে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবেন। -তিরমিজি

বর্ণিত কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে আমাদের ব্যবসায়িক জীবন পরিচালনা করা উচিৎ। দুনিয়ার অস্থায়ী জীবনের সামান্য সময়ের অর্থ সম্পদ লাভের তুলনায় পরকালের পাথেয় সংগ্রহকে বেশি গুরুত্ব প্রদান প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। কিন্তু আমাদের দেশে রমজান মাসে, কোরবানির ঈদের সব ধরনের পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এ জন্য গুদামজাত থেকে শুরু করে যা যা করা দরকার; তার সবই করেন।

মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে সৌদি আরব, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশে রমজানে ব্যবসায়ীরা লাভের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে রমজানে দ্রব্যমূল্য কম থাকে। যে পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য আমরা অসৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। পরিবারের কোনো সদস্য কি আমার পাপের দায়ভার নেবে? অসৎ ব্যবসায়ের মাধ্যমে সম্পদের যে পাহাড় গড়ছি সে সম্পদ মৃত্যুর সময় আমার সংগী হবে বা আমার আদৌ কোনো উপকারে আসবে? ফরমালিন বা কেমিক্যাল ব্যবহারে মানুষ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে কষ্ট পেলে বা মৃত্যুবরণ করলে ফরমালিন, কেমিক্যাল মিশ্রণকারী হত্যাকারী হিসেবে অপরাধী হবে।

আল্লাহ পাক সবাইকে ইসলামি নির্দেশনা মেনে সততার সঙ্গে ব্যবসা করার তাওফিক দিন। অসৎ ব্যবসায়ের মহাপাপে পাপী হওয়া থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
মসজিদে হারামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র