Alexa

শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত

শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত

শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরবি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখে বিদায় জানিয়েছি পবিত্র রমজান মাসকে। পবিত্র শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর পালন করে রোজার পরিপূর্ণ বরকত হাসিলের চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। কিন্তু সে চেষ্টায় কতটুকু সফল হয়েছি তা আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন। তবে মানুষ হিসেবে আমাদের আশাহত হওয়া চলবে না। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপশি আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

চলতি শাওয়াল মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। হাদিসে এ মাসে বিশেষভাবে ছয়টি রোজা পালনের কথা বলা হয়েছে। এ ছয় রোজার ফজিলত অনেক বেশি। বস্তুত শাওয়াল মাস হচ্ছে রোজা কবুলের মাস, তথা গোনাহ হতে মুক্তির মাস। কেননা যার রোজা কবুল হয়েছে সে এ মাস হতে গোনাহর ভারমুক্ত হয়েছে। যার রোজা কবুল হয়নি তার চেয়ে হতভাগ্য আর কেউ নেই। রমজান মাসের বরকত যারা হাসিল করেছেন তারা মানসিকভাবে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন এ মাসে।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের রোজার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখতেন। শাওয়াল মাসের মর্যাদাকর এই ছয় রোজা প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, সাহাবি হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন (পূর্ণ) এক বছর রোজা রাখল। ’-সহিহ মুসলিম শরিফ

হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) এ হাদিসের বিশ্লেষণ করে বলেছেন, রমজানের রোজার বিনিময়ে দশ মাস এবং শাওয়ালের রোজার বিনিময় দুই মাস- মোট এক বছরের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। কেননা একটি সৎকাজের বিনিময় হচ্ছে দশ নেকি যা কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। অর্থাৎ রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা যুক্ত হয়, তাহলে মোট রোজার সংখ্যা হয় ৩৬টি। শরিয়ত অনুযায়ী, প্রতিটি পুণ্যের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাহলে ৩৬টি রোজা ১০ গুণ পুরস্কারে পরিণত করলে তা ৩৬০টি রোজার সমতুল্য হবে। যা সারা বছরের রোজার সমতুল্য।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মানুষ মারা গেলে তার আমল সমস্ত বন্ধ হয়ে যায়। তাই মুমিন ব্যক্তি সময় থাকতেই আমল-ইবাদত অব্যহত রাখে। সুতরাং রমজান মাস শেষ হয়ে গেলেও প্রকৃত মুমিন ব্যক্তির রোজার ইবাদত কিন্তু শেষ হবে না। এটি সারা বছর চলতে থাকবে- শাওয়ালের এই ছয় রোজার আমলের কারণে।

শাওয়ালের ছয় রোজা ধারাবাহিকভাবে অথবা বিরতি দিয়েও রাখতে পারবে। কারও জিম্মায় যদি রমজানের কাজা রোজা থেকে থাকে। তবে প্রথমে রমজানের কাজা আদায় করে নেবে- এটা উত্তম। সম্ভব না হলে শাওয়ালের রোজা রাখবে, পরে কাজা আদায় করবে। যারা পবিত্র রমজানের যথাযথ কদর করেননি তাদের উচিত এখনই আল্লাহতায়ালার কাছে তওবা-ইস্তেগফার করে আল্লাহতায়ালার রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া। গোনাহ ছেড়ে দিয়ে নেক আমলের দিকে ফিরে আসা, অন্যথায় দুনিয়া এবং আখেরাতে আল্লাহতায়ালার ভয়াবহ শাস্তি অনিবার্য। গোনাহ থেকে তওবা না করলে, অনবরত আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকলে দুনিয়াতে আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন রকমের আজাব-গজব দিয়ে তাদের পাকড়াও করে থাকেন। দুনিয়ার আজাব-গজব এ সবকিছু মানুষের কৃতকর্মের ফল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জলে ও স্থলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের কৃতকর্মের কারণে।’ মানুষের বিভিন্ন অপকর্ম আর পাপকার্যের কারণে এবং আল্লাহতায়ালার নির্দেশ পালনের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করলে আল্লাহতায়ালা ভূমিকম্পন, ভূমিধস, বন্যা, সাইক্লোন, টর্নেডো, সুনামি ইত্যাদি আসমানি-জমিনি গজব দিয়ে মানুষকে শাস্তি দিয়ে থাকেন। এসব বিপদ থেকে আল্লাহতায়ালা রহমত না করলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে মহাবিপর্যয়। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া এর থেকে রক্ষা করার আর কেউ নেই।

এসব বিপর্যয় এবং এর ভয়াবহ পরিণতি হতে বাঁচাতে হলে পাপকার্য পরিত্যাগ করে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। বেহায়াপনা, অত্যাচার, ব্যভিচার পরিহার করতে হবে। আল্লাহর নাফরমানি ছাড়তে হবে, নফল নামাজ, নফল রোজা জিকির-আজকার বেশি বেশি করতে হবে। বিভিন্ন নফল ইবাদতের পাশাপাশি চলতি শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখার চেষ্টা করতে হবে। কারণ শাওয়ালের রোজা খুবই মর্যাদাকর। আসলে সত্যিকার মুমিন বান্দা সর্বদাই আল্লাহর ইবাদত করবে। কোনো নির্দিষ্ট মাস, জায়গা অথবা জাতির সঙ্গে মিলে আমল করবে না, বরং সর্বদা সে ইবাদত করবে। মুমিন বান্দা মনে করবে যিনি রমজানের প্রভু তিনি অন্যান্য সকল মাসেরও প্রভু। তিনি সকল কাল ও স্থানের প্রভু। রমজান শেষ হয়ে গেলেও শাওয়ালের ছয় রোজা, আশুরা, আরাফা, সোমবার, বৃহস্পতিবার ইত্যাদি নফল রোজা রয়েছে। তারাবির নামাজ শেষ হয়ে গেলেও তাহাজ্জুদ নামাজ বাকি আছে সারা বছর। অতএব নেক আমল সব সময় সব জায়গাতেই করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :