মক্কা লাইব্রেরি: যেখানে পাঠক কম, দর্শনার্থী বেশি

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী, অতিথি লেখক, ইসলাম, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মক্কা লাইব্রেরি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা লাইব্রেরি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র মক্কা নগরী থেকে (সৌদি আরব): মসজিদে হারামের পাশে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের সাঈর স্থান থেকে পূর্ব দিকে গেলে একটি হলুদ রঙের দোতলা বাড়ি দেখা যায়। বাড়ির জানালাগুলো কাঠের তৈরি। বাড়িটিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়। বাড়ির সামনে সাইনবোর্ডে লেখা মাকতাবা মক্কা আল মোকাররমা। এটি মক্কা লাইব্রেরি বলে খ্যাত।

বলা হয় এবং অনেকেই মনে করেন, এ বাড়ির পবিত্র ভিটিতে জন্মগ্রহণ করেন হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটা রাসূলের পিতা আবদুল্লাহর ঘর। এ ঘরেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে এ ঘরেই বসবাস করতেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563963990792.jpg
মক্কা লাইব্রেরির বাইরে টানানো সতর্কবার্তা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

যদিও এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায় না। বাড়ির দেয়ালে লাগানো একটি নোটিশ বোর্ডেও বাংলাসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘হে মুসলিম ভাই! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঠিক জন্মস্থানের ওপর কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই। অতএব, এ স্থান থেকে বরকত গ্রহণ করা কিংবা এটাকে নামাজ ও দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা শরয়িভাবে জায়েজ নয়।’

মক্কা নগরীতে এই বাড়িটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। তাই হজ ও উমরা করতে আসা মানুষ এ বাড়িটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এখানে সবসময় দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে।

আসরের নামাজের পর গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দেশের হাজিরা দলবেঁধে মক্কা লাইব্রেরিতে ছুটে আসছেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হাজিরা লাইব্রেরির চারপাশ ঘুরে ফিরে দেখছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563964038958.jpg
দূর থেকে দৃশ্যমান মক্কা লাইব্রেরি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সৌদি সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় এ লাইব্রেরির তত্ত্বাবধায়ন করে। বিশ্বের নামিদামি পাঠাগারগুলোর মধ্যে এই লাইব্রেরি অন্যতম। লাইব্রেরির প্রসপেক্টাস থেকে জানা যায়, সৌদির বিখ্যাত শায়েখ আব্বাস কাত্তান ১৩৭০ হিজরিতে ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যয়ে এটি নির্মাণ করেন।

বর্তমানে এর সংগ্রহে রয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক বই। এর মধ্যে ৮ হাজারের অধিক মুদ্রিত-অমুদ্রিত পাণ্ডুলিপি রয়েছে। দুর্লভ পাণ্ডুলিপি আছে প্রায় ৫ হাজারের মতো।

লাইব্রেরির বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। লাইব্রেরির বিশাল হলরুমে রয়েছে এক লাখেরও বেশি সংকলন। এর পরিসেবা বিভাগটি সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত। যেকোনো আগ্রহী পাঠক এখানকার মনোরম পরিবেশে এসে অধ্যয়ন করতে পারেন। লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগ নির্ধারিত করা হয়েছে গবেষকদের জন্য। গবেষণার জন্য এখানে প্রায় ৬৮৪৭টি মূল পাণ্ডুলিপি রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩৫৮টি অনারবি এবং ২৩১৪টি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এ ছাড়া এখানে রয়েছে প্রশিক্ষণ বিভাগ, ইলেকট্রনিক লাইব্রেরি বিভাগ, মাইক্রো ফিল্ম বিভাগ, ফটো মাইক্রো ফিল্ম বিভাগ, হারামাইন স্টল, নারী বিভাগসহ আরও অনেক সুবিধা।