হজ আদায়ে তিন কাজ, অনাদায়ে হজ হবে না



ড. মুফতি মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, অতিথি লেখক, ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র হজ আদায়ের ক্ষেত্রে তিনটি কাজ রয়েছে, যার কোনো একটি বাদ পড়লে হজ আদায় হবে না। এগুলোকে হজের ফরজ বলে।

হজের ফরজ ৩টি হলো-
১. হজের নিয়ত বা ইহরাম বাঁধা।

২. জিলহজের ৯ তারিখে আরাফার ময়দানে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কিছু সময় অবস্থান করা। ১০ জিলহজ ফজরের পূর্বে অবস্থান করলেও ফরজ আদায় হবে, সে ক্ষেত্রে দম দিতে হবে।

৩. জিলহজের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে একবার তাওয়াফে জিয়ারত করা।

হজের ওয়াজিব ৬টি
১. মুজদালিফায় ১০ই জিলহজ ফজরের সময় অবস্থান করা।
২. পাথর নিক্ষেপ করা।
৩. সায়ি করা অর্থাৎ সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে ৭ বার দৌঁড়ানো।
৪. মাথা মুন্ডানো বা চুল খাটো করা।
৫. বহিরাগতদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
৬. হজে কিরান ও হজে তামাত্তুকারীদের পক্ষ থেকে দমে শোকর আদায় করা। ১০ জিলহজ যে পশু জবাই করে হাজিরা হালাল হন- এটিই মূলতঃ দমে শোকর।

হজের সুন্নত
১. কিরান হজকারী ও বহিরাগত ইফরাদ হজকারীর পক্ষ থেকে মক্কায় প্রবেশের পর কাবাঘর তাওয়াফ করা। এটি আগমনি বা তাওয়াফে কুদুম হিসেবে পরিগণিত। এটি করা সুন্নত।

২. তাওয়াফে কুদুমের সময় তাওয়াফে রমল অর্থাৎ বীরের মতো হেলেদুলে চলা। একইসঙ্গে ইজতিবা অর্থাৎ ইহরামের চাদর ডান হাতের বগলের নীচে দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের ওপর ফেলে রাখা সুন্নত।

উল্লেখ্য, তাওয়াফে কুদুমের পরই সায়ি করার ইচ্ছে থাকলে রমল ও ইজতিবা করতে হবে। তখন সায়ি করলে তাওয়াফে জিয়ারতের পর সায়ি করতে হবে না। যদি তাওয়াফে কুদুমের পরে সায়ি না করার ইচ্ছে থাকে তাহলে রমল ও ইজতিবা তখন করতে হবে না। সে ক্ষেত্রে তাওয়াফে জিয়ারতের পরে রমল ও ইজতিবা করতে হবে।

৩. জিলহজের ৮ তারিখ সকালে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া সুন্নত। সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করাও সুন্নত।

৪. জিলহজের ৯ তারিখ সূর্যোদয়ের পর আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে মিনা থেকে রওয়ানা দেওয়া সুন্নত।

৫. আরাফায় ৯ তারিখ দুপুর থেকে অবস্থান করে মুজদালিফার উদ্দেশ্যে সূর্যাস্তের পর রওয়ানা দেওয়া সুন্নত।

৬. আরাফায় অবস্থানকালীন গোসল করাও সুন্নত।

৭. মুজদালিফায় রাত কাটানো সুন্নত।

৮. মিনায় কংকর নিক্ষেপকালীন সময়ে ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় রাত কাটানো সুন্নত।

সুন্নত পালন করলে সওয়াব হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবজ্ঞাভরে সুন্নত ছেড়ে দেওয়া খারাপ। নিয়ম শৃঙ্খলার স্বার্থে মুয়াল্লিমদের পক্ষ থেকে অনেক সময় সুন্নত সময়ের পূর্বে মিনায় ও আরাফায় পৌঁছে দেয়। সুন্নত পালনের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তা পালন করতে না পারলে গোনাহগার হবে না। বরং মনের আগ্রহের কারণে সওয়াবের আশা করা যায়। কোনো সুন্নত অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়লে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।

হজ অবস্থায় যা হারাম
হজের ইহরাম অবস্থায় ৮টি কাজ নিষিদ্ধ। এগুলোর কোনো একটি করলে অপরাধের শাস্তি হিসেবে এক বা একাধিক পশু জবেহ করতে হয়।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজের মধ্যে রয়েছে-
১.সুগন্ধি বস্তু ব্যবহার করা।
২.চুল সরানো বা তুলে ফেলা।
৩. নখ কাটা।
৪. পুরুষদের জন্য সেলাই করা কাপড় পরিধান করা।
৫. পুরুষদের জন্য মাথা ও মুখ ঢেকে রাখা।
৬. স্থল প্রাণী শিকার করা বা শিকার করতে সাহায্য করা।
৭. স্বামী-স্ত্রীর মিলন।
৮. হজের ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়া।

হজের মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজসমূহ
হজের সময় অনেক কাজ আছে যা দৃষ্টিকটু বা মাকরূহ, তা এড়িয়ে চলা উচিত। এ সব কাজ হলো-

১. ঝগড়া করা মূলত নিষেধ, নিন্দনীয়। ঝগড়া করলে হজ কবুল না হওয়ার সম্ভাবনা। যতই ধৈর্য ধরতে হোক ঝগড়া এড়িয়ে যেতে হবে।

২. আরাফার ময়দানে ইমামের খুতবা দুপুরের পূর্বে দেওয়া মাকরূহ।

৩. কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে বড় পাথর ব্যবহার করা মাকরূহ। এমনিভাবে ব্যবহৃত কংকর পুন:ব্যবহার করাও মাকরূহ।

৪. মাথা মুন্ডানোর ক্ষেত্রে আংশিক মুন্ডানো কিংবা চুল আংশিক কাটা মাকরূহ। তবে মেয়েদের জন্য চুলের অগ্রভাগের আংশিক কাটা জায়েজ।

৫. আরাফার পূর্ব রাত ও মিনায় কংকর নিক্ষেপকালীন সময়ে মিনা ছাড়া অন্যত্র অবস্থান করা মাকরূহ।

৬. আরাফার ময়দানে ‘বতনে উরনায়’ অবস্থান করা মাকরূহ।

৭. মুজদালিফায় অবস্থানকালীন ‘ওয়াদিয়ে মুহাসসার’-এ অবস্থান করা মাকরূহ।

লেখক: অধ্যাপক, উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হজ বিষয়ে জানতে আরও পড়ুন

** হজ: আল্লাহপ্রেমিকদের মিলনমেলা

** হিসাব রক্ষক ও ফিল্ড সুপারভাইজার এখন সরকারি হজগাইড!

** শ্রেষ্ঠ আমল হজ, বিনিময়ে জান্নাত

** নারীদের ওপর কখন হজ ফরজ?

** যেসব পদ্ধতিতে হজ আদায় করা যায়

** বদলি হজের লোক বাছাইয়ে সর্তক থাকুন

** পবিত্র হজ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে

** জেনে নিন হজে উচ্চারিত কিছু আরবি পরিভাষার অর্থ

** ৫১ সদস্যের হজ প্রশাসনিক দল গঠন

** আল্লাহর ঘর কাবা শরীফের আদবসমূহ

** হজে কোনো কোরবানি নেই, আছে দমে শোকর