Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

‘মদিনা সনদ’ নাগরিক সমানাধিকারের এক অনন্য উদাহরণ

‘মদিনা সনদ’ নাগরিক সমানাধিকারের এক অনন্য উদাহরণ
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত সংখ্যালঘুর মানবাধিকারের দাবিতে সোচ্চার বিশ্ব সম্প্রদায় আইনগত ও সামরিক-বেসামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেও বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানবতার আহাজারি থামাতে পারছে না। বরং ইসলামে সংখ্যালঘুর অধিকার সংরক্ষণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত থাকার পরেও মুসলিমরাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। ‘ইসলামে সংখ্যালঘুর অধিকার’ সম্পর্কে ঐতিহাসিক পর্যালোচনা: পর্ব- ৫

সর্বসম্মত আইনের ঘোষণা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে সব সময়ই রাষ্ট্রপ্রধানদের ওপর শাসনতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করেছে; সুশাসন বজায় রেখেছে; শাসকদেরকে স্বেচ্ছাচারী হওয়ার বদলে জবাবদিহিতা-স্বচ্ছতা-দায়িত্বশীলতার অধীনস্থ করেছে সর্বপরি ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-সংস্কৃতি নির্বিশেষে তাবৎ জনসাধারণের অধিকার, শান্তি, নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেছে।

বস্তুত পক্ষে, হেরা গুহার নির্জন সাধক মানবতার মহান শিক্ষক, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তির বাণী উচ্চারণ না করা পর্যন্ত, মানুষের মাঝে সাম্য ঘোষণা না করা পর্যন্ত, প্রত্যেক শ্রেণী সুবিধার উচ্ছেদ আর শ্রমিকের মুক্তি সাধন না করা পর্যন্ত- যে শৃঙ্খল পৃথিবীর জাতিগুলোকে দাসত্বের বন্ধনে বেঁধে রেখেছিল; তা ভাঙেনি। যে বাণী তার পূর্বসূরীরা নিয়ে এসেছিলেন, তিনিও সেই বাণী নিয়ে আসেন আর তা বাস্তবে রূপায়িত করেন তিনিই। সংখ্যালঘু বা অমুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামের রাজনৈতিক চরিত্রের চিত্র দেখা যাবে দু’টি জিনিসের মধ্যে-

১. হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমনের পর ইহুদিদেরকে যে সনদ প্রদান করেছিলেন; এবং
২. ইসলাম আরব উপদ্বীপে পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নজরান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় খিস্টানদের কাছে যে বাণী প্রেরণ করা হয়েছিল।

শেষোক্ত দলিলটির বেশিরভাগই মুসলিম শাসকদের জন্য অমুসলিম ও সংখ্যালঘু প্রজাদের প্রতি আচরণের পথনির্দেশক মূলনীতি হিসাবে কাজ করছে। যদি কেউ এই নীতি থেকে বিচ্যুৎ হয়ে থাকে তবে তার কারণ খুঁজতে হবে সেই শাসকের চরিত্রের মধ্যে। রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা অনেক সময় ধর্মের নামে কথা বলেছে, আর কাজ করেছে বলে যদি আমরা সেটাকে পৃথক করে ফেলি, তবে দেখা যাবে যে ইসলামের চেয়ে কোনো ধর্ম অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বেশি সহনশীল নয়। ‘রাষ্ট্রীয় কারণবশত’ এখানে-ওখানে দু’একজন শাসনকর্তা কিছু কিছু অসহিষ্ণুতার প্রকাশ করেছে কিংবা কিছুটা ধর্মীয় ঐক্যের প্রতি জোর দিয়েছে। কিন্তু ইসলামে অমুসলমান বা সংখ্যালঘুদের জন্য নির্দেশিত ব্যবস্থাপনা সর্বকালে পূর্ণ সহনশীলতা বজায় রেখে চলেছে।

ধর্মাচরণের ক্ষেত্রে খ্রিস্টান আর ইহুদিদেরকে কখনো কোনো বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়নি বা ধর্ম পরিবর্তন করতে তাদেরকে কখননো চাপ দেওয়া হয়নি। তাদেরকে যদি কোনো বিশেষ কর (জিজিয়া) দিতে হয়ে থাকে, তবে সে সামরিক কার্যের পরিবর্তে, আর এটা খুবই ন্যায়সঙ্গত যে যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা লাভ করে তারা কোনো না কোনো আকারে সাধারণ দায়িত্ব পালনে অংশগ্রহণ করবে। পৌত্তলিকদের প্রতি নীতিগতভাবে কঠোরতা একটু বেশি, কিন্তু কাজের বেলায় আইন তাদের বেলায়ও সমানই উদার।

অথচ অখ্রিস্টান, ইহুদি, ধর্মবিরোধী আর পৌত্তলিকরা খিস্টান শাসনাধীনে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাত। সব সময়ই এক ধরনের ঝুঁকি লেগে থাকত যে তাদেরকে হত্যা করা হতে পারে বা দাসে পরিণত করা হতে পারে। অধিকার বলতে তাদের কিছু ছিল না, কেবল প্রাণে বেঁচে থাকতে দিলেই যেন যথেষ্ট। কোনো খিস্টান অখ্রিস্টানের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করলে, বৈধ সম্পর্কের তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না, তাকে পুড়িয়ে মারা হত। ইহুদিগণ পানাহারে বা এমনিই খ্রিস্টানের সঙ্গে একটেবিলে বসতে পারবে না বা তার মতো পোষাকও পরতে পারবে না। তাদের শিশু-সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া যেত, মালামাল লুট করা যেত, কোনো ব্যারন বা বিশপ বা ক্ষিপ্ত জনতার উগ্রকামনা অনুসারে। আর এই অবস্থা চলেছে ইসলামের আবির্ভাবের একদম পূর্বপর্যন্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/08/1533712712530.jpg

ইসলামের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মনুষ্যত্বের দুরবস্থা সম্পূর্ণ বদলে যায়। নবী করিম (সা.) মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের সময়ই নাগরিকগণের পারস্পরিক শান্তি, সৌহার্দ্য, সমানাধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন। নগরী ও এর অধিবাসীদেরকে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ হতে রক্ষার জন্য এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সামঞ্জস্য বিধানের ও পারস্পরিক শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিক, এই তিন জাতির সমন্বয়ে একটি শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন, ইতিহাসে যার নাম ‘মদিনা সনদ।’ এতে সমানাধিকারের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ-

১. চুক্তিভূক্ত কোনো গোত্র বা সম্প্রদায় শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হলে সকলে সমবেতভাবে তা প্রতিহত করবে;
২. চুক্তিবদ্ধ এক সম্প্রদায় কোনো শত্রুপক্ষের সঙ্গে সন্ধি করলে অন্য সম্প্রদায় এই সন্ধিতে যোগ দেবে;
৩. সবাই নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে এবং কেউ কারও ধর্মীয় কাজে হস্তক্ষেপ করবে না;
৪. উৎপীড়িতকে সবাই রক্ষা করবে;
৫. অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে;
৬. নরহত্যা নিষিদ্ধ হবে;
৭. ওয়ারিশ বা আত্মীয়কে অর্থ প্রদান প্রথা চালু থাকবে;
৮. কেউ অপরাধ করলে তা তার ব্যক্তিগত অপরাধ বলে বিবেচিত হবে এবং তজ্জন্য তার জাতীয় স্বত্বাধিকার খর্ব করা চলবে না।

মদিনার সনদ মুসলমান ও অমুসলমানের মধ্যে কার্যকরী ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিল এবং পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ-কলহের অবসান ঘটিয়েছিল। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মদিনাবাসীর মধ্যে নাগরিক সংহতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ সনদ ছিল গণতন্ত্র ও সমানাধিকারের উজ্জ্বল উদাহরণ, যাতে নাগরিকতা ও ধর্মের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। মদিনার সনদ বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মানুসারীদের শান্তির সঙ্গে সহাবস্থানের এবং সমানাধিকার সমুন্নত রাখার প্রকৃত নিদর্শনবহ। একই রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী এবং পারস্পরিক বিরোধিতাপূর্ণ রুচি ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়েও নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক স্বাতন্ত্র বজায় রাখার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ ও মানবাধিকারের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে মদিনার সনদ আজও সকলের কাছে অনুসরণযোগ্য।

পরবর্তীকালে প্রণীত হুদায়বিয়ার সন্ধিতেও পরমতের প্রতি ইসলামের অনুপম সহিষ্ণুতার উজ্জ্বল প্রমাণ রয়েছে। অমুসলমান ও সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে খোলাফায়ে রাশেদীন বা প্রাথমিক বিশুদ্ধ নেতৃত্বের অনুসরণে পরবর্তীরাও নৈতিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন। আব্বাসীয় আমলে অমুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের ভার দেওয়া হত একটি বিশেষ দফতরের ওপর।

সাত শতাব্দী ধরে স্পেনে মুসলমানরা শাসন করেছে এবং সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বংশীয় দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও শাসনের হিতকারীরূপ সম্পর্কে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। স্পেন ছিল ইউরোপের নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের নিরাপদ ও সম্মানজনক আশ্রয়স্থল। অমুসলমান ও সংখ্যালঘুরা স্পেনের মতোই মুসলিম ভারতে গৌরবের সঙ্গে বসবাস করেছে।

অতএব, মুসলমান ও সংখ্যালঘু বা পরমতের প্রতি ইসলামের সমানাধিকারপূর্ণ, সম-মর্যাদাপূণ এবং সম্মানজনক আচরণ ইসলামের প্রাথমিক দিন থেকে বিরাজমান; ইসলামের ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে চর্চ্চিত; এখনও পর্যন্ত তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিত আদর্শিক নীতি হিসাবে আইনগত বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে ইসলামের অনুসারীদের কাছে স্বীকৃত।

আরও পড়ুন: পর্ব- ৪: নির্যাতিত মানবগোষ্ঠী শান্তি ও নিরাপত্তা খুঁজে পায় ইসলামের ছায়াতলে

আপনার মতামত লিখুন :

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই
হজযাত্রীদের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ৪ জুলাই। ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।

প্রথম দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। চলতি বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭,১৯৮ ব্যালটি, অবশিষ্ট ৫৬,৪০১ নন-ব্যালটি হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমি জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ০৪ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। ‘পোস্ট-হজ্জ’-এ ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি ইমেগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করবে। এ বছর বিমান হজযাত্রীদের উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক নিশ্চিত আসন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে-তে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রির্টান যাত্রা (যাওয়া-আসা) ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিধান রেখেছে।

এছাড়া হজযাত্রীদের টিকিট ক্রয় করার পর যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে ওই টিকিটের অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না। বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে।

চলতি বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২টি ব্যাগেজে ৪৬ কেজি মালামাল বিমানে এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি ব্যাগেজের ওজন ২৩ কেজির বেশি হবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট নিয়ে আসা হবে এবং প্রত্যেক হাজিকে ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট ফেরৎ আসার পর তা’ দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই হাজিরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

যেকোন ধারালো বস্তু যেমন-ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন- অ্যারোসল এবং ১০০ মিলির বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। ব্যাগেজ স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ হতে হবে। যে কোন অবস্থায় গোলাকৃত, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪ জন হাজি হজপালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়েছেন।

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’
একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’, ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজপালনের মাধ্যমে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজপালনকারী নিজে জান্নাতে যাবেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করার ক্ষমতা পাবেন। এমন মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদতটি সহিহ-শুদ্ধভাবে পালন করা জরুরি। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হজপালনকারী এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।

হজ পালন করা যেমন ফরজ, হজের মাসয়ালাসমূহ জানাও তেমনিভাবে ফরজ। পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, কাবা শরিফের মহব্বত, মক্কা শরিফের প্রতি সম্মান, মদিনা শরিফের প্রতি আকর্ষণ এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সর্বোচ্চ ইশ্ক নিয়ে হজ পালন করা দরকার।

হজপালনকারী হজপালনের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হজের প্রস্তুতিসহ মক্কা-মদিনায় যেসব সুবিধা-অসুবিধা, নতুন নতুন সংকট ও তার সমাধান কী সেগুলো বোঝার জন্য সহজবোধ্য করে বর্ণনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত হজ্জ’ বইটিতে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লেখক সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেও হজপালন করে আসছেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বইটি রচনা করেছেন।
জীবনে প্রথমবার যে হজপালন করবেন বইটি পড়লে হজের আমল পরিপালনের স্থানগুলো অনেকটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত হজ গাইডে উল্লেখ করা হয় না।

এক কথায়, ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থানের করণীয় ও দলিলনির্ভর মাসয়ালাসহ হজের পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত বই ‘জীবন্ত হজ্জ’।

বইটির লেখক মুফতি অহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উত্তরার মসজিদ আল-মাগফিরাহ-তে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে জামিয়া ইমাম বুখারী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

বইটিতে শুধু হজ-উমরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়নি। ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- মসজিদুল হারামে নামাজের ফজিলত, হজের প্রস্তুতির নানাদিক, হজের সফরে যে সামগ্রীগুলো প্রয়োজন, ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়, ইহরাম বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি, বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও করণীয়, মক্কা শরিফ পৌঁছে কী কী করবেন, কিভাবে উমরার তাওয়াফ করবেন, তাওয়াফ করা অবস্থায় কোন কোন কাজ বেয়াদবি, হজের মূল পাঁচদিনের আমলসমূহ, মিনা-আরাফা ও মুজদালিফার আমলসমূহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান, কোরবানি প্রসঙ্গ, ফরজ তাওয়াফসহ হজের বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখক উল্লেখ করেছেন, হজের সফরে কষ্ট হয় কেন? কোন স্থানে ঝগড়া হয়, অজ্ঞতাবশত ও আবেগতাড়িত হয়ে যে ভুলগুলো হাজিরা করে থাকেন, নারীদের হজের মাসয়ালা, বদলি হজের বিধান ও ফজিলত, যেসব কারণে হজের কাজা ওয়াজিব হয়, মক্কা-মিনা-আরাফা ও মুজদালিফায় নামাজের বিধান, মক্কায় দোয়া কবুলের স্থানসমূহ, মক্কার ঐতিহাসিক জায়গার বিবরণ, মদিনা শরিফের মর্যাদা, মসজিদে নববীর পরিচিতি ও জিয়ারতে মদিনার বিধান, মদিনায় করণীয়, মসজিদে নববীতে প্রবেশের নিয়ম, রওজাতুল জান্নাহতে প্রবেশের বিধান, রওজা শরিফে সালাম পেশ করার তরিকা, অন্যের সালাম কিভাবে দেবেন, মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত, হজের পরিভাষা ও হজ থেকে ফিরে এসে কিভাবে চলবেন সেসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে।

এক কথায় বইটি হজযাত্রীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বইটি নির্ভরযোগ্য ও প্রাণবন্ত। আমরা এর বহুল প্রচার কামনা করি।

বই: জীবন্ত হজ্জ
লেখক: মুফতি অহিদুল আলম
প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০১৭
প্রকাশনায়: ইমাম বুখারী রহ. ট্রাস্ট, বাড়ী- ৯, রোড-৯৯/বি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা
মূল্য: ২০০ (দুইশত) টাকা মাত্র।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র