‘ধর্ষণে এসআই খাইরুলও জড়িত, ভয়ে নাম বলিনি’

আজিজুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বেনাপোল (যশোর)
নির্যাতিত নারীর বাড়িতে যান বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নির্যাতিত নারীর বাড়িতে যান বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরের শার্শায় পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী বলেছেন, ‘ধর্ষণে এসআই (উপপরিদর্শক) খাইরুলও জড়িত, তবে ভয়ে তখন নাম বলিনি।’

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের একথা বলেন নির্যাতিতা ওই নারী।

তিনি আরও বলেন, ‘খাইরুলকে আমি ভালোভাবেই চিনি। কয়েকদফা আমার বাড়িতে গিয়ে ৩-৫ হাজার করে টাকা নিয়ে গেছেন। তিনিও ধর্ষণ করেছেন।’

তিনি দাবি করেন, ডিএনএ টেস্ট করলেই বোঝা যাবে ধর্ষণে খাইরুল জড়িত ছিল কিনা।

নির্যাতিতা এই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘এসআই খাইরুলের সঙ্গে যারা ছিল তারা এলাকার ভয়ঙ্কর লোক। ছাড়া পেলে তারা আমার আরও ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। আমি এখন আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’

এদিকে, শুক্রবার বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ নির্যাতিত ওই নারীর বাড়িতে যান। এ সময় তারা ওই নারীর খোঁজখবর নেন এবং আইনগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। সারাদেশে শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউ নিরাপদ নয়।

তিনি যশোরের এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

আরও পড়ুন: গণধর্ষণ: মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাকে

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট রাতে শার্শার লক্ষণপুরে গ্রামের বাড়ি থেকে তার স্বামী আশাদুজ্জামানকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে তুলে নিয়ে যান এসআই খায়রুল। পরদিন তার কাছ থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে তাকে আদালতে চালান দেন।

এরপর ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে এসআই খায়রুল ও তার কয়েকজন সোর্স ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে স্বামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে এসআই খায়রুল ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ বিষয়টি নিয়ে খায়রুলের সঙ্গে ওই নারীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে খায়রুল ও তার সোর্স তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকেও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।

পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ধর্ষিতা নারী যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ধর্ষিতা নারী ও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :