Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

নিরাপদ সড়কের লড়াকু যোদ্ধা

নিরাপদ সড়কের লড়াকু যোদ্ধা
ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দিনটি ছিল ২২ অক্টোবর, ১৯৯৩ সাল। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সিনেমার শুটিং দেখতে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন কক্সবাজার যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। সে বছরই ১ ডিসেম্বর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক নিরাপদ জীবন’ শ্লোগান নিয়ে মাঠে নামেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তারপর থেকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জন্য দেশব্যাপী অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন যেন নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে নিবেদিতপ্রাণ একজন লড়াকু যোদ্ধা।

‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’-এর উদ্বোধনী সেমিনার হয়েছিল ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালের মিলনায়তনে। সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসাবে তাতে যোগ দেন। এটিএম শামসুজ্জামান, মিজু আহমেদসহ অসংখ্য চলচ্চিত্র অভিনেতার উপস্থিতিতে সে সেমিনারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক হিসাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছিল আমি। চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি ‘বাচসাস’-এর সভাপতি প্রয়াত গোলাম কিবরিয়া ছিলেন সে আয়োজনের নেপথ্যে। সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক-কথাশিল্পী রাহাত খানের ভাগ্নে, সাংবাদিক আলীমুজ্জামান হারুসহ আরও অনেকেই।

স্বজন হারানোর বেদনায় দীর্ণ নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সেদিন নিরাপদ সড়কের জন্য যে প্রত্যয় ঘোষণা করেছিলেন, তা শুধু আবেগ ও হাহাকার ছিল না। ছিল রোড সেফটি বা নিরাপদ সড়কের দাবিতে হৃদয় নিঙড়ানো শপথের দৃঢ় উচ্চারণ। দিনে দিনে তা আরও সমৃদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলায় ‘নিরচা’ বা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবি ধ্বনিত করেছেন তিনি। তরুণ-যুবকদের সম্মিলনে গড়েছেন কমিটি। জনসমাজ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার অব্যাহত চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এই ভয়ঙ্কর সামাজিক সমস্যাটির সমাধানে হার-না-মানা লড়াকু যোদ্ধার মতোই অবিরাম লড়ে চলেছেন তিনি।

নিরাপদ সড়কের জন্য প্রচার-প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল-কলেজের তরুণ শিক্ষার্থী, চালক ও হেলপারদের সচেতনামূলক নানা প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্পেইনেও ইলিয়াস কাঞ্চন নিত্য নিয়োজিত আছেন। কখনো তাকে পরিবহণ সেক্টর অসম্মান করার চেষ্টা করেছে; শত্রু হিসাবে ভুল বুঝেছে। কিন্তু তিনি কারও বিরুদ্ধে নয়, নিরাপদ সড়কের পক্ষে থেকে নিজের মহৎ মানবিক সত্ত্বার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েই যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের শহর ও প্রত্যন্ত এলাকায় আন্দোলন, সংগঠন গঠন ও প্রচারণার পাশাপাশি ২০১৫ সালের ৪ মে জাতিসংঘের ‘রোড সেফটি প্রোগ্রাম’-এ যোগ দিয়েও তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিটিকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করেছেন।

সড়ক বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় বহুজনই স্বজন-পরিজনকে হারান। কিন্তু সবাই সেই হারানোর বেদনা ও যন্ত্রণাকে ব্যক্তিগত স্তরের বাইরে নিয়ে এসে সামাজিক পরিবর্তনের ইতিবাচকতায় উপস্থাপন করতে পারেন না। ব্যক্তিগত দুঃখের গহ্বরে ব্যাথা-বেদনাকে ধরে রেখে তিলে তিলে আগুনে দগ্ধ হওয়ার চেয়ে সে বেদনাকে দূরীকরণের জন্য মানুষের মধ্যে নিবেদিত হওয়ার গৌরব সবাই লাভ করেন না। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ব্যক্তিগত কষ্ট-বেদনাকে সামাজিক কল্যাণ অর্জনের পথে নিয়ে গিয়ে সৃজন করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত।

সমাজের নানা কুসংস্কার, অসঙ্গতি ও সমস্যাকে ব্যক্তিগত কষ্টের জায়গায় না রেখে সামাজিক-সম্মিলিত শক্তিতে মোকাবেলা করা হলেই সমাজ এগুবে। নইলে সমস্যা থেকেই যাবে; কষ্টও চলতেই থাকবে। কষ্ট ও বেদনার শক্তিকে সমাজ প্রগতির পথে পরিচালনার মাধ্যমেই আসবে ইতিবাচক অর্জন; ইলিয়াস কাঞ্চন সেই প্রেরণাও সবার মধ্যে জাগিয়েছেন।

১৯৫৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ইলিয়াস কাঞ্চন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে লাভ করেছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারসহ বহুবিধ সম্মাননা। অভিনয়ে বিশেষ কৃতিত্ব ও বৈশিষ্ট্যের জন্য রূপালি পর্দার এই নায়ক স্মরণীয় হয়ে আছেন সহস্র দর্শকের চিত্তে। আর ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর মতো জনস্বার্থে নিবেদিত সামাজিক আন্দোলনের জন্য তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

রাধাকৃষ্ণকে নিয়ে নবাবের নৃত্যনাট্য 'রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’

রাধাকৃষ্ণকে নিয়ে নবাবের নৃত্যনাট্য 'রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’
রাধা-কৃষ্ণ/ ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ভারতের এক নবাবের হাতে রচিত হয়েছিল কৃষ্ণচরিতের অনবদ্য শৈল্পিক রূপ। রাধা-কৃষ্ণকে নিয়ে নবাবের সেই ঐতিহাসিক নৃত্যনাট্যের নাম ছিল 'রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’, যার রচয়িতা ও নির্দেশক ছিলেন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ।

অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ রাজধানী লক্ষ্ণৌকে সাজিয়ে ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের রাজধানীর বর্ণিল সাজে। তখন দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্যের পতন কাল। সবার নজর উত্তর ভারতের লক্ষ্ণৌ কেন্দ্রিক রমরমা শাসকের দিকে।

শান-শওকত, নাট্য, গীত, আমোদ, প্রমোদ, নির্মাণের প্রাচুর্যে লক্ষ্ণৌ তখন ভরপুর। শিল্পপ্রেমী নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের নজরে এলো কৃষ্ণের উপাখ্যান। তিনি সেই কাহিনির রূপান্তর করলেন নাটকে, সঙ্গে যুক্ত করলেন গীতিআলেখ্য ও নৃত্যকলা। পুরো নাটকটি রচিত হয় উপমহাদেশের মধ্যযুগীয় ঋপদী ভাষা উর্দুতে।

উত্তর ভারতের বৃন্দাবনে যমুনা নদীর তীর, সেখানে রাধা এবং অন্যান্য গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণের লীলাখেলা ছিল, নবাব পছন্দ করলেন সেই প্রেমময় আখ্যান। যদিও ওয়াজিদ আলি শাহ তখন আনুষ্ঠানিক ভাবে নবাব হননি, তখন তিনি তার ভাই সিকান্দর হাসমতের সম্মানে এক জলসায় মঞ্চস্থ করেন নিজের লেখা গীতিনাটক ‘রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’।

পণ্ডিতরা এটিকেই প্রথম আধুনিক উর্দু নাটক বলে চিহ্নিত করে থাকেন। রাধাকৃষ্ণকে নিয়ে এটি ছিল একটি নৃত্যনাট্য। এই ধরনের নাটকগুলিকে ‘রহস’ও বলা হয়ে থাকে।

কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন যে কৃষ্ণের জন্ম হয়, তা হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে জন্মাষ্টমী উৎসব রূপে উদযাপিত। নবাবের নাটকে কৃষ্ণজীবনের অসামান্য উদ্ভাসন ঘটেছে। কৃষ্ণের আবির্ভাবের ঘোরতর সংকুল পরিস্থিতিতে প্রেমাবেগের ছটা বিচ্ছুরিত হয় নাটকের পুরোটা জুড়ে। আখ্যানে তখন ছিল দ্বাপর যুগের শেষ পর্যায়। সে সময় এক কৃষ্ণপক্ষের অষ্টম তিথির মধ্যরাতে মথুরার রাজা কংসের কারাগারে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ। ঐতিহাসিক মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকীর কোলে জন্ম নিয়ে কৃষ্ণ হয়েছিলেন শুভবোধের প্রতীক। তার প্রেমদীপ্ত জীবন সাহিত্যের নানা অঙ্গনকেও স্পর্শ করে।

শিল্পমনস্ক নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ ছিলেন রাজনৈতিকভাবে দুর্ভাগ্যগ্রস্ত। আগ্রাসী ঔপনিবেশিক ইংরেজ ততদিনে বাংলা দখল করে দিল্লিও পদানত করেছে। শত শত বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সভ্যতার মহানগর দিল্লিকে লুটপাটের মাধ্যমে ইংরেজরা পরিণত করে মৃতের শহরে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566575897079.jpg
নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ/ ছবি: সংগৃহীত

 

শেষ মুঘল সম্রাট ও বিশিষ্ট কবি বাহাদুর শাহ জাফরকে বন্দি করে নির্বাসন দেওয়া হয় বার্মার রেঙ্গুনে। প্রসিদ্ধ কবি জওক, গালিব প্রমুখ ঘরছাড়া হয়ে পথে পথে ঘুরতে থাকেন।

ইংরেজ তারপর অযোধ্যায় দখল কায়েম করে। গান, বাজনা, গজলের নগরী লক্ষ্ণৌকে দখলদাররা রূপান্তরিত করে প্রেতপুরীতে। লক্ষ্ণৌর মার্জিত ও শিল্পী নবাব ওয়াজিদ আলি শাহকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে হটিয়ে বন্দি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতায়। নবাবকে সপরিবারে অন্তরীণ করে রাখা হয় কলকাতার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের বন্দর এলাকা মেটিয়াবুরুজে।

লক্ষ্ণেী ছেড়ে নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ কলকাতার মেটিয়াবুরুজে আসেন ১৮৫৬ সালের মে মাসে। নতুন শহরে এসেও নবাব শিল্পচর্চা থেকে বিরত থাকেননি। বন্দি ও অবরুদ্ধ জীবনকেও তিনি রাঙিয়ে তুলেন শিল্পের বহুবিধ উপাচারে। আদি কলকাতার সাংস্কৃতিক ভূগোলে নক্ষত্রের উজ্জ্বলতায় আবির্ভূত হন তিনি।

কলকাতায় নবাব জলসা, গান ও গজলের সঙ্গে নিয়ে আসেন ঋপদ সঙ্গীত। বিরিয়ানির প্রচলন আর সাংস্কৃতিক আসরের আয়োজন করে তিনি তার অবরুদ্ধ জীবনেও পরিণত হন কলকাতার কালচারাল আইকনে।

কলকাতার মেটিয়াবুরুজেও বহুবার ‘রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’ মঞ্চস্থ হয়েছে ওয়াজেদ আলি শাহের উদ্যোগেই। তবে কলকাতায় মঞ্চস্থের সময় অবশ্য নাটকটির আঙ্গিকে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে গেছে। উত্তর ভারতের পটভূমি ও আবহের সঙ্গে মিশেছে বাংলার কিছু অনুষঙ্গ।

কলকাতার উপান্তের মেটিয়াবুরুজে অবস্থিত ওয়াজেদ আলি শাহের দরবারের শিল্প-সাহিত্যের চর্চা সমৃদ্ধ করেছিল কলকাতা তথা অবিভক্ত বাংলার সংস্কৃতিকে। উত্তর ভারতের চরিত্র কৃষ্ণকে তিনি শৈল্পিক বিন্যাসে নিয়ে আসেন কলকাতার আবহে। কৃষ্ণ জন্মের স্মৃতিতে পালিত জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণচরিতের নাট্যরূপদাতা মেটিয়াবুরুজের নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের শৈল্পিক অবদানও দোলা দিয়ে যায় ভক্ত ও বোদ্ধাদের মনে।

ছড়ার পাড়ে দোল খায় অপরূপ কাশফুল

ছড়ার পাড়ে দোল খায় অপরূপ কাশফুল
জলারধারে মেতে উঠেছে কাশফুল।

বর্ষাকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতিতে এখন চলছে শরতের দাপট। শরতকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক। শিউলি ফুল, স্বচ্ছ আকাশ, মায়াবী জ্যোৎস্নার কারণেই এমন নাম হয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্যতম কাশফুল। আর শরতকে স্বাগত জানাতে সবুজের মাঝে মেতে উঠেছে কাশফুল।

পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই সংলগ্ন ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড়ে দোল খায় শুভ্র কাশফুল। প্রাকৃতিক নিয়মেই সেখানে জন্মেছে কাশফুল। আর এই নজরকাড়া কাশফুলের সৌন্দর্যের কাছে ছুটে যাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকরা।

কাশফুলের শুভ্র আভা ও দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কারও নজর কাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর শরৎ ঋতু মানেই আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা ও কাশের বনে সাদা কাশের অপরূপ মেলা। শরৎ ঋতুর আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিকে আরও মায়াবী রূপে সাজাতে কাশফুল যেন বিন্দুমাত্র কাপর্ণ্য করে না।

শরতকে বলা হয় ‘ঋতুর রাণী’। বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে শরতের আগমন মানেই অন্যরকম মুগ্ধতা। শরৎ নিয়ে কবিতা, গান গল্পের শেষ নেই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় শরতের রুপ নিয়ে বলেছেন:

‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি/ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে মোহন অঙ্গগুলি।

শরৎ তোমার শিশির ধোওয়া কুন্তলে/বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে

আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি’

বৃহস্পতিবার বিকালে ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড়ে কাশফুল দেখতে আসে মুন্নি, নাহাদ, সোয়েব, জেরিন, ফাতেমাসহ বেশ কয়েকজন। তারা জানান, রাস্তা থেকে কাশফুলের সৌন্দর্য ভালো দেখা যায়। এতো সুন্দর অপরূপ দৃশ্য না দেখলে আপসোস থেকে যাবে। তাই গাড়ি থেকে নেমে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসলাম।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। প্রতিবছরই এখানে কাশফুল ফোঁটে। প্রতিবছরই আমরা এখানে আসি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566533649610.gif

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা মো. আদনান আসিফ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘চা বাগানের ফাঁকে ছড়ার পাশে দু’দিকে এতো সুন্দর সাদা কাশফুলো মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে। সেই সৌন্দর্য দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ।’

জানা গেছে, কাশফুলের ইংরেজি নাম Kans Grass ও উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক নাম- Saccharum Sportaneum। এটি ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। কাশফুলের মঞ্জুরি দণ্ড ১৫-৩০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে, বীজে সূক্ষ্ম সাদা লোম থাকে।

কাশ উদ্ভিদ প্রজাতির, উচ্চতায় ৩-১৫ মিটার লম্বা হয়। আর এর শেকড় গুচ্ছমূল থাকে। পাতা রুক্ষ ও সোজা। পালকের মতো নরম এর সাদা সাদা ফুল। কাশ ফুল শুভ্রতার অর্থেও ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। আর এ জন্যই শুভ কাজে ব্যবহার করা হয় কাশফুলের পাতা বা ফুল।

কাশ বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফুলের মধ্যে একটি। একটি ঘাস তার ফুল দিয়ে আমাদের মন জয় করে নিয়েছে। আমাদের শিখিয়েছে কোমলতা ও সরলতা। পৃথিবীতে কোনো ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ফুলের এত কদর এবং মানুষের জয় করে নেওয়ার এই আবেদন আছে কিনা- সেটা জানা নেই। বাংলা সাহিত্যে এ ফুলের উপস্থিতিও ব্যাপক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র