Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

হৈমন্তী আবেশে এলো নবান্নের মাস অগ্রহায়ণ

হৈমন্তী আবেশে এলো নবান্নের মাস অগ্রহায়ণ
হৈমন্তী আবেশে এলো নবান্নের মাস অগ্রহায়ণ, ছবি: সুমন শেখ, বার্তা২৪.কম
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ পহেলা অগ্রহায়ণ মোতাবেক ১৫ অক্টোবর। হেমন্ত ঋতুর দ্বিতীয় মাস। হৈমন্তী আবেশে অঘ্রাণে-নবান্নে-উৎসবে মেতে বাংলায় তারপর আসবে পৌষের হাত ধরে শীতকাল।

অগ্রহায়ণ এক বর্ণবহুল মাস। এ মাসে মাতবে বাংলাদেশ। চিরায়ত গ্রাম-বাংলা সাজবে ফসলের গৌরবে। উৎসব ও নবান্নের সাজে সাজবে রূপসী বাংলা।

আবহমান বাংলার উৎসবমুখর মাস অগ্রহায়ণ। আর্দ্রা তারার নাম অনুসারে নাম রাখা হয়েছে অগ্রহায়ণ মাসের। কার্তিকের পর আসে সর্বজনীন লৌকিক উৎসব নবান্ন। ‘অগ্র’ও ‘হায়ণ’এ দু’অংশের অর্থ যথাক্রমে ‘ধান’ও ‘কাটার মওসুম’বা 'বছর'। মুঘল সম্রাট জালালউদ্দীন মুহাম্মদ আকবর অগ্রহায়ণ মাসকেই বছরের প্রথম মাস বা খাজনা তোলার মাস ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এক সময় অগ্রহায়ণ ছিল বছরের প্রথম মাস। 'অগ্র' শব্দের অর্থ 'আগে' আর 'হায়ণ' শব্দের অর্থ 'বছর'। বছরের আগে বা শুরুতে ছিল বলেই এই মাসের নাম 'অগ্রহায়ণ'।

ছবির মতো সুন্দর এ মাসটির আরেক নাম মার্গশীর্ষ। প্রাচীন বাংলা ভাষায় এই মাসটিকে আঘন নামেও চিহ্নিত করা হত। মৃগশিরা নামক তারা থেকে 'মার্গশীর্ষ' নাম এসেছে। তবে আমাদের কাছে অগ্রহায়ণ এখন বাংলা সালের অষ্টম মাস।

‘অগ্রহায়ণ’ শব্দের অভিধানিক অর্থ বছরের যে সময় শ্রেষ্ঠ ব্রীহি (ধান) উৎপন্ন হয়। অতীতে এই সময় প্রচুর ধান উৎপাদিত হতো বলে এই মাসটিকেই বছরের প্রথম মাস ধরা হত। এখনও এ মাসের সঙ্গে রয়েছে ফসলের নিবিড় সম্পর্ক।

অগ্রহায়ণকে চলতি বাংলা ভাষায় আদর করে ডাকা হয় অঘ্রান। এ মাসটি লোকসংস্কৃতি ও বাংলার প্রকৃতিতে যেমন মিশে আছে, তেমনি স্মরণীয় হয়ে আছে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের চরণে। কবিগুরুর রচনায় আমাদের যে জাতীয় সংগীত, তাতে গীত হয়েছে সমবেত কণ্ঠে এই মোহনীয় লাইনটি: 'ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/15/1542264609800.jpg

শ্বাশত বাংলায় অঘ্রানের ভরা ক্ষেতে এই হাসি হলো ফসলের উল্লাস। এই হাসি কৃষাণ-কৃষাণীর হৃদয়ের উচ্ছাস। মাতৃরূপী জন্মভূতির ভরা ক্ষেতে মধুর হাসি হয়ে দোলে উঠে আদিঅন্তহীন পাকা ধানের সোনালী আভা। যে সৌন্দর্য্যের সাথে একমাত্র মায়ের পবিত্রতম হাসির রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।

হিন্দু সমাজের বিশ্বাস অনুযায়ী, অগ্রহায়ণ মাস বিয়ে-শাদির পক্ষে বিশেষ শুভ মাস। নবান্নে উৎসবে হিন্দু লোকসমাজে অগ্রহায়ণ মাসকে 'লক্ষ্মীর মাস' মনে করা হয়। এ কারণে এই মাসেই নবান্ন উৎসব ও লক্ষ্মীপূজার বিশেষ আয়োজন করা হয়।

হেমন্তের ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই নবান্ন উৎসবের সূচনা হয়। নবান্ন (অর্থ- নতুন অন্ন) বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শস্যোৎসব। নবান্ন হলো নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব, যা সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে ফসল তোলার পরদিনই নতুন ধানের নতুন চালে ফিরনি-পায়েশ অথবা ক্ষীর তৈরি করে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর ঘরে ঘরে বিতরণ করা হয়। নবান্নে জামাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়, মেয়েকেও বাপের বাড়িতে ‘নাইওর’আনা হয়।

নবান্নে নানা ধরনের দেশীয় নৃত্য, গান, বাজনাসহ আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয়। লাঠিখেলা, বাউলগান, নাগরদোলা, বাঁশি, শখের চুড়ি, খৈ, মোয়ার পসরা বসে গ্রাম্য মেলায়।

প্রাণোচ্ছল এ মাসের কথা মনে রেখেই সম্ভবত বাংলার চিরায়ত গায়ক গেয়েছেন: 'আবার জমবে মেলা, বটতলা হাটখোলা। অঘ্রাণে নবান্নে উৎসবে, সোনার বাংলা ভরে উঠবে সোনায়, বিশ্ব অবাক চেয়ে রবে।’

প্রকৃতির শাশ্বত সৌন্দর্য্যের অনিন্দ্য রূপে-রসে ও মূর্ছনায় ভর উঠুক লোকায়ত বাংলার চিরায়ত জীবন।

আপনার মতামত লিখুন :

একজন অসামান্য পর্বতারোহী তেনজিং

একজন অসামান্য পর্বতারোহী তেনজিং
একজন অসামান্য পর্বতারোহী তেনজিং/ছবি: সংগৃহীত

দিনটি শুধু তেনজিং-এর কাছে নয়, সারা বিশ্বের জন্যই স্মরণীয়। এদিন বেলা সাড়ে এগারোটায় শীর্ষভূমিতে পা রাখেন এডমন্ড হিলারি। ঠিক তার পেছনেই তেনজিং নোরগে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে এই প্রথম মানুষের পদচিহ্ন। দুই অভিযাত্রী তখন নিছক ব্যক্তি নন, সমগ্র মানব সমাজের প্রতিনিধি।

হিমালয়ের দুর্গম ও অধরা এভারেস্ট শৃঙ্গ বিজয়ের ঘটনা সারা বিশ্বে তীব্র আলোড়ন জাগিয়েছিল। কিছুদিন আগেও সে সময় পৃথিবীর প্রায়-অর্ধেক অংশের শাসক ছিল ব্রিটিশরা। ব্রিটেন ছাড়াও সাবেক উপনিবেশগুলোকেও আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিটিশরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্ত, মৃত্যু ও ক্ষতের প্রলঙ্করী ঘটনার পরপরই এভারেস্ট বিজয় ছিল মানব সভ্যতার এক গৌরবময় অর্জন।

শৃঙ্গজয়ের খবর আসার পর অভিযানের নেতা জন হান্ট আর হিলারিকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে ব্রিটেন। তেনজিং পেলেন প্রয়াত রাজা ষষ্ঠ জর্জের নামাঙ্কিত মেডেল। এর বাইরে সংবর্ধনা ও অভিনন্দনের তো হিসাবই ছিল না।

এভারেস্ট অভিযানের পরে নেপালি বংশজাত তেনজিং বসবাস করতে থাকেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং-এ। তিনি আর ফিরে যাননি জন্মভূমিতে। ১৯১৪ সালে নামগ্যাল ওয়াংদি নামের নেপালে জন্ম নেওয়া লোকটিকে আর কেউ মনে রাখেনি। সবাই জেনেছে নতুন ও বিজয়ী এক মানুষকে, যার নাম তেনজিং।

পরিবার তেনজিংকে বানাতে চেয়েছিল ধর্মযাজক। বাড়ি পালিয়ে তিনি হলেন অভিযাত্রী। পর্বতারোহণের সর্বোচ্চ বিজয় অর্জন ছাড়াও তিনি নতুন অভিযাত্রীদের গাইড ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন পরবর্তী জীবনে। পর্বতারোহণ ইনস্টিটিউট তৈরি হলে তাতেও জড়িত থাকেন তিনি। মোট কথায়, হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিং  শহরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় এই এভারেস্ট বিজয়ীর জীবন ও কর্মকাণ্ড।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561616768646.jpg
তেনজিং স্মৃতি স্মারক, দার্জিলিং/ছবি: সংগৃহীত

তার কাছে হিমালয় ছিল এক দুর্নিবার নেশার মতো, যে নেশার কাছ থেকে দূরে গিয়ে তিনি থাকতে পারেননি। আজীবন পর্বত বিষয়ক নেশায় বুঁদ হয়ে ছিলেন তেনজিং। একজন অসামান্য পর্বতারোহী হয়েই তিনি ইতিহাসে বেঁচে আছেন।

অনেকগুলো ছেলেমেয়ে ছিল তার। তাদেরকে আর হিমালয়কে নিয়েই তিনি ছিলেন চরম সুখী। এমনিতে তেনজিং ‘ছাং’ খেতে খুব ভালবাসতেন। স্কচ-হুইস্কি প্রায় ছুঁতেনই না। প্রথম জীবনে নস্যি নিতেন। সেটাও ছেড়ে দেন। খাবারের মধ্যে স্ত্রীর হাতে তৈরি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রসিদ্ধ খাবার মোমো ছিল অসম্ভব প্রিয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561616852583.jpg
এভারেস্ট বিজয় ছিল মানব সভ্যতার এক গৌরবময় অর্জন/ছবি: সংগৃহীত

অবাক ব্যাপার হলো, তুষারাবৃত-বরফময় হিমালয়ের এভারেস্ট জয়ীর শেষ বয়সে দার্জিলিংয়ের ঠাণ্ডা হাওয়া-বাতাস সহ্য হত না। অন্তত শীতের মাস ক’টা আরও নিচে নেমে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির মহানন্দা নদীর পাশে থাকতে পছন্দ করতেন তিনি।

বিষয়টি এতোই ভালো লেগেছিল যে, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য একটি বাড়িও ঠিক করেছিলেন তিনি। কিন্তু সে বাড়িতে শেষ পর্যন্ত তার যাওয়া হয়ে ওঠেনি। পাহাড়ের বীর জাতক পাহাড়েরই এক অন্তিম শয্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৮৬ সালের ৯ মে এই পার্বত্য বীর যখন মারা যান, তখন তার বয়স ছিল ৭১।

চোখ জুড়ানো বৃক্ষমেলা

চোখ জুড়ানো বৃক্ষমেলা
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলছে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা/ছবি: বার্তা২৪.কম

'শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা। বৃক্ষ মেলাকে ঘিরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে বিশাল মাঠে তৈরি হয়েছে ঘন সবুজের সমারহ। মেলায় স্থান পাওয়া নানা প্রজাতির গাছ, থোকায় থোকায় ধরে থাকা চেনা-অচেনা ফল, প্রস্ফুটিত ফুলের সৌন্দর্য্যে চোখ জুড়িয়ে যায়। বনজ, ফলজ, ঔষধি গাছ কিংবা ঘর সাজানোর অর্কিড, বনসাই-কী নেই মেলায়!

নানা বয়সী, শ্রেণি পেশার ক্রেতাদের পদচারণায় বেশ জমে উঠেছে বৃক্ষমেলা। আষাঢ়ের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও ঢাকার আকাশে রোদের তেজ এখনও প্রখর। ভ্যাপসা গরমে তাই সকালের দিকে মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুরের পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। এই সময় ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় থেকে যতটা না গাছ কিনছেন তার চেয়ে বেশি ঘুরে দেখছেন। কারো পছন্দ হলে গাছ কিনে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614680905.jpg

বুধবার (২৬ জুন) বৃক্ষ মেলা ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্টলগুলো অর্কিড, বনসাই, বীজ, সার, ছোট কৃষিযন্ত্রপাতি দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। স্টলের সামনের জায়গায় থরে থরে সাজানো নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ। ফলের চারাগুলোতেও ধরেছে মৌসুমী ফল। বিশেষ করে গাছে ঝুলনো রসালো টসটেস আম চোখে পড়ার মত। এছাড়াও পাকা কাঁঠাল, জাম্বুরা, কমলা, বেদেনা, মাল্টার -ঘ্রাণ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। গোলাপ, গাঁদা, কনকচাঁপা, নয়নতারা, টুগর, জুঁই আপনাকে সম্ভাষণ জানাবে। দমকা বাতাসের তালে পাতা, ফুল ও ফলের দুলে ওঠা যেকোনো বৃক্ষপ্রেমীর মনকেও দুলিয়ে যাবে। স্টলের ডিসপ্লেতে সাজানো ক্যাকটাস আর অর্কিডও নজর কেড়ে নিবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614696708.jpg

মেলা ঘুরে চেনা অচেনা নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ দেখতে পাওয়া যাবে। এদের মধ্যে আছে-ডুরিয়ান, অলিভ, কাউ, পিচ, কিউই ফল, অ্যাভোকেডো, আলমন্ডা, ড্রাসিনা, চেরী ফল, পার্সিমন ফল, ড্রাগন, ট্যাং ফল, অ্যাপ্রিকট ফল, আদা জামির, স্ট্রবেরি পেয়ারা, বিলাতি গাব, রাম্বুটান, জয়ফল, সাদা নাশপতি, রাবাবা, মাল বেরি , লোকাট ফল, এবিউ ফল কালোজাম, সাতকরা, সফেদা, কদবেল, আতা, কুল, বড়ই, ডালিম, করমচা, বেল, জাম্বুরা, কাঁঠাল, লাল কাঁঠাল, চাম কাঠাল, ডুমুর, কাজু বাদাম, জবা ফুল, ম্যান্ডেভিলা, ফুল, হাসনাহেনা, পলাশ, কনকচাপা, বাসন্তি, মালতী, নয়নতারা, আঁশফল, ঘৃতকুমারী, লটকনসহ নাম জানা-অজানা হাজারো  ফল ও ফলের দেশি-বিদেশি গাছ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614739933.jpg

মেলায় স্টলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর দাম প্রজাতি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন। ২০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকার চারা এখানে স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বনসাইয়ের। চায়না প্রজাতির কোনো কোনো বনসাইয়ের সর্বোচ্চ দাম ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। এরপর ফলজ উদ্ভিদের চারা যেগুলোতে ফল ধরে আছে সেগুলোর সর্বোচ্চ দাম ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, ফুলের চারা, ওষধি গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যেই।

খাঁন নার্সারির ম্যানেজার সোহেল শিকদার বার্তা২৪.কম’কে জানান, ‘তাদের স্টলে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা দামের গাছের চারা আছে। বেশি দামের চারার বিক্রি কিছুটা কম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614802324.jpg

মেলায় ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সকলেই ঘুরতে এসেছেন। নারায়নগঞ্জ থেকে মেলায় গাছ কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বাগান করব বলে এখানে গাছ কিনতে এসেছি। এখানে এসে নানা প্রজাতির গাছ দেখতে পাচ্ছি। ভালো জাতের গাছ পেলে কিছু গাছ কিনে নিয়ে যাব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অহিদুজ্জামান অভি বলেন, গাছ আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এই মেলায় এলে আমরা নানা প্রজাতির গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পারি। তাই সময় পেলেই প্রতিবছরই বৃক্ষ মেলায় আসি।

আশুলিয়া গার্ডেন সেন্টারের মালিক সানী সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, বৃক্ষপ্রেমীরা বছরজুড়ে এই মেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এত বড় বৃক্ষমেলা আর কোথাও হয় না। বৃক্ষমেলা ঘুরে দেখতে অনেকেই দেশ বিদেশ থেকে মেলায় আসেন। এবারের বিক্রি এখন পর্যন্ত ভালোই।

উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী এই বৃক্ষমেলা চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত। মেলায় মোট ১০৫ টি স্টল রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য বৃক্ষমেলায় প্রবেশ একদম ফ্রি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র