Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উচ্ছিষ্ট কাগজে তৈরি হয় নতুন কাগজ

উচ্ছিষ্ট কাগজে তৈরি হয় নতুন কাগজ
ছবি: বার্তা২৪
সিদ্দিকুর রহমান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বরিশাল
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট কাগজ মেশিনের মাধ্যমে মন্ড বানিয়ে তৈরি করা হয় চৌকোণা আকৃতির মোটা কাগজ। মিষ্টি ও জুতার বাক্স থেকে বই বা খাতার মলাট হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ কাগজ। কাগজ তৈরি কাজে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে না, পাশাপাশি কিছু মানুষের জীবিকার চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।

বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপাশা এলাকায় ‘আর বি বোর্ড মিল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে এ কাগজ।

রোববার (৬ জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখা গেছে, টিনের একটি ঘরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন কর্মচারী বিভিন্ন ভাগে কাজ করছে। তবে এদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। কাগজ মন্ড করা থেকে শুরু করে শুকানো পর্যন্ত প্রতিটি কাজেই পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/06/1546770840572.jpg

তবে পুরো কাজটিই মেশিনে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর পাশেই খোলা মাঠে সারি সারি করে শুকানো হয় এসব কাগজ। এতে স্থানীয়দের কাছে কাগজের বিল নামেই পরিচিত পেতে শুরু করেছে।

কারখানার নারী শ্রমিক দেলোয়ারা বেগম (৫০) বলেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত কাগজ তৈরির কাজ করছি। তবে এ কারখানায় এক বছর ধরে আছি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে ২ হাজার ২০০ টাকা বেতনে চাকরি করলেও এখন এর দ্বিগুণ পাচ্ছি। আর এই টাকা দিয়েই ছয় থেকে সাতজনের সংসারে অর্থ যোগান দিচ্ছি।’

শুধু দেলোয়ারাই নয় নিলুফা বেগমসহ আরও অনেকেই এ কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউ কেউ ছোট সন্তানকে সাথে নিয়েও কাজ করছেন এখানে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/06/1546771006133.jpg

আর বি বোর্ড মিলের দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) বলেন, ‘কিছু ভ্রাম্যমাল ছেলেপুলে (টোকাই) শহরের ময়লা কাগজগুলো সংগ্রহ করে এক জায়গায় করে রাখে। ওদের কাছ থেকে সেগুলো আমরা ক্রয় করে নিয়ে আসি। পুনরায় এই মোটা কাগজ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে থাকি ‘

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি কেজি কাগজ ১৩ থেকে ১৪ টাকা দরে কিনে থাকি। এছাড়া এ কাগজ তৈরিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং উচ্ছিষ্ট কাগজ থেকে নতুন কাগজ তৈরিতে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।’

উচ্ছিষ্ট কাগজ থেকে নতুন কাগজ তৈরির প্রধান কারিগর বাবুল মিয়া (৪৫) বলেন, ‘কাগজের ব্যবসা আগের মতো নেই। কাগজ কিনে সেটা প্রসেসিং করে নতুনভাবে তৈরিতে যা খরচ হয়, বিক্রি করে তাতে লাভ থাকে সীমিত। কোনো কোনো সময় লোকসানও হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/06/1546770899613.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আবহাওয়ার কারণে তেমন উৎপাদনও করতে পারি না। প্রতিদিন সর্বোচ্চ একটনের মতো উৎপাদন করতে পারি। তৈরির পর কাগজগুলো শুকানো হয় পাশের মাঠে। আর শুকানোর পরপরই কাগজগুলো ২৫ কেজির বান্ডিল করা হয়। ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয় টন হিসেবে। মানভেদে প্রতি টন বিক্রি হয় ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকায়।

আপনার মতামত লিখুন :

রাষ্ট্রপতি এরশাদের জন্য ৮ আনার পতাকা

রাষ্ট্রপতি এরশাদের জন্য ৮ আনার পতাকা
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর জন্য আট আনা (পঞ্চাশ পয়সা) খরচই তখন আমার মতো প্রাথমিকে পড়ুয়ার জন্য ছিল বেশি। তবুও তিনি রাষ্ট্রপতি, সেনাবাহিনীর প্রধান। তাইতো সেদিনে তাঁকে সম্মান জানাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম আট আনার জাতীয় পতাকা নিয়ে। তখন আমি প্রাথমিকের একেবারেই নতুন ছাত্র।

দিনক্ষণ মনে পড়ে না। তবে স্মৃতিতে যুতটুকু আসে তাতে ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের কোনো একদিন সকালে। তখন রাস্তাঘাটের তেমন উন্নতি হয়নি।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ রংপুর যাচ্ছিলেন। তখন আরিচা থেকে ফেরি যোগে নগরবাড়ী পার হয়ে উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করতে হতো। আগের দিন স্কুল থেকে জানানো হল- রাষ্ট্রপতি এরশাদ পাবনা হয়ে রংপুরে যাবেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তাঁকে সম্মান জানাতে হবে।

সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। রাত শেষে সকাল আসল। তখন আমি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের টেবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর (ছোট্ট ওয়ান) ছাত্র। স্কুলে যাওয়ার পরপরই সবাইকে রাস্তার পাশে নিয়ে দাঁড় করানো হলো।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি যাবার আগের দিন আমাদেরকে ক্লাসের স্যাররা বলেছিলেন, রাস্তায় দাঁড়ানোর আগে জাতীয় পতাকা সবার হাতে থাকতে হবে। তিনি যাবার সময়ে ঐ পতাকা নাড়তে হবে।

টেবুনিয়া বাজারের সোনাই চাচার দোকান থেকে আট আনা দাম দিয়ে একটি জাতীয় পতাকা নিলাম। কিন্তু তার আগে আমাকে একটি পাটকাঠি (সোলা) নিয়ে যেতে হয়েছিল সোনাই চাচার দোকানে। তিনি দেড় হাত পাটকাঠি ভেঙে তার মাথার উপরে সবুজ কাগজ আর মাঝখানে লাল বৃত্তের মতো লাল কাগজ লাগিয়ে দিলেন আঠা দিয়ে।

আমিসহ আমার সহপাঠীরা সবাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম সকাল থেকে। স্যাররা মাঝে মধ্যেই এসে বলতেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চলে আসবেন। তোমরা অপেক্ষা কর।

ততক্ষণে স্কুলের মাঠে বুড়ো চাচার বরফ কয়েকটি খেয়ে ফেলেছি। এক একটি বরফ ছিল ১০ পয়সা। তখন মনে হয়েছিল আট আনা দিয়ে জাতীয় পতাকা না কিনে পাঁচটি বরফ খেলেও তো হতো।

প্রচণ্ড রোদ ছিল। সে সময়ে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হতো ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে ছেড়ে আসা নৈশকোচগুলোর বেপরোয়া যাওয়া-আসা।

রাস্তার পাশে দাঁড়ালেও তখন রাস্তা ছিল খুব সরু। বিপরীতমুখী দুটো গাড়ি পার হলে যেকোন একটি রাস্তার নিচে ধুলোয় চলে আসত। আর নৈশকোচগুলো যাবার সময়ে দিয়ে যেতো প্রচুর ধুলা।

মনে পড়ে সকাল সাড়ে ৯টায় স্যাররা আমাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়েছিলেন। দুপুরের পর তিনি একটি কালো রংয়ের হুড খোলা জিপ নিয়ে গাড়িবহর যোগে পার হলেন ধীরগতিতে। এ সময় হুড খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি সবাইকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে চলে গেলেন টেবুনিয়া ছেড়ে।

দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সোনাই চাচার দোকানের জাতীয় পতাকা, বুড়ো চাচার বরফ, রাস্তার গাড়ি দেখা, ধুলা খাওয়া আর রাষ্ট্রপতি এরশাদকে স্বচক্ষে দেখা। সবই এখন ইতিহাসের মতো লাগছে। খারাপ লাগছে, সেই ব্যক্তি আজ আমাদের মাঝ থেকে চিরদিনের জন্যই না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেন। কিন্তু রেখে গেলেন নানা স্মৃতি। তাঁকে যখন কবরস্থ করা হচ্ছিল, গণমাধ্যমে এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই ভেসে উঠল পুরনো সেই স্মৃতি।

বাবাকে বাঁচাতে দিনে পাঁচ বেলা খায় ছোট্ট ল্যু জিকুয়ান

বাবাকে বাঁচাতে দিনে পাঁচ বেলা খায় ছোট্ট ল্যু জিকুয়ান
ল্যু জিকুয়ান, ছবি: সংগৃহীত

লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত বাবাকে রক্ষা করতে দিনে অন্তত পাঁচ বেলা খাচ্ছে ১১ বছরের ছেলে ল্যু জিকুয়ান।

চীনের শিনচিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা ল্যু জিকুয়ানের বাবা ল্যু ইয়ানহেংয়ের লিউকোমিয়া রোগ ধরা পড়ে সাত বছর আগে। তারপর ওষুধের মাধ্যমেই চিকিৎসা চলছিল। গত আগস্টে তার অবস্থার অবনতি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। পরে চিকিৎসকরা জানান যে বোন মেরো ট্রান্সপ্লান্টই (অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন) তার একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা। পরিবারের মধ্যে শুধুমাত্র ল্যু জিকুয়ানই পারে বাবার বোন মেরো ডোনার হতে। কারণ শুধু তার সঙ্গেই সব ম্যাচ করেছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ল্যু জিকুয়ানের ওজন কম। গত মার্চে সে ছিল মাত্র ৩০ কেজি। বোন মেরো ডোনার হতে হলে তার ওজন অন্তত ৫০ কেজি হতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাই ল্যু জিকুয়ানের ওজন বাড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে পুরো পরিবার। এরপর সে ওজন বাড়াতে দিনে অন্তত পাঁচ বেলা খেতে শুরু করেছে।

বর্তমানে (গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সাংহাই.আইএসটিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী) তার ওজন ৪৮ কেজি।  ওজন বাড়াতে ল্যু জিকুয়ান মূলত বেশি করে চর্বিযুক্ত মাংস ও ভাত খেয়ে থাকে। তার মা যে মুদি দোকানে কাজ করেন, সেখান থেকে তিনি ডিসকাউন্টে মাংস কিনে ছেলেকে রান্না করে খাওয়ান।

1
বাবার সঙ্গে ল্যু জিকুয়ান, ছবি: সংগৃহীত

 

ল্যু জিকুয়ানের শিক্ষক ঝাও মেং-মেং জানান, হঠাৎ ল্যু জিকুয়ান মোটা হতে থাকায়, তার কিছু সহপাঠী তাকে মোটা মোটা বলে খেপাতে শুরু করেছিল। তবে এতে মোটেই রাগ করত না ল্যু জিকুয়ান। পরে ল্যু জিকুয়ানের মোটা হওয়ার কারণ জানার পর সবাই তাকে খেপানো বন্ধ করে। ল্যু জিকুয়ানের বিদ্যালয় তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে ল্যু জিকুয়ান জানায়, মোটা বলায় সে মোটেও রাগ করত না। কারণ তার লক্ষ- আগে বাবাকে রক্ষা করি, পরে ওজন কমাব।

এ খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কংউই উইজার্ড নামে একজন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ল্যু জিকুয়ানের উদ্দেশে লিখেছেন, এতো অল্প বয়সে অনেক মহৎ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছ, তুমি অসাধারণ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র