Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মৃতপ্রায় প্রাণসায়ের খাল নিয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প

মৃতপ্রায় প্রাণসায়ের খাল নিয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প
প্রাণসায়ের খাল / ছবি: বার্তা২৪
এসএম শহীদুল ইসলাম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
সাতক্ষীরা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরা শহরের বুক চিরে প্রবাহিত প্রাণসায়ের খালের প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। দখল আর দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে খালটি। এটি রক্ষায় বিভিন্ন সময় আন্দোলন হলেও রক্ষা করা যায়নি দখল আর দূষণ। জেলা উন্নয়ন সভায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা কার্যত আলোর মুখ দেখেনি।

প্রভাবশালীরা খালটি দখল করতে করতে সরু নর্দমায় পরিণত করেছে। খালের দুই মুখে অপরিকল্পিতভাবে স্লুইস গেট নির্মাণ, দুই তীর জবরদখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতি স্থাপন করা, খালের মধ্যে বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলাসহ নানা কারণে খালটি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে খালটিতে সীমিত পরিমাণে পানি প্রবাহ চালু রয়েছে।

জানা গেছে, ১৮৬৫ সালে অবিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পিএন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রাণসায়ের খাল খনন করেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গি বেতনা নদী থেকে সাতক্ষীরা শহর হয়ে এল্লারচর মরিচ্চাপ নদী পর্যন্ত এ খালের দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। প্রথমাবস্থায় এ খাল ২০০ ফুটের বেশি চওড়া ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সে সময় বড় বড় বাণিজ্যিক নৌকা এসে ভিড় জমাতো এ খালে। ফলে সাতক্ষীরা শহর ক্রমশ সমৃদ্ধশালী শহরে পরিণত হয়।

আর ১৯৬৫ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতকে প্রাধন্য না দিয়ে বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণের নামে খালের দুই প্রান্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইস গেট নির্মাণ করে। এতে খালে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি বদ্ধ খালে পরিণত হয়। এরপর জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর খালটি আবারও খনন করা হয়।

৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ১০ কিলোমিটার খাল সংস্কারের টেন্ডার পায় ঢাকার মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, নামমাত্র খনন করে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই লোপাট করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। খাল খননের নামে খালের দুই ধারে শতশত গাছ কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে খালটি বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/10/1547111246460.jpg

২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রাণসায়ের খাল রক্ষা কমিটি মিছিল মিটিংসহ অনেক আন্দোলন করে। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি। ২০১৭ সালের ৩০মে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষ প্রাণসায়ের খালের প্রাণ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করে। রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয় সামাজিক আন্দোলন। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। জনতার দাবি ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে।

২০১৮ সালের ১ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর হাতির ঝিলের আদলে উদ্বোধন করে দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প। কিন্তু প্রকল্পটি উদ্বোধনের মধ্যেই আটকে থাকে।

ওই বছরের ৪ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনদিন ধরে প্রাতঃভ্রমণে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল শহরের সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রাণসায়ের খালের প্রাণ রক্ষায় জনমত গড়ে তোলার লক্ষে পদযাত্রা শুরু করেন।

বর্তমানে জেলা প্রশাসক খালটির দিকে নজর দেয়ায় আশার আলো দেখা দিয়েছে। খালটির দুপাড়ে গড়ে তোলা হবে দৃষ্টি নন্দন পার্ক। ফুলের বাগান, রঙিন দোলনা আর বসার বেঞ্চ থাকবে বৃক্ষ শোভিত এ নন্দন পার্কে।

সাতক্ষীরা নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, ‘প্রাণ না বাঁচলে সাতক্ষীরা শহর বাঁচবে না। শহরের অস্তিত্ব নির্ভর করে এ খালটির ওপর। দখল ও দূষণে আজ খালটি মৃতপ্রায়।’

অবিলম্বে দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পের কাজ শুরু করারও দাবি জানান তিনি।

নাগরিক নেতা অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন, ‘সবার আগে দরকার জনসচেতনতা। তারপর ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ করে খালটির ম্যাপ অনুযায়ি নকশা বুঝে নেওয়া।’

খালটি খননপূর্বক সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিও জানান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/10/1547111267828.jpg

সাতক্ষীরা সংবাদপত্র পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকটে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রাণসায়ের খাল শহরবাসীর রক্ষাকবজ। খালটি আমাদের ঐতিহ্যও বটে। এ খালের সঙ্গে মিশে আছে গৌরবময় ইতিহাস। রুটি-রুজি ও কর্ম সংস্থান নিয়ে এ খালের সঙ্গে আমাদের নাড়ির সম্পর্ক। খালটি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।’

পরিবেশ কর্মী অধ্যক্ষ আশেক-ই এলাহী বলেন, ‘রুমাল নাকে ধরে খাল পার হতে হয়। দুর্গন্ধময় পরিবেশের প্রভাবে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। তাই এসডিজির ল্ক্ষ্য অর্জনে খালটির সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।’

সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, ‘প্রাণসায়ের খাল দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল রক্ষার্থে মাইকিং করে ইতোমধ্যে পৌরবাসীকে জানানো হয়েছে, যাতে কেউ কোনো ময়লা আবর্জনা খালের ভেতরে না ফেলেন।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জরুরিভাবে প্রাণসায়ের খাল খননের চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পে ইতোমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে। অবিলম্বে খালের দুইধার পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্ট

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এই তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জলুাই তাদের শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন না করায় একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ তলবের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে হাইকোর্ট তিতাসের কর্মচারী নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অনুসরণ না করায় আদালত সম্পূরক আবেদন করেন। আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিতাসে ৭৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত ফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মো. রেজাউল করিমসহ ৮ জন ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর রিট দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেয় তিতাস। গত ২ এপ্রিল আরো ১৭ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ রিট আবেদকারীরা হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

এই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে তলবের আদেশ দেন।

আদালতে তিতাসের আইনজীবী জানান, ৩০ শতাংশ  কোটা সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রিটের আইনজীবীরা তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান। 

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!
নারীশ্রমে প্রাণ পেলো মৃত নদী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সম্ভাব্য পানি সংকটের পদধ্বনিতে আশাবাদী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দেশটির নারীশক্তি। মৃতপ্রায় নদী বাঁচাতে ২০০০০ মহিলা নিরলস প্রচেষ্টা চালালেন দীর্ঘ চার বছর। নারীশ্রমে নবপ্রাণ পেয়ে বাঁচলো নদী।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য  দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের যে ভেলোর পরিচিত, সেখানে নাগানধি নদী পেলে নতুন জীবন। বহু মানুষও বেঁচে গেলেন তীব্র পানিকষ্ট থেকে।

তামিলনাড়ুর যে ২৪টি জেলা খরাপ্রবণ, তার মধ্যে অন্যতম ভেলোর। এই ভেলোরের মানুষদের কাছে বেঁচে থাকার, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস ছিল একমাত্র এই নাগানধি।

কিন্তু ১৫ বছর আগে এই নদীটি শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যায়। নারীশ্রম মৃত নদীকে নবজন্ম দিয়েছে। ফলে মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাব্য ক্ষয় থেকে রক্ষা পেয়েছে।

দক্ষিণ ভারত থেকে শত মাইল দূরে ভারতের উত্তর দিকেও একই ছবি দেখা গেছে। উত্তরাখণ্ডের পউরি গাড়ওয়ালের প্রায় ১০০ জন গ্রামবাসী ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নানা মাপের রিজ়ার্ভার তৈরি করছেন। পানির স্বল্পতার কবল থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছা শ্রম ও স্বেচ্ছা প্রণোদনায় এগিয়ে এসেছেন মানুষ। যে মানুষের মধ্যে অগ্রণী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেন গ্রামের নারীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বার বার জানাচ্ছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বড় বড় অনেক শহরই চরম পানি সংকটের মুখোমুখি হবে। এরই মাঝে চেন্নাই প্রভৃতি শহরে পানি স্বল্পতা ও সংকটের আঁচ পড়েছে।

আরও পড়ুন: চেন্নাইয়ে পানির তীব্র সংকট

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও যে পানির ভয়াবহ সংকট হাতছানি দিচ্ছে, তা সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয় নদী উদ্ধারের এই ঘটনাগুলো থেকেই। ভেলোরের ক্ষেত্রে ২০ হাজার মহিলার ৪ বছরের প্রচেষ্টায় ১৫ বছর আগে শুকিয়ে যাওয়া নাগানধি নদীকে আবারও স্রোতস্বিনী করা প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহু গ্রামে পানির জন্য রিজার্ভার, কুয়া, জলাধার তৈরি করছে মানুষ, যাতে প্রচুর নুড়ি পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। 

‘নাগানধি বাঁচাও’ প্রকল্পের ডিরেক্টর চন্দ্রশেখরণ কুপ্পান বলছেন, 'কোনও নদীকে পুনরায় বাঁচিয়ে তোলার জন্য শুধু তার বহমানতার দিকে নজর দিতে হয়, তা নয়।  নদীর গভীরতাও যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও নজর দিতে হয়।  এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিও যাতে মাটি শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  তাই বৃষ্টি হলে সেটা এজাতীয় নদীর ক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। '

উল্লেখ্য, নদীটি মৃতপ্রায় হলে ভেলোরের অর্ধেকের বেশি কৃষক পানির অভাবে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে থাকেন। কারণ তারা চাষের জন্য পানি পাননি দীর্ঘদিন। নদী নতুন জীবন পাওয়ায় বেঁচেছে জনপদ, কৃষি ও কৃষক।

ভেলোরের আগে দক্ষিণ ভারতের আরেক জায়গায় একই সংকট ঘণীভূত হয়েছিল। কর্ণাটকের বেদবতী এবং কুমুদবতী নামে দুটি নদীও সংস্কারের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। দুটি নদীকেই স্বেচ্ছাশ্রমে পুনরায় নাব্যতা দিয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ, যাদের সিংহভাগ ছিলেন গ্রামীণ নারী।

পানি সংকটের সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে ভারতীয় গ্রামের নারীরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে রিজার্ভার বা কুয়া বানাচ্ছেন। দক্ষিণ ভারতের কান্যায়মবাদি ব্লকের সালামানাথাম গ্রামের একজন নারী একাই প্রায় ৩৬ টা কুয়া খুঁড়েছেন।   

উত্তর ভারতেও এমন ঘটনা ঘটছে। সেখানে পউরি গাড়ওয়ালের ১৩ বছরের ছাত্রী দীপা রাওয়াত এবং তার বন্ধু স্কুল শেষে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রিজ়ার্ভার তৈরি করতে মাটি খুঁড়ে চলে আজকাল।  সেখানকার সরকারি স্কুলগুলো প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকেই এই কাজে উৎসাহ দেয়।  বলা হয়েছে, এক একটি রিজ়ার্ভার যাতে অন্তত ২ ফুট গভীর হয় সেদিকে নজর দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি এখনই। যাতে ভবিষ্যতের জন্য তারা পানি সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। নইলে সমস্যা বাড়বে। কারণ গ্রামগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। জলের উৎসও কমছে। দিন দিন জল যত কমবে লোকজন চলে যাবেন এই এলাকা থেকে।  তাই গণ সচেতনতা ও অংশগ্রণ ছাড়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তির কোনও আশা নেই।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র