Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

খুলনায় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখির চাষ

খুলনায় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখির চাষ
খুলনার একটি খামারে চাষকৃত ইমু পাখি, ছবি: বার্তা২৪
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দূরদূরান্ত পার হয়ে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি ইমু এখন দক্ষিণের নোনা ভূমিতে। খুলনায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি ইমু। যে কোন পরিবেশে চাষ যোগ্য, মৃত্যুহার কম ও উড্ডয়নে অক্ষম এ পাখির মাংসে চর্বির পরিমাণ কম থাকায় এ অঞ্চলের চাষিরা ইমু চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি ঈমু। এ পাখির বৈজ্ঞানিক নাম ড্রোমাইয়াস নোভাহোল্যান্ডিয়া। উড্ডয়নে অক্ষম এই পাখি আফ্রিকা থেকে এনে চাষ করা হচ্ছে বাংলাদেশে। তৃণভোজী এ পাখি যে কোন পরিবেশেই চাষ করা সম্ভব। প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে ও বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও পর্যটন কেন্দ্রে সৌন্দর্যবর্ধন চাহিদা রয়েছে এই পাখির।

খুলনার বটিয়াঘাটার ইমু চাষি মোঃ ইমরান হোসেন বার্তা২৪-কে বলেন, '২০১৭ সালে আমি প্রথম ইমু চাষ শুরু করি। ৪০০ গ্রামের একটি ইমুর বাচ্চা ১২ থেকে ১৪ মাস পরে ৬০ কেজির বেশি ওজন হয়। ১৮ মাসে ইমু বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। একটি ইমু ১৮ থেকে ৩৫টি ডিম দিতে পারে। এক জোড়া ইমু’র বাচ্চা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা কেনা হয়। ১২ থেকে ১৪ মাস পর জোড়া ৬০ থেকে ৭০ হাজার বিক্রি হয়। বিক্রি করা যায় এর মাংসও। এছাড়াও ডিম থেকে বাচ্চু ফুটিয়েও বিক্রি করা যায়।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/11/1547181593134.gif

বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম খান জানান, তার খামারে ১৯০টি ইমু পাখি আছে। ইমু পাখি তৃণভোজী এরা ঘাস, শাক-সবজি খায়। পাশাপাশি ফিড খাওয়ানো হয় এদের বৃদ্ধির জন্য। এছাড়াও খাওয়ানো হয় লাইম স্টোন (পাথর কুচি) যা এদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে ইমু’র মৃতের হার টার্কি, ফার্মের মুরগীর থেকে কম।

ইমু’র প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন, 'এর মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম। ৯৮ ভাগ কোলেস্টোরল মুক্ত অর্থাৎ মাত্র ২ ভাগ কোলেস্টেরল রয়েছে এর মাংসে। অতএব এটি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের পছন্দের তালিকায় থাকবে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/11/1547181616233.gif

বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বঙ্কিম কুমার হালদার বলেন, 'এ অঞ্চলে ধীরে ধীরে ইমু পাখি চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে চাষিদের কাছে। ইতোমধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলায় তিনটি ছোটবড় খামার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সব থেকে বড় খামার উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের। এছাড়াও রূপসা নদীর পাড়ে ইমু চাষ করা হচ্ছে। আমরাও চাষিদের এ পাখি চাষে উৎসাহিত করছি কারণ এটির মৃত্যুহার অনেক কম। এবং এর মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম।'

প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মানব শরীরের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে ইমু পাখি। ইমু’র মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ খুবই কম। ইমু পাখির মৃত্যুহার কম হওয়ায় চাষিরাও লাভবান হবে। এছাড়াও এ পাখির চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও পর্যটন কেন্দ্রেও। ইমু পাখি গড়ে ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। বছর দেড়েক বয়স হলেই এ পাখি ডিম দিতে শুরু করে। এরা সাধারণত শীতকালে ডিম পাড়ে। গড়ে ২৫টি করে ডিম পাড়ে। প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় ১২০০ টাকা। ডিম দেওয়ার আগে পর্যন্ত ইমুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। তবে ডিম পাড়া শুরু করলে মাংসের দাম ও চাহিদা কমে যায়। ইমুর চামড়া থেকে ব্যাগ তৈরি হয়। হাড়ের গুঁড়ো থেকে ওষুধ, নখ ও পালক থেকে সাজগোজের সামগ্রী এবং মল থেকে মাছের খাবার তৈরি হয়। ইমু'র চর্বি থেকে তৈরি তেলও বহুমূল্য।

আপনার মতামত লিখুন :

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্ট

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এই তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জলুাই তাদের শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন না করায় একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ তলবের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে হাইকোর্ট তিতাসের কর্মচারী নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অনুসরণ না করায় আদালত সম্পূরক আবেদন করেন। আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিতাসে ৭৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত ফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মো. রেজাউল করিমসহ ৮ জন ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর রিট দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেয় তিতাস। গত ২ এপ্রিল আরো ১৭ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ রিট আবেদকারীরা হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

এই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে তলবের আদেশ দেন।

আদালতে তিতাসের আইনজীবী জানান, ৩০ শতাংশ  কোটা সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রিটের আইনজীবীরা তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান। 

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!
নারীশ্রমে প্রাণ পেলো মৃত নদী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সম্ভাব্য পানি সংকটের পদধ্বনিতে আশাবাদী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দেশটির নারীশক্তি। মৃতপ্রায় নদী বাঁচাতে ২০০০০ মহিলা নিরলস প্রচেষ্টা চালালেন দীর্ঘ চার বছর। নারীশ্রমে নবপ্রাণ পেয়ে বাঁচলো নদী।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য  দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের যে ভেলোর পরিচিত, সেখানে নাগানধি নদী পেলে নতুন জীবন। বহু মানুষও বেঁচে গেলেন তীব্র পানিকষ্ট থেকে।

তামিলনাড়ুর যে ২৪টি জেলা খরাপ্রবণ, তার মধ্যে অন্যতম ভেলোর। এই ভেলোরের মানুষদের কাছে বেঁচে থাকার, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস ছিল একমাত্র এই নাগানধি।

কিন্তু ১৫ বছর আগে এই নদীটি শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যায়। নারীশ্রম মৃত নদীকে নবজন্ম দিয়েছে। ফলে মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাব্য ক্ষয় থেকে রক্ষা পেয়েছে।

দক্ষিণ ভারত থেকে শত মাইল দূরে ভারতের উত্তর দিকেও একই ছবি দেখা গেছে। উত্তরাখণ্ডের পউরি গাড়ওয়ালের প্রায় ১০০ জন গ্রামবাসী ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নানা মাপের রিজ়ার্ভার তৈরি করছেন। পানির স্বল্পতার কবল থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছা শ্রম ও স্বেচ্ছা প্রণোদনায় এগিয়ে এসেছেন মানুষ। যে মানুষের মধ্যে অগ্রণী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেন গ্রামের নারীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বার বার জানাচ্ছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বড় বড় অনেক শহরই চরম পানি সংকটের মুখোমুখি হবে। এরই মাঝে চেন্নাই প্রভৃতি শহরে পানি স্বল্পতা ও সংকটের আঁচ পড়েছে।

আরও পড়ুন: চেন্নাইয়ে পানির তীব্র সংকট

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও যে পানির ভয়াবহ সংকট হাতছানি দিচ্ছে, তা সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয় নদী উদ্ধারের এই ঘটনাগুলো থেকেই। ভেলোরের ক্ষেত্রে ২০ হাজার মহিলার ৪ বছরের প্রচেষ্টায় ১৫ বছর আগে শুকিয়ে যাওয়া নাগানধি নদীকে আবারও স্রোতস্বিনী করা প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহু গ্রামে পানির জন্য রিজার্ভার, কুয়া, জলাধার তৈরি করছে মানুষ, যাতে প্রচুর নুড়ি পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। 

‘নাগানধি বাঁচাও’ প্রকল্পের ডিরেক্টর চন্দ্রশেখরণ কুপ্পান বলছেন, 'কোনও নদীকে পুনরায় বাঁচিয়ে তোলার জন্য শুধু তার বহমানতার দিকে নজর দিতে হয়, তা নয়।  নদীর গভীরতাও যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও নজর দিতে হয়।  এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিও যাতে মাটি শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  তাই বৃষ্টি হলে সেটা এজাতীয় নদীর ক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। '

উল্লেখ্য, নদীটি মৃতপ্রায় হলে ভেলোরের অর্ধেকের বেশি কৃষক পানির অভাবে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে থাকেন। কারণ তারা চাষের জন্য পানি পাননি দীর্ঘদিন। নদী নতুন জীবন পাওয়ায় বেঁচেছে জনপদ, কৃষি ও কৃষক।

ভেলোরের আগে দক্ষিণ ভারতের আরেক জায়গায় একই সংকট ঘণীভূত হয়েছিল। কর্ণাটকের বেদবতী এবং কুমুদবতী নামে দুটি নদীও সংস্কারের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। দুটি নদীকেই স্বেচ্ছাশ্রমে পুনরায় নাব্যতা দিয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ, যাদের সিংহভাগ ছিলেন গ্রামীণ নারী।

পানি সংকটের সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে ভারতীয় গ্রামের নারীরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে রিজার্ভার বা কুয়া বানাচ্ছেন। দক্ষিণ ভারতের কান্যায়মবাদি ব্লকের সালামানাথাম গ্রামের একজন নারী একাই প্রায় ৩৬ টা কুয়া খুঁড়েছেন।   

উত্তর ভারতেও এমন ঘটনা ঘটছে। সেখানে পউরি গাড়ওয়ালের ১৩ বছরের ছাত্রী দীপা রাওয়াত এবং তার বন্ধু স্কুল শেষে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রিজ়ার্ভার তৈরি করতে মাটি খুঁড়ে চলে আজকাল।  সেখানকার সরকারি স্কুলগুলো প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকেই এই কাজে উৎসাহ দেয়।  বলা হয়েছে, এক একটি রিজ়ার্ভার যাতে অন্তত ২ ফুট গভীর হয় সেদিকে নজর দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি এখনই। যাতে ভবিষ্যতের জন্য তারা পানি সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। নইলে সমস্যা বাড়বে। কারণ গ্রামগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। জলের উৎসও কমছে। দিন দিন জল যত কমবে লোকজন চলে যাবেন এই এলাকা থেকে।  তাই গণ সচেতনতা ও অংশগ্রণ ছাড়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তির কোনও আশা নেই।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র