Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মাদকচক্র ও অপরাধে রোহিঙ্গারা, সীমান্ত জনপদে চরম অসন্তোষ

মাদকচক্র ও অপরাধে রোহিঙ্গারা, সীমান্ত জনপদে চরম অসন্তোষ
ছবি: সংগৃহীত
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কক্সবাজার
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অনেকেই মাদক ব্যবসা, পাচার ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক লেনদেনকারী অনেক রোহিঙ্গা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে আটক ও নিহত হয়েছে। মানবিক কারণে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের এমন বেআইনি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জনপদ বৃহত্তর কক্সবাজারে সৃষ্টি হয়েছে নাগরিক চরম অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা।

প্রাপ্ত্য তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০১৯ সালের ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে অন্তত চার রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে। আগের বছরের শেষ দুই মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকসহ আটক হয়েছে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা। তাছাড়া বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা, বিয়ার ও বিদেশি সিগারেটসহ বিপুল মাদক দ্রব্য উদ্ধার করে।

জেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার নাফনদীল উলুবনিয়া, খারাইগ্যাঘোনা, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল, ঊনছিপ্রাং, কাঞ্জরপাড়া, নয়াপাড়া, ঝিমংখালী, মিনাবাজার, নয়াবাজার, খারাংখালী, মৌলভী বাজার, হোয়াব্রাং, সুলিশ পাড়া-কাস্টমস ঘাট, পূর্ব ফুলের ডেইল, নাটমোরা পাড়া-জালিয়াপাড়া, চৌধুরী পাড়া, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, রঙ্গিখালী, আলীখালী পয়েন্ট দিয়ে মোচনী, নয়াপাড়া ও জাদিমোরায় অবস্থানকারী ভাসমান রোহিঙ্গারাও মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বার্তা২৪কে জানান, রাতের বেলা ফিনী বা ঠেলা জালে মাছ শিকারের অজুহাতে ইয়াবার চালান আনা-নেওয়া ও পাচারে জড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পের বাইরে থাকা ভাসমান রোহিঙ্গারা। রাতের অন্ধকারে তারা এসব কাজ করে যাচ্ছে।

একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি (শনিবার) ভোরে টেকনাফের হ্নীলার নাফনদীর রঙ্গীখালী মোহনায় মিয়ানমার থেকে মাদক নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিজিবির সাথে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিতে মারা যায় দুই রোহিঙ্গা। তারা হলেন, মিয়ানমারের আকিয়াবের মন্ডু নাগাকুরাস্থ সিকদার পাড়ার মোহাম্মদ আলমের ছেলে আয়াজ উদ্দিন (২৭) ও একই এলাকার বদিউর রহমানের ছেলে ছৈয়দুল আমিন (২৫)।

আরোও জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি (শনিবার) কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ অংশ থেকে দুই রোহিঙ্গার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাদকের টাকা নিয়ে ভাগ-ভাটোয়ারার সময় তাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। নিহতরা হলেন- টেকনাফের উনছিপ্রাংয়ের পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে খাইরুল আমিন (৩৫) ও একই ব্লকের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (৪০)।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির নেতা হামিদুল হক চৌধুরী বার্তা২৪কে বলেন, ‘যাদেরকে আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছিলাম, তারা এখন বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। শুধু মাদক নয়, খুন ও চুরি করছে তারা। এসব অপকর্ম এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন।'

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের অসামাজিক কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের দূরত্ব ও বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। উদ্বাস্তু সমস্যার পাশাপাশি উদ্বাস্তুদের একটি অংশের মাদক পাচার ও অপরাধমূলক কাজের সংশ্লিষ্টতায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ ভীত ও উদ্বিগ্ন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শত কড়াকড়ির মধ্যেও রোহিঙ্গারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এসব অপকর্ম বন্ধ করা প্রয়োজন। নচেৎ আগামীতে চরম হুমকির মুখে পড়বে দেশ ও দেশের মানুষ।'

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পুলিশের তল্লাশি চৌকি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ নিয়মিত তল্লাশির পাশাপাশি টহলও জোরদার করেছে।’

টেকনাফস্থ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে যোগাযোগ রয়েছে। সে কারণে তারা বিভিন্ন সময় মাদক পাচারে কাজ করছে। কারণ এখানকার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে। বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।’

মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল বার্তা২৪কে বলেন, ‘সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবিরের বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। বিশাল এলাকা হওয়ায় রোহিঙ্গারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে মাদকদ্রব্য অধিদফতরের গোয়েন্দারা।

এদিকে গত ১৬ মাসে ৫৬ হাজার পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়েছে জানিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পে কাঁটাতার বেড়া নির্মাণের পরিকল্পানা নিয়েছে সরকার। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটি ও নাগরিক সমাজ মনে করে, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি রেজিস্টার্ড উন্নয়ন সংগঠনগুলোকে দিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মাদক পাচার, অপরাধমূলক কার্যক্রম মনিটরিং ও মোকাবেলা করা দরকার। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা সংস্থার উদ্যোগে সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন :

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ। আমেরিকার মহাকাশচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বুজ অ্যালড্রিন প্রথম মানুষ, যারা এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

চাঁদের পৃষ্ঠে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রং। এরপর বুজ অ্যালড্রিল। তাদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। তবে তিনি চাঁদের পৃষ্ঠে না নেমে নভোযানে অবস্থান করেন।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ‘ঈগল’ নামক এক চন্দ্রতরীতে করে তারা প্রথম চাঁদে অবতরণ করেন। নিল আর্মস্ট্রং চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে বলেছিলেন, "That's one small step for man, one giant leap for mankind." (মানুষের ক্ষুদ্র এই পদক্ষেপটি মানব সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেল।)

Moon

চাঁদে মানুষ পাঠানো নিয়ে আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ছিল মর্যাদার লড়াই। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক নামক কৃত্রিম উপগ্রহ প্রথম মহাকাশে পাঠায় রাশিয়া। এতে চন্দ্র জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যায় দেশটি।

এরপর ১৯৬৬ সালে রাশিয়ার লুনা-৯ নামক উপগ্রহ চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করে। এর দুইমাস পর লুনা-১০ নামক আরেকটি উপগ্রহ চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপন করে রাশিয়া। তারা চন্দ্রজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও মানুষ পাঠানোর মতো প্রযুক্তি তখনও তারা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে তাদের মহাকাশ অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হয়।

Moon

এরমধ্যে ১৯৬৮ সালে মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মহাকাশে অ্যাপোলো-৮ নামে মানুষ বহানকারী একটি যান মহাকাশে পাঠায়। সেটি চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ তে চড়ে চাঁদে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রংরা।

পাখি ও আলোর জীবনী : প্রাচ্যচিন্তার দুই চিন্তক

পাখি ও আলোর জীবনী : প্রাচ্যচিন্তার দুই চিন্তক
আব্বাস ইবনে ফিরনাস : যিনি প্রথম পাখি হয়েছিলেন

জ্ঞানচর্চার জাত-ধর্ম হয়না।
‘Mankind: The Story Of All Of Us’—বেশ পরিচিত। মানুষের ইতিহাস নিয়ে আমেরিকান সিরিজ। মজার ব্যাপার হলো, স্পেনের এক ভদ্রলোককে নিয়ে আছে লম্বা বয়ান। যেখানে ইসলামের নবী মুহম্মদকে নিয়ে বলা হয়েছে খুবই অল্প। ভদ্রলোকের নামে কর্ডোবাতে ব্রিজেরও নামকরণ করা হয়েছে। আরো বড় কথা, চাঁদে একটা ক্রেটারের নাম তাঁর নামে। বলা বাহুল্য, ক্রেটার হলো গ্রহের পৃষ্ঠতলে বিস্ফোরণ, উল্কাপতন কিংবা মহাকাশীয় বস্তুর আঘাতে সৃষ্ট গহ্বর। ভদ্রলোকের নাম আব্বাস ইবনে ফিরনাস।

নবম শতক। স্পেনে মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগ। কর্ডোবার এক জ্ঞানী ব্যক্তিকে দেখা গেল পাখা বানাতে। পাখির ওড়ার কৌশল তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। প্রস্তুতি শেষ হলো। মানুষকে অবাক করে উঠলেন উঁচু টাওয়ারে। তারপর দিলেন লাফ। মৃত্যু হতে পারত কিন্তু হলো না। বরং সফলভাবেই উড়লেন একরকম। শুধু ল্যান্ড করার সময় পড়ে গিয়ে আহত হলেন। কারণ লেজের ধারণায় ত্রুটি ছিল। বেশকিছু হাড় ভাঙল। ততক্ষণে রচিত হয়েছে প্রথম মানব হিসেবে উড্ডয়নের ইতিহাস। সেই আব্বাস ইবনে ফিরনাস। বুঝলেন, পাখির মতো একটা লেজ না হলে ল্যান্ডিং সমস্যা ঘুচবে না। যতদিন বেঁচে ছিলেন, কাজ করেছেন এ নিয়ে।

ওড়ার জন্য পাখা তৈরিতে ফাঁপা কাঠ ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়। ইবনে ফিরনাস সম্পর্কে লিখেছেন ঐতিহাসিক মুহম্মদ আল মাক্কারি। তৎকালীন কর্ডোবার শাসক প্রথম মুহম্মদের (মৃ.-৮৮৬) দরবারি কবি মুমিন ইবনে সাইদ লিখেছিলেন, “ফিরনাস যখন শকুনির পালক পরে, তখন ফিনিক্সের চেয়েও দ্রুতবেগে উড়তে পারে।” আরমেন ফিরম্যান বলে ল্যাটিন যে নামটা মধ্যযুগের ইউরোপেও ছিল, তা ইবনে ফিরনাসেরই বলে ধরা হয়।

তবুও তাঁর কাজ শুধুমাত্র এটাই ছিল না। একটা চেইন রিংয়ের ডিজাইন করেছিলেন, যার দ্বারা গ্রহ-নক্ষত্রের গতি অবিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতো। মাকাতা নামে জলঘড়ির আবিষ্কার করেন। ম্যাগনিফাইং গ্লাস বলে যা আজ পরিচিত, তা অনেকটা তাঁর হাত ধরেই আসে। আগে মিশর থেকে কোয়ার্টজ আমদানি করা হতো স্পেনে। ইবনে ফিরনাস ‘রক ক্রিস্টাল’ কাটার পদ্ধতির অগ্রগতি ঘটিয়ে এ থেকে মুক্তি দেন। তাঁর পরিচয়ে বলা হয়—প্রকৌশলী, রসায়নবিদ, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, দার্শনিক, কবি এবং সংগীতজ্ঞ।

‘Cosmos: A spacetime Odyssey’—পণ্ডিতি ধাঁচের আরেক পশ্চিমা ডকুমেন্টারি সিরিজ। প্রভাবশালী এস্ট্রোফিজিসিস্ট কার্ল সেগানের Cosmos থেকে উদ্ভূত। অনুরূপ জ্যাকব ব্রনস্কির The ascent of man। সেকুলার বয়ান। তবু উভয়ক্ষেত্রেই এসেছে প্রাচ্যের এক আলোকবিজ্ঞানীর নাম। নিউটন, আইনস্টাইন, কোপার্নিকাস কিংবা হাবলের আলোচনা করার সাথে। চাঁদের একটা ক্রেটারের নাম দেওয়া হয়েছে তাঁর নামেও। ভদ্রলোকের নাম ইবনে আল হাইথাম বা আলহাজেন। জন্ম ৯৬৫ আর মৃত্যু ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে। বসরায় জন্ম নেওয়া কায়রোয় বসবাসকারী এই পণ্ডিতের সম্পর্কে প্রাচ্যবাসী প্রায় অনেক কিছু জানে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563620749290.jpg

ইবনে আল হাইথাম: আলোকবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক চিন্তক ◢

 

মরুভূমিতে একবার তাবু তৈরি করলেন তিঁনি। এমন আবদ্ধ যে ভেতরটাতে কোনো আলো আসতে না পারে এবং বাতি বন্ধ করলে যেন ঘুটঘুটে অন্ধকার তৈরি হয়। তাবুর দেয়ালের একপাশে রাখা হলো সূক্ষ্ম একটা ফুটো। বাতি বন্ধ করে দিলে দেখা হলো অদ্ভুত কাণ্ড। ফুটো দিয়ে আলো প্রবেশ করছে। প্রবেশ করা আলোর গতিপথ সরল। এবং আলো আপতিত হয়ে উল্টো বিম্ব তৈরি করে। এই একটা পরীক্ষা দিয়ে আল হাইথাম ভুল প্রমাণ করে দিলেন তার পূর্ববর্তী ধারণাকে। প্রতিষ্ঠিত করলেন আলোর গতি, ধর্ম ও ক্যামেরার ধারণা। এইখানেই শেষ না। নিউটনের কয়েকশো বছর আগে হাইথামের লেন্স নিয়ে কাজের পাণ্ডুলিপি আজও ইস্তাম্বুলে বিদ্যমান।

আলো এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান খুব সম্ভবত তার প্রিয় বিষয় ছিল। অধিকন্তু ক্যালকুলাস, সংখ্যাতত্ত্ব, জ্যামিতি ও জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় তার অবদান ব্যাপক। বায়হাকি তাকে দ্বিতীয় টলেমি বলে স্বীকৃতি দেন। তার কিতাবুল মানাজির ল্যাটিনে অনুদিত হয়েছে ত্রয়োদশ শতকেই। বইটি সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিলো বেকন, গ্যালিলিও, কেপলার, দেকার্তে, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি এবং রেনেসাঁসের অন্যান্য পণ্ডিতের।

মানুষের চোখের গঠন সংক্রান্ত তার তত্ত্ব ছিল রীতিমতো বৈপ্লবিক। ইস্তাম্বুলে রক্ষিত কিতাবুল মানাজিরের প্রথম খণ্ডে বিধৃত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিঁনি বলেন—The duty of the man who investigates the writings of scientists, if learning the truth is his goal, is to make himself an enemy of all that he reads, and ... attack it from every side. He should also suspect himself as he performs his critical examination of it, so that he may avoid falling into either prejudice or leniency.৷ — আল হাইথাম।

খুব সম্ভবত একারণেই Matthias Schramm আল হাইথামকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সত্যিকার স্থপতি বলতে চান।

জ্ঞানচর্চায় প্রাচ্যের পতন ঘটেছে অনেক আগে। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে এসে ইবনে হাইথাম কিংবা আব্বাস ইবনে ফিরনাসেরা ঠিকই পাশ্চাত্য জ্ঞানচর্চায় আলোচিত হয়। জ্ঞানের কোনো জাত-কাল-ধর্ম নেই। কেবল হয় না প্রাচ্য সমাজে। একসময় যেখানে বায়তুল হিকমা ছিল, আজ সেখানে গৃহযুদ্ধের গন্ধ। একসময় যারা গ্রহ নক্ষত্রের গতিপথ নিয়ে তত্ত্ব কপচিয়েছে। আজ তাদের বংশধর ঘর হারিয়ে ঘুরছে পথে। ইতিহাস খুবই নির্মম। বিশেষ করে তাদের প্রতি, যারা তাদের শিকড় ভুলে যায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র