দখিনা বাতাস লাগে প্রাণে

চবি ক্যাম্পাসে জাগছে বসন্ত, ছবি: বার্তা২৪.কম

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম

বদলে গেছে বাতাসের গতিপথ। উত্তরের হিমেল বায়ু থেমে গেছে। বইছে দক্ষিণ থেকে আসা নাতিশীতোষ্ণ কোমল হাওয়া। সাজছে বসুন্ধরা। প্রকৃতি। পরিবেশ। পত্র-পুষ্প-পল্লব।

দখিনা বাতাস মন ও প্রাণে লাগতেই অনুভব করা যাচ্ছে বসন্তের ছোঁয়া। সর্বত্র এখন বাসন্তী শিহরণ। শীতের আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠছে নতুন প্রাণ। নবজীবনের দোলায় উচ্ছ্বল প্রকৃতি ও মানুষ।

ক্যালেন্ডারের অপেক্ষা না করেই বসন্ত কড়া নাড়ছে। মাসের হিসাব তোয়াক্কা না করেই প্রকৃতি এবার শীতকে জানিয়েছে আগাম বিদায়। গাছে, আকাশে, ঘাসে, গুল্মে তাকালেই দেখা যাচ্ছে বসন্তের উল্লাস। না বললেও টের পাওয়া যাচ্ছে, 'বসন্ত জাগ্রত দ্বারে'।

ঋতুচক্র বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি, জীব ও উদ্ভিদ, বায়ুপ্রবাহ বদলে যায়। শীত আসে সঙ্গে করে উত্তর দিক থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাস নিয়ে। পৃথিবীর নিয়ম নড়ে যায় প্রকৃতির পালাবদলে।

শীত শেষে বসন্ত আসে দক্ষিণ দিক থেকে আসা উষ্ণ বাতাসের স্পর্শে, যাকে 'বসন্ত সমীরণ' নামে মন-প্রাণ জুড়ানো বাতাসের আবহে গানে, কবিতায় বলা হয়েছে। সংস্কৃতি ও জীবনচর্চায় ঋতুরাজ বসন্তের উদ্ভাস উতল হাওয়ায়। আলো ঝলমলে রঙের বাহারে। সৌরভস্নাত ধরত্রীর প্রাণপ্রবাহে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549888327630.jpg

বসন্তের নতুন বাতাস, সুবাস আর উজ্জ্বল আলোর স্পর্শে শীতঘুম শেষে জাগে রঙিন প্রকৃতি। মুকুলে মুকুলে ভরে যায় আমের কুঞ্জ। পলাশের ও শিমুলের ডালে ডালে রক্তলাল ফুলের সমাহারে যেন আগুন লাগে গাছে গাছে। কোকিল ডেকে যায় কুহুরবে। ফুল আর প্রজাপতির মেলায় বসন্ত ডাক দেয় উৎসবের, আনন্দের। আবাহন জানায় ভালোবাসা দিবসের অনিন্দ্য মাহেন্দ্রক্ষণে।  হৃদয় জাগানো উল্লাসে চিরায়ত মানব-মানবীকে ডেকে যায় শাশ্বত বসন্ত।

পাহাড় ও বনানীর মিতালী যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসকে নান্দনিক প্রাকৃতিক শোভার পাদপীঠে পরিণত করেছে, সেখানে বসন্ত এসে গেছে রাজসিক বর্ণময়তায়। সারি সারি বৃক্ষের প্রলম্বিত মিছিলের শীর্ষে পরিযায়ী কুয়াশার ছোপ উধাও হয়ে এসেছে সবুজের ঢেউ। উদ্যানে বাহারী ফুলের কেয়ারি এনেছে রঙের বন্যা। জানালায় ছায়া ফেলছে উদ্ভিদের জীবন্ত আভাস আর পাখিদের কাকলি।

স্নিগ্ধকর দিন শুরু হচ্ছে মখমল কোমল বাতাসে। তীব্রতাহীন রোদের দিন পেরিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিতে হৃদয় কাঁপানো আদুরী বাতাসে। বিকেল নামছে লালাভ দীর্ঘ কিরণের লুকোচুরিতে। সন্ধ্যা আসছে ধীর পায়ে, পাখির কলতান আর পাতাদের  মর্মরে। স্বস্তিকর রাতগুলো বুলিয়ে দিচ্ছে বাসন্তিক আমেজ।

প্রকৃতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সেজেছে বসন্তের সাজে। মানুষ আর প্রকৃতির অমোচনীয় সম্পর্কের মায়াজাল বিস্তার করে বসন্ত তাপিত জীবন ও জগতের সামনে নিয়ে এসেছে ভালোবাসার এক অপূর্ব সুন্দর স্বপ্নের পৃথিবী।

ফিচার এর আরও খবর

ভালোবাসার মিনার...

অজপাড়া গাঁতে আছি। এই গাঁও গেরাম আমার চেনা। ষড়ঋতুতে এখানে যে বায়ু বয়, তা ঢাকাতেও আমাকে যেন স্পর্শ করে যায়। এখানকার ...

জগতে বাংলা ভাষার জয়

জগতময় চলছে বাংলা ভাষার প্রাণময় স্রোত। জয়ধারায় বাংলা ভাষা বিশ্বের সকল প্রান্তেই মানুষের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। সম...

একজন ডা. শেখ মহিউদ্দিন

অনেক শিল্পপতির আগমনে সেই অফিস-কারখানার কর্মচারীদের চলাচল সীমিত করা হয়। কেউ কেউ আছেন প্রটোকল পেতে ভালোবাসেন। তার...

মানসম্পন্ন বই

বাংলা একাডেমীর অমর একুশে বইমেলা শেষ হলে একটি পরিসংখ্যান বের হয়। তাতে কত টাকা বিক্রি হয়েছে সে তথ্য অত্যন্ত গুরুত্...