Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

ফেসবুক-টুইটারের যুগে বাংলা ভাষা

ফেসবুক-টুইটারের যুগে বাংলা ভাষা
ছবি: বার্তা২৪
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এ যুগ ফেসবুক, টুইটারের। যার অন্য নাম তথ্য প্রযুক্তির বিশ্ববিপ্লব। বলা হয়, এটাই বিশ্বায়নের আসল চেহারা।

যোগাযোগের বিশ্বায়ন শুধু যে পুরো পৃথিবীকে কাছে নিয়ে এসেছে, তা-ই নয়। বিশ্বায়ন তথ্য-প্রযুক্তির বৈপ্লবিক বিকাশের পথে সমগ্র জগতকে নিবিড়ভাবে কাছে নিয়ে এসেছে। দেশ-মহাদেশকে অদৃশ্য তথ্য প্রবাহের বিদ্যুতে সংযুক্ত করেছে।

এমন প্রবল স্রোতে কান পাতলেই এখন বিশ্বায়নের হাওয়ায় হাওয়ায় বাংলা ভাষার রক্তাস্নাত স্বর আর ব্যাঞ্জণ বর্ণগুলোতে গুঞ্জরিত হতে শোনা যায়। ফেসবুক, টুইটার, গুগুলের দেয়ালে অম্লান ফুটে আছে আ মরি বাংলা ভাষা।

কে না জানে যে, সমকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ফেসবুক আর টুইটারও হয়ে উঠছে দ্রুততম উপায়ে স্বদেশ অথবা বিদেশের বহু দূর-দূরান্তের সুহৃদ মহলের সঙ্গে সামাজিকভাবে আলাপচারিতার এক নির্ভরযোগ্য সংযোগ মাধ্যম। যারা পঞ্চাশ, ষাট অথবা সত্তরের দশকে স্বপ্নের প্রবাস জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়ে বিদেশবাসী হয়েছিলেন, তাদের পক্ষে একবিংশ শতকের এই উন্নত টেকনোলজির মাধ্যমে স্বদেশের সঙ্গে, নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে, মাতৃভাষার সঙ্গে যোগাযোগ সংরক্ষণ সম্ভবপর ছিল না বলেই সন্তান সন্ততিদের নিয়ে নিজেরাও বিদেশি সংস্কৃতি এবং বিদেশি ভাষাকে গ্রহণ করতে তৎপর হয়েছিলেন। আজ প্রযুক্তি সংকট কাটিয়ে দিয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি এখন বৈশ্বিক বাঙালিকে দিচ্ছে শেকড়ের সন্ধান।

ভাষা, সংস্কৃতি, গান, বাজনা, তথ্য, উপাত্ত, ইতিহাস, ঐতিহ্য সুদূর প্রবাসের একাকী ও নিঃসঙ্গ বাঙালিকে বিরূপ পরিবেশেও সমৃদ্ধ করছে। বিশ্বায়ন আর তথ্য-প্রযুক্তি একদিকে যেমন সুযোগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে কিছু ভাবনার বিষয়ও সামনে নিয়ে এসেছে।

কারণ, বিদ্যমান সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্যেও সৃজনশীল ভাবনার দরকার আছে। ইন্টারনেট আসার আগেও এমনটি অনেকেই ভেবেছেন। যেমন, ইন্টারনেট অথবা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার যুগ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই কোনো কোনো বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ দ্য ল্যাঙ্গুয়েজেস এন্ড কালচারস অব সাউথ এশিয়া ফ্যাকাল্টি’তে সংস্কৃত, উর্দু, তামিল, পাঞ্জাবি প্রভৃতি দক্ষিণ এশীয় ভাষাগুলোর পাশাপাশি বাংলা ভাষায় শিক্ষালাভের ব্যবস্থাও প্রচলিত ছিল এবং এখনও সেটা রয়েছে ক্রমবর্ধিষ্ণু হারে। বিদেশের এলিমেন্টারি ক্লাসগুলোর সিলেবাসে বাংলা বর্ণমালা, বাংলা শব্দ তালিকার বেসিক শব্দাবলি আর অতি প্রয়োজনীয় ব্যাকরণ বিষয়ক কোর্স সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। যারা ইন্টারমিডিয়েট অথবা আরো অ্যাডভান্সড ডিগ্রি অর্জন করতে উৎসুক, তাদের সিলেবাস কমপ্লিট করার জন্য রয়েছে উনিশ ও কুড়ি শতকের বাংলা ক্লাসিক সাহিত্যের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয়ের ওপরে বিভিন্ন গবেষণামূলক কোর্স। ক্লাসিক সাহিত্য রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, বিভূতিভূষণ, তারাশংকর, শরৎচন্দ্রসহ স্বল্প পরিচিত কিন্তু উন্নতমানের কিছুসংখ্যক কবিসাহিত্যিকরা।

ইউরোপ, আমেরিকার আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলা ভাষা শিক্ষালাভে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের যে সীমিত সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি সেসব প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য করা যায়, দুঃখের কথা হলো, তাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অবাঙালি। প্রবাসী বাঙালির দ্বিতীয় কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে পূর্বপুরুষদের ভাষার প্রতি অতীত কিংবা বর্তমানে সেভাবে কখনই সশ্রদ্ধ ঔৎসুক্য অথবা আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়নি, এমন নয়। তবে যে হারে সেটা হওয়া উচিত ছিল, সেটা হয় নি। ইন্টারনেট ও সাইবার জগতেও প্রবাসী প্রজন্ম ভাষা-সংস্কৃতির জন্য জোর কদমে এগিয়ে আসছে না। বরং ঢাকা, কলকাতা থেকেই বাংলাকে নিয়ে কিছু কিছু কাজ হচ্ছে ভার্চুয়াল লাইফে।

সাইবার স্পেসের বাইরে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপ-আমেরিকার যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ দ্য ল্যাঙ্গুয়েজেস এন্ড কালচারস অফ সাউথ এশিয়া ফ্যাকাল্টি’ রয়েছে, তারা বিশ্বখ্যাত। যেমন, ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো, ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া, ইউনিভার্সিটি অফ উইসকন্সিন (যুক্তরাষ্ট্র)। ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ভ্যাংকুভার (কানাডা)। ইউনিভার্সিট অফ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অফ কেম্ব্রিজ, ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড, স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ-সোয়াস (যুক্তরাজ্য)। জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়াতেও ক্রমবর্ধমান হারে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সেন্টার হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাংলাদেশ স্টাডিজ চালু হওয়ার কথাও জানা যাচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে বাঙালির চেয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী বের হচ্ছে বেশি।

ফলে বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি, নৃতত্ত্ব, ভাষা, সংস্কৃতিসহ সমুদয় বিষয়ই চর্চা ও গবেষণা হওয়ার সুযোগ ঘটেছে, যা স্বল্প সংখ্যক বিদেশি কাজে লাগালেও প্রবাসী বাঙালি প্রজন্ম পুরোপুরি গ্রহণ করছে না। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রবাসীর অংশগ্রহণ আসলেই আশাব্যাঞ্জক নয়।

পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও সংস্থার মাধ্যমে তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ সুযোগ সাইবার জগতে বাংলা সংক্রান্ত তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার সাজিয়ে দিচ্ছে। এতো কিছু হলেও সেখানে প্রবাসী বাংলা ভাষীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বাড়ছে না।

বাংলা ভাষীদের অংশগ্রহণ ও সংযুক্তি না বাড়লে বিশ্বায়নের বিরাট বড় দুনিয়ায় বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে কে? বিশ্বের মোট বাঙালির যে ২০-৩০% ভাগ সদস্য প্রবাসে জীবন-যাপন করেন, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে তারা নিশ্চুপ ও নিস্পৃহ হলে তা কেবল বেদনাবহই নয়, চরম দুঃখজনকও বটে।

আপনার মতামত লিখুন :

কফি সমাচার

কফি সমাচার
বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি

কফি নামটা শুনলেই অনেকের মধ্যে চাঙ্গাভাব চলে আসে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কিংবা একঘেয়ে ভাব দূর করতে কফির বিকল্প নেই। আর এই কারণেই বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি। জেগে থাকতে হলে কফি চাই এমনই নিয়ম। অনেকের যেমন দিন শুরু হয় না, তেমনি অনেকের রাতজাগাও অসম্পূর্ণ থেকে যায় কফি ছাড়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641523098.jpg
কফি মূলত একটি ফল


কফি মূলত একটি ফল। আমরা যে কফি পান করি, তা কফির বীজ বা বিন, গুঁড়ো করেই তবে তৈরি হয় কফি। ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডাচ koffie শব্দের মাধ্যমে coffee শব্দটি ইংরেজি ভাষায় গৃহীত হয়। এই ডাচ শব্দটি আবার তুর্কি শব্দ kahve থেকে উদ্ভূত; তুর্কি শব্দটি আরবি qahwa শব্দেরই পরিবর্তিত রূপ। এই শব্দান্তরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কফির বিস্ময়কর ইতিহাস।

কফির আবিষ্কার

কফির আবিষ্কার নিয়ে বেশ কিছু মতবাদ রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গল্পটি একজন মেষ পালককে ঘিরে। নবম শতকে ইথিওপিয়ায় বাস করত খালদি নামের এক দরিদ্র মেষপালক। একদিন খেয়াল করল তার ছাগলগুলো অন্যদিনের চেয়ে আজ একটু বেশি লাফালাফি করছে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখল লাল জামের মতো একটি ফল খাচ্ছে ছাগলগুলো। ঘটনার বর্ণনাসহ কারণ জানতে ফলগুলো সে নিয়ে যায় মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে। তারপর সেই ইমাম এবং তার ছাত্ররা মিলে এই ফল থেকে তৈরি করে পানীয়, যা আজ কফি হিসেবে পরিচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641883872.jpg
পাখি কফি খাচ্ছে


অন্য আরেকটি মত অনুযায়ী, কফি মূলত ইয়েমেনে আবিষ্কার হয়। সেখানে ঘোতুল আব্দুল নুরুদ্দীন আবুল আল-হাসান আল-সাদিলি নামে একজন সুফি ছিলেন। তিনি একবার ইথিওপিয়া সফর করতে গেলে একটি পাখিকে লাল রঙের একটি ফল খেতে দেখে কৌতূহলবশত নিজেও তা খেয়ে দেখেন। এরপর আগের সেই গল্পের মতোই তিনিও চাঙ্গা অনুভব করেন এবং আবিষ্কার হয় কফির।

বিক্রির দিক থেকে তেলের পরেই রয়েছে কফি

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে তেল। আর এরপরই যে বস্তু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তা হলো কফি। সারা পৃথিবীতে বছর জুড়ে প্রায় ৫০০ বিলিওন কাপ কফি তৈরি হয়। তবে কফিপানের পরিমাণের দিক থেকে আমেরিকানদের ধারেকাছেও কেউ নেই। আমেরিকানরা গড়ে প্রতিদিন ৪০০ মিলিওন বা ৪০ কোটি কাপ কফি পান করে। বছর শেষে যার পরিমাণ প্রায় ১৪৬ বিলিওন। এরমধ্যে শুধু নিউইয়র্ক শহরে সারা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি কফি পান করা হয়।

পাপের বাহন কফি

কফি আবিষ্কারের পেছনে মুসলমানদের অবদান থাকলেও একটা সময় সৌদি কিংবা মিশরের মতো দেশে ফতোয়া জারি করে কফিপান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই পরিস্থিতি দেখা দেয় ইউরোপেও। ইতালির ভেনিসেও পৌঁছে গিয়েছিল কফি। কিন্তু এই কফি মুসলমানদের আবিষ্কার হওয়ার কারণে এবং রেড ওয়াইনের জায়গা গ্রহণ করে ফেলায় কট্টর ক্যাথলিকেরা একে শয়তানের তিক্ত আবিষ্কার বলে মন্তব্য করেন। যদিও পরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সবখানেই কফি জায়গা করে নেয় সগৌরবে।

সারা বিশ্বে প্রায় ৫০টির মতো দেশ কফি উৎপাদনের সাথে জড়িত। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছে প্রায় ৫ কোটি মানুষ। আবিষ্কার অন্যত্র হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট উৎপাদিত কফির ৪০ শতাংশ আসে ব্রাজিল থেকে। বিভিন্ন দেশে ও স্থানে কফি উৎপাদিত হলেও আমেরিকার হাওয়াই-এর কফি সবচেয়ে দামি এবং সর্বোৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কফির প্রকারভেদ

পৃথিবীব্যাপী যত কফি আছে তাকে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়—এরাবিকা এবং রোবুস্টা। এরাবিকাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। রোবুস্টা খুব তিতকুটে হওয়ার ফলে এর চাহিদা খুব বেশি নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642015176.jpg
এরাবিকা এবং রোবুস্টা কফির দুই জাত


তবে পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় কফি হলো এসপ্রেসো। “এসপ্রেসো” শব্দের অর্থ আক্ষরিকভাবেই “জোর করে কিছু বের করে দেওয়া!” এটি তৈরি করা হয় ফুটন্ত পানি কফির গুঁড়োর ভেতর দিয়ে চালনা করে। জেনে অবাক হবেন সাধারণ কফির তুলনায় প্রতি একক ঘনত্বে ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642084888.jpg
ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে


অন্যদিকে ডিকেইফ নামে একধরনের কফি আছে যেটাকে বলা হয় ক্যাফেইনমুক্ত কফি। এই কফি বানানোর সময় বেশি রোস্ট করা হয় বলে অনেক ক্যাফেইন উড়ে যায়।

দামি কফি

দুনিয়ার অন্যতম দামি কফি—“Kopi Luwak”—এর প্রতি আউন্স বীজের দাম ৬০০ ডলার! অবাক হলেন? এখানেই শেষ না। অবাক হওয়ার এখনো অনেক বাকি। সুমাত্রান নামে এক জাতের জংলি বিড়াল আছে যাদের এই কফির বীজগুলো খাওয়ানো হলেও হজম হয় না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642179467.jpg
দামি কফির নেপথ্য নায়ক সুমাত্রান বিড়াল ◢


ফলে আংশিক পরিবর্তিত হয়ে বেরিয়ে আসে বিষ্ঠার সাথে। বলা ভালো সুমাত্রান বিড়ালের বিষ্ঠা থেকে উদ্ধারকৃত বীজগুলো থেকেই তৈরি করা হয় পৃথিবীর অন্যতম দামি কফি “Kopi Luwak”।

রোগ মুক্তি এবং আক্রান্ত হওয়ার বাহন কফি

কফি একই সাথে রোগমুক্তির এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। কাউকে মেরে ফেলেতে চাইলে তাকে একাধারে প্রায় ১০০ কাপ কফি খাওয়ালেই চলবে। আবার একই সাথে পরিমিত কফি পান হতে পারে আপনার জন্য আশীর্বাদ। এতে যেমন অবসাদ কাটে তেমনি এতে পাওয়া গেছে নারীদের স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপাদান, আছে ডায়াবেটিস টাইপ ২ এবং বয়ঃবৃদ্ধদের আলঝেইমার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম নানান উপাদান। কফিপানে হৃদপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে উদ্যম ও উৎসাহ তৈরি করে।

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে
বিশ বছর বয়সেই ডমিঙ্গো নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা

সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় স্টিভ রোডসকে ছাঁটাইয়ের পর যখন বিসিবি নতুন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিল, তাতে সাড়া দিয়ে অন্য সবার আগে ঢাকায় এসেছিলেন এক দক্ষিণ আফ্রিকান। সব যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪ বছর বয়সী সেই দক্ষিণ আফ্রিকানকেই নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের নতুন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথা—বাইশ গজে ব্যাট-বলের লড়াই ছেড়ে বিশ বছর বয়সেই যিনি নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা।

১৯৭৪ সালে পোর্ট এলিজাবেথে জন্ম নেওয়া ডমিঙ্গোর খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থেকেছে ইস্টার্ন প্রভিন্সের যুবদলের মধ্যেই। সিনিয়র দলে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ রাসেল মাত্র বাইশ বছর বয়সেই পেয়ে যান প্রথম কোচিং সনদ, আর ২৫ বছর বয়সে সেই ইস্টার্ন প্রভিন্সে ফিরে আসেন যুবদলের কোচ হিসেবে।

জাতীয় দলে কিংবা ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সুনাম কুড়ানোর ঘটনা বিরলই বটে। হিলটন অ্যাকারম্যানের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় একাডেমিতে কাজ করা ডমিঙ্গো বাংলাদেশে পা রাখেন ২০০৪ সালে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেই আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে কাজ করা রাসেল ডমিঙ্গো ঠিক তার পরের বছর শীর্ষ ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে প্রায় ৬ জন ক্রিকেটারের ডাক পড়ে জাতীয় দলে। ২০০৯-১০ মৌসুমে ঘরোয়া ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের সিংহাসনে বসার পাশাপাশি টানা দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টুয়েন্টি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ওয়ারিয়র্স। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডমিঙ্গোর ওয়ারিয়র্স অবশ্য ফাইনালে হেরে যায় আইপিএল শিরোপাধারী চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632079923.jpg
ডমিঙ্গো বাংলাদেশে প্রথম পা রাখেন ২০০৪ সালে


জাতীয় পর্যায়ে কোচিংয়ের সুযোগ লুফে নিতে কখনো দ্বিধা করেননি। ২০১০ সালে ফের বাংলাদেশ যাত্রায় রাসেল দায়িত্ব পান দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের। এর পরের বছর নিজভূমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ফিরতি সফরেও একই পদে বহাল থাকা ডমিঙ্গো সে বছরের জুনেই ডাক পান সিনিয়র দলের কোচিং ইউনিটে। হেড কোচ গ্যারি কারস্টেনের সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডমিঙ্গোকে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে অবশেষে সহকারীর তকমা ঝেড়ে ফেলেন রাসেল ডমিঙ্গো। টি-টুয়েন্টি দলের হেড কোচ হিসেবে কারস্টেনের স্থলাভিষিক্ত হন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ঠিক আগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে সময় শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট না খেলে কোনো জাতীয় দলের হেড কোচ হওয়ার কীর্তি এই ডমিঙ্গো আর একই সিরিজের কিউই কোচ মাইক হেসনের ছাড়া ছিল না আর কারোই। বেশ ভালোভাবেই সে দায়িত্ব পালন করতে থাকা ডমিঙ্গোর কোচিং ক্যারিয়ারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয় ঠিক তার পরের বছরেই। ২০১৩ সালের মে মাসে সব ফরম্যাট থেকে গ্যারি কারস্টেনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় পুরো জাতীয় দলের দায়িত্বই বর্তায় ডমিঙ্গোর কাঁধে।

পরে রাসেলের চুক্তির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ায় প্রোটিয়া বোর্ড। তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা এরপর ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ করে সেমিফাইনালে পৌঁছে। ২০১৭ পর্যন্ত হেড কোচের দায়িত্ব পালন করা রাসেল ডমিঙ্গো পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে সাড়া পাননি বোর্ডের। ওটিস গিবসন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলে ডমিঙ্গো আবার ফিরে যান নিজভূমে, ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ম্যাভেরিকসকে নিয়ে কাটান ব্যস্ত সময়। পাশাপাশি বহাল ছিলেন প্রোটিয়াদের ‘এ’ দলের কোচের পদে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632115903.jpg
তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছায়


আর দশজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতো অবসরের পর খেলাটিকে ভিন্ন স্তরে নিয়ে যাবার চেষ্টা নয়, বরং পুরোদস্তুর পেশাদার এক কোচ হবার লক্ষ্য অনুসরণেই নিজেকে গড়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। প্রধান কোচের ভূমিকায় সাধারণত প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সাফল্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত বলে তা ডমিঙ্গোর জন্যও সবসময় ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং—“যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ে খেলবার কোনো শংসাপত্র আমার নেই, তাই নিশ্চিতভাবেই সেই মর্যাদাটা আমাকে অর্জন করে নিতে হতো। হয়তো এটা এভাবেই হবার কথা, তাই আমাকে সবচেয়ে কঠিন পথটি বেছে নিতে হয়েছিল আর হতে হয়েছিল খেলাটির এক মনোযোগী ছাত্র।”

সৌভাগ্যক্রমে ডমিঙ্গো সে লক্ষ্য অনুসরণে নিজেকে চেনান একেবারে শুরুতেই, আর ২০০০ সালের গোড়ার দিকে অংশ নেন মনোযোগী ছাত্র হবার জন্য আদর্শ এক আয়োজনের। তাঁকে কোচ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রোটিয়া বোর্ডের নেওয়া উদ্যোগে রাসেল শিক্ষানবিশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ড্রেসিংরুমে সময় কাটান বব উলমার ও গ্রাহাম ফোর্ডের সাথে। সেখানে শক্ত বন্ধন গড়েন মাত্র সাতটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে প্রায় একইরকম আড়ম্বরহীন ক্যারিয়ার কাটানো ফোর্ড ও কারস্টেনের সঙ্গে।

কোচ হিসেবে গ্রাহাম ফোর্ডকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মনে করতেন রাসেল। দারুণ জয়ের উদযাপনে বাঁধ দেওয়া কিংবা অপ্রত্যাশিত হারে বিচলিত না হবার দীক্ষা যে তাঁর থেকেই পেয়েছিলেন। যুবদল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সবসময়ই আলাদা রেখেছে অন্য যে কোনো কোচ থেকে। এমনকি ইয়োহান বোথা, রবিন পিটারসনদের মতো তারকাদের নিজ হাতে গড়েছিলেন রাসেল। নিজের অধীনে শুধু পাননি গ্রায়েম স্মিথ আর এবি ডি ভিলিয়ার্সদের।

রাসেল ডমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার খোলনালচে পাল্টে দেবার মিশনে প্রয়োগ করেছিলেন নিজের জীবন থেকে নেওয়া সব শিক্ষা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াও বিনয় ও পরিণতিবোধের সাহায্যে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, সেটি প্রমাণেই নিরলস কাজ করে গেছেন তিনি। সেই ধারায় এবার নিয়োগ পেলেন টাইগারদের হেড কোচ হিসেবে। কোচিং ইউনিটে যেখানে সাথে পাচ্ছেন নিল ম্যাকেঞ্জি, শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট, রায়ান কুকের মতো অভিজ্ঞ স্বদেশীদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632201027.jpg
আপাতত দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের কোচ হয়েছেন ডমিঙ্গো


দায়িত্ব পেলে পরের দিনই নেমে পড়বেন কাজে—রাসেলের এমন প্রতিশ্রুতিতে প্যাশনের আঁচ পেয়েছে বিসিবি। বোর্ডকে তেমন কোনো শর্তের বেড়াজালেও ফেলেননি বলেই তালিকার বাকি দুজনকে হটিয়ে রোডস-উত্তর বাংলাদেশ দলের গুরু নিযুক্ত হলেন কদিন বাদেই ৪৫-এ পা রাখতে যাওয়া সদা হাস্যোজ্জ্বল এই অভিজ্ঞ কোচ। শুধু জাতীয় দলই নয়, রাসেলের কর্মপরিকল্পনায় থাকবে ‘এ’ দল, হাইপারফরমেন্স এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। আপাতত আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করলেও ডমিঙ্গো প্রথম পরীক্ষায় বসছেন আসছে সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজটি দিয়ে।

“উপমহাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দিতে নয়, বরং এই ধারার সাথে মানিয়ে বদলে যেতে এসেছি”—রাসেল ডমিঙ্গোর এমন আশাবাদে নতুন যুগে পা রাখতে যাচ্ছে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। জীবনে বহু চরাই-উৎরাই পার করে আসা এই দক্ষিণ আফ্রিকানের নতুন মিশনে রইল শুভকামনা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র