Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হালালের প্রতি ভালোবাসা

হালালের প্রতি ভালোবাসা
ফরিদ আহমদ, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরিদ আহমদ


  • Font increase
  • Font Decrease

অনেকের মনে থাকার কথা, নব্বই দশকের দ্বিতীয়ার্ধে অ্যারোমেটিক সাবান প্রথম ‌হালাল' সাবান হিসেবে বাংলােেদেশর বাজারে আসে। শতভাগ হালাল সাবান। বর্তমানে হালাল কসমেটিকসের জন্য বিশ্বজুড়ে যে নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে, বাংলাদেশ অনেক আগেই এই বিষয়ে ইনোভেটিভ চিন্তা করেছে। সেই সময়টাতে অ্যারোমেটিক সাবানের বিপুল চাহিদার পেছনে হালাল শব্দটিই ছিলো প্রধান কারণ।

বিশ্বজুড়ে সচেতন মুসলমান ভোক্তাদের মধ্যে হালাল বিউটি প্রোডাক্টের আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলছে। হালাল প্রসাধন প্রীতি কেবল মুসলিমদের মধ্যেই নয়, অমুসলিমদের মধ্যেও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা কেবল প্রসাধনেই ব্যয় করেছে ৪৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় ২৩৪০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে হালাল প্রসাধনের জন্য। এই ট্রেন্ড আন্তর্জাতিক প্রসাধন ব্র্যান্ডগুলোকে নতুন সম্ভাবনাময় মার্কেটের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তাদের ব্র্যান্ডিংয়ের নতুন এই মেরুকরণ আসলে বাজার বিস্তার তথা অধিক মুনাফার জন্য।

পৃথিবীর সব আসমানি কেতাবে হালাল-হারামের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হালাল শব্দের অর্থ হচ্ছে বৈধ, উপকারী, কল্যাণকর বস্তু এবং কাজসমূহ। আর হারাম শব্দের অর্থ হচ্ছে ক্ষতিকর, অবৈধ, অকল্যাণকর কাজ ও বস্তুসমূহ। হালাল বিধান পালনেই রয়েছে আমাদের আত্মার ও দেহের কল্যাণ এবং বিবেক-বুদ্ধির সুস্থতা।

হারাম পরিহার করলে বিনিময়ে তার চেয়ে বেশি উত্তম কিছু যে পাওয়া যায় মানুষ তার জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে তা অবশ্যই উপলব্ধি করতে পারে। ধর্মীয় বিধান মোতাবেক কোনো বস্তু বা কাজ অবৈধ হিসেবে প্রমাণিত না হলে সব কিছুই বৈধ। জগতের বুকে সব সৃষ্টজীব, সৃষ্টি, আবিষ্কার, উদ্ভাবন, আসবাব মূলগতভাবে বৈধ। ইমাম সুয়ূতি বলেন, ‘বস্তুর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বৈধ।’ -আল আশবাহ লিস সুয়ূতি: ১৩৩

বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ার সাথে সাথে হালাল কসমেটিকস নিয়ে আমরা যতোটা মাথা ঘামাচ্ছি, ব্যক্তিগত জীবনে হালাল উপার্জন এবং হারাম আয় ও ব্যয় থেকে বেঁচে থাকা বা দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে সততার বিষয়ে আমরা ঠিক ততোটা মাথা ঘামাচ্ছি না। আমাদের জন্য হালাল খাবার যতটা বাধ্যতামূলক, হালাল প্রসাধনী ব্যবহার যতটা উত্তম; সৎকর্মের বিষয়ে ঠিক ততোটা বা তার চেয়েও বেশি তাগিদ রয়েছে।

আমাদের সবার উচিত সর্বদা হালাল বা বৈধ পথ, পেশা ও পদ্ধতি অবলম্বন করে হালাল উপার্জন করা। শুধুমাত্র হালাল পথ অবলম্বনের মাধ্যমেই ইহজাগতিক ও পরজাগতিক প্রশান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায়।

বিশ্বনবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উত্তম পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ করো। যা হালাল তাই গ্রহণ করো এবং যা হারাম তা বর্জন করো।’ -ইবনে মাজা: ২১৪৪

সৎ, আদর্শগত বাস্তব চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে সকলের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। সামষ্টিক পর্যায়ে প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা হলে ব্যক্তির প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকে না। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বলছেন, ‘সে সমস্ত লোক যারা রাসূল (সা.)-এর আনুগত্য করে, যিনি উম্মী নবী, যার সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে সৎকর্মের নির্দেশ দেন, অসৎকর্ম থেকে বারণ করেন; যাবতীয় পবিত্র বস্তু তাদের জন্য হালাল ঘোষণা করেন ও হারাম বস্তুসমূহকে করেন নিষিদ্ধ এবং তাদের ওপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের ওপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তার ওপর ঈমান এনেছে, তার সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাকে সাহায্য করেছে এবং সেই নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সঙ্গে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।’ -সূরা আরাফ: ১৫৭

কবি ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তের নৈতিক শিক্ষামূলক কবিতা ‘কে?’ এর মতো রাইম স্কুলের পাঠ্যবইয়ে অধুনা অন্তর্ভূক্ত আছে কিনা জানি না। ‘বল দেখি এ জগতে ধার্মিক কে হয়,/সর্ব জীবে দয়া যার, ধার্মিক সে হয়। ....বল দেখি এ জগতে বিজ্ঞ বলি কারে,/হিতাহিত বোধ যার, বিজ্ঞ বলি তারে।....বল দেখি এ জগতে সাধু বলি কারে,/পরের যে ভালো করে, সাধু বলি তারে।/বল দেখি এ জগতে জ্ঞানী বলি কারে,/নিজ বোধ আছে যার, জ্ঞানী বলি তারে।’ আমরা সবাই ধার্মিক, বিজ্ঞ ও সাধু হতে চাই। হতে চাই জ্ঞানী ও সাদা মনের মানুষ। তাই প্রার্থনা- আমাদের হৃদয় ভরে উঠুক হালালের প্রতি ভালোবাসার নির্যাসে।

ফরিদ আহমদ: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজির (আইএটি) সহকারী অধ্যাপক।

আপনার মতামত লিখুন :

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছেন 'সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না'। এ কথাটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। তবে সব কর্মকর্তাও এক নয়। সংখ্যায় সীমিত হলেও  অনেক অফিসার আছেন যারা সততার সাথে অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করেন। তাই সকলকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে দুদক নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অনেক আগে, তবে কিছু দিন পূর্বে ছোটখাটো দুর্নীতি ধরতে সোচ্চার দেখে আমরা কিছুটা হলেও খুশি হয়েছি। এ জন্য যে এবার অন্তত দুদক চেয়ারম্যান নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয় কিনা বা সকল শিক্ষক সময়মত স্কুলে আসছেন কিনা তা যাচাই করতে। 

আমরা মনে করেছি, তিনি একবার যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছেন, বাংলাদেশের সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু কোনও অদৃশ্য কারণে, বোধহয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সরকারি কর্মকতা, রাজনীতিবিদের দুর্নীতি থামানো অসম্ভব। তার কাছে তো অনেক উদাহরণ আছে।

যাক সেসব কথা। এবার আলোচনা করা যাক, তিনি কেন বলেছেন যে সরকারি কর্মকরা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না। তিনি কি আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পেয়েছেন?  নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।

কারণ ব্যাখ্যার আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে দুই-চার কথা না বললেই নয়। ওনারা সরকারিভাবে সে বৃটিশ আমল থেকে সুরক্ষিত। ওনারা সমাজের উপরে থাকেন। ওনাদের পল্লীর নাম ভদ্রপল্লী। ওনাদের সাথে ঈশ্বরের যোগাযোগ। সব কিছুই ওনারা নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। সকল সুযোগ-সুবিধা ওনাদের জন্য। এ কারণে ওনাদের আচরণে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ জন্য তাদের সঙ্গে জনগণের একটা দুরত্ব কাজ করে। ফলে তাদের সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানার আগেই পত্র-পত্রিকা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। আসলে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন বা জনগণ কী বুঝেছে তা পরিষ্কার নয়।

আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, এখানে দুদক চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে বুঝাননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের অনিচ্ছায় বা ভালো  উদ্দেশ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে কারো ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ঐ কর্মকতাকে দুর্নীতি পরায়ণ বলা যাবে না। এটাকে দুদক চেয়ারম্যান 'সরল বিশ্বাস' বলেছেন। যদি ঐ কর্মকর্তা  ইচ্ছাকৃত ভুল করেন বা টাকার বিনিময়ে করেন বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করেন, তা সরল বিশ্বাস নয়। এখানে অসততা আছে। এটাই দুর্নীতি।

আমার  হয়তো বুঝতে ভুল হতে পারে আর যদি হয়ও তা কিন্তু সরল বিশ্বাসে। আমি এ বিষয়টি এ জন্যই উপস্থাপন করলাম, কারণ দুদক চেয়ারম্যানের কথার অর্থ যদি সরকারি কর্মকর্তারা ভুল বোঝেন, তাহলে তো সর্বনাশ! তারা তো সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা শুরু করবেন। অবস্থা তখন হবে, ‘একদিকে নাচুনি বুড়ি অন্য দিকে ঢোলের বাড়ি’-র মতো। আমার এ লেখা শুধু ওইসব দুর্নীতি পরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।

অতএব, দয়া করে সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকুন।

ড. মো. কামাল উদ্দিন: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি অপরাধ নয়: দুদক চেয়ারম্যান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র