Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বর্ষাকালে বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙের ডাক

বর্ষাকালে বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙের ডাক
ছবি: বার্তা২৪.কম
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভোটারদের ক্রমাগত নির্বাচনবিমুখতা মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করে চলেছে। সাধারণ ভোটার শুধু নন, খোদ নির্বাচন কমিশনারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই। তারা মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কী হবে? ভোট সে তো ওরাই করবে, ওরাই দেবে! ভোটকেন্দ্রে খামাকা গিয়ে আমার কী লাভ? আমার ভোট প্রদান করেই কী আর না করেই বা কী? ভোট সে তো ওরাই গুণবে, ওরাই জিতবে! আমি টিভিতে বসে ‘ওদের’ জয়ের সংবাদই শুনব। এই ‘ওরা’ কারা?

সেদিন একজন ভোটারকে সপ্তম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিতে যেতে অনীহা কেন—জানতে চাইলে ‘ওরা’ কথাটি বার বার শুনতে হলো। তিনি উত্তরে একটু ঘুরিয়ে বললেন, ওরা তো ওরাই! নাম বলতে হবে কেন? অচেনা মানুষকে নাম বলতে মানা! শিক্ষিত মানুষ আপনি। সেকথা জানেন না?

ভোট তো এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের বিষয় নয়। তারা তো শুধু ঘোষণা দেন, আদেশ করেন। ভোটগ্রহণে সহায়তা করেন মাঠ পর্যায়ে কর্মরতরা। তাদের সিংহভাগই নির্বাচন কমিশন অফিসের বাইরের লোক। যাদের সঙ্গে জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকে। যা নির্বাচন কমিশন অফিসে কর্মরতদের সঙ্গে সচরাচর থাকে না। ফলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশন অফিসের বাইরের লোকদের হাতে চলে যায়। নির্বাচন কমিশন অফিসের কোন কার্যকর কর্তৃত্ব দেখানো বা ফলানোর সুযোগ আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশন অফিসের সিস্টেম থেকে বহু দূরে থাকে। ফলস্বরুপ, নির্বাচনী কাজের কার্যকর কর্তৃত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃত্বরাই নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পায়। আর একথাটাই একজন নির্বাচন কমিশনার আক্ষেপ করে লিখিতভাবেই জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।

একজন কমিশনার বলেছেন, ‘এবার উপজেলা নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। নির্বাচনবিমুখতা জাতিকে গভীর খাদে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’

উপজেলা পর্যায়ের ভোটে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। গেল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। ভোটারদের উপস্থিতি এভাবে কমে যাওয়াটা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাবার প্রতীজ্ঞা কি? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে? তার এক হলো প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বা কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা। আর কোথাও সেটা থাকলেও তাদের ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে বাধা দেয়া।

কার্যকর নির্বাচনের অভাবে মাইকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভোটাররা কানে আঙুল দিয়ে সেটা অগ্রাহ্য করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডাকাডাকি করে ভোটারদের কেন্দ্রে হাজির করতে না পারলে এবং ভোটাররা যদি এভাবে আর কোনদিন ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে না চান তাহলে নির্বাচন কমিশন নামক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই তো ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠান না থাকলে কমিশনের এত লোকবলেরও প্রয়োজন হবে না। এছাড়া অনেকে মজা করে বলেন- প্রযুক্তির নিয়ত পরিবর্তনের যুগে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য একসময় ভোটারই লাগবে না- ভোটারদের কার্ডগুলো জড়ো করে স্ক্যান করলেই হলো! কারণ, এখনো বায়েমেট্রিক পদ্ধতিতে সবার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করা হয়নি। এছাড়া বায়েমেট্রিক পদ্ধতিতে সবার ভোটার আইডি কার্ড চালু হলে জালিয়াতি করার সুযোগ না থাকলে ‘ওরা’ তো কখনো কখনো চিহ্নিত বিশেষ কাউকে জিতিয়ে দিতে পারবে না। সুতরাং ভোটদানের ক্ষেত্রে উন্নত ডিজিটাল পদ্ধতি বহুল ব্যবহারের পরিকল্পনা আপাতত শিকেয় তুলে রাখেন! কারণ, সেটা দিয়ে আরো সুকৌশলে হ্যাক করে কেউ জালিয়াতি করার সুযোগ তৈরি করে দিলে এই পদ্ধতি হিমঘরে চলে যাবে।

আরেকজন ডাকসাইটে প্রবীণ রাজনীতিবিদ আক্ষেপ করে বলেছেন- 'এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোটের দিন মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়েও মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনা যাচ্ছে না। ভোট দেওয়া-নেওয়া নিয়ে মানুষ হতাশ।’

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের ক’জনমাত্র সদস্য যোগদান করেছেন। তাদের কেউ কেউ সামান্য দু’একটি বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করছেন। এতেই ক্ষমতাসীনদের উত্তর দিতে নাভিঃশ্বাস উঠে যাচ্ছে। কেউ আবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি-র কথায় ‘বর্ষাকালে বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙের ডাক’ শুনতে পাচ্ছেন। যেটাকে কোন কোন গ্রামাঞ্চলে অশুভ, কোথাও মঙ্গলের ডাক হিসেবে মনে করার কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। তবে যে অভিধায় নেয়া হোক না কেন, জনগণও কিন্তু সে ব্যাঙের ডাকের মধ্যে মঙ্গলের হিসেব করছেন।

এই মানুষগুলোর ভোটকেন্দ্রে যাবার পথ মুক্ত হোক। তাহলে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়েও মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য আঁকুতি জানাতে হবে না। মানুষ এমনিতেই দায়িত্ব মনে করে নিজে নিজেই ভোটকেন্দ্রে যাবার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবে।

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

আপনার মতামত লিখুন :

কেন এই ছন্দপতন

কেন এই ছন্দপতন
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সমাজ স্বাভাবিক জায়গায় নেই। অস্বাভাবিক আচরণ করছে। এই আচরণ নতুন নয়। তবে এবার অস্বাভাবিকতার চূড়ান্ত মাত্রায় বুঝি পৌঁছে গেল। সমাজ যাদের নিয়ে তৈরি, সেই মানুষেরা এখন তার গুণশূন্য। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে এখন আর মানবিক উপকরণ চোখে পড়ছে না। মানুষ এমন আচরণ করছে, যা পশুর মধ্যেও অনুপস্থিত। তাহলে মানুষ এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াল?

আপনি বাড়ি থেকে বের হলেন। পথের কোথাও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে দিয়ে চলাচল করা কারো দিকে তাকাচ্ছেন। এমনিতেই তাকাচ্ছেন। কোনো শিশুকে দেখে তাকাতে পারেন। আপনার এই তাকানো দেখে এক দল হত্যাকারী আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যারা ঝাঁপিয়ে পড়ল, তাদের অনেকেই হয়তো এতোক্ষণ আপনার আশপাশেই ছিল। একজন বা দুইজন আপনার ওপর ঝাঁপ দিল তো ব্যস অন্য পথচারীদের একটি অংশ আপনাকে না বাঁচিয়ে ‘গণ’তে যোগ দিল। আপনি হয়ে গেলেন ছেলেধরা। কিংবা কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্তকারী। আপনাকে কেউ বাঁচাতে আসবে না। দূরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে থাকবে।

পথের কথা বাদ দিন। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘর থেকে একজন মাকে নামিয়ে এনে হত্যা করে ফেলল। প্রতিবন্ধী একজনকেও মেরে ফেলা হলো ছেলেধরা সন্দেহে। সেই হত্যাকাণ্ড সমাজ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে উপভোগ করল। ঢাকাই চলচ্চিত্রের মন্দা বাজারে এই দৃশ্য বেশ উপভোগ্য এখন সমাজের কাছে।

সমাজটাকে দেখলে আপনার মনে হবে হতাশায় ডুবে আছে। ব্যক্তিগতভাবে হয়তো আপনি এবং আমিও তাই। কেন এই হতাশা? দুর্নীতির সরলীকরণ এর একটি কারণ অবশ্যই। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে মৃদু বা ভয়াবহ দুর্নীতির সঙ্গে পেঁচিয়ে আছি। নিজে দুর্নীতি করছি অথবা সয়ে যাচ্ছি। দুর্নীতি সামাল দেওয়া, ভোগ করাও সহজ নয়। নানা দিক সামাল দিয়ে চলতে হয়। যখন নকশা মতো হচ্ছে না, তখন হাজার কোটি টাকার মালিকের মধ্যেও হতাশা দেখা দেয়। আবার আপনি নিজে দুর্নীতি করছেন না, কিন্তু দুর্নীতির শিকার। নীরবে সয়ে যেতে যেতে আপনি হতাশার ব্যাধিতে আক্রান্ত। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বাণিজ্যের ‘কড়ি’। কড়ি দিয়ে তারা সনদ কিনছে ঠিকই কিন্তু যুৎসই চাকরি পাচ্ছে না। সাধারণ কৃষক, উৎপাদক তার ফসল ও পণ্যের দাম থেকে বঞ্চিত। তারপরও সমাজের আকাশে টাকা উড়ছে। ওই টাকা ধরতে না পেরে কেউ হতাশ। আবার কেউ ধরতে পেরে সেই টাকা ভোগ করতে করতেও এক ধরনের হতাশা এসে তাদের ঘিরে ধরেছে।

বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা আছে। অপরাধের তদন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত আদালতে পৌঁছে না। হিমঘরে জমতে থাকে। অপরাধের কারণ ও অপরাধীদের সঙ্গে রাজনীতির এখন প্রবল আত্মীয়তা। ফলে অপরাধের স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়া সচল না দেখে সাধারণের মধ্যে এক ধরনের হতাশার নিম্নচাপ তৈরি হয়। আমরা বুঝি এখন সেই নিম্নচাপের ঘূর্ণি দেখতে পাচ্ছি। এই ঘূর্ণিই নিজেকে প্রকাশের জন্য গুজবের ধুলি খুঁজে বের করছে। ফলাফল গণপিটুনি, হত্যা ও ধর্ষণ। এই ঘূর্ণি থেকে সমাজ, রাষ্ট্র পরিত্রাণ পাবে কোন উপায়ে? একবারেই যে ঘূর্ণি মোকাবেলার সাধ্য নেই আমাদের, তা নয়। আছে। যে স্বাভাবিক রাজনৈতিক অনুশীলন দেখে আমরা অভ্যস্ত, তা যদি আবার ফিরে আসে, তবেই দেখা যাবে হতাশার নিম্নচাপ কাটতে শুরু করেছে। মানুষ, সমাজ স্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেছে। অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াও তখন স্বাভাবিক ছন্দে চলতে শুরু করবে।

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র