Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বছর শেষে সঞ্চয় বাড়াবে যে নিয়মগুলো

বছর শেষে সঞ্চয় বাড়াবে যে নিয়মগুলো
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর শেষ হতে তিন মাসও বাকি নেই।

নতুন বছরের শুরুটা কীভাবে হবে বা কী করবেন নতুন বছরে, সেটার পরিকল্পনা হয়তো করা হয়নি কারোরই। কিন্তু এই পুরো একটা বছর জুড়ে নিজের জন্য ও আগত বছরের জন্য সঞ্চয় করে রাখা খুবই প্রয়োজন।

বছরের বেশিরভাগ সময় কেটে গেলেও, এখন থেকে সঞ্চয় করা শুরু করলেও হাতে জমে যাবে বেশ অনেকটা সঞ্চয়। তবে তার জন্য মানতে হবে ছোটখাটো বেশ কয়েকটি নিয়ম। নিজের প্রয়োজনেই জেনে রাখুন অপচয় কমিয়ে কীভাবে মাত্র আড়াই মাসের ভেতর সঞ্চয় বৃদ্ধি করতে পারবেন ও নতুন করে সঞ্চয় করতে পারবেন।

সুপার শপ এড়িয়ে যাওয়া

এক ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া গেলে কষ্ট করে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানে কি কেউ যেতে চায়! কিন্তু সাময়িক এই সুবিধার জন্য খরচ হয়ে যায় বেশ কিছু বাড়তি টাকা। যেকোন পণ্য মুদি দোকানের চেয়ে কয়েক টাকা বেশি দামে কিনতে হয় সুপার শপ থেকে। সাথে গুণতে হয় ভ্যাট। হিসেব করলে বেশ অনেকগুলো টাকা বাড়তি খরচ হয়ে যায় সুপার শপে কেনাকাটা করতে গেলে। যে কারণে সুপার শপে কেনাকাটা করার অভ্যাস থাকলেও, এই কয়দিন সাধারণ বাজার ও মুদি দোকান থেকেই কেনাকাটা করার অভ্যাসটা করে ফেলুন।  

প্যাকেটজাত সবজী ও ফল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/15/1539582580277.jpg

সুপার শপগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ফল ও সবজী কেটেবেছে প্যাকেট করে রাখা হয়। সময় বাঁচানোর জন্য অনেকেই সেই সকল প্যাকেটজাত সবজী ও ফল কিনে থাকেন। এতে সময় কিছুটা বাঁচলেও, খরচ হয় অনেকটা বেশি। যে কারণে, কেজি হিসেবে ফল কিংবা সবজী কেনাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

হুটহাট কেনাকাটা করা

হাতে কিছু বাড়তি টাকা আসলে কিংবা মন ভালো না থাকলেই কেনাকাটা করার অভ্যাস কমবেশি সবার মাঝেই আছে। এমন ইম্পালসিভ শপিং বা হুটহাট কেনাকাটায় প্রয়োজনীয় কোন জিনিস কখনোই কেনা হয় না। এমন হুটহাট কেনাকাটা করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ও অহেতুক জিনিস কিনে টাকা নষ্ট করলে প্রয়োজনের সময় সমস্যায় পড়তে হবে।

ফুলচার্জড ইলেকট্রনিক পণ্যে চার্জ দেওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/15/1539582565745.jpg

মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংক কিংবা অন্যান্য যেকোন ইলেকট্রনিক পণ্য ফুল চার্জ হবার পরেও চার্জে দিয়ে রাখার অভ্যাস নিশ্চয় আপনারও আছে! এই অভ্যাসের ফলেই কিন্তু আপনাকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল! ইলেকট্রনিক পণ্য পুরোপুরি চার্জড হয়ে যাওয়ার পর অবশ্যই মনে করে চার্জার খুলে নিতে হবে। নইলে বিদ্যুতের মিটারে বিল যোগ হতেই থাকবে।

খাবার নষ্ট করা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/15/1539582549850.jfif

খেতে না পারলেও প্লেটে অতিরিক্ত খাবার নেওয়ার ফলে প্রতিবেলায় খাবার নষ্ট করার অভ্যাস থাকলে, আজকে থেকেই সংযত হতে হবে। খাবার নষ্ট করার অভ্যাসের ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার রান্না করা হয়। এতে খরচটাও হয় বেশি। মেপে খাবার রান্না করলে ও খাবার নষ্ট না করলে খাওয়ার খরচটা কমে যায় অনেকখানি।

বাইরে খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া

সময় কম, বাইরের খাবার খেতে পছন্দ কিংবা ঝামেলা এড়ানোর জন্য বাইরে খেতে ভালবাসেন অনেকেই। এতে করে খাওয়ার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি গুনতে হয়। ঘরেই তৈরি করার চেষ্টা করুন সহজ কোন খাবার। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্বাস্থ্যের জন্য তো বটেই, সঞ্চয়ের জন্যে এড়িয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র