Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

অজ্ঞান হবার আগে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়

অজ্ঞান হবার আগে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

যেকোন কারণে, যেকোন স্থানে ও যেকোন সময়েই অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মত বিড়ম্বনা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা, মানসিক চাপ ও অস্থিরতা সহ নানান কারণেই এমনটা হতে পারে।

তবে অজ্ঞান হবার আগে থেকেই শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। এর মাঝে মাথা ঘোরাভাব একেবারেই কমন একটি লক্ষণ। এই লক্ষণটির সঙ্গে আরো যে সকল লক্ষণ প্রকাশ করে অজ্ঞান হবার সময় আসন্ন, তা তুলে ধরা হলো।

চোখের সামনে দাগ দেখা দেওয়া 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/10/1541836723488.jpg

চোখের সামনে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের দাগ দেখার মাধ্যমেই অজ্ঞান হবার প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায়। এমনটা হবার কারণ হলো অক্ষিগোলকের (আইবল) উপর চাপ পড়ে। রক্ত নিচের দিকে প্রবাহিত হবার ফলে রক্তনালীকার উপরে চাপ পড়ে। যার ফলে এমনটা হয়ে থাকে বলে জানান নিউ ইয়র্ক মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির প্রফেসর জুলিয়ান স্টুয়ার্ট। চোখের সামনে এমন দাগ দেখা দিলে, তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও বসে দুই হাঁটুর ভাঁজে মাথা রাখতে হবে। এমনভাবে বসার ফলে রক্ত সরাসরি ব্রেইনে প্রবাহিত হবে এবং জ্ঞান হারালেও মাথা ও ঘার সুরক্ষিত থাকবে।

টানেল ভিশনের সমস্যা দেখা দেওয়া

রক্তচাপ কমে যাওয়ার ফলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ/ সরু হয়ে আসার সমস্যা দেখা দেয়। যাকে টানেল ভিশন বলা হয়। স্টুয়ার্ট বলেন, ‘এমনটা হলে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে না থেকে দ্রুত কোথাও শুয়ে পড়তে হবে। বারবার চোখের পলক ফেললেও এই সমস্যাটি দূর হবে না’।

নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া

অজ্ঞান হবার আগে বেশিরভাগ মানুষের হাইপারভেনটিলেশন এর সমস্যা হয় বলে জানান স্টুয়ার্ট। এমনটা হবার ফলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ফলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। এতে করে শরীর অক্সিজেন পাওয়ার জন্য দ্রুত নিঃশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে। এমন সমস্যায় কোথাও বসে চোখ বন্ধ করে পেটের উপর দুই হাত রেখে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। নিজের পেটকে বেলুনের মতো মনে করে নাক ও মুখ দিয়ে বাতাস নেওয়ার চেষ্টা করলে শরীর তার প্রয়োজন অক্সিজেন পাওয়া শুরু করবে।

আঙ্গুল ও ঠোঁটে শিহরণ বোধ করা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/10/1541836922424.jpg

ব্রেইনে রক্ত চলাচলের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা হুট করেই কমে যায়। এমনটা হবার ফলে আঙ্গুলের মাথায় ও ঠোঁটে শিহরণ অথবা অবশ বোধ হতে থাকে। এমন হলে দ্রুত পরনের বেল্ট, কলার অথবা আঁটসাঁট পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। আরামদায়ক কোন স্থানে হাত-পা ছড়িয়ে বসতে হবে। এতে রক্ত চলাচল দ্রুত হবে এবং এই দুইটি স্থানে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

হুট করে প্রচন্ড গরম লাগা

শরীরের যে সকল স্থানে রক্ত চলাচলের প্রয়োজন, সেখানে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া এবং অন্যান্য স্থানে রক্ত চলকাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। রক্তপ্রবাহের এমন সমস্যা দেখা দেওয়ায় শরীরে ঘাম হয়, অতিরিক্ত গরম বোধ হতে থাকে। এমনটা হলে পানি পান ও ঠাণ্ডা হাওয়াযুক্ত স্থানে বসার পরামর্শ দেন স্টুয়ার্ট।

বমিভাব দেখা দেওয়া

ফুড পয়জনিং, গর্ভধারণ সহ নানান কারণেই বমিভাব দেখা দিতে পারে। তবে উপরিউক্ত কোন লক্ষণের সঙ্গে যদি প্রবল বমিভাব দেখা দেয় তবে বুঝতে হবে এটা অজ্ঞান হবার পূর্ব লক্ষণ। এমনটা হলে রোদের আলো থেকে দূরে, অর্থাৎ ছায়াযুক্ত কোথাও দ্রুত শুয়ে পড়তে হবে এবং পানি পান করতে হবে। সম্ভব হলে ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত

নিজের আশেপাশের সবকিছু তথা ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যতবেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে ততবেশি সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতার সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সংযোগটা বহু পুরনো। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই।

পরিধেয় পোশাক কিংবা অপরিষ্কার থালাবাসন যে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরে থাকা আয়না কতদিন পর পরিষ্কার করা প্রয়োজন সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বাসার অবস্থান ও এলাকাভেদে জিনিসপত্রে ধুলাময়লা জমার ক্ষেত্রে রকমফের দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন আসবাবে ধুলা জমে থাকতে দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে কিংবা ৩-৫ মাস অন্তর কোন জিনিসগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা বেশ অনেকটা সহজ হয়। যে কারণে আজকের ফিচারে খুব গুছিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে জানা যাবে কতদিন পর কোন জিনিসটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রতিদিন যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123957938.jpg

১. বিছানা গুছিয়ে ঝাড়তে হবে।

২. নোংরা ও এঁটো থালাবাসন জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. খাবার টেবিল গুছিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাথরুমের মেঝে ঝাঁট দিতে হবে।

৫. রান্নাঘরের থাক ও মেঝে মুছতে হবে।

৬. রান্নাঘরের সিংক পরিষ্কার করতে হবে।

৭ নোংরা পোশাক ধুতে হবে।

৮. ঘর ও বারান্দার মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে। মুছতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

প্রতি সপ্তাহে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123762608.jpg

১. বিছানা ও বালিশের কভার বদলাতে হবে।

২. রান্নাঘর ও রেফ্রিজারেটরে থাকা পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিতে হবে।

৩. ঘরের সকল আসবাবের আয়না মুছতে হবে।

৪. বুকশেফলে থাকা বইপত্র থেকে ধুলা ঝাড়তে হবে।

৫. শোকেসের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে হবে।

৬. আসবাবপত্র থেকে ধুলাবালি সরাতে হালকা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছতে হবে।

৭. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গোসল করার লোফাহ বা স্পন্স পরিষ্কার করতে হবে।

প্রতি মাসে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123841141.jpg

১. ঘরের কোন ও ছাদের অংশের ধুলাময়লা ঝাড়তে হবে।

২. লাইট ও বাল্বে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

৩ সোফার কভার ও দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার করতে হবে।

৪. ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. টিভি থেকে ধুলাবালি সরাতে পরিষ্কার করতে হবে।

৭. দেয়াল ঘড়ি, ওয়ালম্যাট, বড় ছবির ফ্রেম নামিয়ে মুছে নিতে হবে।

৮. নিত্য ব্যবহারের ব্যাকপ্যাক ধুয়ে নিতে হবে।

৩-৫ মাস পরপর যা পরিষ্কার করতে হবে

১. আসবাবপত্রের নিচের অংশ থেকে ধুলাময়লা বের করতে হবে।

২. কার্পেট পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: প্রয়োজন কিংবা ফ্যাশনে চাই রোদচশমা!

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র