Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

স্মৃতিশক্তি থাকবে অক্ষুণ্ণ!

স্মৃতিশক্তি থাকবে অক্ষুণ্ণ!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরনে।

মনোযোগ বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও প্রতিদিনের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে চাইলে বিজ্ঞানসম্মত কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। জেনে অবাক হবেন, বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মস্তিকের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি ওষুধের মতোই সমপরিমাণ ফলাফল দেখা দিবে নিত্যদিনের এই নিয়মগুলো মেনে চলতে পারলে।

স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যা কমাতে ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে যে কাজগুলো, সেগুলো আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো।

কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের আগে অথবা পরে শিখতে হবে

নিয়মতি কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের ফলে আলঝেইমার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা একেবারেই কমে যায়। এটা অন্যতম একটি উপকারিতা হলেও, স্মৃতিশক্তিকে মজবুত রাখার ক্ষেত্রেও কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ দারুণ সাহায্য করে। বেশ কয়েকটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ শেষ করার পরপরই কোন নতুন তথ্য জানলে সেটা অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত মনে থাকে। যেখানে কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের ঘন্টাখানেক পর মনে রাখার এই কার্যকারিতা কমে যায় বেশ অনেকটাই।

কমিয়ে ফেলতে হবে মিডিয়া মাল্টিটাস্কিং

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547454021391.jpg

সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে, যারা মিডিয়া-মাল্টিটাস্কার তথা খুব অল্প সময়ের মাঝে কয়েকটি মিডিয়া সোর্সের মাঝে ঘোরাঘুরি করে, তাদের মনোযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। এই মিডিয়ার ক্ষেত্রগুলো হলো টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, রেডিও, কম্পিউটার, গেমস প্রভৃতি। মিডিয়ার এই মাধ্যমগুলো শুধু স্মৃতিশক্তি নয়, চোখের স্বাস্থ্যের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। তাই প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া টাস্কিং এর মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।

ঘুমাতে হবে নিয়মিত

পরিমিত ঘুম শুধুই আলঝেইমারের ক্ষেত্রে উপকারি নয়, স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রেও অবদান রয়েছে তার। গবেষকেরা খুব দারুণ একটি তথ্য জানিয়েছে। জাগ্রত অবস্থার চাইতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্মৃতিগুলো গোছান ও একত্রীত হয় তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো।

ঘুমের বেশ কয়েকটি পর্যায়ের মাঝে দীর্ঘদিনের পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। এছাড়া সদ্য কোন ঘটনার স্মৃতি কিংবা নতুন শেখা কোন তথ্য ভালোভাবে সঞ্চিত ও সংরক্ষিত হবার ক্ষেত্রেও ঘুমের শর্ট-ওয়েভ কাজ করে। এক্ষেত্রে ঘুমের ভেতর দ্রুত চোখের সঞ্চালন তথা র‍্যাপিড-আই-মুভমেন্ট (REM) স্মৃতিকে গোছাতে সাহায্য করে।

শিখতে হবে পুরনো তথ্য সম্পর্কিত নতুন তথ্য

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547448430273.jpg

একই বিষয় ও টপিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন তথ্য শেখার প্রতি সচেষ্ট হতে হবে। কোন পুরনো বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে ও সেই সম্পর্কিত নতুন তথ্য শেখার ক্ষেত্রে নতুন তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে পুরনো তথ্যও মনে পড়ে যায় এবং উভয় তথ্যই খুব ভালোভাবে মনে থাকে। এটা সামান্য কোন নাম কিংবা কোন একটা ঘটনাও হতে পারে।

কমাতে হবে মানসিক চাপ

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোন উপায় নেই একেবারেই। যেকোন ভাবেই হোক মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে দিতে হবে। মানসিক চাপের ফলে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত করে। এই হরমোন সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে স্মৃতিশক্তির উপর। ফলে প্রতিদিনের ছোটখাটো কাজের তথ্য, কয়েকদিন আগের তথ্য, পুরনো ও প্রয়োজনীয় কোন স্মৃতি মুছে যায় স্মৃতির ভান্ডার থেকে। বৃদ্ধি পায় আলঝেইমার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা।

আরও পড়ুন: আপনি কি ‘স্যাড’ সমস্যায় আক্রান্ত?

আরও পড়ুন: মানসিক চাপে সংকুচিত হয় নারীদের মগজ!

আপনার মতামত লিখুন :

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম
খেজুর গুড়ের আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

খেজুর গুড়ের পায়েস নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, কিন্তু খেজুর গুড়ে তৈরি আইসক্রিম কি খাওয়া হয়েছে কখনো?

চিনির মিষ্টি নয়, গুড়ের মিষ্টিতে তৈরি এই আইসক্রিমে পাওয়া যাবে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার অচেনা স্বাদ।

বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছাটাও তাড়া দিতে থাকে। এই সুযোগে ঘরে বসে ফ্রেশ দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি করে নিন অচেনা স্বাদের মিষ্টান্ন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538258867.JPG

১. দুই কাপ ক্রিম।

২. এক কাপ দুধ।

৩. চারটি ডিমের কুসুম।

৪. আধা কাপ খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538280218.JPG

১. একটি পাত্রে ভালোভাবে ডিমের কুসুমগুলো ফেটিয়ে নিতে হবে।

২. ভিন্ন একটি সসপ্যানে ক্রিম ও দুধ একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে বলক আনতে হবে।

৩. গরম দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের এক-চতুর্থাংশ ডিমের কুসুমে দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে হুইস্ক করতে হবে তথা ফেটিয়ে নিতে হবে।

৪. এবারে ডিমের মিশ্রণটি সস্প্যানে দিয়ে পুনরায় জ্বাল দিতে হবে এবং গুড় মেশাতে হবে। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে কাস্টার্ডের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হবে।

৫. মিশ্রণ ঘন হয়ে আসলে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে এলে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে।

পরদিন সকালে নাশতার সাথে উপভোগ করুন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঝাল ও মিষ্টি উভয় ধরনের খাবার তৈরিতেই দারুচিনি বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে।

আমাদের রান্নায় দারুচিনি ব্যবহারের মূল কারণ হলো ফ্লেভার, তবে আরও একটি বিশেষ কারণে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে দারুচিনি রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়বেটিসের সমস্যাটিও।

মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই উপাদানটিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকেও রক্ষা করতে কার্যকরি। গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণ বেশ কয়েকদিক থেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে রাখুন।

প্রদাহ কমায় দারুচিনি

বেশ কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ বিরোধী তথা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। পেশীর ব্যথাভাব, ফোলাভাব, শরীরের কোন অংশে হুটহাট ব্যথা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমাতে কাজ করে দারুচিনি।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি

রক্তে চিনি ও ইনস্যুলিনের মাত্রার হেরফেরের উপরেই নির্ভর করে মেটাবোলিজমের মাত্রা ও টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা। বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণে ডায়বেটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দারুচিনি শুধু রক্তে চিনির মাত্রাই নয়, ইন্স্যুলিন সেনসিটিভিটিকেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531546124.jpg

হৃদরোগ দূরে রাখে দারুচিনি

প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে- যারা নিত্যদিনের খাবারে হলুদ ও দারুচিনি গুঁড়া রাখে, তাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের চাইতে কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও কমে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে

সিনামন এক্সট্র্যাক্ট তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা প্রায় সকল ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দারুচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড (Cinnamaldehyde) হলো প্রধান উপাদান, যা ইনফেকশন দ্রুত সারাতে কাজ করে। বিশেষত ইষ্ট ইনফেকশনের বিরুদ্ধে দারুচিনির তেল সবচেয়ে উপকারী।

মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হবে দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাবকে, যা মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি দাঁতের ক্ষয়রোগ ও মুখে বাজে গন্ধ হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

আরও পড়ুন: গরম আবহাওয়ায়, সুস্থতায় ডাবের পানি

আরও পড়ুন: ঘুম আনতে সাহায্য করবে এই খাবারগুলো

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র