Alexa

স্মৃতিশক্তি থাকবে অক্ষুণ্ণ!

স্মৃতিশক্তি থাকবে অক্ষুণ্ণ!

ছবি: সংগৃহীত

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরনে।

মনোযোগ বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও প্রতিদিনের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে চাইলে বিজ্ঞানসম্মত কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। জেনে অবাক হবেন, বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মস্তিকের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি ওষুধের মতোই সমপরিমাণ ফলাফল দেখা দিবে নিত্যদিনের এই নিয়মগুলো মেনে চলতে পারলে।

স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যা কমাতে ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে যে কাজগুলো, সেগুলো আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো।

কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের আগে অথবা পরে শিখতে হবে

নিয়মতি কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের ফলে আলঝেইমার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা একেবারেই কমে যায়। এটা অন্যতম একটি উপকারিতা হলেও, স্মৃতিশক্তিকে মজবুত রাখার ক্ষেত্রেও কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ দারুণ সাহায্য করে। বেশ কয়েকটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ শেষ করার পরপরই কোন নতুন তথ্য জানলে সেটা অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত মনে থাকে। যেখানে কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের ঘন্টাখানেক পর মনে রাখার এই কার্যকারিতা কমে যায় বেশ অনেকটাই।

কমিয়ে ফেলতে হবে মিডিয়া মাল্টিটাস্কিং

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547454021391.jpg

সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে, যারা মিডিয়া-মাল্টিটাস্কার তথা খুব অল্প সময়ের মাঝে কয়েকটি মিডিয়া সোর্সের মাঝে ঘোরাঘুরি করে, তাদের মনোযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। এই মিডিয়ার ক্ষেত্রগুলো হলো টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, রেডিও, কম্পিউটার, গেমস প্রভৃতি। মিডিয়ার এই মাধ্যমগুলো শুধু স্মৃতিশক্তি নয়, চোখের স্বাস্থ্যের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। তাই প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া টাস্কিং এর মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।

ঘুমাতে হবে নিয়মিত

পরিমিত ঘুম শুধুই আলঝেইমারের ক্ষেত্রে উপকারি নয়, স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রেও অবদান রয়েছে তার। গবেষকেরা খুব দারুণ একটি তথ্য জানিয়েছে। জাগ্রত অবস্থার চাইতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্মৃতিগুলো গোছান ও একত্রীত হয় তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো।

ঘুমের বেশ কয়েকটি পর্যায়ের মাঝে দীর্ঘদিনের পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। এছাড়া সদ্য কোন ঘটনার স্মৃতি কিংবা নতুন শেখা কোন তথ্য ভালোভাবে সঞ্চিত ও সংরক্ষিত হবার ক্ষেত্রেও ঘুমের শর্ট-ওয়েভ কাজ করে। এক্ষেত্রে ঘুমের ভেতর দ্রুত চোখের সঞ্চালন তথা র‍্যাপিড-আই-মুভমেন্ট (REM) স্মৃতিকে গোছাতে সাহায্য করে।

শিখতে হবে পুরনো তথ্য সম্পর্কিত নতুন তথ্য

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547448430273.jpg

একই বিষয় ও টপিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন তথ্য শেখার প্রতি সচেষ্ট হতে হবে। কোন পুরনো বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে ও সেই সম্পর্কিত নতুন তথ্য শেখার ক্ষেত্রে নতুন তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে পুরনো তথ্যও মনে পড়ে যায় এবং উভয় তথ্যই খুব ভালোভাবে মনে থাকে। এটা সামান্য কোন নাম কিংবা কোন একটা ঘটনাও হতে পারে।

কমাতে হবে মানসিক চাপ

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোন উপায় নেই একেবারেই। যেকোন ভাবেই হোক মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে দিতে হবে। মানসিক চাপের ফলে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত করে। এই হরমোন সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে স্মৃতিশক্তির উপর। ফলে প্রতিদিনের ছোটখাটো কাজের তথ্য, কয়েকদিন আগের তথ্য, পুরনো ও প্রয়োজনীয় কোন স্মৃতি মুছে যায় স্মৃতির ভান্ডার থেকে। বৃদ্ধি পায় আলঝেইমার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা।

আরও পড়ুন: আপনি কি ‘স্যাড’ সমস্যায় আক্রান্ত?

আরও পড়ুন: মানসিক চাপে সংকুচিত হয় নারীদের মগজ!

আপনার মতামত লিখুন :