Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

পেটের মেদ বাড়ছে যে সকল অভ্যাসে

পেটের মেদ বাড়ছে যে সকল অভ্যাসে
নিয়মিত সবজি না খাওয়ার ফলে পেটের মেদ বেড়ে যায় অনেকখানি, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ওজন হালকা বাড়লেও দেখা যায় পেটের মেদ বেড়ে যায় অনেকখানি।

অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ওজন ঠিকঠাক থাকলেও পেটের মেদ যেন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষত আমাদের দেশে পেটের মেদ বা ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার সমস্যাটি দেখা দেয় তুলনামূলক বেশি।

কিছু অনিয়ম ও অজ্ঞতার ফলেই মূলত বিব্রতকর এই সমস্যাটি দেখা দেয়। আজকের ফিচারে এমন কয়েকটি পয়েন্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যা পেটের মেদকে বাড়িয়ে দিচ্ছে আপনার অজান্তে।

ফলের বদলে ফলের জ্যুস

সুস্বাস্থ্যের জন্য আস্ত ফল খাওয়ার বদলে যদি ফলের রস পান করেন, তবে সেটা উপকারিতার বদলে ক্ষতির কারণ হিসেবেই দেখা দিবে। ফল খাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এতে থাকা আঁশ। যা রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তে দ্রুত চিনি মিশ্রিত হতে বাঁধা দান করে। অন্যদিকে ফলের রস কিংবা জ্যুসে চিনি গলিত অবস্থায় থাকে। যা সহজেই রক্তের সঙ্গে মিশে যায়, শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। বাড়তি এই চিনি ও ক্যালোরি ইনফ্ল্যামেশন ও পেটের বাড়তি মেদ তৈরি করে।

অকারণে স্ন্যাক্স খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/04/1551679980964.jpg

প্রতিবেলার খাবারের পাশাপাশি স্ন্যাক্স খাওয়ার অভ্যাসটি সবসময়ই শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ইউনিভার্সিটি প্রিভেনশন সেন্টারের এন্ডক্রিনোলোজিস্ট রাসা কাযলাসকাইতে জানান, স্ন্যাক্স খাওয়ার অভ্যাসটি খুব সহজেই শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। কারণ স্ন্যাক্স হিসেবে সকলেই মুখরোচক ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে ভালোবাসে। বাড়তি ক্যালোরি অতি দ্রুত তলপেটে ও পেটের উপরের অংশে যোগ হয়। যা থেকে পরবর্তীতে মেদ তৈরি হয়।

খাদ্যাভাসে প্রোবায়োটিকের অভাব

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার শুধুমাত্র পাকস্থলিকে সুস্থ রাখতেই নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পেটের মেদ কমাতেও কাজ করে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে দই ও অন্যান্য প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার, ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার মাঝে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখে এবং এই সকল ব্যাকটেরিয়ার মাঝে কিছু ব্যাকটেরিয়ার ওবেসিটি সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া পাকস্থলিস্থ কিছু ব্যাকটেরিয়া ক্ষুধাভাবকেও নিয়ন্ত্রণ করে।

ভাজাপোড়া খাবার বেশি খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/04/1551679965076.jpg

অন্যান্য যেকোন খাবারের তুলনায় তেলেভাজা খাবারের নেতিবাচক প্রভাবটি শরীরের উপরে সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। পেট ও কোমরের অংশ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় তেলেভাজা খাবার খাওয়াকে। এই সকল খাবারে থাকে ট্রান্স ফ্যাট। যা সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যা ওজন ও মেদকে বাড়িয়ে দেয়।

সবজি কম খাওয়া

প্রতিদিনের খাবারের প্লেটে অন্তত পক্ষে অর্ধেক অংশ জুড়ে বিভিন্ন ধরণের সবজি থাকা বাঞ্ছনীয়। ডাঃ কাযলাসকাইতে জানান, খাদ্যাভাসে সবজি থাকলে যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ গ্রহণ করা হয়। যা ওজনকে ও রক্তে চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে।

কোমল পানীয় পান

এই পয়েন্টটি উল্লেখ না করলেই নয়। চিনিযুক্ত কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ তো বটেই, কোমল পানীয় পানের সঙ্গে ওবেসিটির সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাত্র এক ক্যান কোমল পানীয়তে রয়েছে ১০ চা চামচ চিনি ও ১৫০ ক্যালোরি। সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ বিহীন এই পানীয়টি ওজন বৃদ্ধি ও পেটের মেদ বৃদ্ধির জন্য অনেকখানি অবদান রাখে।

দীর্ঘসময় ডেস্কে বসে থাকা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/04/1551679946395.jpg

একটানা লম্বা সময় ডেস্কে বসে থাকার ফলে খুব সহজেই তলপেটে মেদ জমা হয়। যে কারনে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, নির্দিষ্ট সময় পরপর ডেস্ক ছেড়ে হাঁটাহাটি করার জন্য। এতে করে ক্যালোরি বার্ন হবে এবং পেটে মেদ জমতে পারবে না।

আরও পড়ুন: পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর এই খাবারগুলো

আরও পড়ুন: খাদ্যাভাসের যে পাঁচ বদভ্যাসে কমছে না ওজন

আপনার মতামত লিখুন :

কতখানি নিকোটিন থাকে একটি সিগারেটে?

কতখানি নিকোটিন থাকে একটি সিগারেটে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নাতীতভাবে ধূমপান সবচেয়ে বাজে ও ক্ষতিকর একটি অভ্যাস।

এ বদভ্যাসের দরুন নিজের স্বাস্থ্য তো বটেই, পাশাপাশি অন্যের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মাঝে পড়ে যায়। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেও বেশিরভাগ ধূমপায়ী এই অভ্যাসটি বাদ দিতে চান না। তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। অনেকেই চেষ্টা করেন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই অভ্যাসটিকে পাশ কাটিয়ে উঠতে। তবে ধূমপায়ী, অধূমপায়ী ও ধূমপান ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন যারা, প্রত্যেকেই একটি বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন- একটি সিগারেটে কতখানি নিকোটিন থাকে! চলুন এই বিষয়টি জানানো যাক।

প্রতিটি সিগারেটে থাকে ৭০০০ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। যার মাঝে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো নিকোটিন (Nicotine). হাজারো ধরনের কেমিক্যালের ভেতর এই নিকোটিন তৈরি হয় তামাক পাতা থেকে। তামাক পাতা থেকে তৈরি হওয়া এই উদ্ভিজ কেমিক্যাল নিকোটিনেই ধূমপায়ীদের আসক্তি তৈরি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566042274926.jpg

মেডিকেশন অ্যাডভোকেট জেসন রিড জানান, প্রতিটি সিগারেটে গড়ে এক মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। এছাড়া এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে সিগারেটের ধরনের উপর নির্ভর করে এক একটি সিগারেটে ১.২-১.৪ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। স্বল্প নিকোটিনযুক্ত ‘সিগারেট লাইট’ এ ০.৬-১ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। তবে সাধারণ সিগারেটের মতো সিগারেট লাইটেও একই ধরনের সিগারেট বুস্ট তথা সিগারেটের প্রভাব থাকে।

এছাড়া নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা ধূমপায়ীর উপর নির্ভর করে। সিগারেটে কত জোরে টান দিচ্ছে এবং সিগারেট পাফের কতটা নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত সিগারেট পান করছে- এই দুইটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেও নিকোটিন গ্রহণের মাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: ধূমপানে অন্ধত্ব!

আরও পড়ুন: প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ক্যানসার ঝুঁকিতে আমরা সবাই!

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো
টি ট্রি অয়েল, লবণ ও ল্যাভেন্ডার পাতা ছারপোকা দূর করতে কার্যকরি উপাদান

ছারপোকা দেখা দেওয়ার সমস্যাটি একইসাথে খুব বিরক্তিকর ও সাধারণ।

যারপরনাই এ সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হয় ছারপোকাযুক্ত আসবাব, বিছানা, সোফা প্রভৃতি ব্যবহারকারীকে। রাতের দিকে সাধারণত এদের উপদ্রব বেশি দেখা যায়।

মূলত স্যাঁতস্যাঁতে ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসহীন স্থানে ছারপোকা বেশি হয়। সেক্ষেত্রে বিছানা, বালিশ, কুশন, তোশকের মতো নরম স্থানে ছারপোকা হলে রোদের আলোতে কয়েকদিন এই জিনিসগুলো রাখা হলে ও পোকামাকড় দূর করার স্প্রে ব্যবহার করা হলে ছারপোকা বেশিরভাগ সময় দূর হয়ে যায়।

তবে ঢাকা শহরে বহু স্থানের বাড়িতেই রোদের আলো প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া অন্যান্য আসবাবে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে রোদের আলোতে দেওয়া কষ্টকর। সেক্ষেত্রে কিছু উপাদানের ব্যবহারে আসবাবসহ অন্যান্য জিনিসপত্র থেকে সহজেই ছারপোকা দূর করা যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের গন্ধ ছারপোকা সহ্য করতে পারে না। ফলে উপকারী এই এসেনসিয়াল অয়েলের ব্যবহারে ছারপোকা দূর করা যাবে ঝামেলাহীনভাবে। ২০০ মিলিলিটার পানিতে ২০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ছারপোকাযুক্ত আসবাবে স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হবে এবং পুনরায় ছারপোকা যেন ফিরে না আসে, সেজন্য আসবাবে ১০ দিন পরপর টি ট্রি অয়েলযুক্ত পানি স্প্রে করতে হবে।

বেকিং সোডা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034457047.jpg

প্রতি রান্নাঘরেই এই উপাদানটি পাওয়া যাবে। শুধু রান্নার কাজে নয়, ছারপোকা দমনেও দারুণ কার্যকরি এই উপাদানটি। ছারপোকা আক্রান্ত আসবাবের উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে একদিনের জন্য রেখে দিতে হবে এবং একদিন পর পুনরায় বেকিং সোডা ছিটাতে হবে। এতে করে ছারপোকা মরে যাবে।

সাদা ভিনেগার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034474797.JPG

ভিনেগারের তীব্র গন্ধ ছারপোকার যন্ত্রণা দূর করতে খুবই ভালো কাজ করে। বিশেষত আসবাবপত্রে ছারপোকা দেখা দিলে, সেক্ষেত্রে সাদা ভিনেগারের ব্যবহার সবচেয়ে উপকার দেবে। সমপরিমাণ পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে পরপর কয়েকদিন ছারপোকাযুক্ত আসবাব মুছলে ছারপোকা চলে যাবে। ছারপোকা দূর হয়ে যাওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে একবার ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে আসবাব মুছে নিতে হবে।

লবণ

সাধারন লবণ খুব ভালো ছারপোকা রিপ্যালেন্ট হিসেবে কাজ করে। বিছানা, বালিশের মতো জিনিসে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে লবণ মিশ্রিত পানি স্প্রে করে শুকাতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হয়ে যাবে।

ল্যাভেন্ডার পাতা

ল্যাভেন্ডারের মতো উপকারী পাতার গন্ধে ছারপোকা খুব দ্রুতই পালায়। জামাকাপড়ে বা বালিশ ও কুশন কভারে ছারপোকার আনাগোনা দেখা দিলে ল্যাভেন্ডার পাতা রেখে দিতে হবে। ব্যস ছারপোকার জন্য আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

আরও পড়ুন: কর্নস্টার্চ ও কর্নফ্লাওয়ারের মাঝে পার্থক্য কী?

আরও পড়ুন: সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র