Alexa

ক্যান্সারের বিপক্ষে কাজ করবে যে খাদ্য উপাদানগুলো

ক্যান্সারের বিপক্ষে কাজ করবে যে খাদ্য উপাদানগুলো

ছবি: বার্তা২৪.কম

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল

ইতোপূর্বে একটি ফিচারে বিষদভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, কোন খাদ্য উপাদানে ক্যান্সার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

আশার কথা হলো, যে কয়টি খাবার ক্যান্সারের সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়, তার চাইতে অনেক বেশি পরিমাণ প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে, ক্যান্সার তৈরিতে বাধাদান করে ও ক্যান্সার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

উপকারী এই প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা থাকলে নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে সচেতন করে তোলা সম্ভব হবে।

আঁশ সমৃদ্ধ খাবার

চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে ১২৫,০০০ জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, খাদ্য আঁশ শরীরকে ক্যান্সারমুক্ত রাখতে অবদান রাখে। এছাড়া প্রায় ২৪টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার পর গবেষকেরা একমত হয়ে জানান, প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে আঁশ সমৃদ্ধ খাবার ক্যান্সার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা কমিয়ে আনে।

গাজর

গাজরের সময়ে ইচ্ছামতও গাজর খাওয়া থেকে নিজেকে কোনভাবেই দূরে রাখবেন না। কারণ উজ্জ্বল কমলা রঙের এই সবজতে রয়েছে বেটা-ক্যারোটিন। উপকারী এই পুষ্টি উপাদানটি সার্ভিক্যাল ক্যান্সার ও কিছু ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারের মাত্রা কমাতে কাজ করে। গাজরের পাশাপাশি মিষ্টি আলু থেকেও পাওয়া যাবে বেটা ক্যারোটিন।

পরিমিত মাত্রায় কফি পান

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/14/1552552791502.jpeg

যারা নিয়মিত কফি পান করেন তাদের জন্য দারুণ সুখবরই বটে। নিয়মিত কফি পানের ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকার পাশাপাশি ইউটেরাস, প্রস্টেট, লিভার, ব্রেস্ট ও থ্রোট ক্যান্সার দেখা দেবার সম্ভবনাও কমে যায়।

গ্রিন টি পান

যদি কফি এড়িয়ে চলেন তবে সমস্যা নেই। কফি বদলে গ্রিন টি পান করেও ক্যান্সারের হাত থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা যাবে। গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনল নামক ক্যান্সার বিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার তৈরিতে বাধাদান করে এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

ব্রকলি

কলিফ্লাওয়ার গোত্রের সবুজ সবজি শুধু পাকস্থলী সুস্থ রাখতেই নয়, ডিএনএ ড্যামেজকে রক্ষা করে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতেও কাজ করে। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছে, অন্যান্য প্রাণীদের উপর পরীক্ষা করে এমন ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলেও, মানুষের উপর পরীক্ষার ফলাফল এখনও সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যায়নি। তবে এখান থেকেও অনুরূপ ফলাফল আসবে বলেই তারা আশা করেন।

আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার

অন্যতম প্রয়োজনীয় ও উপকারী মিনারেল সমূহের মাঝে আয়োডিন অন্যতম। শরীরে থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে আয়োডিন এবং মেটাবলিজমের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সবচেয়ে দারুণ বিষয় হলো, গবেশনালব্ধ ফল জানাচ্ছে, শরীরে ক্যান্সার তৈরিকারী টিউমার বৃদ্ধিতে বাধাদান করে আয়োডিন।

হলুদ

যেকোন রান্নায় হলুদ গুঁড়ার ব্যবহার আবশ্যক। অতি পরিচিত এই হলুদ গুঁড়াই অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান হিসেবে কাজ করে। ক্যান্সার গবেষক বায়োফিজিক্সস্ট অজয় গোল জানান, প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে হলুদ হলো সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উপাদান। একইসাথে অন্যান্য প্রাণী ও মানুষের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে হলুদে থাকা কারকিউমেন ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে ও ক্যান্সার বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে।

আরও পড়ুন: ক্যান্সার দেখা দিতে পারে যে খাবারগুলো থেকে

আরও পড়ুন: আঁশযুক্ত চার খাবারে ডায়বেটিস থাকবে নিয়ন্ত্রণে

লাইফস্টাইল এর আরও খবর