Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোমল পানীয় পানে কী ঘটে শরীরে?

কোমল পানীয় পানে কী ঘটে শরীরে?
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

একটু ভারি খাবার খাওয়া হলেই প্রয়োজন হয় ঠাণ্ডা এক গ্লাস কোমল পানীয়ের।

বাইরে কোথাও ঘুরতে বেরুলে কিংবা পছন্দের খাবারটি খাওয়ার সময়েও প্রয়োজন হয় ঝাঁজ ওঠা কোমল পানীয়ের। এমনকি পিপাসা পেলে অনেক পানি পানের পরিবর্তে কোমল পানীয় পান করে থাকে। টানা কয়েকদিন কোমল পানীয়ের ধারেকাছে না ঘেঁষলেই মনে হতে থাকে কি যেন অনেকদিন যাবত খাওয়া হয়নি, কি যেন জীবনে নেই!

একমত হতেই হবে, এমন অনুভূতি আপনারও হয়েছে। আমাদের নিত্যদিনের জীবনে এভাবেই জড়িয়ে গেছে কোমল পানীয়ের উপস্থিতি। দিন দুয়েক বাদেই চলে আসবে বর্ষবরণের দিনটি। খাবারের বিশেষ আয়োজনের মাঝে নিশ্চয় থাকবে কোমল পানীয়ও।

কিন্তু কোমল পানীয় পানের পর কী ঘটে শরীরে? জানা আছে কি? এটা প্রায় সকলেরই জানা, উচ্চমাত্রার চিনিযুক্ত কোমল পানীয় শরীরের জন্য বেশ অনেকগুলো কারণেই ক্ষতিকর। তবে অজানা রয়েছে কোমল পানীয় পানের পর কী ঘটে শরীরে!

উচ্চমাত্রার চিনি যখন বলা হচ্ছে, তখন বুঝে নিতে হবে কোমল পানীয়তে আক্ষরিক অর্থেই অনেক বেশি মাত্রায় চিনি থাকে। কোমল পানীয় পানের পর রক্তে চিনির মাত্রা হুট করেই অনেক বেড়ে যায়। অতিরিক্ত মাত্রার এই চিনির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি শরীরের বিভিন্ন প্রত্যাঙ্গের উপরে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়।

কোমল পানীয়তে থাকা চিনি হলো কার্বোহাইড্রেট। আমাদের পেশীর শক্তি সরবরাহের জন্য কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন হয়। তবে কোমল পানীয়ের কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা এতো বেশি অতিরিক্ত হয় যে, তা আমাদের পেশীর প্রয়োজন হয় না। মাত্র ২০ আউন্স পরিমাণ কোমল পানীয় থেকে পুরো একবেলার খাবারের কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। ফলে পেট ভরে খাবার খাওয়ার মাঝে যখন কোমল পানীয়ও পান করা হয়, তা অতিরিক্ত হিসেবে শরীরে জমা হয়ে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/11/1554980889669.jpg

এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো মেডিসিন এর মেডিসিনের প্রফেসর ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট মেলটেম জেটিংলু। তিনি আরও জানান, এই বাড়তি চিনি শরীরে প্রসেস হতে পারে না বিধায় পেশী ও টিস্যুর মধ্যে ফ্যাট হিসেবে জমে থাকে। যা পরবর্তিতে লিভার ফ্যাট হিসেবে দেখা দেয়।

তবে কোমল পানীয় পানের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি। মূত্রের সাহায্যে অতিরিক্ত চিনি বের হয়ে যায়। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মূত্রের বেগ দেখা দেয়। এতে করে একাধারে যেমন কিডনির উপরে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়, তেমনিভাবে শরীরে দেখা দেয় পানিস্বল্পতার সমস্যা। এছাড়া কোমল পানীয়তেও থাক ক্যাফেইন। যা খুব একটা স্বাস্থসম্মত নয়।

আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো- কোমল পানীয় যতই পান করা হোক না কেন, কখনোই সন্তুষ্টি পাওয়া যায় না। বিষয়টা অনেকটাই কোকেইন কিংবা হেরোইনে নেশার মতো। এমনটা হওয়া কারণ, হাই-কার্ব, হাই-ক্যালোরিতে শরীরের বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়া।

কোমল পানীয় অনেক বেশি পছন্দ? সেক্ষেত্রে ভালো একটি খবর আছে আপনার জন্য। কোমল পানীয় পান করা সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাসে একবার স্বল্প পরিমাণ পান করা যেতেই পারে। তবে নিয়মিত নয়। এছাড়া পানীয় হিসেবে ফলের জুস, আইসড টি, কোল্ড কফি এগুলোও রাখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: কেকের মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নেভাবেন না!

আরও পড়ুন: কিডনি সুস্থ রাখবে ‘পাঁচ নিয়ম’

আপনার মতামত লিখুন :

কতখানি নিকোটিন থাকে একটি সিগারেটে?

কতখানি নিকোটিন থাকে একটি সিগারেটে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নাতীতভাবে ধূমপান সবচেয়ে বাজে ও ক্ষতিকর একটি অভ্যাস।

এ বদভ্যাসের দরুন নিজের স্বাস্থ্য তো বটেই, পাশাপাশি অন্যের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মাঝে পড়ে যায়। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেও বেশিরভাগ ধূমপায়ী এই অভ্যাসটি বাদ দিতে চান না। তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। অনেকেই চেষ্টা করেন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই অভ্যাসটিকে পাশ কাটিয়ে উঠতে। তবে ধূমপায়ী, অধূমপায়ী ও ধূমপান ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন যারা, প্রত্যেকেই একটি বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন- একটি সিগারেটে কতখানি নিকোটিন থাকে! চলুন এই বিষয়টি জানানো যাক।

প্রতিটি সিগারেটে থাকে ৭০০০ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। যার মাঝে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো নিকোটিন (Nicotine). হাজারো ধরনের কেমিক্যালের ভেতর এই নিকোটিন তৈরি হয় তামাক পাতা থেকে। তামাক পাতা থেকে তৈরি হওয়া এই উদ্ভিজ কেমিক্যাল নিকোটিনেই ধূমপায়ীদের আসক্তি তৈরি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566042274926.jpg

মেডিকেশন অ্যাডভোকেট জেসন রিড জানান, প্রতিটি সিগারেটে গড়ে এক মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। এছাড়া এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে সিগারেটের ধরনের উপর নির্ভর করে এক একটি সিগারেটে ১.২-১.৪ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। স্বল্প নিকোটিনযুক্ত ‘সিগারেট লাইট’ এ ০.৬-১ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। তবে সাধারণ সিগারেটের মতো সিগারেট লাইটেও একই ধরনের সিগারেট বুস্ট তথা সিগারেটের প্রভাব থাকে।

এছাড়া নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা ধূমপায়ীর উপর নির্ভর করে। সিগারেটে কত জোরে টান দিচ্ছে এবং সিগারেট পাফের কতটা নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত সিগারেট পান করছে- এই দুইটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেও নিকোটিন গ্রহণের মাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: ধূমপানে অন্ধত্ব!

আরও পড়ুন: প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ক্যানসার ঝুঁকিতে আমরা সবাই!

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো
টি ট্রি অয়েল, লবণ ও ল্যাভেন্ডার পাতা ছারপোকা দূর করতে কার্যকরি উপাদান

ছারপোকা দেখা দেওয়ার সমস্যাটি একইসাথে খুব বিরক্তিকর ও সাধারণ।

যারপরনাই এ সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হয় ছারপোকাযুক্ত আসবাব, বিছানা, সোফা প্রভৃতি ব্যবহারকারীকে। রাতের দিকে সাধারণত এদের উপদ্রব বেশি দেখা যায়।

মূলত স্যাঁতস্যাঁতে ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসহীন স্থানে ছারপোকা বেশি হয়। সেক্ষেত্রে বিছানা, বালিশ, কুশন, তোশকের মতো নরম স্থানে ছারপোকা হলে রোদের আলোতে কয়েকদিন এই জিনিসগুলো রাখা হলে ও পোকামাকড় দূর করার স্প্রে ব্যবহার করা হলে ছারপোকা বেশিরভাগ সময় দূর হয়ে যায়।

তবে ঢাকা শহরে বহু স্থানের বাড়িতেই রোদের আলো প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া অন্যান্য আসবাবে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে রোদের আলোতে দেওয়া কষ্টকর। সেক্ষেত্রে কিছু উপাদানের ব্যবহারে আসবাবসহ অন্যান্য জিনিসপত্র থেকে সহজেই ছারপোকা দূর করা যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের গন্ধ ছারপোকা সহ্য করতে পারে না। ফলে উপকারী এই এসেনসিয়াল অয়েলের ব্যবহারে ছারপোকা দূর করা যাবে ঝামেলাহীনভাবে। ২০০ মিলিলিটার পানিতে ২০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ছারপোকাযুক্ত আসবাবে স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হবে এবং পুনরায় ছারপোকা যেন ফিরে না আসে, সেজন্য আসবাবে ১০ দিন পরপর টি ট্রি অয়েলযুক্ত পানি স্প্রে করতে হবে।

বেকিং সোডা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034457047.jpg

প্রতি রান্নাঘরেই এই উপাদানটি পাওয়া যাবে। শুধু রান্নার কাজে নয়, ছারপোকা দমনেও দারুণ কার্যকরি এই উপাদানটি। ছারপোকা আক্রান্ত আসবাবের উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে একদিনের জন্য রেখে দিতে হবে এবং একদিন পর পুনরায় বেকিং সোডা ছিটাতে হবে। এতে করে ছারপোকা মরে যাবে।

সাদা ভিনেগার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034474797.JPG

ভিনেগারের তীব্র গন্ধ ছারপোকার যন্ত্রণা দূর করতে খুবই ভালো কাজ করে। বিশেষত আসবাবপত্রে ছারপোকা দেখা দিলে, সেক্ষেত্রে সাদা ভিনেগারের ব্যবহার সবচেয়ে উপকার দেবে। সমপরিমাণ পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে পরপর কয়েকদিন ছারপোকাযুক্ত আসবাব মুছলে ছারপোকা চলে যাবে। ছারপোকা দূর হয়ে যাওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে একবার ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে আসবাব মুছে নিতে হবে।

লবণ

সাধারন লবণ খুব ভালো ছারপোকা রিপ্যালেন্ট হিসেবে কাজ করে। বিছানা, বালিশের মতো জিনিসে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে লবণ মিশ্রিত পানি স্প্রে করে শুকাতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হয়ে যাবে।

ল্যাভেন্ডার পাতা

ল্যাভেন্ডারের মতো উপকারী পাতার গন্ধে ছারপোকা খুব দ্রুতই পালায়। জামাকাপড়ে বা বালিশ ও কুশন কভারে ছারপোকার আনাগোনা দেখা দিলে ল্যাভেন্ডার পাতা রেখে দিতে হবে। ব্যস ছারপোকার জন্য আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

আরও পড়ুন: কর্নস্টার্চ ও কর্নফ্লাওয়ারের মাঝে পার্থক্য কী?

আরও পড়ুন: সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র