Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

চাকরিজীবী মানুষের দিনের সিংহভাগ সময় কাটে নিজ কর্মক্ষেত্রে।

যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই কর্মক্ষেত্র তথা অফিস, অফিসের পরিবেশ ও অফিসের মানুষদের ঘিরেই আবর্তিত হয় মন ভালো-খারাপ হওয়া, চিন্তা-ভাবনা ও ব্যক্তিত্ব।

কিন্তু অফিস ও অফিসের নানান সমস্যা যখন মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সবকিছু সামলে নিজের কাজগুলো ঠিকভাবে ও পরিপূর্ণভাবে করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। মনে হতে থাকে শারীরিক ও মানসিক সকল শক্তি যেন বাষ্পীভূত হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে কাজ করার ইচ্ছাটুকুও অনেক বড় বোঝা মনে হতে থাকে সে সময়ে।

আপনি নিজেও কি এমন অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়ে থাকে, তবে আজকের ফিচারটি বিশেষভাবে আপনার জন্যেই।

পরিবর্তনের চেষ্টা করুন

বর্তমান অবস্থাটি নিজের অনুকূলে না থাকতেই পারে। তার জন্যে বিচলিত হওয়া যাবে না মোটেও। বরং পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। হুট করে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো বিলাসিতা কোন সমাধান হতে পারে না। চেষ্টা করতে হবে বর্তমান অফিসেই অন্য ডিপার্টমেন্টে শিফট হওয়ার। এতে করে কাজের ধরণ ও কাজের পরিবেশে পরিবর্তন আসবে।

যদি ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তন করা সম্ভব না হয় তবে নতুন চাকরির খোঁজ শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্কশপে অংশ নিতে হবে। কিন্তু যেখানে কাজ করে নিজের ক্ষতি হচ্ছে, সেখানে দীর্ঘদিন থাকা যাবে না কোনভাবেই।

সদৃশ্যমনা সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করুন

কর্মক্ষেত্রে একসাথে বহু মানুষ কাজ করেন। সবারই মন-মানসিকতা ভিন্ন হবে, চিন্তাধারা ব্যতিক্রম হবে। তবে এর মাঝেও এমন সহকর্মী পাওয়া যাবে, যার সাথে নিজের মানসিকতার মেলে। তাদের সাথে নিজের সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা করলে, তারা আপনার সমস্যাটি বুঝতে পারবেন। প্রয়োজনে কোন সমাধান জানাতে পারবেন।

প্রতিটি কাজের ডকুমেন্ট তৈরি করুন

এতোদিনে যতগুলো কাজ করেছেন, প্রতিটি কাজ গুছিয়ে আলাদাভাবে ডকুমেন্ট তৈরি করে রাখুন। এতে পরবর্তিতে আপনি কাজের নিদর্শন প্রকাশ করতে পারবেন। কাজের পাশাপাশি, ই-মেইল, ম্যাসেজও সংরক্ষণ করুন ভালোভাবে।

ধারণ করুন ইতিবাচক মনোভাব

কোনকিছুই সহজ নয় এবং প্রতিকূলতা থাকবে প্রতি পদে পদে। এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাই নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মনঃক্ষুণ্ণ না হয়ে ভালো পরিস্থিততে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সেই সাথে নিজের মধ্যে ইতিবাচক ভাব ধারণ করতে হবে দৃঢ়ভাবে। যেকোন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে পারলে, সহজেই সেই সমস্যাটি উতরে যাওয়া যায়।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা চেপে রাখা বোকামি। এমন পরস্থিতি হলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে অফিস অথোরিটিকে জানাতে হবে এবং সেই অনুযায়ি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নতুবা সময়ের সঙ্গে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে।

আরও পড়ুন: পছন্দের চাকরিটি ছেড়ে দিচ্ছেন?

আরও পড়ুন: কর্মোদ্দীপ্ত থাকতে সাহায্য করবে এই নিয়মগুলো!

আপনার মতামত লিখুন :

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঝাল ও মিষ্টি উভয় ধরনের খাবার তৈরিতেই দারুচিনি বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে।

আমাদের রান্নায় দারুচিনি ব্যবহারের মূল কারণ হলো ফ্লেভার, তবে আরও একটি বিশেষ কারণে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে দারুচিনি রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়বেটিসের সমস্যাটিও।

মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই উপাদানটিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকেও রক্ষা করতে কার্যকরি। গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণ বেশ কয়েকদিক থেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে রাখুন।

প্রদাহ কমায় দারুচিনি

বেশ কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ বিরোধী তথা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। পেশীর ব্যথাভাব, ফোলাভাব, শরীরের কোন অংশে হুটহাট ব্যথা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমাতে কাজ করে দারুচিনি।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি

রক্তে চিনি ও ইনস্যুলিনের মাত্রার হেরফেরের উপরেই নির্ভর করে মেটাবোলিজমের মাত্রা ও টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা। বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণে ডায়বেটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দারুচিনি শুধু রক্তে চিনির মাত্রাই নয়, ইন্স্যুলিন সেনসিটিভিটিকেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531546124.jpg

হৃদরোগ দূরে রাখে দারুচিনি

প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে- যারা নিত্যদিনের খাবারে হলুদ ও দারুচিনি গুঁড়া রাখে, তাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের চাইতে কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও কমে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে

সিনামন এক্সট্র্যাক্ট তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা প্রায় সকল ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দারুচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড (Cinnamaldehyde) হলো প্রধান উপাদান, যা ইনফেকশন দ্রুত সারাতে কাজ করে। বিশেষত ইষ্ট ইনফেকশনের বিরুদ্ধে দারুচিনির তেল সবচেয়ে উপকারী।

মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হবে দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাবকে, যা মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি দাঁতের ক্ষয়রোগ ও মুখে বাজে গন্ধ হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

আরও পড়ুন: গরম আবহাওয়ায়, সুস্থতায় ডাবের পানি

আরও পড়ুন: ঘুম আনতে সাহায্য করবে এই খাবারগুলো

যে তিনটি সময়ে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি

যে তিনটি সময়ে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি
দীর্ঘসময় রোদের নিচে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে, ছবি: সংগৃহীত

বিরক্তিকর বৃষ্টি শেষে বাইরে এখন রোদ হাসছে।

বৃষ্টি মানেই যেমন রাস্তায় কাদা-ময়লার ঝক্কি-ঝামেলা, ঠিক তেমনই বাইরে রোদ মানেই হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা। রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সানস্ক্রিন, ছাতা, পানির বোতল সাথে রাখা হলেও দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে, এরপরেও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থেকেই যায়।

হিটস্ট্রোক আসলে কী?

হিটস্ট্রোককে সান স্ট্রোকও বলা হয়। দীর্ঘসময় রোদে থাকার ফলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যখন অতিরিক্ত বেড়ে যায় তখনই হিটস্ট্রোকের মতো সিরিয়াস কন্ডিশন দেখা দেয়। সাধারণত অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার যোগফলে দেখা দেয় হিটস্ট্রোক।

কার্ডিওলজিস্ট পল মনটানা ডে লা কায়ডেনা, এমডি হিটস্ট্রোক সম্পর্কে জানান, হিটস্ট্রোকে শরীরের অভ্যান্তরিন তাপমাত্রা কমানোর জন্য একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ককে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন প্রত্যাঙ্গের কাজকে বন্ধ করে দেয়।

হিটস্ট্রোক দেখা দেওয়ার পূর্ব লক্ষণগুলোর মাঝে রয়েছে- অতিরিক্ত গরম বোধ হওয়া, ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরানো, বমিভাব, অস্থিরতা ও জ্ঞান হারানো।

কোন সময়গুলোতে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563522061165.JPG

হিটস্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এমনকি গুরুত্বর অবস্থা হলে এবং হিটস্ট্রোক দেখা দেওয়ার পর লম্বা সময় কোন ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করা না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

ডাঃ মনটানা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ও সচেতন হতে তিনটি বিষয় ও সময় সম্পর্কে জানিয়েছে, যে সময়গুলোতে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি।

বাইরে খেলাধুলা করা

গ্রীষ্মকালে বাইরে খেলাধুলা করার ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশেষত যাদের নিয়মিত বাইরে উন্মুক্ত স্থানে অনুশীলন করতে হয়। জুলাই-আগস্ট মাসে একইসাথে তাপমাত্রা ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। যার দরুন খুব সহজেই গরম আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং দীর্ঘসময় বাইরে থাকার ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বাইরে কাজ করা

যাদের প্রতিদিন বাইরে ঘুরে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিটা থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশেষত ভারি যন্ত্র বহন করা, দীর্ঘসময় হাঁটাহাঁটি করা, ছায়াযুক্ত স্থানের অভাব, শারীরিক পরিশ্রম বেশি করতে হয়- এমন কাজের ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে বেশি।

শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়া

শিশু ও বৃদ্ধ ব্যক্তিরা খুব সহজেই পানি শূন্যতায় ভোগেন। তারা যদি দীর্ঘসময় রোদের নিচে থাকেন ও অতিরিক্ত ঘামেন তবে তাদের হিটস্ট্রোক দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ।

হিটস্ট্রোক দেখা দিলে কী করতে হবে?

অসাবধানতায় যদি হিটস্ট্রোক দেখা দেয় তবে রোগীকে দ্রুত ফ্যানের বাতাসযুক্ত স্থানে আনতে হবে এবং পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। সেই সাথে রোগীর বগল, ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে আইসপ্যাক দিতে হবে। এ সকল স্থানের ত্বকের খুব কাছাকাছি রক্তনালীকা থাকে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে। তবে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে আইসপ্যাক ব্যবহার এড়িয়ে যেতে হবে।

এ সকল ধাপের পর রোগী কিছুটা ধাতস্থ হলেচ পানি পান করাতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রচণ্ড গরমেও এড়িয়ে চলুন ঠাণ্ডা পানি!

আরও পড়ুন: ঘরের পরিবেশ থাকুক দূষণমুক্ত

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র