Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বার্গার খাওয়ার পর কী ঘটে শরীরে?

বার্গার খাওয়ার পর কী ঘটে শরীরে?
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

খুব নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া হলেও, হুট করেই একদিন সব গড়মিল হয়ে যায়।

প্রচন্ড ক্ষুধার্ত থাকায় কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডায় খাওয়া হয় ফাস্ট ফুড। খাওয়ার সময় খুব একটা অনুশোচনা না হলেও, খাওয়া শেষে দারুণ অনুশোচনা কাজ করে।

এদিকে বিজ্ঞান জানাচ্ছে- অনুশোচনার মতোই একটি কাজ হলো, নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাঝে হুট করে একদিন অল্প পরিমাণ ফাস্ট ফুড খাওয়া। কারণ একদিন ফাস্ট ফুড খাওয়া হলেও, তা স্বাস্থ্যের উপরে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়।

ফাস্ট ফুডের বিভিন্ন ধরনের খাবারের মধ্যে বোঝানোর সুবিধার্থে বার্গারকেই ধরা যাক। মাঝারি আকৃতির একটি বার্গারে থাকে ৫০০ ক্যালোরি, ২৫ গ্রাম ফ্যাট (যার মাঝে অর্ধেক হলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা প্রতিদিনের চাহিদার অর্ধেক এবং কিছু থাকে ট্রান্স ফ্যাট), ৪০ গ্রাম কার্ব, ১০ গ্রাম চিনি ও ১০০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম।

বার্গারে প্রথম কামড় দেওয়ার ১৫ মিনিট পরেই তা রক্তের সাথে মিশে যেতে শুরু করে। এতে করে রক্তে প্রচুর পরিমাণে গ্লকোজ মেশে একসাথে। এই গ্লুকোজ ক্যালোরি থেকে এনার্জিতে পরিণত হয়। ফলে ইনস্যুলিনের মাত্রা বেড়ে যায় অনেক। এতে করে কিছু সময় পর পুনরায় ক্ষুধাভাব দেখা দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555472584540.jpg
ফাস্ট ফুড খাওয়া বাদ দিতে হবে পুরোপুরি।

 

রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া, ইনস্যুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, পুনরায় ক্ষুধাভাব দেখা দেওয়া- এই নিয়মের ঘনঘন পুনরাবৃত্তি ডায়বেটিসের সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে ‘আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’ এ প্রকাশিত ভিন্ন একটি গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, উচ্চমাত্রার সোডিয়াম গ্রহণের ফলে রক্তনালীকার উপর নেতিবাচক প্রভাবের সৃষ্টি হয় ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মাঝে।

শুধু তাই নয়, গবেষকেরা একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের স্যাচুরেটেড ফ্যাটসহ ১০০০ ক্যালোরির খাবার খেতে দেন। খাবার খাওয়ার ৪ ঘন্টা পর পরীক্ষা করে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আর্টারিয়াল ফাংশন দারুণভাবে ব্যহত হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে গিয়েছে।

তাই ‘শুধু আজকেই অল্প ফাস্ট ফুড খাবো’ বলার কোন চান্স নেই একেবারেই। সুস্থতা পেতে চাইলে সম্পূর্ণভাবেই বাদ দিতে হবে সকল ধরনের পছন্দের ও মুখরোচক ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস।

আরও পড়ুন: কোমল পানীয় পানে কী ঘটে শরীরে?

আরও পড়ুন: পেটের মেদ বাড়ছে যে সকল অভ্যাসে

আপনার মতামত লিখুন :

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম
খেজুর গুড়ের আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

খেজুর গুড়ের পায়েস নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, কিন্তু খেজুর গুড়ে তৈরি আইসক্রিম কি খাওয়া হয়েছে কখনো?

চিনির মিষ্টি নয়, গুড়ের মিষ্টিতে তৈরি এই আইসক্রিমে পাওয়া যাবে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার অচেনা স্বাদ।

বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছাটাও তাড়া দিতে থাকে। এই সুযোগে ঘরে বসে ফ্রেশ দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি করে নিন অচেনা স্বাদের মিষ্টান্ন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538258867.JPG

১. দুই কাপ ক্রিম।

২. এক কাপ দুধ।

৩. চারটি ডিমের কুসুম।

৪. আধা কাপ খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538280218.JPG

১. একটি পাত্রে ভালোভাবে ডিমের কুসুমগুলো ফেটিয়ে নিতে হবে।

২. ভিন্ন একটি সসপ্যানে ক্রিম ও দুধ একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে বলক আনতে হবে।

৩. গরম দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের এক-চতুর্থাংশ ডিমের কুসুমে দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে হুইস্ক করতে হবে তথা ফেটিয়ে নিতে হবে।

৪. এবারে ডিমের মিশ্রণটি সস্প্যানে দিয়ে পুনরায় জ্বাল দিতে হবে এবং গুড় মেশাতে হবে। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে কাস্টার্ডের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হবে।

৫. মিশ্রণ ঘন হয়ে আসলে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে এলে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে।

পরদিন সকালে নাশতার সাথে উপভোগ করুন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঝাল ও মিষ্টি উভয় ধরনের খাবার তৈরিতেই দারুচিনি বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে।

আমাদের রান্নায় দারুচিনি ব্যবহারের মূল কারণ হলো ফ্লেভার, তবে আরও একটি বিশেষ কারণে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে দারুচিনি রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়বেটিসের সমস্যাটিও।

মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই উপাদানটিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকেও রক্ষা করতে কার্যকরি। গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণ বেশ কয়েকদিক থেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে রাখুন।

প্রদাহ কমায় দারুচিনি

বেশ কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ বিরোধী তথা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। পেশীর ব্যথাভাব, ফোলাভাব, শরীরের কোন অংশে হুটহাট ব্যথা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমাতে কাজ করে দারুচিনি।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি

রক্তে চিনি ও ইনস্যুলিনের মাত্রার হেরফেরের উপরেই নির্ভর করে মেটাবোলিজমের মাত্রা ও টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা। বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণে ডায়বেটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দারুচিনি শুধু রক্তে চিনির মাত্রাই নয়, ইন্স্যুলিন সেনসিটিভিটিকেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531546124.jpg

হৃদরোগ দূরে রাখে দারুচিনি

প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে- যারা নিত্যদিনের খাবারে হলুদ ও দারুচিনি গুঁড়া রাখে, তাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের চাইতে কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও কমে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে

সিনামন এক্সট্র্যাক্ট তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা প্রায় সকল ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দারুচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড (Cinnamaldehyde) হলো প্রধান উপাদান, যা ইনফেকশন দ্রুত সারাতে কাজ করে। বিশেষত ইষ্ট ইনফেকশনের বিরুদ্ধে দারুচিনির তেল সবচেয়ে উপকারী।

মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হবে দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাবকে, যা মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি দাঁতের ক্ষয়রোগ ও মুখে বাজে গন্ধ হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

আরও পড়ুন: গরম আবহাওয়ায়, সুস্থতায় ডাবের পানি

আরও পড়ুন: ঘুম আনতে সাহায্য করবে এই খাবারগুলো

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র