Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রযুক্তি যেভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে!

প্রযুক্তি যেভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সময়ে আমরা সকলেই বড় বেশি প্রযুক্তি নির্ভর।

দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের চারপাশের সবকিছুই আবর্তিত হয় প্রযুক্তির সাথে। মোবাইলের স্ক্রিন থেকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ প্রতিদিনের আবশ্যিক অনুষঙ্গ হলো এই যন্ত্রগুলো। প্রযুক্তির ব্যবহার যেমনভাবে আমাদের বহু কাজ সহজ করে তুলেছে, তেমনভাবেই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট ও ধরাবাঁধা সময় ডেস্কটপে বসে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের বসার ভঙ্গির বিষয়ে মোটেও সচেতন থাকি না আমরা। যার দরুন দেখা দেয় বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা।

ঘাড় ও পিঠে ব্যথা দেখা দেওয়া

কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে ঘাড় ঝুঁকিয়ে ও ডান হাত মাউসে রেখে ক্রল করার ভঙ্গিতে শরীর খুবই বেকায়দায় ভাঁজ হয়ে থাকে। এমনভাবে বসার ভঙ্গিতে পিঠ, ঘাড় ও হাতের মাঝে কোন সামঞ্জস্যতা থাকে না। মানবদেহের গঠন এমনভাবে বসার মতো করে তৈরি করা হয় ও এমন ব্যতিক্রম বসার ভঙ্গিতে হাড়ের গঠনে ও স্থায়িত্বে সমস্যা তৈরি হয়। ফলে ঘনঘন ঘাড় ও পিঠে ব্যথার উপদ্রব তৈরি হয়।

মাথার ওজন বেড়ে যাওয়া

মানুষের মাথার স্বাভাবিক ওজন ১০-১২ পাউন্ড। কাঁধের উপর সঠিক ভারসম্যে মাথা থাকায় এত ভরে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয় না। তবে মাথা সামনের দিকে যত বেশি ঝোঁকানো হয়, মাথার ভর তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এভাবে সর্বোচ্চ ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত মাথার ভর বৃদ্ধি পেতে পারে। যা পুরো মাথার জন্যে, ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

হাত ও হাতের আঙ্গুলে সমস্যা দেখা দেওয়া

স্মার্ট মোবাইল ও ট্যাবলেটের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে হাতের তর্জনি, বৃদ্ধাঙ্গুলি ও টেনডন (হাড়ের মাঝে সমন্বয় তৈরিকারি টিস্যু) সমূহে প্রদাহ তৈরি হয়। এতে করে হাতের আঙ্গুলে, হাড়ের জোড়াতে ব্যথাভাব দেখা দেয়। কলমের সাহায্যে লেখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মেরুদণ্ডের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন আসা

ডেস্কটপ কিংবা মোবাইলে- যেকোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা হয় কুঁজো হয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে। এতে করে মেরুদণ্ডের অ্যালাইনমেন্ট তথা শ্রেণিবিন্যাসে সমস্যা দেখা দেয়। যা থেকে নার্ভাস সিস্টেমের সমস্যা দেখা দেওয়া সহ শারীরিক কোঅর্ডিনেশন ও কন্ট্রোলজনিত সমস্যা দেখা দিতে থাকে।

শরীরের ভঙ্গিতে পরিবর্তন চলে আসা

দিনের বেশিরভাগ সময় কুঁজো হয়ে কিংবা ঝুঁকে কাজ করার ফলে শারীরিক ভঙ্গিতে কিংবা বডি পশচারে পরিবর্তন চলে আসে। এতে দেখা যায় বসার সময় কিংবা হাঁটার সময় কাঁধ সামনের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। যা দেখতে খুবই বাজে লাগে।

আরও পড়ুন: মেটাবলিজম কমছে যেসকল অভ্যাসে

আরও পড়ুন: পরিচিত বদভ্যাসেই দেখা দেয় কিডনির সমস্যা

আপনার মতামত লিখুন :

গরমে ঘামাচিকে দূরে রাখতে কী করতে হবে?

গরমে ঘামাচিকে দূরে রাখতে কী করতে হবে?
গরমে ঘামাচির সমস্যাটি খুব বেশি দেখা দেয়, ছবি: সংগৃহীত

আবহাওয়ার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকলেই দেখা দিতে শুরু করে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা, যার মাঝে থাকে ত্বকের সমস্যাও।

ঘামাচি তেমনই গরমকালীন একটা ত্বকের সমস্যা। গরমে ত্বকে লালচে র‍্যাশ ওঠাকেই স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ঘামাচি ওঠা। এই র‍্যাশগুলো ত্বকে চুলকানির উপদ্রব তৈরি করে এবং বেশ জ্বালাপোড়া হয় ত্বকে।

কেন ঘামচি দেখা দেয়?

শরীরের ঘর্মগ্রন্থিগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ঘামাচি দেখা দেয়। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের কিছু অংশে ত্বকের নিচের ঘাম আটকে থাকে, যা থেকে ত্বকের সমস্যা তথা র‍্যাশ বা ঘামাচি তৈরি হয়। আক্রান্ত স্থানের ত্বক লালচে হয়ে ছোট ছোট র‍্যাশ দেখে দেয় এবং ঘামচির সমস্যাটি শিশু থেকে শুরু করে পূর্ণবয়স্ক সবারই হতে পারে।

ঘামাচি সাধারণত ঘাড়, পিঠ, গলার ভাঁজে, হাতের ভাঁজে ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী অংশে দেখা দেয়। বলা যেতে পারে, শরীরের যে অংশগুলোতে ঘাম জমে থাকে এবং সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে না, সে অংশগুলোতেই ঘামাচির সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত রোদের আলোর সংস্পর্শে আসলে শরীরের অন্যান্য অংশেও ঘামাচি দেখা দিতে পারে।

ঘামাচি প্রতিরোধে কী করতে হবে?

কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারলেই ঘামাচি থেকে নিজেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া ঘামাচির প্রকোপ শিশুদের মাঝে যেহেতু বেশি দেখা দেয়, সঠিক যত্ন ও খেয়াল রাখা হলে শিশুদের ঘামাচির সমস্যাটি কমে যাবে। সেক্ষেত্রে জেনে রাখুন একদম সহজ কিছু নিয়ম, যা মেনে চললে ঘামাচির উপদ্রব কম দেখা দেবে।

১. খুব বেশি গরম ও আর্দ্রতাপূর্ণ স্থান এড়িয়ে যেতে হবে এবং যতটা সম্ভব বাইরে সরাসরি রোদের আলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। কোন কারণ ঘাম তুলনামূলক বেশি হলে দ্রুত ফ্যানের নিচে বাতাসযুক্ত স্থানে বসতে হবে এবং শরীরের ঘাম শুকানোর চেষ্টা করতে হবে। এ সময়ে সাধারণ তাপমাত্রার পানি পান সবচেয়ে ভালো কাজ করবে।

২. গরম আবহাওয়ায় অন্যান্য যেকোন ধরনের তন্তুর চেয়ে সুতি তন্তুর পোশাক পরা সবচেয়ে বেশি উপকারী। সুতি কাপড় দ্রুত ঘাম শোষণ করে ও শুকিয়ে ফেলে এবং সুতি কাপড়ের ভেতর থেকে খুব ভালোভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে। যদিও সিল্ক, লিলেন, জর্জেট কাপড়গুলো আভিজাত্যভাব আনে, এই গরমে ঘামাচিকে দূরে রাখতে চাইলে সুতি তন্তুর পোশাকই বেছে নিতে হবে।

৩. বাইরে কাজে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সাথে ফেসিয়াল টিস্যু ও পকেট তোয়ালে রাখার চেষ্টা করতে হবে। গরমে ঘাম হলেই সাথে সাথে ঘাম মুছে ফেলতে হবে এবং শরীর ঠাণ্ডা করা ও শুকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ঘামে ত্বক যেন ১৫-২০ মিনিটের বেশি সময় আর্দ্র না থাকে।

৪. গরমে সবচেয়ে উপকার দেয় বেবি পাউডার। শিশুদের জন্য তো বটেই, বড়দের ক্ষেত্রেও বেবি পাউডার ত্বকে আরামদায়ক ও শীতল অনুভূতি তৈরি করে। যাদের শরীর কিছুটা ভারি গড়নের তাদের জন্য বেবি পাউডার খুব ভালো কাজ করবে।

৫. বাইরে থেকে ফিরেই শরীরে পানিতে ধুয়ে ফেলা অথবা ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে নেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে করে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা ঘাম ও ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং ঘামাচির উপদ্রব দেখা দেবে না।

আরও পড়ুন: শারীরিক সুস্থতা পেতে গড়ুন ১০ অভ্যাস

আরও পড়ুন: পানিশূন্যতা রোধে কী করা প্রয়োজন?

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'
দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট ও কয়েকটি মেন্যু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বলা চলে, পুরোটাই অফিস পাড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত- প্রতিনিয়তই চলছে কাজ। কিন্তু এই এলাকায় ছিল না ভালো কোনো খাবারের জায়গা। হাতেগোনা যে কয়টা রেস্টুরেন্ট আছে তার কোনোটাতে হয় দাম বেশি রাখা হয় কিংবা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে তেজগাঁওয়ে শুরু হয়েছে 'দ্যা গ্যারাজ ফুডকোর্ট'।

তেজগাঁও শান্তা টাওয়ার মোড় বা ব্র্যাক ব্যাংক অনিক টাওয়ারে যেতে গলির মুখেই ২২২ নাম্বার হাউজে এই ফুডকোর্ট অবস্থিত। রয়েছে ২০০টির বেশি আসন। তবে ফুডকোর্টটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও বড় বড় ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাষ্প দিয়ে জায়গাটি শীতল করার ব্যবস্থা আছে।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই ফুডকোর্টে জুসবারসহ প্রায় ১০টি দোকান আছে। এসব দোকানে নুডলস, বার্গার, দই ফুচকা, দোসা, রাজকচুরি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, লাঞ্চ আইটেম, চাপ, পরোটা, এগ রোল এবং চাপরোল পাওয়া যায়। আর বেভারেজ আইটেমের মধ্যে রয়েছে- কোল্ড কফি, হটকফি, এসপ্রেসো কফিসহ আনারস, আম ও সিজনাল নানা ফ্রুট জুস।

এখানে চিকেন ও বিফ চাপ ১৫০ টাকা, চিকেন চাপ প্যাকেজ মিল ১৮০ টাকা, পরোটা ২০ টাকা, চিকেন রোল ১০০ টাকা, বিফ রোল ১২০ টাকা, এগরোল ৪০ টাকা, বিফ তেহারি ১৫০ টাকা, চিকেন খিচুরি ও বেগুন ভাজি ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

এছাড়া দোসা এক্সপ্রেসে দোসা পাওয়া যাবে ১৮০–৩৫০ টাকায়।

'হাক্কা ঢাকায়' সেট মেন্যু ৩২৯–৫২৯ টাকা। এপিটাইজার আইটেমের পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯-৩০০ টাকায়, যার মধ্যে রয়েছে চিকেন, প্রন ডাম্পলিং, হাক্কা চিকেন উইংস। রাইস এবং নুডুলস আইটেমের মধ্যে আছে চিকেন, প্রন এবং বিফ ফ্রাইড রাইস ও নুডুলস, যার দাম পড়বে ১৯৯-৩০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রাইস, চিকেন চিলি ও ফ্রাইড চিকেন এর একটি লাঞ্চ মেন্যু, যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ টাকা।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

চিজ এক্সপ্রেসে স্লাইস পিজ্জার দাম পড়বে ১২৯ টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পিজ্জা পাওয়া যাবে এক হাজার ২৪৯ টাকায়।

দ্যা গ্যারাজ কফিতে এসপ্রেসো কফি পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। এছাড়াও আমরিকানো ১৩০ টাকা, মকা ২২০ টাকা, ডেজার্ট আইটেম ১০০-২৫০ টাকা, হট ড্রিঙ্কস ২০০ টাকা, চা ৩৫ টাকা, আইসড কফি ১৫০-২৫০ টাকা, সিজনাল ফ্রুট জুস ১৩০ টাকা। রয়েছে জনপ্রিয় টেকআউট বার্গারের ফুড স্টলও।

ফুডকোর্টতির ইনচার্জ বদিউজ্জামান জানান, গত মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোর্ট খোলা থাকে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র