Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আর মাত্র কদিন পরেই চলে আসবে পবিত্র রমজান মাস।

পুরো মাসব্যাপী রোজার আয়োজনে তেলে ভাজা খাবার থাকার রীতিটি অনেকটাই অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরম বেগুনী, পাকোরা, পিঁয়াজু কিংবা চপ ভাজার জন্য বেশ অনেকখানি তেলের প্রয়োজন হয়। দেখা যায় অনেকেই একই তেলে কয়েকদিনের ভাজাপোড়ার কাজ সেরে নেন।

পুরনো তেলে খাবার রান্না করা বা ভাজাপোড়া করলে খুব একটা সমস্যা নেই- এমন ভ্রান্ত ধারনা থেকেই মূলত এই অভ্যাসটি দেখা দেয়। অথচ এই অভ্যাসটির জন্যেই দেখা দেয় নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতাসহ ক্যানসারের মতো বড় ধরনের সমস্যাও।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়েসের ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের উপরে পুরনো তেলের একটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার জন্য ইঁদুরদের শরীরে ৪টি১ ব্রেস্ট ক্যানসার সেল ইনজেক্ট করা হয়। এই ইঁদুরদের প্রথম সপ্তাহে লো-ফ্যাট ডায়েটে রাখা হয়। পরবর্তীতে ইঁদুরের একাংশকে ফ্রেশ সয়াবিন তেলে ভাজা খাবার খাওয়ানো হয় এবং বাকিদের পুরনো তেলে ভাজা খাবার দেওয়া হয়।

যার ফলাফল ছিল ভয়াবহ। পুরনো তেলে ভাজা খাবার খাওয়া ইঁদুরদের শরীরে, ফ্রেশ তেলে ভাজা খাবার খাওয়া ইঁদুরের চাইতে চার গুণ বেশি ব্রেস্ট ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ফলাফল দেখা যায়। শুধু তাই নয়। তাদের ফুসফুসেও টিউমারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এখানে একটা বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে। পুরনো তেলে ভাজা খাবার ব্রেস্ট ক্যানসার তৈরি করে না,। তবে গবেষণার ফলাফল জানাচ্ছে শরীরে আগে থেকে থাকা ক্যানসারের বৃদ্ধিতে অবদান রাখে একই তেলে পুনরায় ভাজা খাবার।

পুরনো তেলে ভাজা খাবারে আর কী অপকারিতা রয়েছে সেটা জানাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা মেডিক্যাল নিউজ টুডে। তাদের জার্নালে প্রকাশ করেছে, একই তেল বারবার উচ্চতাপে গরম করে তাতে খাবার ভাজা হলে, তেল থেকে অ্যাক্রোলিন (Acrolein) নামক বিষাক্ত উপাদান নির্গত হয়। এই উপাদানটি অনেকক্ষেত্রে ক্যানসার তৈরি জন্য দায়ী।

‘আমরা সবাইকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, ক্যানসার বংশগত কিংবা শারীরিকগত ত্রুটির ফলে নয়, নিজের লাইফস্টাইলের ভুলের জন্যেও হয়ে থাকে। যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস ব্রেস্ট ক্যানসারকে কমাতে পারে তবে সেটা সুস্বাস্থ্যও এনে দিতে পারবে।’ এমনটাই বলেছেন পরীক্ষা ও গবেষণাটির প্রধান ডাব্লিউ. অয়েরিফিন।

তাই শুধু রমজানের সময়ে নয়, সবসময়েই পুরনো তেলে ভাজা খাবারের বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে। মূলত এই কারণেই বাইরের তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয় ও ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি জোর দেওয়া হয়। তবে ঘরে তৈরি খাবারেও একই তেল একবারের বেশি ব্যবহার না করার প্রতি সচেষ্ট থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: বার্গার খাওয়ার পর কী ঘটে শরীরে?

আরও পড়ুন: পেটের মেদ বাড়ছে যে সকল অভ্যাসে

আপনার মতামত লিখুন :

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'
দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট ও কয়েকটি মেন্যু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বলা চলে, পুরোটাই অফিস পাড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত- প্রতিনিয়তই চলছে কাজ। কিন্তু এই এলাকায় ছিল না ভালো কোনো খাবারের জায়গা। হাতেগোনা যে কয়টা রেস্টুরেন্ট আছে তার কোনোটাতে হয় দাম বেশি রাখা হয় কিংবা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে তেজগাঁওয়ে শুরু হয়েছে 'দ্যা গ্যারাজ ফুডকোর্ট'।

তেজগাঁও শান্তা টাওয়ার মোড় বা ব্র্যাক ব্যাংক অনিক টাওয়ারে যেতে গলির মুখেই ২২২ নাম্বার হাউজে এই ফুডকোর্ট অবস্থিত। রয়েছে ২০০টির বেশি আসন। তবে ফুডকোর্টটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও বড় বড় ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাষ্প দিয়ে জায়গাটি শীতল করার ব্যবস্থা আছে।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই ফুডকোর্টে জুসবারসহ প্রায় ১০টি দোকান আছে। এসব দোকানে নুডলস, বার্গার, দই ফুচকা, দোসা, রাজকচুরি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, লাঞ্চ আইটেম, চাপ, পরোটা, এগ রোল এবং চাপরোল পাওয়া যায়। আর বেভারেজ আইটেমের মধ্যে রয়েছে- কোল্ড কফি, হটকফি, এসপ্রেসো কফিসহ আনারস, আম ও সিজনাল নানা ফ্রুট জুস।

এখানে চিকেন ও বিফ চাপ ১৫০ টাকা, চিকেন চাপ প্যাকেজ মিল ১৮০ টাকা, পরোটা ২০ টাকা, চিকেন রোল ১০০ টাকা, বিফ রোল ১২০ টাকা, এগরোল ৪০ টাকা, বিফ তেহারি ১৫০ টাকা, চিকেন খিচুরি ও বেগুন ভাজি ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

এছাড়া দোসা এক্সপ্রেসে দোসা পাওয়া যাবে ১৮০–৩৫০ টাকায়।

'হাক্কা ঢাকায়' সেট মেন্যু ৩২৯–৫২৯ টাকা। এপিটাইজার আইটেমের পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯-৩০০ টাকায়, যার মধ্যে রয়েছে চিকেন, প্রন ডাম্পলিং, হাক্কা চিকেন উইংস। রাইস এবং নুডুলস আইটেমের মধ্যে আছে চিকেন, প্রন এবং বিফ ফ্রাইড রাইস ও নুডুলস, যার দাম পড়বে ১৯৯-৩০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রাইস, চিকেন চিলি ও ফ্রাইড চিকেন এর একটি লাঞ্চ মেন্যু, যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ টাকা।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

চিজ এক্সপ্রেসে স্লাইস পিজ্জার দাম পড়বে ১২৯ টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পিজ্জা পাওয়া যাবে এক হাজার ২৪৯ টাকায়।

দ্যা গ্যারাজ কফিতে এসপ্রেসো কফি পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। এছাড়াও আমরিকানো ১৩০ টাকা, মকা ২২০ টাকা, ডেজার্ট আইটেম ১০০-২৫০ টাকা, হট ড্রিঙ্কস ২০০ টাকা, চা ৩৫ টাকা, আইসড কফি ১৫০-২৫০ টাকা, সিজনাল ফ্রুট জুস ১৩০ টাকা। রয়েছে জনপ্রিয় টেকআউট বার্গারের ফুড স্টলও।

ফুডকোর্টতির ইনচার্জ বদিউজ্জামান জানান, গত মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোর্ট খোলা থাকে।

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র