Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সুস্থতার জন্যে বিশ্রাম ও ঘুম কতটা জরুরি?

সুস্থতার জন্যে বিশ্রাম ও ঘুম কতটা জরুরি?
মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যে প্রয়োজন পরিমিত ঘুম, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

সময়ের সাথে ব্যস্ততা বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে কাজের চাপ।

অফিস, বাসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজের মাঝে নির্বিঘ্নে ঘুমের জন্য লম্বা সময় বের করা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। তবে একটা বিষয় সবারই জেনে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের মতোই, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য সাত-আট ঘন্টার পরিপূর্ণ ঘুম আবশ্যিক। অন্যথায় অসুস্থতা অনিবার্য।

সারাদিনের কাজের চাপ, মানসিক চাপ, পারিপার্শ্বিক সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতাজনিত নানান কারণেই, ঘুমের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় বিশ্রামেরও। দুঃখজনক হলেও সত্যি, ঘুমের জন্যেই যেখানে সময় পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়, বিশ্রামের সময় পাওয়া সেখানে দুঃসাধ্য।

অথচ নিত্যদিনের জীবনে নিজেকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে পরিমিত বিশ্রাম ও ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জেনে রাখুন কেন বিশ্রাম ও ঘুমের উপরে এতোটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্মৃতিশক্তি অক্ষুণ্ণ রাখে

ঘুমের ঘাটতির ফলে মস্তিষ্কের উপরে খুব সহজেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যার ফলে স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। নিয়ম মেনে যতটা ঘুমানো হবে, স্মৃতিশক্তি ততই ভালো থাকবে। কারণ ঘুমের মাঝে আমাদের মস্তিষ্ক সেই সকল ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করে, যা জেগে থাকার সময় আমরা করি, দেখি বা বলি। এমনকি কোন কিছু শেখা হলে সেটাও ঘুমের মাঝে ঝালাই হয় স্মৃতিতে। তাই ঘুম যতটা ভালো হবে, ততই স্মৃতিশক্তি ভালো থাকবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/10/1557476119844.jpg
মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যে প্রয়োজন পরিমিত ঘুম

 

সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে

পরিমিত মাত্রায় ঘুমের ফলে সৃজনশীলতার মাত্রা বৃদ্ধি পায় নিজ থেকেই। ঘুমের মাঝে মস্তিষ্ক বাইরের বাড়তি ঝামেলা ও কাজের বাইরে নিজের মতো করে কাজ করার সময় পায়। যা সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। এছাড়াও সাময়িক বিশ্রাম ঘুমের মতই সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

কমায় মানসিক চাপের মাত্রা

এখানে একটি বিষয় জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। কম ঘুমের মতোই, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম মস্তিষ্কের উপরে বাড়তি চাপ তৈরি করে। এই বাড়তি চাপ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। যা থেকে হৃদযন্ত্রের উপরেও চাপ পড়ে। তাই শুধু মস্তিষ্ক নয়, হৃদযন্ত্রকেও সুস্থ রাখতে চাইলে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সাত-আট ঘণ্টার ঘুম প্রয়োজন।

প্রতিরোধ করে ওজন বৃদ্ধি

ঘুমের তারতম্য ও কম ঘুমের ফলে গুরুত্বর প্রভাব পড়ে হরমোনের উপরে। কম ঘুম কর্টিসল তথা স্ট্রেস হরমোন তুলনামূলক বেশি নিঃসৃত করে। এই হরমোন ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

আরও পড়ুন: আট ঘণ্টার বেশি ঘুমানো কতটা ক্ষতিকর?

আরও পড়ুন: অফিসে যখন ঘুম পায়!

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র