সকালে খালি পেটে কলা খেলে কী হয়?



ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
কলা, ছবি: সংগৃহীত

কলা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাস নেই অনেকের।

অফিস কিংবা ক্লাসের জন্য বের হওয়ার আগে অনেকেই খালি পেটে একটি কলা খেয়ে নেন। কিন্তু সকালের নাশতায় একদম খালি পেটে কলা খাওয়া উচিৎ নাকি অনুচিত সেটা জানা না থাকলে সমস্যায় পড়তে হবে নিজেকে।

পর্যাপ্ত পটাশিয়াম, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামসহ অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদান উপস্থিত থাকার পরেও সকালে সম্পূর্ণ খালি পেটে কখনোই কলা খাওয়া উচিৎ নয়। এমনটাই জানাচ্ছে বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও বিশেষজ্ঞরা। এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ রয়েছে। কারণগুলো তুলে ধরা হলো।

১. বিভিন্ন ধরনের ফলের মাঝে কলাতে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক চিনি। যার ফলে কলা বেশ মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। খালি পেটে কলা খাওয়ার ফলে শরীরে সরাসরি এই চিনি কাজ করা শুরু করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শরীর অনেক এনার্জি পায়। তবে এই এনার্জি কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে যায় বলে ক্লান্তিভাব দেখা দেয়।

২. কলায় থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ, ফলে মাঝারি আকৃতির একটি কলা খেলেই পেট ভরে যায়। অল্পতেই পেট ভরে যায় বলে হুট করে ঘুমভাব ও দুর্বলতা দেখা দেয় অনেক সময়।

৩. কলাতে প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসিডিক উপাদান উপস্থিত থাকে। ফলে খালি পেটে কলা খাওয়ায় এই অ্যাসিডিক উপাদানের দরুন বুক জ্বালাপোড়াসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558953563171.jpg

পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশতায় কলা খুব চমৎকার একটি খাদ্য উপাদান। এতে থাকা পটাশিয়াম ও এর অ্যাসিডিক উপাদান সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু কলা খালি পেতে খাওয়া যাবে না মোটেও। অন্যান্য খাবার তথা লাল আটার রুটি, পাউরুটি, ওটস, ড্রাই ফ্রুটিস অথবা অন্যান্য ফলের সাথে খেতে হবে। এতে করে কলার অ্যাসিডিক উপাদান পাকস্থলীতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারবে না।

এছাড়া কলাতে থাকা উচ্চমাত্রার ম্যাগনেসিয়াম রক্তে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রায় তারতম্য ঘটাতে পারে। যা পরবর্তীতে হৃদরোগ তৈরির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এই সমস্যাটি এড়াতেও কলা সকালে খালি পেটে কলা খাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা পালন করতে হবে।

এদিকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র জানাচ্ছে শুধু কলা নয়, যে কোন ফলই সকালে খালি পেটে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বর্তমানে আমরা যে সকল ফল খাই, তার বেশিরভাগেই থাকে নানান প্রকারের কেমিক্যাল উপাদানের উপস্থিতি। যা সম্পূর্ণ খালি পাকস্থলীতে খুব দ্রুত নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করা শুরু করে।

আরও পড়ুন: আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আরও পড়ুন: বার্গার খাওয়ার পর কী ঘটে শরীরে?