Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

সকালে খালি পেটে কলা খেলে কী হয়?

সকালে খালি পেটে কলা খেলে কী হয়?
কলা, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাস নেই অনেকের।

অফিস কিংবা ক্লাসের জন্য বের হওয়ার আগে অনেকেই খালি পেটে একটি কলা খেয়ে নেন। কিন্তু সকালের নাশতায় একদম খালি পেটে কলা খাওয়া উচিৎ নাকি অনুচিত সেটা জানা না থাকলে সমস্যায় পড়তে হবে নিজেকে।

পর্যাপ্ত পটাশিয়াম, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামসহ অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদান উপস্থিত থাকার পরেও সকালে সম্পূর্ণ খালি পেটে কখনোই কলা খাওয়া উচিৎ নয়। এমনটাই জানাচ্ছে বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও বিশেষজ্ঞরা। এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ রয়েছে। কারণগুলো তুলে ধরা হলো।

১. বিভিন্ন ধরনের ফলের মাঝে কলাতে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক চিনি। যার ফলে কলা বেশ মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। খালি পেটে কলা খাওয়ার ফলে শরীরে সরাসরি এই চিনি কাজ করা শুরু করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শরীর অনেক এনার্জি পায়। তবে এই এনার্জি কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে যায় বলে ক্লান্তিভাব দেখা দেয়।

২. কলায় থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ, ফলে মাঝারি আকৃতির একটি কলা খেলেই পেট ভরে যায়। অল্পতেই পেট ভরে যায় বলে হুট করে ঘুমভাব ও দুর্বলতা দেখা দেয় অনেক সময়।

৩. কলাতে প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসিডিক উপাদান উপস্থিত থাকে। ফলে খালি পেটে কলা খাওয়ায় এই অ্যাসিডিক উপাদানের দরুন বুক জ্বালাপোড়াসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558953563171.jpg

পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশতায় কলা খুব চমৎকার একটি খাদ্য উপাদান। এতে থাকা পটাশিয়াম ও এর অ্যাসিডিক উপাদান সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু কলা খালি পেতে খাওয়া যাবে না মোটেও। অন্যান্য খাবার তথা লাল আটার রুটি, পাউরুটি, ওটস, ড্রাই ফ্রুটিস অথবা অন্যান্য ফলের সাথে খেতে হবে। এতে করে কলার অ্যাসিডিক উপাদান পাকস্থলীতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারবে না।

এছাড়া কলাতে থাকা উচ্চমাত্রার ম্যাগনেসিয়াম রক্তে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রায় তারতম্য ঘটাতে পারে। যা পরবর্তীতে হৃদরোগ তৈরির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এই সমস্যাটি এড়াতেও কলা সকালে খালি পেটে কলা খাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা পালন করতে হবে।

এদিকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র জানাচ্ছে শুধু কলা নয়, যে কোন ফলই সকালে খালি পেটে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বর্তমানে আমরা যে সকল ফল খাই, তার বেশিরভাগেই থাকে নানান প্রকারের কেমিক্যাল উপাদানের উপস্থিতি। যা সম্পূর্ণ খালি পাকস্থলীতে খুব দ্রুত নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করা শুরু করে।

আরও পড়ুন: আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আরও পড়ুন: বার্গার খাওয়ার পর কী ঘটে শরীরে?

আপনার মতামত লিখুন :

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো
টি ট্রি অয়েল, লবণ ও ল্যাভেন্ডার পাতা ছারপোকা দূর করতে কার্যকরি উপাদান

ছারপোকা দেখা দেওয়ার সমস্যাটি একইসাথে খুব বিরক্তিকর ও সাধারণ।

যারপরনাই এ সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হয় ছারপোকাযুক্ত আসবাব, বিছানা, সোফা প্রভৃতি ব্যবহারকারীকে। রাতের দিকে সাধারণত এদের উপদ্রব বেশি দেখা যায়।

মূলত স্যাঁতস্যাঁতে ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসহীন স্থানে ছারপোকা বেশি হয়। সেক্ষেত্রে বিছানা, বালিশ, কুশন, তোশকের মতো নরম স্থানে ছারপোকা হলে রোদের আলোতে কয়েকদিন এই জিনিসগুলো রাখা হলে ও পোকামাকড় দূর করার স্প্রে ব্যবহার করা হলে ছারপোকা বেশিরভাগ সময় দূর হয়ে যায়।

তবে ঢাকা শহরে বহু স্থানের বাড়িতেই রোদের আলো প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া অন্যান্য আসবাবে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে রোদের আলোতে দেওয়া কষ্টকর। সেক্ষেত্রে কিছু উপাদানের ব্যবহারে আসবাবসহ অন্যান্য জিনিসপত্র থেকে সহজেই ছারপোকা দূর করা যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের গন্ধ ছারপোকা সহ্য করতে পারে না। ফলে উপকারী এই এসেনসিয়াল অয়েলের ব্যবহারে ছারপোকা দূর করা যাবে ঝামেলাহীনভাবে। ২০০ মিলিলিটার পানিতে ২০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ছারপোকাযুক্ত আসবাবে স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হবে এবং পুনরায় ছারপোকা যেন ফিরে না আসে, সেজন্য আসবাবে ১০ দিন পরপর টি ট্রি অয়েলযুক্ত পানি স্প্রে করতে হবে।

বেকিং সোডা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034457047.jpg

প্রতি রান্নাঘরেই এই উপাদানটি পাওয়া যাবে। শুধু রান্নার কাজে নয়, ছারপোকা দমনেও দারুণ কার্যকরি এই উপাদানটি। ছারপোকা আক্রান্ত আসবাবের উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে একদিনের জন্য রেখে দিতে হবে এবং একদিন পর পুনরায় বেকিং সোডা ছিটাতে হবে। এতে করে ছারপোকা মরে যাবে।

সাদা ভিনেগার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034474797.JPG

ভিনেগারের তীব্র গন্ধ ছারপোকার যন্ত্রণা দূর করতে খুবই ভালো কাজ করে। বিশেষত আসবাবপত্রে ছারপোকা দেখা দিলে, সেক্ষেত্রে সাদা ভিনেগারের ব্যবহার সবচেয়ে উপকার দেবে। সমপরিমাণ পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে পরপর কয়েকদিন ছারপোকাযুক্ত আসবাব মুছলে ছারপোকা চলে যাবে। ছারপোকা দূর হয়ে যাওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে একবার ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে আসবাব মুছে নিতে হবে।

লবণ

সাধারন লবণ খুব ভালো ছারপোকা রিপ্যালেন্ট হিসেবে কাজ করে। বিছানা, বালিশের মতো জিনিসে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে লবণ মিশ্রিত পানি স্প্রে করে শুকাতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হয়ে যাবে।

ল্যাভেন্ডার পাতা

ল্যাভেন্ডারের মতো উপকারী পাতার গন্ধে ছারপোকা খুব দ্রুতই পালায়। জামাকাপড়ে বা বালিশ ও কুশন কভারে ছারপোকার আনাগোনা দেখা দিলে ল্যাভেন্ডার পাতা রেখে দিতে হবে। ব্যস ছারপোকার জন্য আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

আরও পড়ুন: কর্নস্টার্চ ও কর্নফ্লাওয়ারের মাঝে পার্থক্য কী?

আরও পড়ুন: সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার কি নিরাপদ?

ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার কি নিরাপদ?
ননস্টিক পাত্র

এখনকার সময়ে রান্নাবান্নার কাজে ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার সর্বত্র।

এ পাত্রগুলো ব্যবহারে সুবিধা থাকার ফলে এতো বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয় ননস্টিক পাত্র। এতে খাবার পোড়ার সম্ভবনা থাকে না বললেই চলে, খাবার খুব সহজে ও দ্রুত রান্না করে নেওয়া যায় বলে ঘরে ঘরে ননস্টিক পাত্রের চল।

কিন্তু সহজলভ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে কি? এ ঘরানার পাত্র ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে ফেলে দিচ্ছে কি না, সেটা জানা প্রয়োজন নিজের ও পরিবারের মানুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে।

সাম্প্রতিক সময়ের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ননস্টিক পাত্র থেকে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ নামক এক ধরনের পদার্থ এ সকল পাত্রে রাঁধা খাবারের সাথে মিশে যায়। যা আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের খাবারের সাথে গ্রহণ করে থাকি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এর পরীক্ষা মতে ননস্টিক পাত্র থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল উপাদান নির্গত হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

গবেষণা থেকে কী পাওয়া গিয়েছে?

FDA এর গবেষণালব্ধ ফল থেকে জানা যায়, ননস্টিক পাত্র থেকে পাওয়া যায় PFAs। যা ৫,০০০ সিনথেটিক গ্রুপের একটি কেমিক্যাল। এই কেমিক্যালটি ফরএভার কেমিক্যাল নামেও পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, ৯৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের রক্তেই এই কেমিক্যালটির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।

দেশটির এনভারমেন্টাল প্রটেকশন অ্যাজেন্সি দাবি করছে, প্রাকৃতিক কোন খাদ্য উপাদান থেকেই এই ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করার কোন সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ননস্টিক পাত্রের ব্যবহারের ফলেই ক্ষতিকর এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566024581866.jpg

এতে ক্ষতির সম্ভাবনা কতটুকু?

FDA জানাচ্ছে রক্তে PFAs এর মাত্রা কম থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় ননস্টিকি পাত্রে খাবার রান্না করা হলে PFAs খাবারের সাথে বিপদজনক মাত্রায় মিশে যেতে পারে। যার ফলে ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব, কিডনি ও লিভার ড্যামেজের মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

সমাধান কী?

প্রায় সকল ধরনের ননস্টিক পাত্রেই PFAs এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই অ্যালুমিনিয়াম ও টেনফয়েল জাতীয় ননস্টিক পাত্র ব্যবহার ও ক্রয় করা থেকে বিরত থেকে সিরামিক, স্টেইনলেস স্টিল কিংবা টেমপারড গ্লাসের পাত্রের ব্যবহারে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ সকল পাত্র ব্যবহারে অভ্যাস্ততা গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন: এক কাপ কফিতে কতখানি ক্যাফেইন থাকে?

আরও পড়ুন: রান্নাতে সুস্থ মস্তিষ্ক!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র