Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রতিনিয়ত অকাল মৃত্যুকে ডেকে আনছি যার মাধ্যমে!

প্রতিনিয়ত অকাল মৃত্যুকে ডেকে আনছি যার মাধ্যমে!
আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

একদম শিশু থেকে শুরু করে করে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেই প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড খাবার ও প্রসেসড খাবার গ্রহণ করছি।

মুখরোচক এই খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়া যেন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকেন নাগেট, আইসক্রিম ও সকালের নাশতার সিরিয়ালের মতো খাবারগুলো হলো আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড। যতটাই স্বাদু এই খাবারগুলো, ঠিক ততটাই ক্ষতিকর আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য। শুধু ক্ষতিকর বললে কমিয়ে বলা হবে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছে, এমন ধরনের আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারগুলোই হলো অকাল মৃত্যুর কারণ!

ফ্রান্স ও স্পেনের গবেষকেরা তাদের পরীক্ষা থেকে দেখেছে, এ ধরনের খাবার খাওয়ার প্রবণতা বর্তমান সময়ে বেড়ে গেছে তুলনামূলক অনেক বেশি। তাদের গবেষণার ফলাফল থেকে আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারের সাথে অকাল মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক ও প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, এটা সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে- এমন ধরনের খাবার এ সময়ের মানুষ অনেক বেশি খাচ্ছে এবং যার নেতিবাচক প্রভাব প্রতিনিয়ত দেখা দিচ্ছে স্বাস্থ্যের উপরে।

কী এই আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার?

প্রসেসড খাবারের ধারণাটি আসে, খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে খাদ্য উপাদান ক্রেতাদের জন্য তৈরি করতে ও উপস্থাপন করছে তার উপরে। সে অনুসারে মূলত তিনটি প্রকারভেদ রয়েছে খাবারে।

সর্বনিম্ন বিভাগ হলো, আনপ্রসেসড অথবা মিনিমালি প্রসেসড খাবার। যেমন- ফল, সবজি, দুধ, মাংস, ডাল ও শস্য, ডিম ইত্যাদি।

দ্বিতীয় ক্যাটাগরি বা বিভাগ হলো প্রসেসড খাবার, যেগুলোতে স্বাদ ও মেয়াদ বর্ধনের জন্য লবণ, তেল, চিনি যোগ করা হয় ও ফার্মেনটেশন করতে হয়। এমন খাবারগুলো হলো- পনির, বেকন, পাউরুটি প্রভৃতি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/30/1559202753968.jpg

এরপরেই আসে আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার, যা সাবস্টেনশিয়াল ইনডাস্ট্রিয়াল প্রসেসিং এর ভেতর দিয়ে প্যাকেটজাত হয় এবং এই সকল পণ্যের প্যাকেটের উপাদান সমূহের তালিকায় প্রিজার্ভেটিভ, সুইটনার, কৃত্তিম রঙসহ অস্বাস্থ্যকর উপাদান উল্লেখিত থাকে।

বিবিসি নিউজের বরাত দিয়ে স্পেনের ইউনিভার্সিটি অফ নাভারার প্রফেসর মাইরা বেশ-র‍্যাস্ট্রল্লো জানান, যে সকল প্যাকেটজাত খাদ্য উপাদানের প্যাকেটে পাঁচটি উপাদানের বেশি উল্লেখ করা থাকে, সেগুলোকেই আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার ধরা হয়।

এখন আসা যাক এ সম্পর্কিত গবেষণা ও পরীক্ষার বিষয়ে। প্রথম পরীক্ষাটি হয় স্পেনের নাভারা ইউনিভার্সিটিতে। যে গবেষণার জন্য প্রায় ১৯,৮৯৯ জন মানুষের খাদ্যাভ্যাস এক দশকের বেশি সময় ধরে পরিলক্ষিত করা হয়ে আসছিলো। এই গবেষণা চলাকালীন সময়েই ৩৩৫ জন মৃত্যুবরণ করেন। যার মাঝে প্রতি দশজন লিস্ট প্রসেসড খাবার গ্রহণ করতো এবং ১৬ জন আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার গ্রহণ করতো।

দ্বিতীয় গবেষণাটি হয় ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অফ প্যারিসে। যেখানে ১০৫,১৫৯ জনের দুইবেলার খাদ্যাভ্যাস বিগত পাঁচ বছর ধরে মনিটরিং করা হয়। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদপিণ্ডের অতিরিক্ত বাজে অবস্থা হয় এই সকল আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার খাওয়ার জন্য।

বিবিসি নিউজের বরাত দিয়ে ডা. মাথিল্ডে টউভিয়ের জানান, পুরো বিশ্বব্যাপী আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারের ব্যাপ্তির ফলে বাড়ছে হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব। অতিরিক্ত আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার গ্রহণের প্রভাব শুধু এই প্রজন্ম নয়, আগামী প্রজন্মের উপরেও পড়বে।

আরও জানান, বিগত বছর থেকে চলতি বছরে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সাথে আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারের সম্পর্ক আছে বলে প্রায় শতভাব নিশ্চিত তিনি।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তি যেভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে!

আরও পড়ুন: পরিচিত বদভ্যাসেই দেখা দেয় কিডনির সমস্যা

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র