Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

খাবার তেলে ভাজার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো আপনিও করেন!

খাবার তেলে ভাজার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো আপনিও করেন!
খাবার তেলে ভাজার ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে তাপমাত্রায়, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বিকেলের নাশতাসহ বেশিরভাগ খাবারই তেলে ভাজা হয়ে থাকে।

তেলে ভাজা খাবার তৈরির ক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ ভুল করে থাকে প্রায় সকলেই। ফলে খাবার সঠিকভাবে তেলে ভাজা হয় না। আলু চপ, বেগুনি, টিকিয়া থেকে শুরু করে ফ্রেন্স ফ্রাই কিংবা চিকেন ফ্রাই- খাবার যেটাই হোক না কেন, তেলে খাবার ভাজার ক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম জানা থাকলে কোন সমস্যাই থাকবে না।

তেল অতিরিক্ত গরম করা

কিছু খাবার ভাজার ক্ষেত্রে তেল গরম হওয়া প্রয়োজন। তবে তেল অতিরিক্ত তেঁতে উঠলে খাবার ভালোভাবে ভাজার পরিবর্তে পুড়ে যায় এবং ভেতরের অংশে কাঁচা থাকে। তেল কতটুকু গরম হয়েছে বোঝার জন্য তেল ও পাত্রের দিকে নজর দিতে হবে। তেল থেকে হালকা ধোঁয়া বের হলেই বুঝতে হবে তেল খাবার ভাজার জন্য তৈরি হয়ে গেছে। অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হলে তেল অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এ অবস্থায় খাবার ভাজলে খাবার ভালোমতো ভাজা হবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/13/1560404616830.jpg

তেল সঠিক মাত্রায় গরম না হওয়া

তেল অতিরিক্ত গরম হওয়ার ভয়ে অনেকেই তেল সঠিকভাবে গরম হওয়ার আগেই তেলে খাবার ভাজা শুরু করে। তেল ভালমতো গরম না হওয়ার ফলে খাবার বাড়তি তেল শোষণ করে নেয়। কিন্তু সঠিক মাত্রায় ভাজা হয় না। তাই খেয়াল রাখতে হবে তেল থেকে হালকা ধোঁয়া বের হওয়ার সময়টিতে। এছাড়া তেলের বেশ কিছুটা উপরে হাত দিয়ে তাপ পেলে বুঝতে হবে তেল সঠিক মাত্রায় গরম হয়ে গেছে।

ভুল তেলের ব্যবহার

অনেকেই ভাজাভুজির জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন। কিন্তু এই তেলের স্মোকিং পয়েন্ট খুব কম, যার দরুন খুব অল্প সময়ের মাঝেই তেল গরম হয়ে খাবার পুড়িয়ে ফেলে। খাবার সঠিকভাবে ভাজার জন্য এবং খাবারের ফ্লেভার ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজন পিনাট অথবা ক্যানোলা অয়েল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/13/1560404634246.jpg

অতিরিক্ত ভেজে ফেলা

অনেকে খাবার লম্বা সময় ধরে ভাজেন। একদম কুড়মুড়ে করে ফেলেন অথবা লালচে করে ফেলেন। খুব নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু খাবারের ক্ষেত্রে যা প্রয়োজনীয়। তবে বেশিরভাগ খাবারের ক্ষেত্রেই একদম সীমিত সময় তেলে ভাজা প্রয়োজন। নতুন খাবার তার আসল স্বাদ হারানোর পাশপাশি খাবারের গুণগত মানও হারায়।

বড় টুকরো করে ভাজা

যেকোন খাবার তেলে ভাজার ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি তথ্য মাথায় রাখতে হবে। খাবার অনেক বড় টুকরো করে কাটা যাবে না। ছোট থেকে মাঝারি আকৃতিতে কেটে নিতে হবে তেলে ভাজার জন্য। এতে করে খাবারের ভেতরের অংশ পুরোপুরিভাবে সিদ্ধ হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/13/1560404649685.jpg

বেঁচে যাওয়া তেল পুনর্ব্যবহার করা

যে তেলে আগে খাবার ভাজা হয়েছে, সে তেলেই পুনরায় খাবার ভাজার মতো ভুলটি প্রায় সকলেই করেন। যে কাজটি একেবারেই করা যাবে না। বেঁচে যাওয়া তেলে খাবার ভাজা শুধুই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। পাশাপাশি এই তেল খাবারের আসল স্বাদ নষ্ট করে দেয় এবং খাবারইকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত করে ফেলে। যতখানি তেলই বেঁচে থাকুক না কেন, সে তেলে নতুন খাবার ভাজা একেবারেই ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন: আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আরও পড়ুন: নাশতায় যে খাবারটি ওজন কমাতে সাহায্য করবে

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র