Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

১২ বছর বয়সীর নিজ উপার্জনে বিএমডব্লিউ!

১২ বছর বয়সীর নিজ উপার্জনে বিএমডব্লিউ!
নিজের কেনা নতুন বিএমডব্লিউর সাথে ন্যাথান্যান, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

নিজের পছন্দের নতুন পুতুল, গাড়ি কিংবা লেগো সেট কেনার জন্য ১২ বছর বয়সী একটি শিশু স্বাভাবিকভাবেই আবদার করবে বাবা-মায়ের কাছে।

সম্প্রতি ১২ বছর বয়সী একজন মেয়ে আনকোরা নতুন বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছে নিজের জন্মদিনে উপলক্ষে। যা ছিল তার জন্মদিনের উপহার। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই গাড়িটি সে তার বাবা-মায়ের কাছে আবদার করে কেনেনি, কিনেছে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560594374431.jpg

মাত্র ১২ বছর বয়সী ন্যাথান্যান (Natthanan) মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মাত্র সাত বছর থেকেই ন্যাথান্যান মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার জন্য প্রফেশনাল মেকআপ আর্টিস্ট ক্লাস করা শুরু করেছিল।

আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, মাত্র তিন বছর বয়সে ন্যাথান্যানের সর্বপ্রথম ইউটিউব ভিডিও টিউটোরিয়াল প্রকাশ পায়। যে বয়সে শিশুরা নিজে হাতে ঠিকভাবে খাবার খাওয়া শিখতে পারে না, সে বয়সেই সে দক্ষতার সাথে মেকআপের কলাকৌশল রপ্ত করে ফেলেছিল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560594336691.jpg

ন্যাথান্যানের বাবা-মা মেয়ের এমন দক্ষতা ও প্রতিভায় বিস্মিত ও আনন্দিত ছিল। মেয়ের পাশে থেকে তারা সবসময় সব ধরণের সহযোগিতা করেছে। তাইতো সেদিনের ছোট্ট ন্যাথান্যান আজকের দিনে সুপরিচিত একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে এই বয়সেই ক্যারিয়ার গড়ে ফেলেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560594307990.jpg

সুপরিচিত বলার কারণ আছে। ন্যাথান্যানের স্বপ্ন ছিল লন্ডনের ফ্যাশন উইকে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার জন্য। তার একাগ্রতা, পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি ও চমৎকার কাজ ঠিকই তাকে সে স্থানে নিয়ে গিয়েছে। লন্ডন ফ্যাশন উইক ২০১৮তে সে সর্বকনিষ্ঠ মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছে এবং ন্যাথান্যান সর্বোচ্চ সম্মানজনক ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল ফ্যাশন ট্রেন্ড’ এর ক্যাটওয়াকে অংশগ্রহণ করেছে। ১২ বছরের এক মেয়ের এমন অভাবনীয় সাফল্যে শোতে উপস্থিত অনেকেই হতবাক হয়ে গিয়েছিল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560594294750.jpg

থাইল্যান্ডের ন্যাথান্যানের জন্য এতোদূর আসা খুব সহজ কিছু ছিল না। তবে নিজের প্যাশনে ছাড় দিতে চায়নি বলেই ন্যাথান্যান ১২ বছর বয়সেই মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

নিজের সফলতা ও অর্জনের পুরস্কার স্বরূপ নিজেকে নিজের জন্মদিনে নতুন বিএমডব্লিউ উপহার দিয়েছে সে। আন্তর্জাতিক এক ম্যাগাজিনের ইন্টারভিউতে ন্যাথান্যান বলে, ‘আমাকে শুভ জন্মদিন। এ বছরে আমার ১২ বছর হবে। আমি সবকিছুর জন্যেই অনেক খুশি এবং আমি আনন্দিত যে আমি এতদূর আসতে পেরেছি। আমার ভক্তদের জন্যেও আমি অনেক খুশি। আশা করবো আমাকে সব সময় সমর্থন দেবেন আপনারা।’

আরও পড়ুন: ভ্রমণ ও খাওয়ার জন্য বছরে ৫৫ লাখ টাকা বেতন!

আরও পড়ুন: মাত্র সাত বছরেই মিলিয়নিয়ার ইউটিউবার

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র