Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খাবার খাওয়ার পরে চা পান: ভালো নাকি খারাপ?

খাবার খাওয়ার পরে চা পান: ভালো নাকি খারাপ?
খাবার খাওয়ার পর চা পানের অভ্যাস থাকে অনেকের, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

চা প্রেমীদের কাছে চায়ের চাইতে প্রিয় পানীয় আর কিছুই হতে পারে না।

ধোঁয়াওঠা গরম এক কাপ পছন্দনীয় চায়ের সাথেই যত সখ্যতা। মন খারাপে, আনন্দে, পারিবারিক মিলনে, বন্ধুদের আড্ডায় চা না হলে অপরিপূর্ণ থাকে পুরো আয়োজন।

এদিকে যাদের চা পানের প্রতি আসক্তি রয়েছে, প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার পরেই চায়ের প্রয়োজন হয় তাদের। এমন অনেকেই আছেন, সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের ভরপেট খাওয়ার পরপরই চা পান করেন। এই অভ্যাসটি বহু আগে থেকেই চালু হয়ে আসছে অনেকের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে। কিন্তু এই অভ্যাসটি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন কি কখনো মাথায় এসেছে?

আদৌ এই অভ্যাসটি স্বাস্থ্যকর কি? খাবার খাওয়ার পরপরই গরম চা পানে কোন স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা আছে কি? এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠে আসবে আজকের এই ফিচারে।

কিছু গবেষণার ফল জানাচ্ছে, খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর গ্রিন টি পান করা ভালো অভ্যাস। ভরপেট খাবার খাওয়ার পর উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনলযুক্ত গ্রিন টি পানের ইতিবাচক দিকগুলো জেনে নিন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/22/1561195154842.jpg

১. খাবার খাওয়ার পর হারবাল চা অথবা গ্রিন টি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। কারণ এই চা খাদ্য পরিপাকজনিত বেশ কিছু এনজাইম নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। যার মাঝে রয়েছে- গ্যাস্ট্রিক রস, স্যালাইভা ইত্যাদি।

২. গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনলিক উপাদান পেপসিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। পেপসিনের বৃদ্ধি ডায়েটারি প্রোটিন ভাঙার ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৩. বেশ কিছু জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট খাদ্য পরিপাকের সাথে সংযুক্ত। এমনকি, খাদ্য পরিপাকের ক্ষেত্রে গ্রিন টিকে উত্তম উপাদান হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। ইন্টেসটাইনাল গ্যাস ও বাওয়েল সিনড্রোম (পেটের সমস্যা) দূর করতেও গ্রিন টি উপকারী।

৪. হারবাল চা অথবা গ্রিন টি গ্রহণকৃত খাদ্যের পুষ্টিগুণ শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে সাহায্য করে।

এবারে আসা যাক আসল কথা। বেশিরভাগ মানুষ হারবাল চা বা গ্রিন টি পান করতে পছন্দ করেন না। চা মানেই হলো দুধ চা অথবা রঙ চা। এক্ষেত্রে জেনে নিন খাবার খাওয়ার পর এই চা পানে কি ধরণের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

চায়ে থাকা ট্যানিনের উপস্থিতি

এই সকল চায়ে ট্যানিন আয়রন, জিংক ও ক্যালসিয়ামের মতো মিনারেল শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে শরীরে এই সকল পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ট্যানিনের ফলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দেয়।

চায়ে থাকা ক্যাফেইনের উপস্থিতি

চায়ে থাকা ক্যাফেইন সম্পর্কে নতুনভাবে আর বলার কিছু নেই। ক্যাফেইন ঘুমের সমস্যা ঘটায়, এটাও নতুন কোন তথ্য নয়। এছাড়া স্টমাক আলসারের সমস্যা বৃদ্ধি করে ক্যাফেইন। অন্যদিকে হার্টবিট রেইটও বৃদ্ধি করে এই উপাদানটি।

সকল আলোচনা শেষে বলা যেতে পারে, খাবার খাওয়ার কিছু সময় বাদে গ্রিন টি পান করা গেলেও, দুধ চা কিংবা রঙ চা পান করা থেকে বিরত থাকাই হবে উত্তম পন্থা।

আরও পড়ুন: বদহজমের জন্য দায়ী যে খাবারটি

আরও পড়ুন: আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ
কাসুন্দি ইলিশ, ছবি: সংগৃহীত

মাছের বাজারে এখন ইলিশের দাপট।

এ সুযোগে ইলিশ মাছের পছন্দসই রেসিপি রাঁধার পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রম রেসিপিও রেঁধে নিতে পারেন। আমাদের দেশে সর্ষে ইলিশ বা সরিষা ইলিশ অতি জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি ইলিশের রেসিপি। এবারে সেই সরিষা ইলিশের মতোই ঝাঁজ নিয়ে ভিন্ন ঘরানায় তৈরি করুন কাসুন্দি ইলিশ। কাসুন্দির ঝাঁজ ও হালকা টকভাব সহজেই ইলিশে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।

কাসুন্দি ইলিশ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883624853.JPG

১. মাথা ও লেজসহ ইলিশ মাছের ছয়টি বড় টুকরা।

২. চার টেবিল চামচ কাসুন্দি।

৩. ১০০ গ্রাম পরিমাণ টকদই।

৪. দুই টেবিল চামচ পেস্তা বাটা।

৫. ৫-৬টি কাঁচামরিচ ফালি।

৬. আধা চা চামচ রসুন বাটা।

৭. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৮. চার টেবিল চামচ সরিষা তেল।

৯. স্বাদমতো লবণ।

কাসুন্দি ইলিশ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883641018.JPG

১. মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে কেটে ও ধুয়ে এতে লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে।

২. মাছের অন্যান্য টুকরাগুলো ভাজার প্রয়োজন নেই। তবে মাথা ও লেজের অংশ কিছুটা ভেজে নিতে হবে।

৩. ভিন্ন একটি পাত্রে কাসুন্দি, পেস্তা বাটা, টকদই, লবণ ও হলুদ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

৪. চুলাতে কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল গরম করে এতে কাসুন্দির-দইয়ের মিশ্রণ ও রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ নাড়ার পর এতে কাঁচামরিচ ফালি ও স্বাদমতো লবণ দিতে হবে।

৫. মিনিট পাঁচেক নাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পনের মিনিটের জন্য কড়াইয়ের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

৬. পনের মিনিট পর কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে মাছগুলো সাবধানের সাথে উল্টে দিয়ে আবারো পনের মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৭. এর মাঝে মাছ সিদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল টেনে আসবে। প্রয়োজনে আধা কাপ পানি দেওয়া যাবে।

মাছ মাখামাখা হয়ে আসলে নামিয়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাছের রেজালায় স্বাদের বদল

আরও পড়ুন: ভেটকি মাছের বেগম বাহার

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানো তাদের মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে, ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের একদম বয়স্ক মানুষটি হন সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে কাছের ও ভালোবাসার।

তার কাছেই যেন শত গল্প ও মায়ার ঝুলি জমে থাকে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া মানুষটিও একটা সময় পরে কেমন যেন দূরের হয়ে যান। হয়ে যান বিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য।

বয়স বৃদ্ধির সাথে অবধারিতভাবে দেখা দিতে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড়ের ক্ষয়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যাসহ সাধারণ সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত হয় চেনা অথবা অচেনা ছোট-বড় আরও কয়েক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা।

তবে বয়োবৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে দেখা দিতে শুরু করে মানসিক সমস্যাও। সেটা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন, তারা সহজে কোন কিছু মনে রাখতে পারেন না। দুপুরে যদি জানতে চাওয়া হয়- সকালে কী খেয়েছেন, তবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন না। একইসাথে মানুষের নাম, চেহারা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া দেখা দেয় অকারণে ও আকস্মিক মেজাজের পরিবর্তন। পুরনো কোন কথা মনে করে অঝোরে কান্নাকাটি করা, সামান্য কোন সমস্যায় অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, খুঁতখুঁত করা, একই কথা বারবার বলার মতো লক্ষণগুলো বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ কারণে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের শারীরিক সুস্থতায় যত্ন নেওয়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার জন্যেও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বোপানা শ্রীধর জানাচ্ছেন কোন তিনটি বিষয়ের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563877234210.jpg

নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টির উপরে মানসিক সুস্থতা অনেকখানি নির্ভর করে। শ্রীধর পরামর্শ দেন, বয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাজুবাদাম রাখার জন্য, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায় অনেকখানি অবদান রাখে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড সরাসরি মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে কাজ করে। এছাড়া লো ফ্যাট খাদ্য উপাদান ও যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান বেশি রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।

শরীরচর্চা

বয়স্কদের জন্য শরীরচর্চার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, একদম হালকা ঘরানার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও তাদের জন্য অনেক বড় উপকারিতা বহন করবে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা, হাড়ের উপকারিতার মতো সুবিধার পাশপাশি মন প্রফুল্ল ও প্রশান্ত থাকবে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগ

পাশ্চাত্যে একটি বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। সমবয়সী অনেকে একসাথে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো, একেঅপরের সাথে যোগাযোগ করা। সামাজিকতার এই আয়োজনে অংশগ্রহণে বৃদ্ধদের আগ্রহী করা হয়। এতে করে তাদের মনঃ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব পরে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধরা বেশ একাকী সময় কাটান ও একা হয়ে পরেন। এতে করে তারা খুব অল্পতে বিষণ্ণ হয়ে পরেন এবং বৃদ্ধ বয়সের বিষণ্ণতা থেকেই দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে বয়োবৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের একাকীত্ব দূর করার প্রতি।

আরও পড়ুন: আয়ুর্বেদে বাড়বে স্মৃতিশক্তি

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র