Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কীভাবে দূর হবে অবসাদ?

কীভাবে দূর হবে অবসাদ?
অবসন্নতা দূর করতে সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শারীরিক অবসাদ বা ক্লান্তি, পরিশ্রান্ত বোধ হওয়ার সমস্যাটি মূলত মধ্যবয়স্কদের মাঝে বেশি দেখা দিলেও,

এখনকার সময়ে তরুণদের মাঝেও শারীরিক অবসাদ দেখা দেওয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। শারীরিক কাজের চাপ অথবা মানসিক চাপের দরুন অবসাদ তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে লুকায়িত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় অবসাদ। যেমন- রক্তস্বল্পতা, হৃদরোগ, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়বেটিস ইত্যাদি। দীর্ঘদিন যাবত অবসাদভাব অনবরত দেখা দিতে থাকে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরাপন্ন হতে হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী পথ্য গ্রহণ করতে হবে।

কাজের চাপ, মানসিক অশান্তি ও দুশ্চিন্তা থেকে যদি কিছুদিন পরপরই এই অবসাদভাব দেখা দিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

শারীরিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে

গবেষণায় তথ্য জানাচ্ছে, শারীরিক কার্যক্রম এনার্জির মাত্রা বৃদ্ধিতে অনেকখানি অবদান রাখে। প্রতিদিন পনেরো মিনিটের হালকা ঘরানার শারীরিক কার্যক্রমও শারীরিক অবসাদ দূর করার পাশাপাশি হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষণার ফলাফল সুপারিশ করে, শারীরিক কার্যক্রম শারীরিক অবসাদ দূর করার সঙ্গে আত্মবিশ্বাসকেও দৃঢ় করতে কাজ করে।

এছাড়া অফিসে কর্মরত অবস্থায় যখনই শ্রান্তিভাব দেখা দেবে, চেয়ার ছেড়ে উঠে অফিস পরিসরে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করতে হবে। সম্ভব হলে বাইরে থেকে মিনিট পাঁচেকের জন্য ঘুরে আসতে হবে। এতে অবসন্নতা কমে যাবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561616943465.jpg

জানেন কি, শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া থেকেও অবসন্নতা ও ক্লান্তিভাবের তৈরি হতে পারে। কাজের চাপে, সারাদিনের ব্যস্ততায় অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পানের বিষয়টি একেবারেই ভুলে যান। যা থেকে শরীরে দেখা দেয় তরলের অভাব। যেহেতু আমাদের শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য পানি প্রয়োজন হয়, তাতে ঘাটতি দেখা দিলেই এই অবসন্নতা কাজ করে।

ঘুমাতে হবে দ্রুত

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561617035879.jpg

সবসময় পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, নিয়ম করে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য। একজন প্রাপ্ত বয়স্কের শরীরে চাহিদা অনুযায়ী ঘুমে কমতি থাকলেই অবসন্নতা দেখা দিয়ে থাকে। ২০০৪ সালে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা জানাচ্ছে, অপরিমিত ঘুম অবসন্নতা দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। কাজের চাপ ও বিভিন্ন ধরণের চিন্তা ও দুশ্চিন্তার দরুন ঘুমের কমতি শরীর একেবারেই নিতে পারে না।

অল্প পরিমাণে কয়েকবারে খেতে হবে

যারা দিনের মাঝে দুই-তিনবারে অনেক বেশি খাবার খান তাদের চাইতে যারা দুই-তিন ঘন্টা অন্তর অল্প পরিমাণ খাবার গ্রহণ করেন, তাদের মাঝে শারীরিক অবসন্নতা কম দেখা দেয়। এমনকি এই অভ্যাসের দরুন রক্তে চিনির মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকে। কয়েকবার খাবার খাওয়া হলেও প্রতি বারেই অল্প পরিমাণে খাবার খেতে হবে।

যোগব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561619951015.jpg

যেকোন ঘরানার যোগব্যায়ামই অবসন্নতাকে দূর করতে কার্যকর। শুধু দূর করতেই নয়, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ-ছয় দিন যোগব্যায়ামের অভ্যাস শরীর ও মনকে প্রাণবন্ত রাখতে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: প্রতিনিয়ত অকাল মৃত্যুকে ডেকে আনছি যার মাধ্যমে!

আরও পড়ুন: সুস্থতার জন্যে বিশ্রাম ও ঘুম কতটা জরুরি?

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ
কাসুন্দি ইলিশ, ছবি: সংগৃহীত

মাছের বাজারে এখন ইলিশের দাপট।

এ সুযোগে ইলিশ মাছের পছন্দসই রেসিপি রাঁধার পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রম রেসিপিও রেঁধে নিতে পারেন। আমাদের দেশে সর্ষে ইলিশ বা সরিষা ইলিশ অতি জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি ইলিশের রেসিপি। এবারে সেই সরিষা ইলিশের মতোই ঝাঁজ নিয়ে ভিন্ন ঘরানায় তৈরি করুন কাসুন্দি ইলিশ। কাসুন্দির ঝাঁজ ও হালকা টকভাব সহজেই ইলিশে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।

কাসুন্দি ইলিশ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883624853.JPG

১. মাথা ও লেজসহ ইলিশ মাছের ছয়টি বড় টুকরা।

২. চার টেবিল চামচ কাসুন্দি।

৩. ১০০ গ্রাম পরিমাণ টকদই।

৪. দুই টেবিল চামচ পেস্তা বাটা।

৫. ৫-৬টি কাঁচামরিচ ফালি।

৬. আধা চা চামচ রসুন বাটা।

৭. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৮. চার টেবিল চামচ সরিষা তেল।

৯. স্বাদমতো লবণ।

কাসুন্দি ইলিশ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883641018.JPG

১. মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে কেটে ও ধুয়ে এতে লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে।

২. মাছের অন্যান্য টুকরাগুলো ভাজার প্রয়োজন নেই। তবে মাথা ও লেজের অংশ কিছুটা ভেজে নিতে হবে।

৩. ভিন্ন একটি পাত্রে কাসুন্দি, পেস্তা বাটা, টকদই, লবণ ও হলুদ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

৪. চুলাতে কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল গরম করে এতে কাসুন্দির-দইয়ের মিশ্রণ ও রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ নাড়ার পর এতে কাঁচামরিচ ফালি ও স্বাদমতো লবণ দিতে হবে।

৫. মিনিট পাঁচেক নাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পনের মিনিটের জন্য কড়াইয়ের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

৬. পনের মিনিট পর কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে মাছগুলো সাবধানের সাথে উল্টে দিয়ে আবারো পনের মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৭. এর মাঝে মাছ সিদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল টেনে আসবে। প্রয়োজনে আধা কাপ পানি দেওয়া যাবে।

মাছ মাখামাখা হয়ে আসলে নামিয়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাছের রেজালায় স্বাদের বদল

আরও পড়ুন: ভেটকি মাছের বেগম বাহার

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানো তাদের মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে, ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের একদম বয়স্ক মানুষটি হন সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে কাছের ও ভালোবাসার।

তার কাছেই যেন শত গল্প ও মায়ার ঝুলি জমে থাকে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া মানুষটিও একটা সময় পরে কেমন যেন দূরের হয়ে যান। হয়ে যান বিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য।

বয়স বৃদ্ধির সাথে অবধারিতভাবে দেখা দিতে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড়ের ক্ষয়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যাসহ সাধারণ সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত হয় চেনা অথবা অচেনা ছোট-বড় আরও কয়েক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা।

তবে বয়োবৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে দেখা দিতে শুরু করে মানসিক সমস্যাও। সেটা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন, তারা সহজে কোন কিছু মনে রাখতে পারেন না। দুপুরে যদি জানতে চাওয়া হয়- সকালে কী খেয়েছেন, তবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন না। একইসাথে মানুষের নাম, চেহারা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া দেখা দেয় অকারণে ও আকস্মিক মেজাজের পরিবর্তন। পুরনো কোন কথা মনে করে অঝোরে কান্নাকাটি করা, সামান্য কোন সমস্যায় অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, খুঁতখুঁত করা, একই কথা বারবার বলার মতো লক্ষণগুলো বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ কারণে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের শারীরিক সুস্থতায় যত্ন নেওয়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার জন্যেও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বোপানা শ্রীধর জানাচ্ছেন কোন তিনটি বিষয়ের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563877234210.jpg

নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টির উপরে মানসিক সুস্থতা অনেকখানি নির্ভর করে। শ্রীধর পরামর্শ দেন, বয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাজুবাদাম রাখার জন্য, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায় অনেকখানি অবদান রাখে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড সরাসরি মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে কাজ করে। এছাড়া লো ফ্যাট খাদ্য উপাদান ও যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান বেশি রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।

শরীরচর্চা

বয়স্কদের জন্য শরীরচর্চার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, একদম হালকা ঘরানার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও তাদের জন্য অনেক বড় উপকারিতা বহন করবে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা, হাড়ের উপকারিতার মতো সুবিধার পাশপাশি মন প্রফুল্ল ও প্রশান্ত থাকবে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগ

পাশ্চাত্যে একটি বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। সমবয়সী অনেকে একসাথে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো, একেঅপরের সাথে যোগাযোগ করা। সামাজিকতার এই আয়োজনে অংশগ্রহণে বৃদ্ধদের আগ্রহী করা হয়। এতে করে তাদের মনঃ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব পরে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধরা বেশ একাকী সময় কাটান ও একা হয়ে পরেন। এতে করে তারা খুব অল্পতে বিষণ্ণ হয়ে পরেন এবং বৃদ্ধ বয়সের বিষণ্ণতা থেকেই দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে বয়োবৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের একাকীত্ব দূর করার প্রতি।

আরও পড়ুন: আয়ুর্বেদে বাড়বে স্মৃতিশক্তি

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র